বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

গুয়াতেমালা: আখ ক্ষেতে শিশু শ্রম

গুয়াতেমালার প্লাজা পাবলিকার[]  সাংবাদিকদের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, সরকারের আইনত: শিশু শ্রম প্রতিরোধ করার কথা থাকলেও সেখানকার ১৪ বছরের নীচের ছেলেমেয়েরা আখ ক্ষেতের দৈহিকভাবে চ্যালেঞ্জিং ও বিপজ্জনক কাজে নিয়োজিত হচ্ছে।

গুয়াতেমালার চিনি শিল্পে শিশু শ্রম ও নির্যাতন শীর্ষক প্রতিবেদনে আলবার্তো আর্ক ও মার্টিন রড্রিগেজ পেলেসার বিশ্লেষণ করেন, কিভাবে শিশুরা আখ ক্ষেতে টন টন পরিমাণে আখ কাটার বিনিময়ে মজুরী পায়। বয়স্ক শ্রমিকরা যখন দিনে দু’তিন টন আখ কেটেও দিনপ্রতি সাড়ে সাত ডলারের ন্যূনতম মজুরীও পায় না। এদেরই একটি পরিবার এক সাক্ষাতকারে বলেন, একজন বাবা যেখানে তার বার ও তের বয়সী দু’টি ছেলেসহ দিন ধরে কাজ করেও ন্যূনতম মজুরী জোগাড় করতে পারেন না।

ন্যূনতম মজুরীর জন্য, টন প্রতি ২০ কুয়েটজাল হারে একজন শ্রমিককে দিনে তিন টনের বেশী আখ কাটতে হবে। মালিকরা মনে করে, একজন আখ শ্রমিক ছয় টন পর্যন্ত আখ কাটতে পারেন। আখ শ্রমিকরা দাবী করেন, দুই থেকে তিন টনের বেশী আখ কাটা অমানবিক।

[৫] ফ্ল্যামেনকো: ছবি আলবার্তো আর্ক

নীচের এই স্বল্পদৈর্ঘ ভিডিও [] এর জন্যে তারা আখ ক্ষেতে গিয়ে ছবি তোলার জন্য তাদের সাথে নিয়ে যাওয়া পুরনো মডেলের কাঠের ক্যামেরা ভেতরে লুকানো ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করেন।

প্লাজা পাবলিকার সাংবাদিকরা ক্যুশিকের ব্যক্তিমালিকানাধীন খামারে যান কিছু শৈল্পিক স্হিরচিত্র নেওয়ার জন্য। সেসময় কারও জানা ছিল না এই খামারের মালিকের পরিচয়। তারা খামারে যাবার পর আবিস্কার করেন শিশুশ্রমের বিষয়টি। রাজধানীতে তাদের অফিসে একজন শস্য ব্যবসায়ীর সাথে অনানুষ্ঠানিক আলাপের ভিত্তিতে তারা সাক্ষাতকারে সম্মত এবং তথ্য সংগ্রহ করেন।

সবচেয়ে বড়ো বিড়ম্বনার বিষয় হচ্ছে ফ্ল্যামেনকো খামারের মালিক হচ্ছেন অটো ক্যুশিক, যিনি গুয়াতেমালার কৃষি চেম্বারের প্রেসিডেন্ট। এক সাক্ষাতকারে তিনি অস্বীকার করেননি যে, অল্পবয়সী ছেলেমেয়েরা খামারে যায় না, তবে তিনি বলেন সেসব ছেলেমেয়েরা সেখানে আসলে কাজ করে না।

ভিডিও: আখ ক্ষেতে শিশু শ্রম

গুয়াতেমালার কৃষি চেম্বারের প্রেসিডেন্ট নিজেক আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে দাবী করে বলেন, “খামারে যেসব অল্পবয়সী বাচ্চাদের দেখা গেছে তাদের বয়স আমি জানি না। খামারের কাছেই স্কুল আছে, ছুটির দিনে তারা তাদের বাবা-মায়ের সাথে সেখানে এসে থাকতে পারে তাদের সাহায্যকারী হিসেবে”।

এ ব্যাপারে তার অভিমত দিতে গিয়ে বলেন, শ্রমিকরা কখনও প্রতারিত হয় না। তারা খুশী মতো বিশ্রাম নিতে পারে। তবে সাংবাদিকরা বলেন, সন্ধ্যা ৫টার সময়েও কাজ করতে দেখা গেছে যেহেতু তাদের তোলা আখের ওপর তারা পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন। তাই তারা পরিবারের জন্য ন্যূনতম খাবার কেনার তাগিদে বিশ্রামের কথা চিন্তা করতেও পারে না।

ট্যুইটারে  #১১ডিয়াজুকার [], গুয়াতেমালার সাংবাদিক আলেহান্দ্রা গ্যুটিরেজ এসব অসহায় শিশুদের উপর থেকে দায় সরিয়ে প্রশ্ন করেন:

এর দায় কি খামারের আখ কাটা শ্রমিকদের? আখ চাষীরা? ক্রেতারা? অভিভাবকরা? রাস্ট্র? দু:খজনক বাস্তবতা হচ্ছে এসব ছেলেমেয়েদর কাজ করতে হচ্ছে।

এখানকার আখ ক্ষেতে শিশু শ্রম নতুন কোন বিষয় নয়, ২০০৭ সালের ইউটিউবের এই ভিডিওতে [] আখ ক্ষেতে কর্মরত শ্রমিকদের ছবিগুলোদের মধ্যে শিশু শ্রমিকদের ছবিও ছিল।

যদিও গুয়াতেমালার আখ শিল্প সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে উঠা শিল্প, কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি ও আয়ের সুফল নিম্ন আয়ের শ্রমিকদের কাছে পৌঁছায় না। গুয়াতেমালার চিনি শিল্প সমিতি আসজুগার ১৩টি আখ মাড়াইয়ের কারখানাগুলো শুধু ন্যূনতম মজুরীর নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আখ ক্ষেতের মজুররা কারখানার শ্রমিক নয়, তারা কেবল খামারের আখ কাটে। তাই আসজুগার ন্যূনতম মজুরীর বিধান তাদের জন্য প্রয়োগ হয় না। তাই, আখ খামারের শ্রমিকদের দুর্ভোগ বন্ধ করার জন্য কেউ নেই।

[৫] ফ্ল্যামেনকো: ছবি আলবার্তো আর্ক

প্লাজা পাবলিকার প্রতিবেদনে আর্ক ও রড্রিগেজ তাদের প্রতিবেদনে বলেন, খামারের মালিকরা ও আসজুগা নিজেদেরকে অবস্হার শিকার বলে দাবী করেন, খামারে শিশু শ্রম কৃষকদের ইচ্ছে, খামারে তাদের বাচ্চাদের আসতে না দিলে তারা বরং খামারের ক্ষতি করতে আগুন লাগিয়ে দেয় ও ধ্বংসাত্মক কাজ করে  উৎপাদন ব্যাহত করে।

এই প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানের ফল দু:খজনকভাবে ইতিবাচক হয়নি। সাংবাদিক আলবার্তো আর্কের  পোস্ট  [10] ও ট্যুইটারের [11]  মাধ্যমে জানান, এর ফলে, প্লাজা পাবলিকার প্রতিবেদনের সেই ফিনকা ফ্লামেনকো খামার বন্ধ হয়ে গেছে এবং রিতালুয়েলুর আখ শ্রমিকরা হারিয়েছে তাদের কাজ।

এই আর্টিকেলের ইউআরএল: https://globalvoicesonline.org/2012/01/18/guatemala-child-labor-in-the-sugar-cane-fields/

এই পোস্টের ইউআরএল:

[১] প্লাজা পাবলিকা: http://www.plazapublica.com.gt/

[২] ছবি: http://www.flickr.com/photos/cmcbrien/3232149734/in/photostream/

[৩] ক্রিস ম্যাকব্রাইয়েন: http://www.flickr.com/photos/cmcbrien/

[৪] সিসি বাই: http://creativecommons.org/licenses/by/2.0/deed.en

[৫] গুয়াতেমালার আখ ক্ষেতে অল্পবয়সী শিশুশ্রম: http://www.plazapublica.com.gt/content/trabajo-infantil-y-explotacion-laboral-en-el-azucar-de-guatemala

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .