বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

রাশিয়া: ৭৫-এ পা দিলেন মহাকাশচারী প্রথম নারী

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ঠিক একদিন আগেই প্রথম মহাকাশচারী নারী ভ্যালেন্টিনা তেরেস্কোভা তার ৭৫তম জন্মদিন পালন করলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রকেট ভিত্তিক মিসাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে মহাকাশে অভিযাত্রার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। তবে ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক’ এর যাত্রা শুরুর আগ পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা ঘটা করে শুরু হয় নি। ১৯৬১ সালে প্রথম মানুষ হিসেবে ইউরি গ্যাগারিন মহাকাশে গিয়েছিলেন। তিনি ভোস্টোক ১ (ইস্ট-এর রাশিয়ান শব্দ) এর পাইলট হয়ে মহাকাশে যান। এর কয়বছর পরে, ভোস্টোক ৬ মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। প্রথম মহিলা হিসেবে তেরেস্কোভা এটিতে চড়ে মহাকাশে যাবার গৌরব অর্জন করেন।

গত বছর ইঞ্জিনিয়ারিং পাথওয়ে ব্লগ তেরেস্কোভার মহাকাশ অভিযানবার্ষিকীর দিনে মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময়কালীন ঘটনাগুলো তুলে ধরে। উল্লেখ্য, তেরেস্কোভা আমেরিকান প্রতিযোগীর চেয়ে বেশি সময় মহাকাশে ছিলেন:

ইতিহাসের আজকের দিনে- জুন ১৬, ১৯৬৩। ভ্যালেন্টিনা তেরেস্কোভা প্রথম নারী অভিযাত্রী হিসেবে মহাকাশে যান। তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের মহাকাশযান ভোস্টোক ৬-এ চড়ে গিয়েছিলেন। এই সময়ে তেরেস্কোভা তিনদিন মহাশূন্যে ভেসে ছিলেন। এটা আমেরিকান মহাকাশচারীদের মোট সময়ের চেয়েও বেশি সময়। […]

তেরেস্কোভা বেশ কয়েকটি পুরস্কার পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে: দুটি অর্ডার অব লেনিন, হিরো অব দ্য সোভিয়েত ইউনিয়ন, ইউনাইটেড নেশন গোল্ড মেডেল অব পিস, সিমবা ইন্টারন্যাশনাল উইমেন’স মুভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড এবং জুলিয়ট-কুরি গোল্ড মেডেল। ২০০০ সালে ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব দ্য ইয়ার অ্যাসোসিয়েশন তাকে “গ্রেটেস্ট উইমেন অ্যাচিভার অব দ্য সেঞ্চুরি” অ্যাওয়ার্ডে ভুষিত করে।

উইমেন অব দ্য উইক ব্লগ প্রকৌশল এবং বিজ্ঞানে যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানিয়েছে একটি প্রকাশনা প্রকাশ করে। সেখানে তেরেস্কাভার জীবনের নানা তথ্য দেয়া হয়েছে:

ভ্যালেন্টিনা ভ্লদিমিরোভনা তেরেস্কোভা সোভিয়েত ইউনিয়নের ইয়ারেসলাভল অবলাস্টয়ের বোলশোয়ি মাসলেন্নিকোভো এলাকায় ১৯৩৭ সালের ৬ মার্চে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ভ্লাদিমির আক্সয়েনোভিচ তেরোস্কোভ ছিলেন একজন ট্রাক ড্রাইভার। মা ইলিনা ফেডোরোভনা ছিলেন একটি টেক্সটাইল কারখানার কর্মী। এক ভাই, এক বোন ছিল তার। বোন বড় আর ভাইটি তার ছোট ছিল। ভালেন্টিনার বাবা ভ্লাদিমির ১৯৩৯-৪০ সালে ফিনো-রাশিয়ার যুদ্ধে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে আর ফিরে আসেন নি। তাই ভ্যালেন্টিনা এবং তার ভাই-বোনেরা মায়ের কাছেই বড় হন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ভ্যালেন্টিনা ৮ বছর বয়স পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারেন নি। পরিবারকে সাহায্য করার জন্য ১৭ বছর বয়সে তিনি স্কুল ছেড়ে দিয়ে একটি টেক্সটাইল মিলে কাজ নেন। কাজের পাশাপাশি তিনি করেসপন্ডেন্স কোর্সের মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে যান। ভ্যালেন্টিনা তার নিজ শহরে (ইয়ারেসলাভল) সোভিয়েত এয়ার ফোর্সের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে স্কাই ড্রাইভ শেখেন। ১৯৫৯ সালে তিনি প্রথমবারের মতো জাম্প দেন। তিনি যে টেক্সটাইল মিলে কাজ করতেন, সেখানে একটি প্যারাসুট ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেন। […]

 

মাই মেইল ডট আরইউ ব্যবহারকারী ইরিনা জেনারেল লেফটেন্যান্ট নিকোলাই কামানিন তেরেস্কোভার ফ্লাইট নিয়ে যে তথ্য দিয়েছেন সেটা উদ্বৃত [রাশিয়ান ভাষায়] করেছেন:

” আমি তেরেস্কোভার সাথে কয়েকবার কথা বলেছি। মনে হয়েছে, সে খানিকটা ক্লান্ত। তবে, সে এটা স্বীকার করতে চায় নি। […] আমরা টেলিভিশন ক্যামেরায় দেখলাম যে তিনি ঘুমিয়ে আছেন। আমি তাকে জাগালাম। তার সাথে মাটিতে অবতরণ করা নিয়ে কথা বললাম। সে এটা নিজ হাতেই করতে চেয়েছিল। [মহাকাশযানের সার্বিক পরিস্থিতির সাথে পরিচিতি করানো ছিল খুবই জটিলতাপূর্ণ। এটা নিয়ে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম]। […]”

এরপরে ইরিনা তেরেস্কোভার মহাকাশে থাকার সময়কালের ঘটনার সাথে সাথে রাশিয়ার মাটিতে অবতরণ নিয়েও মন্তব্য করেছেন:

তিনি বমি বমি ভাব ও শারীরিক অসুবিধা সত্ত্বেও ৪৮ বার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেন এবং তিনদিন মহাকাশে অবস্থান করেন। তিনি মহাকাশে যা ঘটছে, সেসব লিখে রাখতেন। ক্যামেরায় দিগন্তরেখার ছবি নিতেন। এগুলো পরে বায়ুমণ্ডলে অ্যারোসল লেয়ার চিহ্নিত করার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

কারাগান্ডা থেকে ৬২০ কিলোমিটার উত্তরপূর্ব দিকে বায়েভস্কি এলাকার আলটাইতে ভোস্টোক ৬ নিরাপদে অবতরণ করে। […]

মিস তেরেস্কোভা পরে এক আলোচনায় নিজ অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, ক্রমশ: দূরে দূরে যেতে কীভাবে পৃথিবী আবছা হয়ে যাচ্ছিল:

” যখন আমাকে ছোঁড়া হলো, আমি ভেবেছিলাম আমি ভৌতিক নিরবতার মধ্যে প্রবেশ করবো। যা আমি চূড়ান্তভাবে ৪৪ বছর পরে পেয়েছি। নিচে জলাশয় দেখে আমার প্রথম ধারণা হয়েছিল, “ঈশ্বর একজন নারীকে পাঠিয়েছেন যে পানি থেকে পুনরুদ্ধার করবে!”

উইমেন অব দ্য উইক ব্লগ তেরেস্কোভা যে তিনদিন মহাকাশে ছিলেন সে সময়কার তার শারীরিক এবং মানসিক অবস্থা কেমন ছিল সেটা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে:

ফ্লাইট সহজ কোনো ব্যাপার ছিল না। মহাকাশচারীদের ভুলভাবে শেখানো হয়েছিল, এবং তা শুধরানোর দরকার হয়ে পড়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার গ্রাউন্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে একদিন সময় লেগেছিল। ফ্লাইটে থাকা অবস্থায় তার পেট খারাপ হয় এবং সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রাউন্ডের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়ায় সে আসলে মহাকাশে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ভ্যালেন্টিনা জানিয়েছেন, তিনি মহাকাশে তিনদিনই তার চেয়ারের সাথে শক্তভাবে আটকে ছিলেন। তাছাড়া চূড়ান্তভাবে মাটিতে অবতরণ করার সময় তিনি নাকে আঘাত পান। যা থেকে নাকে গভীর কালশিটে দাগ পড়ে। এই মহাকাশযাত্রার প্রোপাগান্ডার জন্যই তিনি নাকের কালশিটে দাগ ঢাকতে কড়া মেকাপ নিতেন।

২০১১ সালে পলিস পিস অব পিস ব্লগ-এর একটি পোস্টে মিস তেরেস্কোভার সেই ইতিহাসময় ফ্লাইটটি নিয়ে আলোচনা করা হয়:

তার নেতৃত্বস্থানীয় ফ্লাইটের পর তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের হিরোর খেতাব পান। তাকে অর্ডার অব লেনিন দিয়েও সম্মানিত করা হয়। তিনি জেহুকোভস্কি মিলিটারি এয়ার একাডেমি থেকে ১৯৬৯ সালে স্নাতক হয়েছেন। তাছাড়া তেরেস্কোভা সোভিয়েত সরকার এবং কমিউনিস্ট পার্টির বেশ কয়েকটি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইউএসএসআর-এর মূখপাত্র ছিলেন তিনি। তিনি শান্তির জন্য জাতিসংঘের গোল্ড মেডেল পেয়েছেন। এসব আন্তর্জাতিক পুরস্কারের পাশাপাশি তিনি গত এপ্রিলে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভের কাছ থেকে অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি সহযোগী এক মহাকাশচারীকে বিয়ে করেছিলেন। তিনি মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার প্রথম সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন। মেয়ে ছিল সে।  পরে সে ডাক্তার হয়েছিল।

 

প্রথম মহাকাশচারী স্কোয়াডের সদস্য ভ্যালেন্টিনা তেরেস্কোভা অর্ডার অব ফ্রেন্ডশিপ খেতাবে ভুষিত হয়েছেন। এপ্রিল ১২, ২০১১। ছবি কৃতজ্ঞতা: www.kremlin.ru (সিসি বিওয়াই ৩.০)

মিস তেরেস্কোভাকে নিয়ে ২০১১ সালের পোস্টটি রাসেল ফিলিপস সমাপ্তি টেনেছেন তার জীবনের কিছু কথা দিয়ে। সেখানে তার মঙ্গল অভিযানের ইচ্ছার কথাও আছে:

১৬ বছর বয়সে তেরেস্কোভা যখন স্কুল ছেড়ে দিয়ে কাজে যোগ দিলেন, তখনও তিনি করেসপন্ডেন্স কোর্সের মাধ্যমে পড়ালেখা চালিয়ে গেছেন। ১৯৬৯ সালে জেহুকোভস্কি মিলিটারি এয়ার একাডেমি থেকে ডিসটিংশন-সহ স্নাতক করেছেন। ১৯৭৭ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডক্টরেট করেছেন। তিনি তার ৭০তম জন্মদিনে বলেছেন, তিনি মঙ্গলে যেতে চান, সেটা ওয়ান-ওয়ে ট্রিপ হলেও।

 

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .