বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

লিবিয়াঃ আতশবাজীর মধ্যে দিয়ে ত্রিপলি মুক্ত করার প্রথম বার্ষিকী উদযাপন

এই প্রবন্ধটি লিবিয়া বিপ্লব ২০১১ নিয়ে করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ।

লিবিয়ার নাগরিকরা আজকের এই রাতকে মুয়াম্মার গাদ্দাফির ৪২ বছরের শাসনের হাত থেকে মুক্ত হবার দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ঘটনায় নেট নাগরিকরা উদযাপনে মেতে উঠেছে এবং এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে তারা তাদের অনুভূতি তুলে ধরেছে।

আজকের রাত, যা কিনা মুসলমানদের রোজা রাখার মাস রমজানের ২০তম দিবস হিসেবে বিবেচিত, এই দিনে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপলি স্বাধীন হয় এবং গাদ্দাফির শক্ত ঘাঁটি বাব আল আজিজিয়ার পতন ঘটে। এই দিনে ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল নামক পরিষদ লিবিয়ান জেনারেল ন্যাশনাল কাউন্সিল নামে পরিচিত দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যাচ্ছে, ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল এক বছর ধরে দেশটির কার্যক্রম চালাচ্ছিল। জুলাই ২০১২-এ, লিবিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল ক্ষমতা পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হয়।

আকরাম, আজকের এই রাতের ত্রিপলির দৃশ্যের বর্ণনা প্রদান করেছে। সে লিখেছে:

@ফ্লাইংবার্ডস: আজ ত্রিপলি মুক্ত হবার বার্ষিকীর রাত এবং এনটিসি আজ #জিএনসির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে যাচ্ছে, ইতোমধ্যে নাগরিকরা আতশবাজি পুড়িয়ে বিষয়টি উদযাপন করতে শুরু করেছে। #লিবিয়া

ইসমাইল এর সাথে যোগ করেছে:

@চেঞ্জইনলিবিয়া: মুক্ত হবার পর ত্রিপলি তার প্রথম বার্ষিকী উদযাপন করল সিরিয়ার জন্য প্রার্থনা করে, আতশবাজী পুড়িয়ে এবং শহীদ চত্বরে দেশ পুনর্গঠনের জন্য বিশাল এক বিক্ষোভ প্রদর্শনের মাধ্যমে।

ফেসবুকে, সে তার ব্যাক্তিগত চিন্তা তুলে ধরেছে, সে লিখেছে: :

কিছু বিষয় আছে যা সহজে ভুলে যাওয়া যায় এবং বৃহৎ এক চিত্রের মাঝে ব্যক্তির কাহিনী হারিয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, বিশেষ করে যখন ত্রিপলি মুক্ত করার মত গুরুত্বপূর্ণ এক বিষয় সামনে চলে আসে।

এর সাথে সে যুক্ত করেছে:

তবে, লিবিয়ার এক নাগরিক হিসেবে, যে কিনা বিপ্লবের প্রতিটি মুহূর্ত অনুসরণ করেছে এবং ত্রিপলিতে যার আত্মীয় রয়েছে, সে রকম একজন হিসেবে আমি মনে করি, এ রকম একটি দিনে স্মরণ করার বিষয়টি প্রয়োজন, যদি তা আমাদের ঐক্য ও লিবিয়ার কঠিন সময়ের মাঝে আমাদের সামনে এগিয়ে যাবার প্রতি আমাদের আস্থার জন্য যদি তা না হত, তাহলে আমরা রমজানের ২০তম দিবসটিকে লিবিয়া মুক্ত করার দিন হিসেবে উদযাপন করার জন্য আজ আমরা এখানে হাজির হতাম না এবং অন্যদের যুদ্ধ এবং ব্যর্থ বিপ্লবের থেকে নেওয়া শিক্ষা আমাদের মাঝে আমাদের চারপাশে দেখা যেতে পারে, তার ফলে, আমাদের যা আছে তাই নিয়ে আমাদের সবসময় পরম করুণাময়ের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিত:

২০ আগস্ট ২০১১-এর এই দিনে, ত্রিপলিতে ম্যাসব্যাপী প্রস্তুতি এবং অস্ত্র চোরাচালানের পর লিবিয়ার রাজধানী জেগে উঠেছিল, সকল দিক থেকে অস্ত্র এসেছে বেনঘাজি, মিসরাতা, নাফুসা পর্বত, এমনকি তিউনিশিয়া থেকেও অস্ত্র এসেছে এবং চুড়ান্ত মুহূর্তের জন্য স্থানীয়রা নিজেদের যথেষ্ট প্রস্তুত করে রেখেছিল। তাদের হামলা চালানো এবং গাদ্দাফির বাহিনীকে ক্রমাগত ঠেকানোর মত রসদ তাদের ছিল না, যে বাহিনী সেদিন যে কোন প্রকারে এক জয়ের জন্য লালায়িত ছিল।

সে উপসংহার টেনেছে এভাবে:

এই জয়ের কারণ ছিল লিবিয়ার ঐক্য, বেনঘাজি এবং মিসরাতাকে এবং অন্য সমস্ত শহরকে উল্লাস করতে দেখে ত্রিপলির অভ্যন্তরে বাস করা নাগরিকরা তাদের মুক্তির জন্য আশাবাদী হয়ে ওঠে, যা কিনা ৬ মাস পরে এক নরক যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে এসেছে।

আজ, আমাদের নির্বাচিত সাংসদরা ক্ষমতায় এসেছে। আর আমরা সেই জটিলতার লড়াই-এর মধ্যে নিজেদের জারি রাখব লিবিয়া যা অতিক্রম করে এসেছে, আর আগামীতেও তাকে মোকাবেলা করতে হবে। আর আমরা এই ধরনের কোন লড়াই-এ জিততে পারবো না, যদি আমরা স্বেচ্ছায় একসাথে কাজ করি, একে অন্যকে না উপলব্ধি করি এবং দ্রুত পুরস্কারের আশা না করে দেশের জন্য কিছু করি।

টুইটারে ফিরে আশা যাক, সেখানে রাউইয়া এল তার্কি বলছে:

@আর_প্রাউডলিবিয়ান:এটা চিন্তা করতে কত অদ্ভুত লাগে যে এক বছর আগে ২০ রমাজানের দিনটি এ বছরের এই দিনের তুলনায় কত আলাদাই না ছিল… সময় সত্যি উড়ে চলে।

নুসাইবাহ খালিল আশা প্রকাশ করেছে যে:

@ফ্রমনুসাইবাহ:আজ ৮ আগস্ট ২০১২, আজকের এই দিনে # লিবিয়া, লিবিয়া বিপ্লবের সমালোচকদের চিরতরে নিরব করে দেয়। আজকের দিন থেকে নতুন এক রাজনৈতিক সূর্যোদয়ের শুরু।

এবং জোমানা কারাশেহ আমাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন:

@ জোমানাসিএনএন:এক ঘন্টার সামান্য পরে নতুন #লিবিয়ায় এক ইতিহাস রচিত হতে যাচ্ছে, দীর্ঘ কয়েক দশক পরে প্রথম শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর শুরু হতে যাচ্ছে, এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে #এনটিসি ক্ষমতা তুলে দিচ্ছে জিএনসির হাতে।

এই প্রবন্ধটি লিবিয়া বিপ্লব ২০১১ নিয়ে করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .