বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

প্যারাগুয়েঃ আচেহ আদিবাসীদের ভূমি নিয়ে সংঘর্ষ এবং হুমকি

বিগত নয় বছর ধরে কুয়েটুভইয়ে-এ বসবাসরত আচেহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের ষাটটি পরিবার উত্তর প্যারাগুয়ের কাছে অবস্থিত তাদের পিতৃপুরুষের ভূমি পুনরুদ্ধারের দাবীতে লড়ছে। এই এলাকার প্রায় ৪৬০০ হেক্টর জমি যাকে “ফিনকা ৪৭০” নামে অভিহিত করা হয়, তা প্যারাগুয়ে সরকার অবশেষে ২৬ জুলাই ২০১২ তারিখে উক্ত সম্প্রদায়কে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়।

এই সমস্ত ভূমি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সমস্ত এলাকা ইউনেস্কো ঘোষিত মাবারাকায়ু বায়োস্ফেয়ার রিজার্ভ নামক সংরক্ষিত এলাকার কাছে অবস্থিত। উক্ত এলাকা এক সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যে ভরপুর, যার মধ্যে অনেক ওষুধি প্রজাতির বৃক্ষ রয়েছে, এই সব ওষুধি বৃক্ষ হচ্ছে এমন একটি বিষয় যা সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত চুক্তি অনুসারে আচেহ সম্প্রদায় সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জমির মালিকানা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি আচেহ সম্প্রদায়ের নাগরিকরা উদযাপন করছে। ছবি আচেহ দাজায়ুর সৌজন্যে।

ভূমির মালিকানা এখন আচেহ সম্প্রদায়ের হাতে চলে আসায় এই মাসে দীর্ঘ এক উদযাপন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। রাইজিং ভয়েসেস-এর অনুদান প্রাপ্ত আচেহ দাজায়ু প্রকল্পের একজন ব্লগার মারগারিটা মাবোয়াঙ্গি, অবশেষে নিজেদের লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় [স্প্যানিশ ভাষায়], আচেহ সম্প্রদায়ের অনুভূত এই মর্যাদার বিষয়ে লিখেছেন:

Fue una lucha muy sufrida, hemos recibido mucha discriminación institucional, pero el pueblo Aché pudo sostener esta lucha hasta el final.

এটা ছিল একটা কঠিন লড়াই, এবং যদিও আমরা প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে অনেক বৈষম্যের শিকার হয়েছি, তারপরেও আচেহ জনগোষ্ঠী লড়াইয়ের শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে সমর্থ হয়।

তবে, একদল কৃষকের সাথে এই এলাকায় নিয়ে এখনো সংঘর্ষ চলছে যারা আইনের বাইরে এসে এই ভূমি দাবী করছে, যা কিনা এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানের রং বিবর্ণ করে দিচ্ছে। এই কৃষক দলের অনেকে এই জমি পুরস্কার হিসেবে পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে এর মধ্যে বসতি স্থাপন শুরু করে দিয়েছে এবং একই সাথে তারা অবৈধ বৃক্ষ কর্তনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে। আচেহ সম্প্রদায় এই সমস্ত কর্মকাণ্ড থামানোর চেষ্টা করছে এবং সেই সাথে সাংবাদিকরা এই বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এখানে প্রবেশ করছে, আর এখানকার কৃষকের দল এই সব ক্ষেত্রে মৃত্যুর হুমকি প্রদান করছে [স্প্যানিশ ভাষায়]:

রিকার্ডো মাবেকোরোঙ্গিও আচেহ দেজায়ু প্রকল্পের সাথে কাজ করছেন, তিনি এসএমএসের মাধ্যমে এই ঘটনার চেহারা পাল্টে যাওয়ার বিষয়ে সম্প্রদায়ের টুইটার একাউন্টে (@আচেহকুয়েটুভইয়ে) মাঝে মাঝে তাজা সংবাদ প্রদান করে যাচ্ছেন [স্প্যানিশ ভাষায়]। ৫ আগস্ট, ২০১২ তারিখে তিনি টুইট করেছেন:

@AcheKuetuvy: Los Ache de kuetuvy preocupado por la invacion de los campesinos, donde ya fue transferido a los ache

@আচেহকুয়েটুভইয়ে:কুয়েটুভইয়ে এলাকার আচেহ সম্প্রদায়ের নাগরিকরা কৃষকদের দ্বারা ভূমি দখল করে রাখার বিষয়ে সচেতন, ইতোমধ্যে যা আচেহ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মাবেকোরোঙ্গি, নিজেদের গ্রুপ ব্লগে অবৈধ বৃক্ষ নিধনের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে আসা একদল সাংবাদিকের ছবি [স্প্যানিশ ভাষায়] আপলোড করেছেন।

সাংবাদিকরা অবৈধ বৃক্ষ নিধনের কর্মকাণ্ড দেখছেন। ছবি রিকার্ডো মাবেকোরোঙ্গির

এবং অতি সম্প্রতি এই সম্প্রদায়ের নেত্রী মাবোয়াঙ্গি ফোনে এক হুমকি পান, তাতে তাকে বলা হয় যে আচেহ সম্প্রদায়ের কোন তরুণ শিকারী যদি ঐ সমস্ত এলাকায় প্রবেশের দুঃসাহস করে তাহলে তাকে খুন করে ফেলা হবে। নেত্রীর ছেলে মাবেকোরোঙ্গি প্রথম তাদের গ্রুপ ব্লগে প্রকাশ্যে এই হুমকির নিন্দা জানান [স্প্যানিশ ভাষায়]:

Ayer a la 19:30 hora de la tarde en un descanso en su casa nuestra lider Margarita Mbywangi recibe amenaza de muerte en su celular, donde el sujeto se identifica que es campesino, en su llamado dice a nuestra lider Margarita que si los jovenes van de caceria cerca de ellos lo van matar. Margarita se lamenta ante esta llamado, y mientras tanto nuestras autoridades no hacen nada.

গতকাল (১৫ আগস্ট) সময় সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে যখন আমাদের নেত্রী তার গৃহে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, সে সময় তিনি তার মোবাইলে এক পুরুষের কাছ থেকে মৃত্যুর হুমকি পান, যে নিজেকে এক কৃষক হিসেবে পরিচয় দেয়। সে আমাদের নেত্রী মারগারিটাকে বলে যে যদি কোন তরুণ শিকারের সময় তাদের এলাকার কাছে চলে আসে, তাহলে তারা তাকে খুন করবে। মারগারিটা এই ফোন পাওয়ার পর থেকে বিষণ্ণ এবং আমাদের কর্তৃপক্ষ এই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

সমগ্র প্যারাগুয়ের ছয়টি আচেহ সম্প্রদায় এই এলাকার আচেহ সম্প্রদায়ের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে একসাথে এই এলাকায় আসছে। যারা সরকারের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাচ্ছেন, এই ভূমি থেকে উক্ত কৃষকদের দলকে জোরপূর্বক অপসারণ করার জন্য, যা যৌক্তিক ভাবে আচেহ জনগণের নিজস্ব সম্পত্তি।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .