বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

কম্বোডিয়া: বোরেই কিলাতে ঘরবাড়ি ধ্বংস

কম্বোডিয়াতে বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ সমস্যা ক্রমেই খারাপের দিকেই যাওয়ার পাশাপাশি বর্তমান বসতি স্থানান্তর প্রকল্প সম্পর্কেও নাগরিকদের অসন্তুষ্টি বেড়ে চলছে। জমি দখল একটি জাতীয় সমস্যা হলেও শহরাঞ্চলে এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বস্তুত মনিভং হাসপাতাল, সম্বক চ্যাপ, দে ক্রাহাম, গ্রুপ ৭৮, বোরেই কিলা এবং বোয়েউং কাকের অধিবাসীদের তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

কেন্দ্রীয় নম পেনে বাক তুওক হাইস্কুলের বিপরীতে অবস্থিত বোরেই কিলায় সংঘটিত জোরপূর্বক উচ্ছেদের সাম্প্রতিক রেকর্ড আন্তর্জাতিক মনোযোগ কেড়েছে। এই কমিউনিটিতে প্রায় ১,৭৭৬টি পরিবারের বাড়ি আছে যাদের মধ্যে এইচআইভি পজিটিভ সদস্যবিশিষ্ট পরিবারের সংখ্যা ৮৬।

মানবাধিকার সংস্থা লিকাধো প্রকাশিত একটি প্রেস বিবৃতিতে ভূমি এবং বাসস্থানের অধিকারের দাবিতে এখানকার অধিবাসীদের সংগ্রামের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস জানানো হয়:

বোরেই কিলার ধ্বংস সাধন।

বোরেই কিলার ধ্বংস সাধন। ফেইন গ্রীনউড ব্লগের ছবি

জমিটিতে গ্রামবাসীর প্রথম বসতি স্থাপন। ১৯৯২ সালে এখানে একটি পুলিশ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ছিল।

২০০৩ সালের গোড়ার দিকে বোরেই কিলার একটি অংশ বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উন্নয়নের জন্যে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন কোম্পানিকে প্রদান করে অবশিষ্ট জমির উপর এর বাসিন্দাদের বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করে একটি “জমি-ভাগাভাগি” ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয়া হয়। উচ্ছেদ হওয়ার পরিবর্তে গ্রামবাসীরা নবনির্মিত ভবনগুলোতে অ্যাপার্টমেন্ট আকারে তাদের জমির জন্য ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে বলে ধারণাটিকে সাধুবাদ জানানো হয়েছিল।

জুন ২০০৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বোরেই কিলার আনুমানিক ৪.৬ হেক্টরের (মোট জমির ১৪.১২ হেক্টর ৩০%) জন্যে একটি সামাজিক জমি সমঝোতার অনুমোদন দিয়েছিলেন। সরকার বৃহৎ নির্মাতা ফ্যানিমেক্স কোম্পানির সাথে দুই হেক্টরে গ্রামবাসীদের জন্য ১০টি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ করে দেয়ার বিনিময়ে অতিরিক্ত ২.৬ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিক উন্নয়নের জন্যে মালিকানা প্রদানের চুক্তি করেছিল।

২০০৭ সালের মে মাস পর্যন্ত নম পেন পৌরসভা ১৪টি এইচআইভি/এইডস-প্রভাবিত পরিবারসহ মাত্র ৩৩৫টি পরিবারকে অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেয়। অথচ তখনো আরো ১০০টিরও বেশি পরিবার তেরপলের নিচে নোংরা পরিবেশে জীবন যাপন করছে, নতুন অ্যাপার্টমেন্ট ভবনগুলোর জন্যে স্থানটি পরিষ্কার করতে গিয়ে যাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

২০০৯-এর জুন মাসে সম্প্রদায়ের আরো ২০টি এইচআইভি আক্রান্ত পরিবারকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে চলে যেতে বাধ্য করে রাজধানী থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার বাইরে খান ডেঙ্করের তুওল স্যাম্বো গ্রামে স্থানান্তরিত করা হয়। সরিয়ে নেয়ার স্থানগুলো জনবসতির জন্য উপযুক্ত না হওয়ায় স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলো এর তীব্র নিন্দা জানায়। উপরন্তু, এইচআইভি আক্রান্তদের প্রত্যন্ত এলাকায় সরানোর মাধ্যমে আরো বেশি বৈষম্য এবং সামাজিক কলঙ্ক ঝুঁকির সম্মুখীন করা হয়েছে।

মানবাধিকার পোর্টাল, সিথিতে ঘটনাটি যথেষ্ট তথ্যবহুল ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

গ্রামবাসীদের জন্যে ১০টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ফ্যান ইমেক্স কোম্পানি মূলচুক্তি থেকে প্রায় ৩০০ বোরেই কিলা পরিবারকে বাদ দিয়ে মাত্র আটটি ভবন নির্মাণে সমর্থ হয়। গত মাসে কোম্পানিটি সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নিয়ে এসব ‘বঞ্চিত’ অধিবাসীদের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে দেয়। ফলে এই ভাঙ্গন এবং সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা হয়ে ওঠে সহিংস।

ঘটনাটির অব্যবহিত পরে কয়েকটি নাগরিক সমাজ সংগঠন একটি যৌথ বিবৃতিতে সহিংসভাবে বাড়িগুলোর ধ্বংসের তীব্র নিন্দা জানায়:

এসব ঘরবাড়ি ভাঙ্গা, নম পেনের শহুরে দরিদ্রদের উচ্ছেদ ও পরিত্যক্ত এলাকায় স্থানান্তরের আদর্শ বিকল্পের নামে একসময়ের উন্নয়নের আরেক দুঃখজনক পরিবর্তনকেই চিহ্নিত করে মাত্র।

বিবৃতিটি সহিংসভাবে বাড়িগুলো গুঁড়িয়ে দেয়ার সময় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে অভিযুক্ত করে:

এই ভেঙ্গে ফেলার কাজটি করেছে ফ্যানিমেক্সের কর্মচারী ও বেতনভোগী কর্মীরা একটি খননকারী গাড়ি নিয়ে, যেটি বাসিন্দারা তাদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগ পাওয়ার আগেই তাদের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়াটির নজরদারি করেছে ১০০জনেরও বেশি একটি মিশ্র পুলিশ বাহিনী, যারা ছোট এক শিশুসহ আটজন কমিউনিটি প্রতিনিধিকে গ্রেফতার ও আটক করে প্রধান পুলিশ কমিশনারের কাছে এবং তিন দেহরক্ষীকে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যায়। উপরন্তু পুলিশ বোরেই কিলার অধিবাসীদের উপর টিয়ার গ্যাস এবং সরাসরি গুলিবর্ষণ করে।

ঘটনাস্থলে থাকা মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা কর্মীদের বড় একটি জ্যাকহ্যামার নামক যন্ত্র দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশে থাকা একটি পাথর ভাঙ্গতে এবং এই পাথরগুলো নিয়ে তাদেরকে বাসিন্দাদের দিকে ছুঁড়ে মারতে দেখেছেন। কেউ কেউ অবশ্য অধিবাসীদেরকে লাঠি দিয়ে আক্রমণ করতেও দেখেছেন। এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে, কারো কারো অবস্থা গুরুতর।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ৬৪ জনের বেশি আহত এবং আট বাসিন্দার আটক হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে:

“উপস্থিত রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী অধিবাসীদের বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করেছে এবং উভয় পক্ষই পাথর, লাঠি ও বোতল ছুঁড়েছে। ৬৪ জনের বেশী আহত বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অন্তত আটজনকে গ্রেপ্তার করে ১৮ জানুয়ারি যাদের একজন জামিনে মুক্তি পেলেও বাকি সাতজন আটক থাকে। দুই শিশুসহ এই আট বাসিন্দাদের সবাইকে কম্বোডিয়ার দণ্ডবিধির ২১৮ (“সংঘাতময় পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাকৃত সহিংসতা”) এবং ৫০৪ (“সংঘাতময় পরিস্থিতিতে সরকারী কর্মকর্তাদের বাধা প্রদান”) উভয় ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর সম্প্রদায়গুলো জাতীয় সরকারের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের দাবিতে ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে। তারা সরকারকে ভাঙ্গা থামাতে এবং আটক প্রতিবাদকারী মুক্তি দিতে বলে। নেতার কাছে বোরেই কিলা সমস্যার সমাধান চেয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কছে একটি চিঠিও পাঠানো হয়।

এই মাসের প্রথমদিকে বোরেই কিলা থেকে প্রায় ১০০ বাসিন্দা এবং ৫০ জন বেউং কাক থেকে মনিভং বুলেভারের দিকে যাত্রা শুরু করার পর একশ‘রও বেশি দাঙ্গা পুলিশ তাদের বাধা দিলে ভয়ানক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে ছয়জন মহিলাকে একটি পুলিশ ভ্যানের মধ্যে ঠেলে দিতে দেখেছে, কম্বোডিয়া ডেইলির একটি নিবন্ধে বলা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ছয় মহিলা প্রতিবাদকারীকে এক রাত আটক রেখে ছেড়ে দেয়া হয়। সিটি হল তখন মহিলা প্রতিবাদকারীদের গ্রেফতারের পক্ষে তাদের যুক্তি দেয়।

ভূমি দখল অবশ্য গ্রামীণ এবং শহুরে অনেক সম্প্রদায়ের সক্রিয়তাকে উস্কে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ জমির অধিকার কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে একটি বন এলাকা ধ্বংসের প্রতিবাদে একটি ‘অবতার’ সমাবেশ আয়োজন করে। বিষয়টি কয়েকটি দলকে এই উচ্ছেদের সময় মহিলা ও শিশুদের দুর্দশা তুলে ধরতে উৎসাহিত করেছে:

এটি নারীদের এমন একটি মঞ্চ দিয়েছে, যেখান থেকে তারা বলপ্রয়োগে উচ্ছেদের দুর্ভোগ সম্পর্কে বিশ্বকে বলতে পারবে এবং দেশে বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ ও জমি দখলের চলমান কেলেঙ্কারীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি একটি স্পষ্ট আহ্বান জানাতে পারবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .