বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: নারী অধিকার এক্টিভিস্ট নিহত

জামরুদ এলাকার বিশিষ্ট এবং অক্লান্ত নারী এক্টিভিস্ট ফরিদা কোকিখেল আফ্রিদিকে সশস্ত্র বন্দুকধারীরা ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্র শাসিত আদিবাসী এলাকার (এফএটিএ) স্থানীয় নারীদের উন্নয়নের প্রচেষ্টারত নারী অধিকার এনজিও সাবেরার  (গ্রামাঞ্চল মূল্যায়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন সমিতি) প্রধান ছিলেন। স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার ভাষ্য অনুসারে ফরিদাকে তার বাড়ি থেকে মাত্র এক কিলোমিটারে দূরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি পেশোয়ারে তার অফিসের দিকে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে চারজন বন্দুকধারী তাকে হত্যা করে। সমস্ত সম্ভাবনা বিবেচনায় এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করেছে তালিবানরা, যারা ৮ই ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে আরেকজন বিশিষ্ট মানবাধিকার এক্টিভিস্ট জার্তিফ আফ্রিদিকে হত্যা করেছিল।

ফরিদা কোকিখেল আফ্রিদি কে?

ফরিদা আল্লামা ইকবাল উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিঙ্গ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীধারী। তিনি তার বোন নূর আফ্রিদিকে নিয়ে নারী সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সাবেরা এসব উদ্দেশ্যে অর্জনের স্বেচ্ছাসেবা ভিত্তিক  অলাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান।

নারীদের চার দেয়ালের ভিতরে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য করা সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এটি ছিল একটি বুনিয়াদি পদক্ষেপ। উপজাতীয় এবং ধর্মভিত্তিক সমাজে নারীদের মূলধারায় অংশগ্রহণ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। পুরুষরা তাদের বোরকা পরতে কঠোরভাবে বাধ্য করে, যা মানুষের সঙ্গে তাদের পারস্পরিক আদান-প্রদান কমিয়ে দেয়। নারীদের সরিয়ে রাখার ফলে শিক্ষা তাদের কাছে কখনো পূরণ না হওয়া অনেক আরাধনার একটি স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০০৪ সালে সাবেরা প্রতিষ্ঠা করার সময় ২৫ বছর বয়সী ফরিদা এসব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানতেন। তিনি উপজাতীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে ছিলেন না, বরং তার এলাকার জীবনযাত্রার মান বাড়াতে চেয়েছিলেন মাত্র।

আফ্রিদির হত্যাকাণ্ডে নিন্দা জ্ঞাপন

এইচআরসিপি (পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন) তীব্রভাবে পাশবিক এই কর্মের নিন্দা জানায়। এইচআরসিপি মন্তব্য করেছে:

“এটা গভীর উদ্বেগের বিষয় যে সারা দেশের মানবাধিকার সুরক্ষা কর্মী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে কর্মরতরা ভীষণ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

এছাড়াও খাইবার-পাখতুনখাওয়া এবং এফএটিএ এলাকার নারী/কিশোরীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধের জোট হত্যাকাণ্ডটির নিন্দা করেছে।

উপজাতীয় এনজিও কনসোর্টিয়ামও গুরুতরভাবে তার হত্যার নিন্দা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির জারি করা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি বলেছে:

“আমরা পেশোয়ারের সুশীল সমাজে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জোরালোভাবে এই বিয়োগান্তক মৃত্যুর নিন্দা করি এবং সুশীল সমাজের জনগণকে হত্যা করতে লেলিয়ে দেয়া রাষ্ট্র-বিরোধী উপাদানগুলোর এই অত্যাচার এবং নৃশংসতার বিরুদ্ধে আমাদের কণ্ঠস্বর উচ্চকিত করার শপথ করছি।”

নেটনাগরিকরাও এই ঘটনার নিন্দা জ্ঞাপন করেছে। বিষয়টি টুইটারে তেমনভাবে তুলে না ধরা হলেও সংবাদ নিবন্ধের উপর মন্তব্য এবং সংবাদটি প্রকাশকারী অন্যান্য সামাজিক মিডিয়ার উৎস এই ভয়ংকর কর্মটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

উসমান মন্তব্য করেছেন:

তার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের আত্মার একটি অংশেরও মৃত্যু হয়েছে।

চার্নুশাহ বলেছেন:

এটা খুব বিয়োগান্তক। মনে হচ্ছে যে তালিবান নামের এই সব পশুদের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে আমরা পাখতুনরা আমাদের মহিমান্বিত পাখতুনওয়ালী ঐতিহ্যের কথাও ভুলে গিয়েছি। খুবই দুঃখের কথা

শাকিলা সরদার লিখেছেন:

মিজ আফ্রিদি  ছিলেন একটি আশার আলো এবং সমস্ত নারী বিশেষ করে এফএটিএ এলাকার  জন্যে  সাহস ও মনোবলের একটি উদাহরণ। তার আকস্মিক এবং পাশবিক হত্যাকাণ্ড আমাদের জন্যে সত্যিই একটি বড় ক্ষতি এবং সমস্ত প্রান্তিক জনগণ বিশেষতঃ নারীদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কর্মরতদের জন্যে একটি হতাশা।

আন্তর্জাতিক মহিলা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ কর্মের জন্যে পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী অধিকার এক্টিভিস্ট শাদ বেগম ভবিষ্যতে কোন আশা দেখছেন না। ভোয়া (ভয়েস অব আমেরিকা) উর্দুর সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে [উর্দু ভাষায়] তিনি বলেছেন:

“مجھے نہیں لگتا کہ اس طرح کی صورت حال میں اب فاٹا (وفاق کے زیرِ انتظام قبائلی علاقوں) کی کوئی لڑکی کام کرنے کے لیے تیار ہو گی۔”

আমি মনে করি না এই অবস্থায় মেয়েরা এফএটিএ (কেন্দ্র শাসিত আদিবাসী এলাকা)  কাজ চালিয়ে যেতে প্রস্তুত থাকবে।

এমন ধরনের অনুকরনীয় নারীদের সুরক্ষার জন্যে সরকারের কাজ করা উচিৎ। বেশি বেশি মানবাধিকার এক্টিভিস্ট নিহত হওয়ার ফলে জঙ্গিরা বেশি করে তাদের যুক্তিহীন মতাদর্শ প্রচারের জায়গা পেয়ে যাচ্ছে। হাফিজ মন্তব্য করেছেন:

“বিপজ্জনক এলাকাগুলোতে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কর্মরত এরকম নারী/পুরুষদের উৎসাহিত করতে একমাত্র উপায় হলো সরকারের পরিবারটিকে কোন সম্মানসূচক পদক এবং অর্থ দেয়া। এধরনের কর্মীরা আমাদের সম্পদ।”

ফরিদা আফ্রিদি তার সাহসী অবস্থানের জন্যে সবসময় সারাবিশ্বের সব এক্টিভিস্টদের কাছে একটি জাজ্বল্যমান উদাহরণ হয়ে থাকবেন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে যে অন্যেরা এখানে তার কাজ অব্যাহত রাখবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .