বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইথিওপিয়া: মুসলমানদের প্রতি খ্রীস্টানদের একাত্মতার বার্তা

ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে সরকারের হস্তক্ষেপের অবসানের দাবীতে যখন ইথিওপিয়ার মুসলমানেরা তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে, তখন স্বদেশী খ্রিষ্টানদের তরফ থেকে তাদের এই দাবীর প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে প্রদান করা বার্তা ইথিওপিয়ার ডিজিটাল জগতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

ইথিওপিয়ার মুসলমানদের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করার জন্য ইথিওপিয়ার অনেক খ্রিষ্টান নাগরিক তাদের ফেসবুকের স্ট্যাটাসের পরিবর্তন ঘটিয়েছে

এই বিষয়ে আবেইয়া তেকলেমারিয়াম-এর একাত্মতার বার্তার সারাংশ-এর চেয়ে উত্তম আর কিছু নেই:

যখন কেউ, প্রার্থনার মত আমার মৌলিক অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করে আমি তা পছন্দ করি না। যখন কেউ তার নিজস্ব সংস্করণে আমার ধর্মকে আমার কণ্ঠে উচ্চারিত করায় তখন আমি তা পছন্দ করি না। যখন কেউ আমার নেতাদের কোন কারণ অথবা কোন বিশেষ প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেফতার অথবা কারাগারে প্রেরণ করার হুমকি প্রদান করে আমি তা পছন্দ করি না। যখন কেউ আমার প্রার্থনার স্থান নষ্ট করে আমি তা পছন্দ করি না। যখন আমার সুন্দর এই দেশে কেউ খ্রিষ্টান এবং মুসলমানদের মাঝে সন্দেহ এবং ভয়ের আগুন জ্বেলে দেয়, তখন বিষয়টিকে আমি পছন্দ করি না। কেউ কেউ সকল সময়ের জন্য কিছু নাগরিককে বোকা বানাতে পারবে, এবং সকল নাগরিকদের কিছুটা সময় হয়ত বোকা বানানো যায়, কিন্তু সকল নাগরিকদের কেউ সকল সময় বোকা বানাতে পারবে না। আমি আবিইয়ে তেকলেমারিয়াম এবং আজকের দিনে আমি একজন মুসলমান।

একাত্মতার বার্তা: [আহমারিক ভাষায়] একটি অসুস্থ সরকারের প্রচারণায় আমরা বিচ্ছিন্ন হচ্ছি না। নিজের পাবলিক ফেসবুকের পাতায় ছবি আপলোড করেছেন গেটু নিগুসি।

জওয়ার মোহাম্মদ পোস্ট করেছেন:

“আমাদের ইথিওপিয়ার মুসলমানরা, তাদের খ্রিষ্টান ভ্রাতা ও ভগ্নিদের সম্মান করে এবং আমরা আশা করি যে সাম্প্রতিক এই লড়াই এবং সংঘর্ষ মুসলমান বনাম খ্রিষ্টানদের মাঝে এক বৃহত্তর সংঘর্ষের সৃষ্টি করবে না। এই মুহূর্তে ইথিওপিয়ার জন্য আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।”

আমি এর সাথে সম্ভবত একটি বিষয় যোগ করতে পারি যে কিছু আন্তর্জাতিক চরিত্রের নোংরা ইচ্ছা এবং আমাদের অসৎ স্বৈরশাসকদের ইচ্ছাকৃত উত্তেজনা ছড়ানোর ঘটনা সত্ত্বেও, আমরা এই দেশের নাগরিকরা দেশটির মুসলমান এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মাঝে কখনো হানাহানির সৃষ্টি হতে দেব না। বাস্তবতা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে লড়াই করার বদলে আমাদের করার মত আরো কিছু কাজ রয়েছে, যেমন স্বৈরশাসকদের উপর চড়াও হওয়া এবং আমাদের দেশ থেকে দরিদ্র দূর করা।

ওবাং মেথো তার একাত্মতার বার্তায় কোরআনের একটি আয়াত যুক্ত করেছেঃ:

মেলেস এবং তার দল টিপিএলই আমাদের কাছ থেকে প্রকৃত ইথিওপিয়াকে চুরি করে নেওয়ার এবং আমাদের মাঝে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা করছে। কি ভাবে তাকে আমরা আমাদের পরিবারের মাঝে বিভক্তি তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একই বন্ধনের মাঝে আবদ্ধ রাখতে পারি? আমরা নিজেরা নিজেদের যেমনটা ভালবাসি, ঠিক সে রকম ভালোবাসা প্রতিবেশীদের প্রদর্শন করে তাকে থামাতে পারি। আমরা ঘৃণা, দূর্নীতি, অন্যায়, গণহত্যা, লোভ, মিথ্যা সহ্য করার মত বিষয়কে প্রত্যাখান করে এই কাজটি করতে পারি অথবা ধৈর্য্য ধরে চুপচাপ বসে থাকতে পারি। যেমনটা কোরআন-এ বলা হয়েছে [২:২৬৩] বিনয়ী বাক্য এবং ক্ষমা, আহত ব্যাক্তির শুশ্রূষার চেয়ে উত্তমঃ এবং আল্লাহ স্বনির্ভর ও ধৈর্য্য ধারণকারী।

টুইটারে ওয়েলানাসা আসরাত নামক ভদ্রমহিলা তার স্বদেশী মুসলমান সম্প্রদায়কে পরামর্শ প্রদান করেছে, যেন তারা তাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যায়, ভদ্রমহিলা টুইট করেছে:

@ডিআর_আসরাত:ইথিওপিয়ার মুসলমানেরা আপনারা আপনাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যান এবং জেনে রাখুন সারা বিশ্বের খ্রিষ্টানরা আপনাদের প্রতি সমর্থন প্রদান করছে-শত শত বছর ধরে অব্যহত ভাবে চলতে থাকা ভালোবাস এবং শ্রদ্ধা আমাদের মাঝে বজায় রয়েছে।

ইথিও-মুসলিম নামক হ্যাশট্যাগের প্রভাব পরিমাপ করার জন্য মোহাম্মদ আদেমো হ্যাশট্র্যাকিং ব্যাবহার করেছে :

@ওপ্রাইড: #ইথিওমুসলিম-এ ৩২৩টি টুইট এতে যুক্ত হয়েছে, এটি ১৪০,০০০ হাজার দর্শক+ একটি মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে, ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি ৫০, ৫৭১ জন অনুসারী সৃষ্টি করেছে, যা ভায়া@হ্যাশট্রাকিং-এর মাধ্যমে জানা যাচ্ছে।

ছয় মাস ধরে ইথিওপিয়ার চলা মুসলমানদের প্রতিবাদ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এবং আগামীতেও তা চলবে।

জনসংখ্যার দিক দিয়ে ইথিওপিয়ায় খ্রিষ্টানদের পরে মুসলমানদের অবস্থান। ইসলামের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য অনুসারে ইথিওপিয়া “প্রথম অভিবাসন বা হিজরতের স্বর্গ” নামে পরিচিত।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .