বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিরিয়া: আহত ফরাসি সাংবাদিক এডিথ ব্যুভিয়ে এখনো অবরূদ্ধ হোমসে আটকে আছেন

এই পোস্টটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১১/১২-এর উপর করা আমাদের বিশেষ কাভারজেরে অংশ।

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১২ তারিখে সিরিয়ার হোমসের বাবা আমর নামক এলাকায়, নিরাপদ ভেবে আশ্রয় নেয়া একটি বাড়িতে চার পশ্চিমা সাংবাদিক সিরিয়ার শাসক বাহিনী দ্বারা আক্রান্ত হন। মূলধারার এবং নাগরিক সাংবাদিকদের অস্থায়ী মিডিয়া সেন্টারটি শেল আক্রান্ত হলে আমেরিকান সানডে টাইমসের সাংবাদিক মেরি কোলভিন এবং ফরাসি আলোকচিত্রী ঘেমি অশলিক মারা যান।

অবশিষ্ট দুই সাংবাদিক লে ফিগারো‘র এডিথ ব্যুভিয়ে এবং ব্রিটিশ আলোকচিত্রী পল কনরয় আহত হলেও আক্রমণ থেকে পালিয়ে বাঁচতে সক্ষম হন।

এই গ্রাফিক ভিডিওটিতে (সতর্কতা: গ্রাফিক উপাদান) উক্ত বাড়ির বাসিন্দাদের পোড়া দেহাবশেষ দেখা যাচ্ছে।

নিচের ভিডিওটি (সতর্কতা: গ্রাফিক উপাদান) হল ভিডিও শেয়ারিং সাইটগুলোতে প্রদর্শিত ব্যুভিয়ে এবং কনরয়কে দেখানো প্রথম ভিডিও। এটা ২২ ফেব্রুয়ারী তারিখে যেদিন তারা শাসক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল, সেদিন এই ভিডিওটি অনলাইনে আসে।

ভিডিওতে, আক্রমণের শিকার উভয়কে সিরিয়ার হাসপাতালে দুই সিরিয়ান ডাক্তারের সাথে আক্রমণ পরিস্থিতির বর্ণনা করতে দেখা যাচ্ছে। ডাক্তাররা আক্রান্ত দু‘জনের চিকিৎসা পরিস্থিতি, যন্ত্রপাতির অভাবে হাসপাতালের খারাপ অবস্থা সম্বন্ধে কথা বলেন এবং বিদেশী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগকারী আসাদ-এর শাসনের প্রচণ্ড সমালোচনা করেন।

শিশু এবং এসব নিরপরাধ বিদেশী সাংবাদিকরা, সবাই কি অপরাধী ও সন্ত্রাসী?

এগুলোই ছিল দুই ডাক্তারের তীক্ষ্ণ শব্দবাণ- অন্যান্য ভিডিওতে যাদের মুক্ত সিরিয়ার সেনাবহিনীর ডাক্তার হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব, এসব সাংবাদিকদের উপর আক্রমণে ব্যাপক সহানুভূতি জানায় এবং তাদের জখম দেখানো ভিডিওটি ইউটিউব ও ফেসবুকে ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে যায়। বিশ্বকে, সিরিয়ার নৃশংস ঘটনার বিষয়ে জানানোর জন্যে শীঘ্রই ভিডিওটি আরবি থেকে ফরাসি এবং ইংরেজিতে অনুদিত হয়।

ব্যুভিয়ে এবং কনরয়ের নতুন ভিডিওগুলো আবার ইউটিউবে আসে আক্রমণের পরের দিন, ২৩ ফেব্রুয়ারীতে। ভিডিওগুলো আবার সামাজিক প্রচার মাধ্যমের নেটওয়ার্ক জুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে লক্ষ লক্ষ বার দৃষ্ট হয় । এমনকি কোরিয়ানসহ অনেক ভাষায় এই ভিডিওটি অনুদিত হয়েছে।

কনরয় এখানে আক্রমণ এবং তার আঘাতগুলো সম্পর্কে বলেন:

http://www.youtube.com/watch?v=LPMrPGLDAD4

অন্যদিকে ব্যুভিয়ে এই ভিডিওটিতে [ফরাসী ভাষায়] তার জখম সম্পর্কে বিশ্বকে জানান:

অধিকাংশ ভিডিও, ফোনে ধারণ করা ক্যামেরার মাধ্যমে সিরিয়া থেকে বেরিয়ে এসেছে। এসব ভিডিওর আসল মালিককে প্রায়ই খুঁজে পাওয়া কঠিন, কারণ হাজার হাজার ইউটিউব ব্যবহারকারীরা প্রায়ই একই বিষয়বস্তু বিশ্বের অন্যান্য অংশে প্রদর্শন করে থাকে।

সারা বিশ্বের টুইটার ব্যবহারকারীসহ নেট-নাগরিকরা উভয় সাংবাদিকের ব্যাপক সমর্থন দেয়। ব্যুভিয়ে-এর টুইটার অ্যাকাউন্ট- @দাঁসলেঘুয়ে(রাস্তায়) অনেক ভাষায় শতশত সমর্থনযুক্ত টুইট পায়, যেগুলো তিনি পুনরায় টুইট করে প্রিয় হিসেবে চিহ্নিত করে রাখেন।

@লায়রাম্যাকী:ভাগ্য সুপ্রসন্ন হোক. আমাদের মহান সাংবাদিকদের প্রয়োজন। আপনি তাদের একজন। আশা রাখুন; আপনার জন্যে এখনও অনেক মহান কাজ রয়ে গিয়েছে।

তারপরও একটি ভাল যুক্তি দেওয়া যায় যে, ২৭ জানুয়ারি থেকে ব্যুভিয়ে একটিও টুইট পাঠান নি। ২২ ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ আক্রমণের দিন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তার একাউন্ট প্রতিদিন কয়েক ডজন টুইট ও পুনরায় টুইট রেকর্ড করতে থাকলেও এগুলোর একটিও তার নিজের নয়।

আজ ফরাসি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে কনরয় হোমস্ থেকে বেরিয়ে লেবাননের পথে রয়েছেন। এদিকে ব্যুভিয়ে এখনও অবরূদ্ধ অবস্থায় হোমসে আটকা পড়ে রয়েছেন।

সিরিয়ার নৃশংসতায় মানবিক বিপর্যয় বাড়তে থাকায় তা বিশ্বজুড়ে নেটি নাগরিকদের স্পর্শ করেছে। আজকের তারিখ পর্যন্ত সিরিয়ার মৃতের সংখ্যা ৮,০০০ অতিক্রম করেছে।

ইউটিউবে ম্যাক্সিমিলিয়েনভোলফ্গাং সিরিয়া সম্পর্কে তার চিন্তা তুলে করেন:

http://www.youtube.com/watch?v=GweN-qKto_Y

এখন সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে সরকারী হামলার প্রায় এক বছর হয়েছে । এনজিওগুলো প্রতিদিন সারাদেশে ডজনে ডজন মানুষের মৃত্যুর সংবাদ প্রদান করছে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এখনো অবদমিত, খুব সামান্য তথ্যই চুইয়ে দেশের বাইরে যেতে পারে।

গতকাল সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি ১৭ বছর বয়স্ক আনাস আল-তারশার মৃত্যুর সংবাদ প্রদান করেছে। হোমসের একটি জেলা কারাবিসে বোমাবর্ষণের ছবি তোলার সময় এই নেট নাগরিকের ওপর একটি শেল পড়লে তিনি তৎক্ষণাৎ নিহত হন।

এই পোস্টটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১১/১২-এর উপর করা আমাদের বিশেষ কাভারজেরে অংশ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .