সিদ্ধিরগঞ্জ উপজেলাটি ঢাকা বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্তর্গত। ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০১২, তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় সংবাদপত্রগুলোতে একটি প্রতিবেদনে ছাপা হয় যে স্থানীয় পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছে। এই প্রতিবাদের ফলে সিদ্ধিরগঞ্জে রাস্তাগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং পুলিশের সাথে শ্রমিকদের কয়েকটি সহিংস সংঘর্ষ বাঁধে, বিক্ষোভকারীদের অনেকে আহত হন এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
যা এই প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা হয়নি তাহলো স্থানীয় একটি চক্রের ধারাবাহিক ছিনতাই এবং খুনের ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজির জনগণ আতঙ্কিত ছিল। পুলিশ ও প্রশাসন হামলাকারীদের থামাতে কোন ব্যবস্থা নেয়নি এবং মিডিয়া বিষয়টিতে কোন কর্ণপাতই করেনি। আরিফ হোসেন সাঈদ ফেইসবুকে লিখেছেন:
মিজমিজিতে গত কয়েকমাস ধরে অব্যাহত ভাবে একের পর এক খুন বা খুনের উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাতে সাধারণ মানুষ আহত হচ্ছেন। এটিকে সাম্প্রতিক সময়ে মিজমিজিতে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অরাজকতার অংশ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। এলাকাবাসীর ক্ষোভ এতো বড় ঘটনাটি সরকার প্রশাসন ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। তাই এ অরাজক পরিস্থিতি বন্ধে সরকার, প্রশাসন ও মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জের সকল গার্মেন্টস কর্মীদের পক্ষ থেকে ১৬ই সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ ও প্রতিবাদী মিছিল বের করা হয়।
এখানে প্রতিবাদকারীদের একটি ভিডিও চিত্র রয়েছে:
নুরুজ্জামান মুন্না পিপলস ব্লগ বাংলাদেশে লিখেছেন:
সন্দেহভাজন হিসাবে একটি ছেলেকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় তারা একটি গ্রুপ কাজ করছে। তাদের কাজ জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ছিনতাই ও খুন করা। ছেলেটি জানায় তারা প্রতিদিন ১০০০টাকা করে পায় এবং ছিনতাইয়ের মালামাল জমা দিতে হয়। ছেলেটি তাদের গ্রুপের নাম NXX বলে জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ছেলেটির হাতের বাহুতে তার দলের নাম সম্বলিত একটি ট্যাটু আঁকা ছিল।
মুন্না অন্য একটি পোস্টে ছিনতাইকারীদের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছে যে তারা ছোরা ব্যবহার করে এবং সবসময়ই আক্রান্ত ব্যক্তিদের ছুরিকাঘাত করে।
আশিকুর রহমান সামহোয়্যারইনব্লগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিতে আলোকপাত করেন:
এখানে এখন প্রায় প্রতিটি মানুষই চরম আতংকে থাকে যে কখন ছিনতাইকারীদের হাতে পরবে। বিগত দুই মাসে খোদ নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১নং ওয়ার্ডেই অর্ধ শতাধিকের বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে এবং এর সীমারেখা শুধু মাত্র ১নং ওয়ার্ডেই সীমাবদ্ধ। তবে এ নিয়ে এ পর্যন্ত এলাকার স্থানীয় কমিশনার এবং জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোন উচ্চ-বাচ্চ দেখিনি।
১৬ তারিখে গার্মেন্টস কর্মীরা ঠিকই বুঝতে পেরেছিল এভাবে আর চলতে দেয়া যায় না। আর কোন সহকর্মীদের হেনস্থা বা মরতে দেয়া যায়না। প্রশাসনকে টনক নাড়াতে হলে এবার উপায় একটাই দাবী আদায়ে রাস্তায় নামতে হবে।
আরিফ হোসেন সাঈদ বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম ব্লগে ছবি এবং সংক্ষিপ্ত অডিও-বার্তার আকর্ষণীয় সাক্ষাৎকার সহ একটি বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এখানে কিছু ছবির মাধ্যমে প্রতিবাদটিকে তুলে ধরা হল:
আশিকুর রহমানতুলে ধরেছেন কেন জনসাধারণের জেগে উঠা উচিত:সরকারের পক্ষে বাড়ি বাড়ি বেডরুমে গিয়ে নিরাপত্তা দেয় যে সম্ভব নয় তা এর আগেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার মাধ্যমে আমাদের জানিয়েছিলেন। সুতরাং এই অধিকার আদায় করতে হলে আমাদের বিশাল জনগণকেই প্রশাসনের ঘাড়ের উপর বসতে হবে যাতে তারা বাধ্য হয়।