বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইরান: ইন্টারনেট অবরোধ শিথিল করে লাভ কি?

ইরানের তেহরানের একটি ইন্টারনেট ক্যাফে।

ইরানের তেহরানের একটি ইন্টারনেট ক্যাফে। ছবি মি._এল_ইন_ইরান। কপিরাইট © ডেমোটিক্স (২৪/০২/১১)

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ “ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত যোগাযোগ আদান-প্রদান বা এধরনের পরিষেবা বজায় রাখার জন্যে” একটি পরিষেবা তালিকার উপর থেকে অবরোধ শিথিল করতে যাচ্ছে।

২০শে মার্চ, ২০১২ তারিখের ঘোষণা অনুসারে এই পরিষেবাগুলোর মধ্যে ইয়াহু মেসেঞ্জার, গুগল টক, স্কাইপি (ফি-ছাড়া), এক্রোব্যাট রিডার, ফ্ল্যাশপ্লেয়ার, জাভা এবং গুগলক্রোম, ফায়ারফক্স এবং ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার অন্তর্ভূক্ত

বেশিরভাগ ইরানী ইন্টারনেট ব্যবহারকারী একে স্বাগত সংবাদ ভাববে নাকি এটি ইরানীদের জন্যে সত্যিকারের কোনো পরিবর্তন বয়ে আনবে না? কোন কোন পরিষেবাগুলো এই তালিকায় থাকা দরকার ছিল? আর ইরানে অবস্থানরত ইরানীরা এটা নিয়ে কী ভাবছে?

পাঁচজন নেটনাগরিক নিচে গ্লোবাল ভয়েসেসের সাথে তাদের মতামত এবং জ্ঞান ভাগাভাগি করেছে।

প্রভাব: আপনার উদ্দীপনাটা চেপে যান

গ্লোবাল ভয়েসেসের সাংবাদিক এবং লেখক হাদি নিলি:

এধরনের সিদ্ধান্ত ইরানীদের কাছে তেমন কিছুই না যেহেতু তারা  ইতোমধ্যে এধরনের সীমাবদ্ধতার সাথে মানিয়ে নিয়েছে এবং সম্প্রতি যা যা শিথিল করা হয়েছে সেগুলোর জন্যে তাদের অনেক বিকল্প রয়েছে।

সুশীল সমাজের এক্টিভিস্ট এবং ইরানে কয়েকবছর বসবাস করা মার্কিন ব্লগার তোরি এগেরমান:

এক দিক থেকে, অনেক দেরী করে এসেছে। অন্যদিক থেকে, এটা প্রসাধনী পরিবর্তনের মতো যা বেশিরভাগ ইরানীর তেমন উপকার করবে না। বাজে অর্থনৈতিক নীতির সাথে বিভিন্ন অবরোধ অর্থনীতিকে এতোটাই পঙ্গু করে ফেলছে যে ইন্টারনেট সংযোগই বিলাসিতায় পরিণত হবে ইরানে। অবরোধগুলোর উদ্দেশ্য আরো উন্মুক্ত এবং গণতান্ত্রিক সমাজের প্রসার নয়, বরং ইরানকে নতজানু করা। শেষ পর্যন্ত এগুলো জনগণকে আরো নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে শাসকগোষ্ঠীর প্রতি একটা উপহার।

ব্লগার, গবেষক, এবং ডয়েচে ভেলে’র ব্লগের সেরা  (দি বিওবিস)-এর বিচার পর্ষদ সদস্য আরাশ কামাঙ্গির:

ইরানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হওয়া। ব্যক্তি কীভাবে নেটের সাথে আদান-প্রদান প্রদান করবে সেটা হলো পরের কথা, যেটা প্রথমটির নিচে প্রায়শঃই চাপা পড়ে যায়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে যা ঘটেছে তার কোনো প্রভাব থাকবে না। নতুন অগ্রগতিটির গুরুত্ব মূলতঃ মানসিক। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাথে রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নয় – ইরানীদের এটা দেখতে সাহায্য করবে। অবরোধগুলোর শিথিলতা এক্ষেত্রে সাহায্য করবে।

ব্লগার এবং ফ্রিল্যান্স মিডিয়া বিশ্লেষক আমিন সাবেতি:

আমি মনে করি না যে এর কোন লক্ষণীয় প্রভাব পড়বে ইরানীদের উপর কারণ তারা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মিরর ওয়েবসাইট অথবা ভিপিএনগুলো ব্যবহার করে জিটক, ইয়াহু মেসেঞ্জার ইত্যাদি সবকিছু ডাউনলোড করে নিয়েছে। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি এটা একটা ভাল শুরু যা মার্কিন কোম্পানীগুলোকে ইরানী ব্যবহারকারীদের উপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে রাজি করবে।

ব্ল্যাটারিন প্রতিষ্ঠাতাদের একজন মেহিদ ইয়াহিয়ানেজাদ:

আমি মনে করি ইরানের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের উপর এটার একটা অনুকূল প্রভাব পড়বে। মূলতঃ ইরানী সরকারই ইরানীদের ইন্টারনেটে প্রবেশকে পঙ্গু করে রেখেছে এবং এক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের প্রভাব ফেলার মতো কিছু করার সুযোগ সীমিত।

কোন পরিষেবা বাদ পড়েছে কী?

আমাদের পাঁচ নেটনাগরিকের পছন্দগুলো হল: পিজিপি সংকেতায়ন, আপডেটসহ এন্টি-ভাইরাস সফটওয়্যার, এন্ড্রয়েড বাজার, বিভিন্ন ভিপিএন এবং ইরানের বাইরে থেকে ওয়েবসাইট হোস্ট করতে পারা।

ভিতর থেকে কোন খবর আছে কী?

হাদি নিলি:

আমি এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে এত উৎসাহ এবং উত্তেজনা দেখিনি। ইরানীরা আগে থেকেই এই অবরোধের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে। কিছু কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে এবং তারা ভাবছে যে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করতে যাচ্ছে।

তোরি এগেরমান:

আমি যাদের সাথে কথা বলেছি তারা সবাই যুদ্ধ, অর্থনীতি এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপে আছেন। আমি যাদের সাথে কথা বলেছি তাদের কারো অন্য কোনো কিছু নিয়ে কথা বলার শক্তি বা সময় নেই। একজন প্রিয় বন্ধু আমাকে কৌতুক করে বলেছে, “এটা আমাদের উৎপাদনের বছর। আমরা শুধু এটাই করতে পারি।”

আরাশ কামাঙ্গির:

হ্যাঁ। কিছুটা উত্তেজনা তো আছেই। এই অগ্রগতিটির প্রতি আমাদের প্রধান প্রতিক্রিয়া হলো অর্থনৈতিক আদান-প্রদানের অনেক পরিষেবা আছে যেগুলো বসবাসকারী ইরানীদের পক্ষে অসম্ভব প্রায়। কেউ কেউ যুক্তি দেখান যে ইরানী ভোক্তাদের সাথে ব্যবসা করার সময় ব্যক্তিগত কোম্পানীগুলো কম উদ্বিগ্ন থাকবে।

আমিন সাবেতি:

আকর্ষণীয় দিকটি হচ্ছে ইরান থেকে সাড়া এবং আমি বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্ক যেমন টুইটার, ফ্রেন্ডফিড অথবা ফেসবুকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাইনি! এটা আমার প্রথম প্রশ্নের দাবিটি প্রমাণ করে যে ইরানী ব্যবহারকারীদের উপর এর উল্লেখযোগ্য কোনো প্রভাব নেই কারণ তারা অন্য কোনো উপায়ে জিটক, স্কাইপি ইত্যাদি ডাউনলোড করে তাদের সমস্যা সমাধান করতে জানে।

মেহিদ ইয়াহিয়ানেজাদ:

এখনো না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .