বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ, মায়ানমার: রোহিঙ্গা নির্যাতন এখন আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে

এই প্রবন্ধটি মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

পশ্চিম মায়ানমারে রোহিঙ্গা বনাম রাখাইনদের মধ্যে চলা সংঘর্ষের ছয় সপ্তাহ অতিক্রান্ত হয়েছে, যে ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তে আরো একবার উদ্বাস্তুদের ঢল নামে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল রিপোর্ট করছে যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা ও অন্য সব মুসলমান সম্প্রদায়ের উপর লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আক্রমণ এবং অন্য ধরনের হামলার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংঘর্ষ শুরু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০০ জনের বেশী নাগরিক নিহত হয়েছে এবং ধারনা করা হয় যে ৫০,০০০ বেশী নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। রোহিঙ্গার যে সমস্ত সন্ত্রাসের মুখোমুখি হয়েছিল বিবিসি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সংবাদ প্রকাশ করেছে। এদিকে বার্মার দিক থেকে সংবাদ প্রদান করা হয় যে রোহিঙ্গাদের গণহারে আইন নিজের হাতে নিয়ে নেওয়া, এই ধরনের হামলার ঘটনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

১০ জুলাই ২০১২ তারিখে মায়ানমার সরকার রাখাইন প্রদেশে এক জরুরী অবস্থা ঘোষণা করে, যা এখনো উক্ত প্রদেশের কিছু কিছু এলাকায় কার্যকর রয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একই সাথে সংবাদ প্রদান করেছে:

যে সমস্ত এলাকায় রোহিঙ্গারা সংখ্যায় অত্যন্ত বেশী, মায়ানমার সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (নাসাকা), সামরিক বাহিনী এবং পুলিশ সেখানে ব্যাপকভাবে অভিযান চালায়। শত শত লোককে গ্রেফতার করা হয়, যাদের বেশীর ভাগই পুরুষ এবং বালক। তাদের প্রায় কারো সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না, এবং এদের অনেকে দুর্ব্যবহারের শিকার হচ্ছে।

রেস্টলেস বিইংস, যা কিনা মায়ানমারের এক প্রকল্প, সেটি সংবাদ প্রদান করছে:

গত দুই সপ্তাহে,বার্মার উপর নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ ছিল খুব সামান্য। এখন আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বার্মার অর্থনৈতিক সুযোগের বিষয়টি আলোচিত হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির উপর আরোপিত অর্থনৈতিক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মত অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। বিগত ৪০ দিন এবং তার সাথে আগামী দিনগুলো যদি গণনা করা হয়, তাহলে দেখা যাবে যে রোহিঙ্গাদের কান্না এখনো বিশ্বের কাছে পৌঁছেনি।

আমাদের সূত্র বলছে কি ভাবে মাংডু জেলায় হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের বাথিডাং কারাগারে নিয়ে যাওয়া, যেখানে তাদের উপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হয়। সেখানে প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় ৪০ জন কারাবন্দীকে তাদের কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে প্রচণ্ড প্রহার করা হত।

এই ভিডিও, রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নিপীড়নের দৃশ্য আমাদের সামনে তুলে ধরছে [সতর্কতা: গ্রাফিক ছবি]:
রাখাইন প্রদেশে ঘটনার শিকার এক ব্যক্তির পুত্র মুহাম্মদ মুফিজ সংবাদ প্রদান করছেন:

রাখাইন প্রদেশে বাস করা এখন আমাদের এই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য মৃত্য নামক ভুতের (রাখাইন উগ্র দেশপ্রেমিক এবং সংগঠিত গুণ্ডামির) মুখের গ্রাসে পরিণত হয়েছে এবং আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কাতর হয়ে অনুরোধ করছি, যেন তারা আমাদের একই সাথে মায়ানমার সরকার এবং রাখাইন জনগোষ্ঠীর হাত থেকে সময়মত রক্ষা করে, যারা আমাদেরকে আমাদের পূর্বপুরুষের ভুমি থেকে উচ্ছেদ করার এক মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

সুশীল সমাজের ৫৮ টি দলের একটি যৌথ সংগঠন যা কিনা রিফিউজি ইন্টারন্যাশনাল, দি আরাকান প্রজেক্ট এবং দি ইকুয়াল রাইট ট্রাস্ট-এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়-সেটি রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চালানো হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেছে
তবে সংবাদে জানা গেছে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের কয়েকটি সংগঠন জনগণকে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সাথে সংযুক্ত না হবার এবং তাদের কাছে যাতে কোন মানবিক সাহায্য না পৌছায়, তার জন্য আহবান জানিয়ে প্রচারপত্র বিলি করেছে।

এ্যাংরি এশিয়ান বুদ্ধিস্ট লিখেছেন:

আমি বার্মার রোহিঙ্গা মুসলমানদের অধিকারে বিশ্বাস, করি যেমনটা আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের জুম্ম নাগরিক,যারা বৌদ্ধ, তাদের অধিকারে। আমি উভয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংগঠিত সহিংসতার নিন্দা করি এবং আমি জাতিগত বিতাড়ণ এবং নির্যাতনের ইতিহাসের নিন্দা করি, যা কিনা খুব সাধারণ ভাবে রাতারাতি মুছে ফেলা যাবে না। আমি আরো নিন্দা জানাই রাজনীতি এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক দ্বন্দ্বের বিষয়কে বৌদ্ধ বনাম মুসলমানের সংঘাতের মত ধর্মীয় লড়াই-এর নামকরণের মত ঘটনার সাধারণীকরণ-এর প্রতি।

থাইল্যান্ডে রোহিঙ্গা মুসলমানরা সাহায্যের আহ্বানের জন্য জাতিসংঘের সামনে সমবেত হয়েছে। ছবি অনুচিত লেমসামের। কপিরাইট ডেমোটিক্সের (৩/৭/২০১২)।

এদিকে রোহিঙ্গাদের উপর চালানো নির্যাতনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বে প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • নতুন দিল্লি:জামাত-এ ইসলাম হিন্দ এবং আরো অজস্র সামাজিক-অর্থনৈতিক সংগঠন ২৬ জুলাই ২০১২-এ, দিল্লিতে অবস্থিত মায়ানমার দূতাবাসের সামনে অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে বিক্ষোভের আয়োজন করে।
  • তেহরান:২৪ জুলাই, ২০১২ তারিখে তেহরানের জাতিসংঘ দূতাবাসের সামনে জড়ো হয়ে শত শত ইরানী নাগরিক রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর চালানো নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিন্দা জানায়।
  • পাকিস্তান: রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের তালেবানরা মায়ানমারে হামলা চালানোর হুমকি প্রদান করে। তালেবানরা পাকিস্তান সরকারে কাছে মায়ানমারের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার এবং ইসলামাবাদে অবস্থিত মায়ানমার দূতাবাস বন্ধ করার দাবী জানায়।
  • জাকার্তা: প্রাণঘাতী সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা তৈরী হওয়ার প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গা মুসলমানদের খুনের ঘটনা বন্ধ করার দাবিতে ইন্দোনেশিয়ার রক্ষণশীল দলসমুহ মায়ানমার দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে।

ডঃ হাবিব সিদ্দিকি তার এক সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেন মায়ানমারে আসলে কি ঘটছে :

এই সমস্যার কেন্দ্রে আছে মায়ানমারের ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন, যে আইনে বলা হয়েছে রোহিঙ্গারা মায়ানমারে নাগরিক নয়। তারা বহিরাগত। রোহিঙ্গাদেরকে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। আর এই আইন এই তথ্যকে একেবারে অর্থহীন করে ফেলে যে রোহিঙ্গাদের পূর্বপুরুষেরা হাজার বছর আগে আরাকানে প্রবেশ করেছিল। একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে বলতে পারি যে রাখাইন বা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা সম্ভবত দশম শতাব্দীর শেষ পর্যায়ের আগে আরাকানে প্রবেশ করেনি। শুরুতে এখানে যে সমস্ত রাজবংশ শাসন করেছে বলা হয়ে থাকে যে তারা ভারতীয়, যারা বাংলার মত এখানকার জনগণের শাসক ছিল।

প্রতিবাদের অংশ নেওয়া এক রোহিঙ্গা শিশু, ছবি আনুচিদ লেরমুসাম-এর। কপিরাইট ডেমেটিক্স-এর (৩/৭/২০১২)।

জাও লিউইন ওও এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন যে এখানে জনপ্রিয় বিশ্বাস রয়েছে মুসলমানরা আরাকানে মাত্র কিছুদিন আগে এসে বসতি স্থাপন করেছে, এর বিপরীতে ব্লগার এখানকার পঞ্চদশ শতকের কয়েকজন মুসলমান রাজার নাম তালিকাভুক্ত করেছেন।

ই-বাংলাদেশের নিজাম আহমেদ সংবাদ প্রদান করছে যে:

কক্সবাজার জেলার কুটুপালাং এবং নয়াপাড়া নামক দুটি উদ্বাস্তু শিবিরে নিবন্ধিত উদ্বাস্তুর সংখ্যা এই বছর ৩০,০০০ জন বেড়ে গেছে, যেহেতু আহবান এবং প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও মায়ানমার তাদের ফিরিয়ে নেয়নি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাক্তার দীপু মনি, মায়ানমার সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন যেন তারা বাংলাদেশ উদ্বাস্তু এবং নথিভুক্ত নয় মায়ানমারের এমন সব নাগরিকদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের কাজ দ্রুত শুরু করে।

এই ঘটনার বিষয়ে টুইটারে আসা কিছু প্রতিক্রিয়া এখানে তুলে ধরা হল:

@পাইরেট _ল্যারি: @একরকফেলার: থিয়েন সিয়েন: বার্মার সরকার দেশটির ৮০০,০০০# রোহিঙ্গা নাগরিকদের স্বীকৃতি প্রদান করবে না। http://t.co/liz3vwFe #মায়ানমার #বার্মা

@আরুশিমি:আরটি@হকনিউজঅর্গঃ- উগ্রবাদী বৌদ্ধরা রাখাইন প্রদেশের অন্তত এক হাজার মুসলমান বালিকাকে ধর্ষণ করেছে। প্রায় তিন হাজার মৃতদেহকে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে।

@@রেস্টলেসনাদিয়া: কল্পনা করতে পারছি না, আরাকানের রোহিঙ্গারা রোজা শেষে কি দিয়ে ইফতারি করছে। একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র এবং তার বছরের পর বছর ধরে চলা নির্যাতনের কারণে তাদের কাছে না আছে খাদ্য/না আছে কোন ত্রাণ।

এই প্রবন্ধটি মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .