বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

#সুদানেরবিদ্রোহ কৃচ্ছসাধনের প্রাক্কালে

সরকারের পরিকল্পিত কৃচ্ছসাধনের নিন্দা জানিয়ে ১৭ই জুন খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভ সংঘটিত হয়। শত শত ছাত্র-ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হলে তারা পুলিশের মারাত্বক নৃশংসতার শিকার হয়; বিক্ষোভকারীদের দমনে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা এবং ব্যাটন (পুলিশের ব্যবহৃত ভারী লাঠি) ব্যবহার করা হয়। সেই রাতে পুলিশ বাহিনী দুই দিনে দ্বিতীয় বারের মতো মহিলা ডরমেটরিতে অভিযান চালায় মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে ছাত্রীদের বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের জন্যে।

পরের দিন ১৮ই জুন খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যারা শুধু পুলিশের নৃশংসতার শিকার হয়। ছাত্র-ছাত্রীরা সুপরিচিত সব স্লোগান দেয় “জনগণ শাসকগোষ্ঠীর পতন চায়।” পরবর্তীতে নেয়া দমন অভিযানে কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার এবং আহত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের এই প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ওমদারম্যান শিক্ষা কলেজ এবং উত্তর খার্তুমের কৃষি কলেজসহ অন্যান্য ক্যাম্পাসে আরো বিক্ষোভ উস্কে দেয়। পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ঘিরে রাখে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে।

বিক্ষোভের প্রথম দিনে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির একটি বক্তৃতায় আলোচনা করেন যে সরকারের কৃচ্ছসাধনের পরিকল্পনা বিক্ষোভকারীদের রাগ প্রশমিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিকল্পনাটিতে জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস – যা মৌলিক জিনিসপত্রের দামকে সরাসরি প্রভাবিত করবে – এবং সরকারি খরচের উল্লেখযোগ্য হ্রাস অন্তর্ভুক্ত। গত বছরের জুলাই মাসে দক্ষিণ সুদানের বিচ্ছিন্নতার কারণে তেল রাজস্ব হারানোর ফলে ২৫০ কোটি ডলার বাজেট ঘাটতি কমানোর উদ্দেশ্যে তেলের ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা করা হয়।

ব্লুমবার্গের সুদান সংবাদদাতা সালমা এল ওয়ার্দানি টুইট করেছেন:

@এস_এলওয়ার্দানি: আজকের #খার্তুমভার্সিটি বিক্ষোভের পিছনের মূল কারণ: সুদান জ্বালানি ভর্তুকি হ্রাস পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে ৩৫% পরিবহন খরচ বৃদ্ধি করেছে।

জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারের ফলে মুদ্রাস্ফীতি আরো বৃদ্ধি পাবে, যেটা ইতোমধ্যে ৩০%।

সুদানের বিরোধীদল জাতীয় ঐকমত্য বাহিনী সরকারের পরিকল্পিত কৃচ্ছসাধনের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজধানীতে গত দুই দিনের বিক্ষোভের সময় তাদের কোথাও দেখা যায়নি।

Sherehan Abdulmutti shares this photograph of protesters on the streets of Khartoum on Twitter

শেরেহান আব্দুলমুত্তি খার্তুমের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের এই ছবিটি টুইটারে ভাগাভাগি করেছেন

সুদানের অনলাইন সম্প্রদায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভে এবং খার্তুমের রাস্তায় অন্যান্য বিক্ষোভে বিক্ষোভকারীদের প্রতি পুলিশের ভারী গোলাবর্ষণের ছবি টুইট করেছে।

মোহাম্মেদ আহমেদ টুইট করে খার্তুমে ঘটে চলা ঘটনাবলীর কাভারেজের অভা্বে তার হতাশা ব্যক্ত করছেন:

“আমাকে আপনার বরং বোকা বানানোই ভাল… সত্যের মাত্র ২মিনিট…. আলএরাবিয়া টিভি।”

তাদের বর্ণনা মতে সুদানী সম্প্রদায় টুইটারে আল জাজিরার – এবং তাদের সামাজিক মিডিয়া শো, দি স্ট্রিম – বিক্ষোভগুলো কাভারেজের ইচ্ছাকে সানন্দে উদ্বাহু স্বাগত জানিয়েছে।

আমরু টুইট করেছেন:

@শামারাত @স্যালি__ওসামা @ইউসিফুল_মি @এজেএরাবিক  @এজেইংলিশ @এজেস্ট্রিম @এসটি_আব্দুল অবশেষে কিছু কাভারেজ পাওয়া গেল pic.twitter.com/sD64IDsU,

বাস্তবে ঘটমান বিষয়টির প্রতি সংবাদমাধ্যমের স্থানীয় কার্যালয়কে ট্যাগ করে মনোযোগ আকর্ষনের বেপরোয়া প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ।

মুহাম্মেদ হামাদাইন দেরীতে হলেও আল জাজিরার প্রয়োজনীয় খার্তুমের বিক্ষোভগুলো কাভারেজের প্রশংসা করেন এই কথা বলে:

@এজেস্ট্রিম আপনি দেরী করেছেন তবুও ভালো যে আমরা আপনাকে ধরতে পেরেছি #السودان_ينتفض #সুদানেরবিদ্রোহ সহ

গত বছর সরকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গিরিফনা নামে  একটি অসহিংস আন্দোলনের চেষ্টা করেছিল, যার ফলে তাদের অনেক সদস্য কয়েক মাস ধরে আটক রয়েছে। তারা ন্যাশানাল কংগ্রেস পার্টি'র (এনসিপি) শাসনের ২৩তম বার্ষিকী ৩০শে জুন, ২০১২ তারিখে একটি গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। গিরিফনা’র দাপ্তরিক টুইটার একাউন্ট টুইট করেছে:

@গিরিফনা #সুদান–এর সমস্ত নাগরিকদের #৩০শেজুন তারিখে রাস্তায় নেমে এনসিপি’র শাসনের চূড়ান্ত বার্ষিকী উদযাপনের আহবান জানাচ্ছে #সুদানেরবিদ্রোহ

সুদানের অনলাইন এক্টিভিস্ট এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিকেরা সুদানে আরব বসন্তের বিলম্বিত আগমন বা এর অভাবে সমভাবে বিস্মিত। হাফেজ খার্তুমের বর্তমান বিক্ষোভকে আশাবাদীভাবে ট্যাগ করেছেন  সুদানের আরব বসন্ত হিসেবে:

সুতরাং সুদান আরব বসন্তে প্রবেশ করতে প্রায় দেড় বছর দেরী করেছে, তাই আসুন একে স্বাগত জানাই #আরববসন্ত

টুইটার ব্যবহারকারী মিশরীয় সম্প্রদায় তাদের সংহতি প্রকাশ করে জানায় যে সুদানে বিপ্লবের সময় এখনি; যেখানে এই টুইটার ব্যবহারকারী উল্লেখ করেছেন:

@মেসারাথুস্ত্র: গিরিফনা অবশ্যই এ বিষয়ে সচেতন যে বিপ্লবের সময় এখনি, বিপ্লবের জন্যে সুদানের সমস্ত জনগণকে রাস্তায় সচল করা দরকার ‪#সুদানেরবিদ্রোহ ‪#সুদান

সুদানের শায়মা ইদ্রিস টুইটারে বলেছেন:

@এজেস্ট্রিম  @গিরিফনা  @মিমিজিক্যালমিমজ তৃতীয় দিনে আমরা আমাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলছি.. শীঘ্রই প্রতিটি রাস্তা এনসিপি’র বিষমুক্ত হবে।

মনে হচ্ছে আশাবাদের একটা সাধারণ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে খার্তুমের সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো একটি সর্বাত্মক বিপ্লবে পর্যবসিত হবে। শুধু একটিই উদ্বেগ রয়েছে আর সেটা হলো বিক্ষোভগুলোর পেশাদারী কাভারেজের অভাব। সুদানের অনলাইন সম্প্রদায় বিশ্বাস করে যে মিডিয়া কাভারেজ মিশর এবং তিয়নিশিয়ার বিপ্লবের একটি অবিচ্ছেদ্দ অংশ ছিল, এবং সেইজন্যে সুদান একই দাবি করছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এবং জ্বালানী ভর্তুকি প্রত্যাহার – বিপ্লবের আর দেরী নেই।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .