বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

থাইল্যান্ড: ইন্টারনেট স্বাধীনতার হুমকি ও লঙ্ঘন

নেটের স্বাধীনতার জন্যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার কোন গ্যারান্টি নয়। থাইল্যান্ডের বিষয়টি এক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক।

নবনির্বাচিত সরকারের “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা” এবং বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর জাতীয় সমঝোতার দিকে দেশকে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার সত্বেও ইন্টারনেট সেন্সরশিপের উত্থান ঘটেছে।

ব্লক করা ইউআরএল-এর সংখ্যা এবং কম্পিউটার সম্পর্কিত অপরাধ সংঘটনের সংখ্যা বেড়েই চলছে আর ইংলাক প্রশাসন  – স্বৈরাচারী দিনগুলোর উত্তরাধিকারী হিসেবে – ইন্টারনেট সেন্সরশিপের আইনি কাঠামোটি অক্ষত রাখা ছাড়াও তথ্য এবং যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সরকার রেকর্ড পরিমাণ ৭৩,০০০টি সাইট ব্লক করা নিয়ে গর্ব করে।

ইংলাক সরকারের টুইটারের নতুন ‘সেন্সরশিপ সরঞ্জাম (টুলস)'কে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয়াতে থাই রাজনীতির ঘনিষ্ট পর্যবেক্ষকদের কাছে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বিশ্বের অন্যান্য স্থানে নেটনাগরিকেরা টুইটারের অনলাইনে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করার এধরনের পদক্ষেপের প্রতিবাদ করেছে। তবুও থাইল্যাণ্ডে নেট সেন্সরশীপ যখন নতুন সরকারের নীতি আলোচ্যসূচীর অংশ সেরকম একটি সুবিধাজনক সময়ে এধরনের সরঞ্জাম এসেছে।

থাইল্যাণ্ডের তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী আনুদিথ নাকোমথাপ টুইটারের নতুন নীতিকে স্বাগত জানান।

“এটা [নীতিটি] সরকারের আইন-কানুন লঙ্ঘন থেকে নেট ব্যবহারকারীদের রক্ষা করার পদক্ষেপের সঙ্গে মিলে গিয়েছে। প্রকৃত স্বাধীনতা আসে যখন আপনি দেশের আইন নয়, অন্য ব্যবহারকারীদের অধিকার লঙ্ঘন করেন না।”

সাইবার স্কাউট (নিরীক্ষণ) কর্মসূচীর মাধ্যমে সরকার 'ক্ষতিকারক' এবং অবৈধ অনলাইন উপাদান খুঁজে বের করার জন্যে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ দিচ্ছে।

সাইবার স্কাউট (নিরীক্ষণ) কর্মসূচীর মাধ্যমে সরকার ‘ক্ষতিকারক’ এবং অবৈধ অনলাইন উপাদান খুঁজে বের করার জন্যে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ দিচ্ছে।

ব্যাংকক পোস্ট অনুসারে সরকার ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ করে গত বছরে এর আইন ভঙ্গ করেছে বলে মনে হওয়া ১০,০০০ পৃষ্ঠা নামিয়ে ফেলতে বলেছে। সাম্প্রতিক একটি সাইবার অভিযানে গত মাসে দু’জন থাই নেটনাগরিকের বাসগৃহে ঢুকে তাদের কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত এবং অধিকার রহিত করা হয়েছে। ভাগ্যক্রমে তারা মুক্তি পেলেও তারা জানে যে তাদের জীবন চিরতরে পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ভীতি এবং কর্তৃপক্ষগুলোর গভীর অবিশ্বাসের আবহের মধ্যে কারো কিছুই না করার আত্মপ্রত্যয়টি মোটেই যথেষ্ট নয়। অভিযুক্ত একজন প্রকাশ করেছেন তিনি বেশী উদ্বিগ্ন একারণে যে  পুলিশের “প্রমাণ” পরিবর্তন করে তাকে গরাদের ওপারে নিয়ে যেতে পারে তিনি যা করেছেন তার জন্যে নয় বরং তিনি যা করেন নি তার জন্যে।

পুলিশের কাছ থেকে তার জিনিসপত্র ফিরে পাওয়ার পর তিনি  রাজনীতি সম্বন্ধে ডকুমেন্ট ও নিবন্ধ সংরক্ষণে ব্যবহার করা তার বাইরের হার্ড ডিস্কের একটি পার্টিশনের নাম পরিবর্তিত পেয়েছেন।

‘তারা যখন [হার্ড ডিস্কটির] একটি কপি করছিল আমি সেটা দেখার জন্যে দাঁড়িয়ে থাকিনি কারণ আমি নিশ্চিত ছিলাম যে আমি ঝুঁকিপূর্ণ অথবা লুকানো কিছু করিনি। আমি শুধু সবসময়ের মতো আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য পোস্ট করেছি। কিন্তু আমি এটা দেখার পর আমার সন্দেহ হয়েছে পুলিশ আমার ডাটা (উপাত্ত) পরিবর্তন করেছে কিনা,’ তিনি বলেছেন।

তিনি প্রাচাতাইকে বলেছেন যে তিনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠভাবে রাজনীতিকে অনুসরণ করেন কিন্তু কখনো কোন দলের কোন সমাবেশে যোগদান করেন নি। তিনি জোর দিয়ে আরো বলেন যে তিনি ব্যাপকভাবে অন্যদের মন্তব্য পড়েছেন কিন্তু কখনো কোন আপত্তিকর মন্তব্য পোস্ট করেন নি।

সব নেট ব্যবহারকারীরাই থাইল্যান্ডের নতুন টুইটার নীতিতে বিরক্ত হননি। তবুও ওরিওকর্ণার ব্লগনান.কম ওয়েব বোর্ডে লিখেছেন:

“মনে হচ্ছে থাইল্যান্ড সেন্সরশীপ এত বেশি পছন্দ করে যে এটি নতুন টুইটার সেন্সরশীপ নীতিকে সাদরে গ্রহণের অবস্থান নিয়েছে।”

ইতোমধ্যে টেলেনাইট কেমুট টুইট করেছেন “ঠিক আছে, আমি এটা মানতে পারি।” ডোমোকু স্যাড লিখেছেন:

“ব্যক্তিগতভাবে সব নেট ব্যবহারকারীদের তাদের দেশের আইন মেনে চলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের [নেট ব্যবহারকারীদের] নিজেদের সীমানা নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।”

থাইল্যান্ডে ইন্টারনেট স্বাধীনতার উপর অব্যাহত আক্রমণ রাজ পরিবারের মানহানি নিষিদ্ধ করার “রাষ্ট্রদ্রোহিতা ধারা” হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত দণ্ডবিধির ১১২ অনুচ্ছেদের সংস্কারের সম্ভাবনা সম্পর্কিত বিতর্ক নিয়ে সামগ্রিক উত্তেজনার সাথে একই সূত্রে গাঁথা।

ইংলাক সরকার  পরিষ্কার করে বলেছে যে তারা এর সংশোধনী চাইবেন না এবং নেটনাগরিকদের উপর অভিযান বাড়িয়ে দেয়ার পর থেকেই এর আইন প্রয়োগের দায়িত্বের কথা বলছে। আইনটিকে ঘোলা করে এবং কম্পিউটার অপরাধ সম্পর্কিত মামলার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকায় সরকার কার্যকরভাবেই ভীতি সৃষ্টি করছে।

সরকারের টুইটারকে অনুমোদনের সাথে সাথেই থাইল্যাণ্ডের সেন্সরশীপের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা (এফএসিটি) সেন্সরশীপ সরঞ্জামগুলোকে এড়ানোর উপায় খুঁজছে। থাই নেটনাগরিক নেটওয়ার্ক পালটা যুদ্ধ করেই সরকারের ক্রমবর্ধমান নেট নিপীড়নের জবাব দিয়েছে। দলটি থাই নেট ব্যবহারকারীদেরকে কীভাবে ব্লক করা সাইটগুলো “আনব্লক” করা যায় তার উপর নিয়মিত আপডেট দিচ্ছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .