বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

চীন: ক্ষুদ্র অনুদানের মাধ্যমে পল্লী শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে মধ্যাহ্নের খাবার

হংব্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দ সহকারে মধ্যাহ্নে খাবার গ্রহণ করছে।

হংব্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আনন্দ সহকারে মধ্যাহ্নে খাবার গ্রহণ করছে। ছবি অনুদান সংগ্রহের পাতা থেকে, ওয়াইবোতে @এ্যানা৩১৩ কর্তৃক প্রকাশিত

চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা শহর ও গ্রাম অঞ্চলের সম্পদের ব্যবধানের কারণে মারাত্মকভাবে বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষা, ব্যবস্থাপনা, পরিকাঠামো এবং শিক্ষা সহায়ক সম্পদের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত সমস্যার মাধ্যমে গ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ছে। সবচেয়ে গরীব অঞ্চলে, শিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি যোগাতে বিদ্যালয়ের শিশুদের আহার যোগানো প্রকৃত অর্থে বিশাল সমস্যা।

চীনের প্রাদেশিক কাউন্সিলের চীনা উন্নয়ন গবেষণা ফাউন্ডেশনের মার্চ ২০১১ তে প্রকাশিত গবেষণা মোতাবেক, চীনের পশ্চিমের প্রদেশগুলিতে দারিদ্রতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অপুষ্টি এবং বিলম্বিত বিকাশের সম্মুখীন হচ্ছে। নিক্সিয়া, গুয়াংজি ও ইউনান প্রদেশের আবাসিক বিদ্যালয়ের ১০-১৩ বছর বয়সের ১৪৫৮ জন ছাত্রের এক নমুনায় দেখা গেছে যে, বিলম্বিত বৃদ্ধি ১২% ও কম ওজন ৯%।

লিয়াং সাক্সিন

লিয়াং সাক্সিন

এই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য, গুয়াংজু ভিত্তিক সমাজসেবা কর্মী লিয়াং সাক্সিন আধা সরকারী গিজু যুব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১ এপ্রিল ২০১১ থেকে “বিনামূল্যে মধ্যাহ্নের আহার” প্রকল্পের সূচনা করেন। ২০১০ সালে লিয়াং কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেসরকারী উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান, মাইক্রো ফাউন্ডেশনের এটি প্রকল্প যার লক্ষ্য চীনে দক্ষভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে পল্লীর শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করা।

চীনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অফুরন্ত সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াইবোর (চীনের টুইটারের মতো সেবা) মতো জনপ্রিয় ইন্টারনেটের ক্ষেত্র এবং ওয়েব পোর্টাল অনেক লোককে যুক্ত করেছে। প্রকল্পের অন্তর্নিহিত ভাবধারা হচ্ছে “ক্ষুদ্র অনুদান”।

উদাহরণ হিসাবে,এই প্রকল্প টাওবাও প্লাটফর্মে উন্মুক্ত বিপণন কেন্দ্র স্থাপন করেছে, সেখানে নেট নাগরিকরা শুধু ৫.০০ আরএমবিতে (প্রায় ০.৮ ডলার) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুটো মধ্যাহ্নের খাবার কিনতে পারে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য, অনুদান কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সে সম্পর্কে ফিচার, ছবি এবং ফিরতি বার্তা প্রকল্পের ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে।

Logo of Micro Foundationএই প্রকল্প সত্যিকার অর্থে কিছু সাফল্য লাভ করেছে। বিশেষ করে এবছরের এপ্রিল পর্যন্ত, গিজু প্রদেশের হংব্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০৫ জন শিক্ষার্থীকে মধ্যাহ্নের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটের এবং বাসা অনেক দূরে হবার কারণে বিদ্যালয়ের দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী ঠিকমত মধ্যাহ্নের খাবার খেতে পারে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে এক যৌথ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের কাছে একটি লাভ স্ন্যাক শপ খোলা হবে, যাতে অভাবী ছাত্রদের আগামী কয়েক বছর বিনামূল্যে মধ্যাহ্নের খাবার সরবরাহ করা যায়। গিজুর দারিদ্র পীড়িত অঞ্চলের মাঝে ধাপে ধাপে একই ধরণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

আগামী তিন বছর নাগরিক-দাপ্তরিক সহযোগিতার পরিকল্পনা করা হয়েছে, এই বছর ১ কোটি আরএমবি (১৫ লক্ষ মার্কিন ডলারের বেশী) সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, সাউদার্ন ডেইলির কাছে প্রদান করা এক সাক্ষাৎকারে লিয়াং স্বীকার করেছেন যে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে, যেমন অনুদানের ধারাবাহিকতা এবং মধ্যাহ্নের খাবারের সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা। তিনি মনে করেন যে, গ্রামাঞ্চলে ছাত্রদের অপুষ্টির বিষয়টি কেবল সরকারের উদ্যোগে সমাধান করা প্রয়োজন। এই কারণে তিনি আধা সরকারী প্রতিষ্ঠান গিজুর যুব উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে তার অংশীদার হিসেবে বেছে নিয়েছেন, যার নিবিড় পেশাদার শিক্ষা সমন্বয় ব্যবস্থা রয়েছে। তদুপরি, তিনি বিশ্বাস করেন যে মাইক্রো ফাউন্ডেশন এর মত নাগরিক প্রতিষ্ঠান সহযোগিতার মাধ্যমে সৃষ্টিশীলতা, যোগাযোগ এবং সুসংহত করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে প্রাণের সঞ্চার ঘটাতে পারে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .