বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সাহেলঃ ইসলামি মৌলবাদী সংগঠনগুলো তাঁদের কার্যক্রম জোরালো করেছে

[বর্ণনা ব্যতীত এ নিবন্ধের সকল লিঙ্ক ফরাসী ভাষায়]

গত কয়েক মাস ধরে বোকো হারামএকিউ আই এম (আল- কায়েদা অর্গানাইজেশন ইন দি ইসলামিক মাগরেব) নামের দুটি ধর্মীয় ইসলামিক মৌলবাদী সংগঠন ফেডারেল রিপাবলিক অব নাইজেরিয়া ও এর পার্শ্ববর্তী দেশসমূহে তীব্র সংঘাত অব্যাহত রেখেছে।

ডিসেম্বরের ১২ তারিখে জামাত তাওহিদ ওআল জিহাদ ফি গারবি আফ্রিকিয়া (একাত্মতার আন্দোলন এবং পশ্চিম আফ্রিকায় জিহাদ- এম ও জে ডব্লিউ এ) পরিচয়দানকারী এ কিউ আই এম আলজেরিয়ায় তিনজন ইউরোপীয় সাহায্য কর্মীকে জিম্মি করার ভিডিও [ইংরেজী] প্রচার করে।

ধর্মীয় এ গ্রুপগুলো দেশটির সাহেল অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক আক্রমনের বিষয়ে স্থানীয় ব্লগীয় পরিমণ্ডলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া, উদ্বেগ এবং ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ পরিলক্ষিত হয়।

5368

বায়াফ্রাতে পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত বোকো হারামের রিক্রুট। ছবি- ওআই ফ্রগ @ তিয়ানমাইন এর সৌজন্যে

গ্রটিয়াস ওয়েবসাইটে ফিলিপ্পে হুগন নাইজেরিয়ার সংহতির ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের অন্যতম ক্ষতিকর কারন হিসেবে নিচের বিষয়টি উল্লেখ করেনঃ

Dans la capitale de l’État des plateaux, à Jos, les conflits opposent ainsi les Fulani musulmans aux Berom chrétiens, deux populations qui disposent de droits différents. Quant aux mouvances islamiques du Nord, elles sont plurielles (soufisme des confréries traditionnelles, mouvements salafiste, maadhistes et chiites) avec 12 États (sur 36) qui ont instauré la charia.

মালভূমী রাস্ট্রের প্রশাসনিক রাজধানী জস এ মুসলিম ফুলানি এবং খ্রিস্টান বেরম দের মধ্যে দ্বন্দ্ব বিরাজমান। এ দুই জনগোষ্ঠীর রয়েছে দুটো আলাদা স্বতন্ত্র অধিকার। উত্তরে বিভিন্ন ধরনের আলাদা আলাদা ইসলামি সংস্কৃতির প্রভাব রয়েছে।( প্রথাগত সুফিবাদের ভাত্রিত্ব বোধ, সালাফীয় আন্দোলন, মধীয় ও শিয়া তন্ত্র) এবং (৩৬ টির মধ্যে) ১২ টি প্রদেশে শরিয়া আইন চালু আছে।

লেখকের মতে এ উপাদানগুলো দুর্বল হওয়ার পরিবর্তে আন্দোলন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ হওয়ার গুরুতর কারন রয়েছেঃ

La question la plus importante, en raison des bouleversements intervenus en Libye, est à présent la prolifération de la nébuleuse AQMI. Le mouvement anti occidental Boko Haram, apparu après le 11 septembre 2001, localisé dans l’État de Borno développe désormais le djihadisme ; il s’est scindé en plusieurs branches dont l’une est proche des Chebabs de Somalie et d’Aqmi. Or par sa radicalisation et ses actions violentes, il favorise un clivage religieux engendrant un engrenage des violences, des représailles et de la répression.

এ মুহূর্তের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লিবিয়ায় সংগঠিত  বিপর্যয় এবং এ কিউ এম আই- এর সন্দেহজনক দ্রুত বিস্তার। সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ এর বোকো হারামের পশ্চিমা বিরোধী আন্দোলন বরনো প্রদেশে সীমাবদ্ধ ছিল যা পরবর্তীতে জিহাদের রূপ ধারন করে বিভিন্ন উপ শাখায় বিভক্ত হয়। এর মধ্যে একটি সোমালিয়ার চেবাব এবং এ কিউ এম আই- এর মধ্যকার যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে। সংঘাত ও মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই গ্রুপটি ধর্মীয় বিভক্তি ছড়ায় এবং সহিংসতা, পাল্টা আক্রমণ এবং দমনপীড়ন অব্যাহত রাখে।

লিবিয়ার জনযুদ্ধে স্থানীয় প্রভাব সম্পর্কে তদন্ত করার জন্য জাতিসংঘের একটি দল সাহেল দেশগুলো সফর করে। তাঁদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জাতিসংঘ ২৬ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয় নাইজেরিয়ার বোকো হারাম এবং এ কিউ এম আই-এর অস্ত্রের মাধ্যমে সংঘর্ষ ঘটানোর বিপদজনক ক্ষমতা রয়েছে।

জিও ট্রিবিউন ব্লগে এন্টোনি বারবিজোন এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লিখেন। তিনি বলেনঃ

Les gouvernements et responsables des États dans lesquels s’est rendue l’équipe d’évaluation de l’ONU ont communiqué les informations en leur possession selon lesquelles de grandes quantités d’armes en provenance de Libye seraient parvenues illégalement dans de nombreux pays du Sahel. Livré clandestinement par d’anciens combattants de Libye, des soldats et des mercenaires à la solde du Colonel Mouammar Kadhafi, cet arsenal comprendrait des lance-grenades, des mitrailleuses avec visée inti-aérienne, des fusils automatiques, des munitions, des grenades, des explosifs ainsi que de l’artillerie légère montée sur véhicules. Ces armes seraient cachées dans le désert et une partie d’entre elles vendues aux groupes terroristes. Le rapport de l’équipe de l’ONU évoque également l’inquiétante perspective d’un rapprochement entre Boko Haram et AQMI, les deux groupes ayant décidé d’étendre leurs actions au-delà de leurs périmètres actuels.

জাতিসংঘ দলের তথ্যের ভিত্তিতে দেশগুলোর সরকারি কর্মকর্তাদের সফরে জানা যায় যে, লিবিয়া থেকে বিপুল পরিমান অবৈধ অস্ত্র সাহেল দেশগুলোতে প্রবেশ করেছে। অস্ত্র গুলো কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির অনুগত লিবিয়ার প্রাক্তন যোদ্ধা, সৈন্য, ও ভাড়াটে সৈন্যদের মাধ্যমে পাচার হয়েছে। এ সমরাস্ত্র গুলোর মধ্যে গ্রেনেড লঞ্চার, বিমান বিধ্বংসী মেশিনগান, অটোম্যাটিক রাইফেল, গোলাবারুদ, গ্রেনেড ও বোমা ছাড়াও হালকা আর্টিলারি যানবাহন ও রয়েছে। এ হাতিয়ারগুলো মরুভূমিতে লুকানো আছে এবং এর কিছু কিছু সন্ত্রাসী দলগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। বোকো হারাম ও এ কিউ এম আই এর মধ্যকার পূনঃ সম্পর্ক স্থাপন ও তাদের কার্যক্রম বর্তমান পরিধি থেকে আরও বিস্তৃত হওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ।

সাহেল দেশসমূহের প্রতিবেশী রাস্ট্রের জনগণ এ পরিস্থিতিতে তাদের উৎকণ্ঠা ব্যক্ত করেছেন। ক্যামেরুনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা পরিস্থিতির বিপদজনক মূল্যায়ন করেছেন। এলিজাবেথ কেনডাল তাঁর ব্লগে লিখেন [ ইংরেজি]:

ডাচ উন্নয়ণ সংস্থার একজন কমিউনিটি কর্মী গারগা অউদু আই পি এস কে বলেন “আক্ষরিক অর্থে গারুয়াতে খ্রিস্টানদের প্রতি মুসলিমদের বিদ্বেষ তীব্রতর হচ্ছে”। অউদু আরও বলেন যে  ইসলাম ধর্মে আনার জন্য মুসলিম ধর্মান্ধরা যুবক মুসলিম পুরুষদের খ্রিস্টান মেয়েদের বিয়ে করতে উদ্বুদ্ধ করছে, খ্রিস্টানদের কাছে বাড়ি বিক্রি না করতে বা ভাড়া  না দিতে ও জমি বিক্রি না করতে উদ্বুদ্ধ করছে- খ্রিস্টানরা যাতে এলাকা ছাড়া হয় সে জন্য তারা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে”।

সানফিন্না.কম ব্লগে জ্য ব্যাপ্তিস্তে নদেত লিখেনঃ

C’est l’un des pires cauchemars des services de renseignement. Et il est en train de se matérialiser. Au Nigeria, la secte islamiste Boko Haram (ce qui signifie « l’éducation occidentale est un péché » en haoussa) est en train non seulement de monter en puissance et de se radicaliser, mais surtout de devenir un centre puissant de l’arc du terrorisme qui va de la Mauritanie à la Somalie.

….Lors des attaques régulièrement lancées par la secte contre des commissariats, des églises ou des prisons dans le nord, les morts se comptent par centaines. Outre la montée de la violence, le développement de la nébuleuse terroriste d’Al-Qaida hors du Sahel inquiète car il correspond au retour des combattants subsahariens (pro-Kadhaf) de Libye, ainsi qu’à l’arrivée d’armes lourdes en provenance des arsenaux pillés de ce pays.

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য এটা এখন পর্যন্ত একটা দুঃস্বপ্ন। নাইজেরিয়াতে ইসলামিক দল বোকো হারাম ( হউসা ভাষায় যার অর্থ “ পশ্চিমা শিক্ষা একটা পাপ”) কেবল মাত্র তাদের ক্ষমতা বৃদ্ধিই করছেনা বরং তারা আরও মৌলবাদী রূপ ধারণ করছে। এটা দিনে দিনে সন্ত্রাসবাদের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে এবং মৌরিতানিয়া থেকে সোমালিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

…উত্তরে পুলিশ, গির্জা এবং কারাগার গুলোয় এ দলটির ক্রমাগত আক্রমণে শত জনেরও বেশি লোকের প্রাণহানী ঘটেছে। এছাড়াও  সাব- সাহারান লিবীয় যোদ্ধাদের (গাদ্দাফি পন্থী) প্রত্যাবর্তন, লিবিয়া থেকে ভারী অস্ত্রের আগমন, সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধি, সাহেলের বাইরে আল কায়েদার অস্পস্ট সন্ত্রাসবাদের বিকাশ ইত্যাদি  উদ্বেগের কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

মৌরিতানীয় সাইট নুরিনফো.কম বলছে:

La Mauritanie, l'Algérie, le Niger et le Mali sont confrontés à une insécurité croissante liée aux activités d'Aqmi et d'autres groupes criminels, ainsi qu'à l'afflux d'armes, dont de l'armement lourd, issues du conflit libyen.

এ আই কিউ এম ও অন্য সন্ত্রাসী গ্রুপ গুলোর ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষের কারনে মৌরিতানিয়া, আলজেরিয়া, নাইজার ও মালি নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। এছাড়া লিবিয়ার সংঘাতের পর সে দেশ থেকে বিপুল পরিমান সমরাস্ত্র ও ভারী সমরাস্ত্রের আমদানি ও তাদের নিরাপত্তা হুমকীর কারন হয়ে দাড়িয়েছে।

মুসলিমরা উপলব্ধী করতে পারছে যে খ্রিস্টানদের প্রতি সহিংসতায় তারা নিজেরাও জিম্মি হয়ে পড়েছে এবং এ বিষয়টিকে তাঁদের প্রতিহত করা উচিত। ক্যামেরুনের উত্তর অঞ্চলে বোকো হারামের সংঘাতমূলক পরিস্থিতি মোকাবেলায়  কামের.বিই সাইটে উত্তরের যুব ইসলামিক গ্রুপের সভাপতি এমেস্ট ডিজঙ্গা তাঁর সংগঠনের এবং অন্যান্য মুসলিম ধর্মীয় করতিপক্ষের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ব্যখ্যা করেন।

Voyant le danger venir, nous avons sollicité l’intervention du Lamido [la plus haute autorité traditionnelle] de l’époque, le regretté Ibrahim Abbo, qui avait pris des dispositions fortes en réglementant la fonction de prédicateur et au niveau de la Jeunesse islamique du Cameroun, nous nous sommes attelés à superviser les différents thèmes à développer dans les 19 mosquées … [de] la ville de Garoua. Cette méthode s’est pérennisée sous le règne de sa majesté Alim Garga Hayatou. Des garde-fous ainsi posés nous ont permis de sélectionner les prédicateurs certifiés et agréés.

বিপদজনক পরিস্থিতি দেখে আমরা লামিডোর হস্তক্ষেপের (প্রথাগত কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সংস্থা) আবেদন করেছি। মরহুম ইব্রাহিম আবু ইমামদের দায়িত্ব নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। ক্যামেরুনের যুব ইসলামিক গ্রুপের পর্যায় থেকে আমরা কাজ করে যাচ্ছি, গারুয়া শহরের ১৯টি মসজিদে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম তত্বাবধান করি। এ প্রক্রিয়াটি বাদশাহ আলীম গারগা হায়াতু-এর সময়কালে চালু হয়েছিল। এটা অনেকটা রক্ষাকবচ গেঁথে দেওয়ার মত। এটা আমাদেরকে ইমামদের রেজিস্টার্ড করতে এবং সার্টিফায়েড করতে সাহায্য করছে।

এ প্রেক্ষাপটে পুরনো উত্তরাধীকারের দ্বন্দ্ব এখন আবার নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে, যেমন মালির উত্তর অঞ্চলে গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

টিমস্ট.অর্গ সাইটে তুয়ারেগ সারভি এ দ্বন্দ্বের উল্লেখ করে বলেনঃ

Au moins 30 000 personnes sont déplacées au Mali et vivent dans des conditions extrêmement précaires, à la suite des combats opposant l’armée malienne à des groupes armés dans le nord du pays depuis la mi-janvier. Le CICR porte assistance à des milliers d’entre elles, ainsi qu’à 15 000 autres déplacés au Niger voisin. Il a également pu visiter des détenus et soigner des blessés au Mali.

দেশটির উত্তরাঞ্চলে মধ্য জানুয়ারি থেকে চলমান মালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র গ্রু্পগুলোর সংঘর্ষের কারনে মালি থেকে প্রায় ৩০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যূত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। সি আই সি আর এদের মধ্যে হাজারও মানুষকে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি যে ১৫,০০০ লোক প্রতিবেশী নাইজারে আশ্রয় গ্রহণ করেছে তাদেরও সহায়তা প্রদান করে চলেছে।  মালিতে যারা আহতদের সেবা প্রদান করতে এবং যারা বন্দী অবস্থায় রয়েছে এ সংগঠনটি তাঁদের সাথে সাক্ষাত করতে সক্ষম হয়েছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .