বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ কোরিয়া: ভুয়া চিঠির ঘটনার ইতি টানা হয়েছে, রাষ্ট্রপতিকে বাঁচানোর জন্য?

আরো একবার দক্ষিণ কোরিয়ায় রাজনৈতিক অভিযোগ এবং সন্দেহ দানা বেঁধে উঠেছে, বিশেষ করে যখন এই সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় তদন্তকারী সংস্থা বিতর্কিত “ভুয়া চিঠির ঘটনায়” যুক্ত সকলকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যহতি প্রদান করে। তাদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তৈরী করা হয় যে, তারা আদতে রাষ্ট্রপতিকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি মিয়ুং বাক-এর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ তৈরী করা হয়, ২০০৭ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় থেকে যার শুরু। এই সব অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে কুখ্যাত অভিযোগটি হচ্ছে বিবিকে নামক কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানোর কারসাজি [নোটঃ বিবিকে হচ্ছে একটি কাগজ তৈরী কোম্পানির নাম] যা কিনা অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করে এবং ব্যাখ্যা ছাড়াই তা কুয়াশাচ্ছন্ন চেহারা নেয়, বিশেষ করে বহিরাগতদের জন্য বিষয়টি অনুধাবন করা কঠিন। রাষ্ট্রপতি লী এই কোম্পানীর সাথে তার সকল যোগাযোগ অথবা বিতর্কিত ভাবে কোম্পানীর শেয়ারের দাম বাড়ানোর বিষয়টির সাথে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন, যে ঘটনায় হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি এই ঘটনায় একজন বিপর্যস্ত বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা করে [কোরীয় ভাষায়।

তবে, তখন সন্দেহ আরো বেড়ে যায়, যখন একটি ভিডিও ক্লিপ উন্মোচিত হয়, যেখানে দেখা যায় যে লি বলছেন, তিনি এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং কোম্পানীর একটি নিজস্ব নিবন্ধিত নথিতে লীর স্বাক্ষর আবিস্কার হয়।

অতি সাম্প্রতি, বিকেকে –এর সাথে লীকে জড়িয়ে করা অভিযোগ যে প্রায় এক রাজনৈতিক আক্রমণ, লীর এই দাবিকে সমর্থন করে এক চিঠি প্রকাশিত হয়, যা পরে এক সাজানো ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়। জুলাই ১২, ২০১২ তারিখে এই ভুয়া চিঠির বিষয়ে একটি তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং বিস্ময়কর ভাবে এই কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত সকলকে সকল প্রকার অভিযোগ থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। সিউলের কেন্দ্রীয় তদন্ত বিভাগ একটি বিধি জারি করে যে এই চিঠি লেখার পেছনে, পর্দার অন্তরালে কোন রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য ছিল না।

এই ঘটনার ব্যাখ্যা পরিষ্কার ভাবে প্রদান না করায় দক্ষিণ কোরিয় নাগরিকরা তাদের হতাশা ব্যক্ত করেছে। তারা বলছে যে দক্ষিণ কোরিয়ার তদন্তকারী সংস্থা আরো একবার দেশটির রাষ্ট্রপতির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করল। @ইসা৪(ফর)ইউ টুইট করেছে [কোরীয় ভাষায়]:

Bbk수사, 가짜편진데 내용은 가짜가 아니라네요.은진수씨는가짜편지를 mb특보한테 받아서 홍준표씨에 주었다는데 검찰은 배후가 없다고.기획자라는 양씨는펄쩍뛰고.수사인지 소설인지 당최

যদিও এই চিঠিটা ছিল ভুয়া, কিন্তু লেখার বিষয়বস্তু মিথ্যা ছিল না?! এটা ছিল বিবিকে –এর উপর করা তদন্তের ফলাফল। তারা আইন জারি করে জানালো যে এই চিঠির “পেছনে কেউ ছিল না”, এমনকি যদিও ইউন জিন –সো স্বীকার করেছেন যে, এই চিঠিটি, রাষ্ট্রপতির বিশেষ উপদেষ্টার কাছ থেকে পাওয়ার পর তিনি তা হং জুন পিয়োর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন [নোটঃ হং জুন পিয়ো শাসক দল সেনুরি-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান]। এবং জনাব ইয়াং, যার বিরুদ্ধে এই ঘটনা পরিচালনা করার অভিযোগ রয়েছে, তিনি এখনো জোরালো ভাবে তা অস্বীকার করে আসছেন… এটা কি একটা কল্প উপন্যাসের তদন্তের ফলাফল?

অনেক নেট ব্যবহারকারী যেমন, @উইয়াইজলেক্ট, প্রশ্ন করেছে, কি ভাবে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে, এই ঘটনার পেছনে কেউ নেই:

검찰, ‘BBK 가짜편지’ 전원 무혐의, ‘배후는 없다”라고 발표. […] MB의 당선을 위해 MB캠프의 핵심인물이 줄줄이 관여되어 있는데 배후가 없다? 이걸 믿어라고 내놓은 건가.

দেশটির আইনী তদন্ত সংস্থা, বিবিকের ভুয়া চিঠির ঘটনায় সাথে যুক্ত সকলকে অভিযোগ থেকে অব্যহতি প্রদান করেছে এবং ঘোষণা প্রদান করেছে যে “ এই ঘটনার পেছনে কেউ নেই”। […] যদিও এই সমস্ত ব্যক্তিরা মায়ুং বাক-এর নির্বাচনী প্রচারণার মূল সদস্য ছিল এবং এখনো তারা দাবী করছে যে “ এই ঘটনার পেছনে কেউ নেই”? তারা কি আসলে আশা করে যে আমরা এই সংবাদ বিশ্বাস করব?

ব্যবহারকারী @বি৯উদ-এর সাথে যোগ করেছে [কোরীয় ভাষায়]:

[…] 소설 구성의 3요소는 인물/사건/배경이다. […] 그런데 BBK 가짜 편지는 배후가 없다한다. 인물과 사건은 있는데 배경이 없다. 즉, 말이 안되는거다.

এই কল্প কাহিনীর তিনটি প্রধান উপাদান হচ্ছে, কাহিনীর প্লট তৈরী করা এবং স্থান নির্মাণ করা, আর কাহিনীকে সেই অবস্থানে রাখা[…]। কিন্তু তাদের ব্যাখ্যা অনুসারে, বিবিকে-এর ভুয়া চিঠির কোন অবস্থান নেই, এই কাহিনীতে চরিত্র এবং গল্পের প্লট আছে কিন্তু কোন অবস্থান নেই। আর এ কারণে তাদের ব্যাখ্যা কোন অর্থ তৈরী করে না।

দক্ষিণ কোরিয়ার টুইটার জগতের অন্যতম এক গুরুত্বপূর্ণ একজন @ডগসোল, একটি ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন [কোরীয় ভাষায়]:

BBK 가짜편지 수사한 검사가 누구누구죠??? 이분들은 내년 신춘문예에 꼭 응모하셨으면 좋겠네요. 소설을 조낸 잘 쓰시니까.

কারা এইসব তদন্ত কর্মকর্তা, যারা বিবিকে-এর ভুয়া চিঠির ঘটনাটি তদন্ত করেছে? আমি বাস্তবিক পক্ষে মনে করি তাদের আগামী বছরের বাৎসরিক বসন্ত সাহিত্য পুরস্কার প্রতিযোগিতার জন্য আবেদন করা উচিত: যা দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম এক সম্মানজনক পুরস্কার প্রতিযোগিতা]। বিশেষ করে যখন তারা যখন অলীক কাহিনী লেখার ব্যাপারে অস্বাভাবিক রকমের ভালো।

টুইটার ব্যবহারকারী @হাঙ্গুলো, কোরিয়ার একট সোপ অপেরার একটি বিখ্যাত লাইনের উদ্ধৃতি প্রদান করেছে:

사건을 복잡하게 만들면 국민은 잊을 겁니다 […] BBK 사건이 바로 좋은 예.

যদি আপনি কোন বিষয়কে জটিল করে ফেলেন, তাহলে জনতা তা ভুলে যাবে’ এর এক প্রমাণ: বিবিকে-এর ঘটনা।

[নোট: থাম্বনেইল ছবিটি তৈরী করেছে ফ্লিকার ব্যবহারকারী এ্যাশলে রোজ, কিন্তু এই পোস্টে উল্লেখিত ঘটনার সাথে তা সম্পৃক্ত নয়। (সিসি বাই-এনসি-এনডি ২.০)।]

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .