বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: করাচির তৃতীয় সাহিত্য উৎসব

করাচি সাহিত্য উত্সব ছিল চলতি মাসের চমৎকার একটি অনুষ্ঠান। এটা লেখক এবং বইপড়ুয়াদের এক সাথে হওয়ার এবং বই পড়াটাকে উদযাপন করার অসাধারণ একটা সুযোগ এনে দিয়েছিল। সিন্ধী, পাঞ্জাবী, উর্দু, সেরাইকি (সিন্ধী এবং পাঞ্জাবীর মিশ্রণ), ইংলিশ, জার্মান এবং ফরাসী সাহিত্য নিয়ে দুই দিন ব্যাপী আলোচনা হয়। এই আয়োজন ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারির ১১ এবং ১২ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ব্রিটিশ কাউন্সিল এবং অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেসের যৌথ উদ্যোগে করাচি সাহিত্য উৎসবের বার্ষিক আয়োজনটি প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। ২০১০ সালে প্রথমবারের আয়োজনে প্রায় ৫ হাজার সাহিত্যপ্রেমী মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। এ বছরে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ব্যাপক বেড়ে গেছে। ১৫ হাজার লোক এবারের উৎসবে অংশ নেন।

বিনা শাহ মন্তব্য করেছেন:

 তৃতীয় করাচি সাহিত্য উৎসব শেষ হয়ে গেল। সব দিক দিয়ে এটা ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। ১৫ হাজার মানুষ দুইদিনের প্যানেল আলোচনা, বইয়ের মোড়ক উম্মোচন, বই পড়া, লেখালিখি কর্মশালা, নাটক এবং সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নেন। তাছাড়া উৎসবে প্রায় ১৫০ জনের মতো লেখক অংশ নেন।

করাচি সাহিত্য উৎসবের লোগো

করাচি সাহিত্য উৎসবের লোগো

উতৎসব নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশেষ করে ব্লগারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। মাদিহা ইশতিয়াক যথার্থ মন্তব্য করেছেন, এই উৎসব করাচি শহরকে ‘লিটট্রোপলিস’ (সাহিত্যের শহর) এ পরিণত করেছে। নাদির হুসাইন বলেছেন, অনুষ্ঠান আনন্দদায়ক এবং গোছানো ছিল।

সারা বিশ্ব থেকে অনেক লেখক উৎসব দেখতে এখানে আসেন। এখানে বেশ কিছু গোল টেবিল আলোচনা, সমালোচনা এবং বিশ্লেষণমূলক (প্রশ্ন-উত্তর) আলোচনা হয়। জাহানে রুমি নামের একজন অ্যাকটিভিস্ট এবং উৎসবের মডারেটর যথার্থ-ই সারসংক্ষেপ টেনেছেন:

এ বছর বিক্রম শেঠ, উইলিয়াম ডারলাম্পল, হানিফ কোরাইশি, শোভা দে, আনাতোল রিভেন-সহ আরো কিছু লেখক তাদের ভক্ত পাঠক এবং সমালোচকদের মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন। উর্দু এবং কিছু আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্য নিয়ে কয়েকটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এটা সত্যি সব আলোচনায় সমান সংখ্যক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন না।

উৎসবে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। ‘লোক দেখানো রাজনৈতিক বিষয়’ নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা কথা বলেছেন। উমর জে অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক আলোচনা সাহিত্যের আলোচনাকে মাঝে মাঝে থামিয়ে দিয়েছে। তিনি লেখেন:

বংশের সম্মানার্থে হত্যা (অনার কিলিং), বেলুচিস্তানে গৃহযুদ্ধ, সংখ্যালঘুদের অধিকার, বাংলাদেশ এবং পরমাণু অস্ত্র-সহ ১৫টি রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বেশিরভাগ আলোচনায় নিষ্ফল হয়েছে, অযথাই শিল্পের জন্য শিল্প খোঁজা হয়েছে।

একজন খ্যাতিমান স্পিকার নারী অধিকার নিয়ে আয়োজিত একটি আলোচনায় অংশ নেন:

একটি আলোচনায় নারীদের কণ্ঠস্বর, তাদের গুরুত্ব উঠে আসে। মণিজা নাকভী, বিনা শাহ, নাফিসা হাজি এবং ম্যারিলিন ইয়াট আলোচনায় অংশ নিয়ে একজন লেখক-পাঠক হিসেবে তাদের অভিজ্ঞতা, তাদের নিজেদের সাহিত্যের মধ্য দিয়ে কীভাবে এসেছে, সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বইপড়ুয়াদের এই আয়োজন দেখতে আসেন। এই ফটো গ্যালারি বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মেলাটিকে তুলে ধরে।

কিন্তু কোনো আয়োজনই সমালোচনার উর্ধ্বে নয়। অনেকেই মন্তব্য করেছে করাচি সাহিত্য উৎসব অভিজাতদের জন্য। সেখানে সাধারণ মানুষদের কোনো স্থান ছিল না।

@সাধাসন: জুবাইদা মোস্তফা ঠিকই বলেছেন, করাচি সাহিত্য উৎসব সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ইংরেজিভাষী অভিজাত লোকদের বার্ষিক মিলনমেলা।

লেখক, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক কর্মী মুহম্মদ হানিফ বলেছেন, করাচি সাহিত্য উৎসব অভিজাতদের ট্যাগ দেয়া ভুল হতে পারে:

পড়াশোনার ব্যাপারটাই তো অভিজাতদের ব্যাপার। এমনকি, যেকোনো ধরনের শিল্প: সংগীত, চিত্রকর্ম, নাটক, সাহিত্য- সব ধরনের বুদ্ধিভিত্তিক কার্যক্রম একই কাতারে পড়বে। তার মানে কী আমরা তাদের আনুকূল্য করবো না?

আরো একটি সমালোচনা সেখানে উঠেছিল। সেটা হলো পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা উর্দুকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় নি। ইংরেজি আর সব ভাষাকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সমালোচনার ব্যাপারে বিনা শাহ খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানান, এটা কোনো স্থানীয় আয়োজন নয়, এটা একটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ছিল। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ায় সবার বোঝার সুবিধার্থে এতেই বেশি আলোচনা হয়েছে।

হামদান মালিক অনুষ্ঠানের অন্য একটি সমালোচনা করেছেন। তিনি করাচি সাহিত্য উত্সবকে ‘বিভ্রান্ত, উদ্বিগ্ন, এমনকি কিঞ্চিত ভঙ্গুর এবং অহংবোধ, রাগ, সহানুভূতিশীল’ লেবেল দিয়েছেন। এ ধরনের সমালোচনাকে অ্যারিস্টোটল (গ্রিক দার্শনিক) মূল্যবান বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন:

সমালোচনা থেকে মুক্তি পেতে- কিছুই করবে না, কিছুই বলবে না, কিছুই হবে না।

করাচি সাহিত্য উৎসব আয়োজনের সার্থকতা হল বিশ্বের বইপ্রেমী লোকেরা এখানে এসেছিলেন। আমি ইয়াকুব খান বাঙ্গাসের উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করবো। তিনি লিখেছেন:

তৃতীয় বছরের মতো করাচি সাহিত্য উৎসব দেখিয়েছে, পাকিস্তানে বিস্ময়কর রকমের মানুষ আছে, যারা এক সাথে জমায়েত হতে চায়, তাদের কাজ নিয়ে কথা বলতে চায়, অন্যদের কাছ থেকে শিখতে চায়, ছাইচাপা প্রতিভাদের জ্বলে উঠতে সাহায্য করতে চায়। এখন আমাদের দরকার এ রকম হাজার হাজার করাচি সাহিত্য উৎসব।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .