বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ব্রাজিল: ‘ওহ, ইফ আই ক্যাচ ইউ’ গানের দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে সাংস্কৃতিক বিতর্ক

আপনি যদি আন্তর্জাতিক সংগীতের সর্বশেষ ধারা সম্পর্কে অবগত থাকেন, যদি ব্রাজিলের সংগীতের প্রতি মুগ্ধতা থাকে, অথবাক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সমর্থক হন, তাহলে আপনার ‘অ্যাই সে ইউ টে পেগো’ (Ai se eu te pego) গানটি শোনার সম্ভাবনা অনেক বেশি। অথবা সম্ভবত ইংরেজি সংস্করণ ‘ওহ, ইফ আই ক্যাচ ইউ’ শুনে থাকবেন।

এই গানের মাধ্যমে ব্রাজিলের সংগীতশিল্পীমাইকেল টেলোর ২০১২ সাল শুরু হলো বিশ্বব্যাপি বড়সড়ো একটা সাফল্যের মধ্য দিয়ে। আশ্চর্যজনকভাবে অথবা হতে পারে স্বাভাবিকভাবেই ব্রাজিলের নেটিজেনরা টেলো'র গান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্রাজিলের বর্তমান সময়ের সংগীতকে কিভাবে নেয়, এটা নিয়েই তাদের উদ্বেগ।

http://www.youtube.com/watch?feature=player_detailpage&v=PvfvCU7tNKE

‘‘অ্যাই সে ইউ টে পেগো’ গানটি নিজগুণেই ইন্টারন্যাশনাল বিলবোর্ডের শীর্ষে উঠেছে। আইটিউন ডাউনলোডে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ইউরোপেই বেশি হয়েছে। পর্তুগাল, ইটালি এবং স্পেনে টেলো প্রথম স্থানে রয়েছেন। তিনি শিগগিরই এই দেশগুলোতে তার হিট গান শোনাতে প্রথমবারের আন্তর্জাতিক ট্যুরের আয়োজন করছেন।

কনসার্টে মাইকেল টেলো। সিসি বিওয়াই-এসএ ২.০ লাইসেন্স-এর আওতায় উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া।

কনসার্টে মাইকেল টেলো। সিসি বিওয়াই-এসএ ২.০ লাইসেন্স-এর আওতায় উইকিপিডিয়া থেকে নেয়া।

ব্রাজিল থেকে টেলোবালাইজেশন

মাইকেল টেলোর বয়স ৩০। তিনি সারটানেজো বিশ্ববিদ্যালয়ের সারটানেজোর সর্বশেষ উপধারার প্রতিনিধিত্ব করছেন। ‘সারটানেজো‘, হলো দক্ষিণ-মধ্য ব্রাজিলের  সাইপেরা সংস্কৃতির শেকড় প্রোথিত গানের একটি ধারা।

টেলোর ক্যারিয়ারের শুরু ১৯৯৭ সালে, গ্রুপো ট্যাডিকাও নামের একটি ব্যান্ডের সাথে। ২০০৮ সালে একক ক্যারিয়ার শুরুর আগ পর্যন্ত তিনি গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে প্রথমবারের মতো সফলতা পান ফুগিদিনহার হিট হওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু সেটা ‘অ্যাই সে ইউ টে পেগো’ তুলনায় কিছুই না। ইউটিউবে  অফিসিয়াল ভিডিওটি ইতিমধ্যে ১০৭ মিলিয়ন বার দেখা হয়েছে। এবং সংখ্যাটা বাড়ছেই।

ফুটবল খেলোয়াড়রা গোল উদযাপনের জন্য এ গান গ্রহণ করেছেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলার নেইমারকে( সানটোস এফ সি-এর) একটি ভিডিওক্লিপে দেখা গেছে। মার্শেলো ভিয়েরা এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো (রিয়েল মাদ্রিদ এফ সি-এর) ২০১১  সালের অক্টোবরে এই গানের সাথে গোল উদযাপন করে নেচেছেন।

এই রকম খানিকটা সাফল্যের পর মাইকেল টেলো ‘অ্যাই সে ইউ টে পেগো’ গানটির ইংরেজি, সংস্করণ করেন। আর তখন তৈরি হয় ‘ওহ, ইফ আই ক্যাচ ইউ’:

http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=qs1ZGyJr8Hk

তা সত্ত্বেও, মজার ব্যাপার হলো, গানটি বিভিন্ন ভাষায় নতুন নতুন সংস্করণ বের হয়েছে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একই লিরিক অনুবাদ করে করা হয়েছে। তার একটি এই  পোলিশ:

http://www.youtube.com/watch?feature=player_embedded&v=t8MAz1FejJY#!

ডাচ নয় কেন?

টাম্বলার প্লাটফর্মের টেলেবালিজাকাও অ্যাকাউন্টে (টেলোবালাইজেশন বলতে, টেলোর সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়া বোঝায়) ইতিমধ্যে ‘অ্যাই সে ইউ টে পেগো’ গানের ভিন্ন ভিন্ন রূপ সারা বিশ্বেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে গুয়ারানি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, স্প্যানিশ এমন কি, ব্রাজিলের ইঙ্গিতপূর্ণ  লিবরা ভাষায়ও গানের ভিডিও দেখা গেছে।

সমস্যাসংকুল ইউরোপ (মাইকেল টেলোর গান দিয়ে)

কেউ কেউ টেলোর গানের সৃজনশীল সংস্করণ বানিয়েছেন। যেমন, নিচের ভিডিওটি। এখানে গানের কথা ঘুরিয়ে বলা হচ্ছে, “ট্রয়কা, ট্রয়কা, তুমি আমাকে হত্যা করছো।” আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা, ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং ইউরোপিয়ান কমিশন কর্তৃক ব্যয় কমানোর নীতি নেয়ায় পর্তুগিজ নাগরিকদের জীবনযাত্রার ওপর যে প্রভাব ফেলেছে, তার বিরোধীতা করা হয়েছে এখানে:

ইউরোপের সংকটের একটি সাধারণ কৌতুক টেলোর গানের মাধ্যমে করা হয়েছে। এটাই এই মহাদেশে সফলতার একটি কারণ বলে কেউ কেউ মনে করছেন। ব্রাজিলের টুইটার ব্যবহারকারী ভালদেটে দা সিলভা (@আমিগাভালদেটে)টুইটারে (পর্তুগিজ ভাষায়) একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন:

michel teló fazendo sucesso é a prova que a crise na europa tá pior que pensávamos

মাইকেল টেলোর গানের সফলতা প্রমাণ করে, আমরা যা ভাবছি, ইউরোপের অবস্থা তারচেয়েও খারাপ।

এসআর পিয়াদাশ (@ওপিয়াদাশ) নামের এক টুইটার প্রোফাইল  ব্রাজিল এবং ইউরোপের মধ্যে তুলনা (পর্তুগিজ ভাষায়) করে কৌতুক করেন:

Europa is the new Brasil (está quebrada, ouvindo Michel Teló e jogando o melhor futebol do mundo)

ইউরোপ এখন নতুন ব্রাজিল (এর ভাড়ার শূন্য, মাইকেল টেলোর গান শোনে, আর বিশ্বের সবচেয়ে ভালো ফুটবল খেলে)।

ব্রাজিলের সংস্কৃতির মুখপাত্র?

লস হারমানোস নামের ব্রাজিলের একটি রক ব্যান্ডের সদস্য ব্রুনো মেডিনা, তার পাক্ষিক কলামে মাইকেল টেলোকে একটি খোলা চিঠি (পর্তুগিজ ভাষায়) লিখেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, নতুন বছর উদযাপনে তাকে ‘অ্যাই সে ইউ টে পেগো’ গান কিভাবে জ্বালাতন করেছে। তিনি ২০০২ সালে তাদের ব্যান্ডের প্রথম সফল গান আনা জুলিয়ার সাথে একটা তুলনা করেছেন। গানটি সর্বত্র বেজেছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, টেলো গানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে তাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেন, আরেকটি নাচের টিউন তৈরি না করতে।

তিনি বলেন:

Aliás, não seria mau se você resolvesse passar logo todo o ano de 2012 viajando pelo mundo. Nada pessoal, é só uma precaução com o meu cérebro.

এটা খারাপ না, যদি তুমি সিদ্ধান্ত নাও ২০১২ সালের পুরোটাই সারাবিশ্ব ঘুরে বেড়াবে। সবটাই ব্যক্তিগত। আমার মস্তিষ্ক শুধুমাত্র আগাম হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

পোস্টে ১ হাজার ৫০০ এর বেশি মন্তব্য পড়ে। মন্তব্যকারীদের বেশিরভাগ ব্রুনো মেডিনাকে পরশ্রীকাতর বলে সমালোচনা করেন। কিছু মন্তব্যকারী তার সাথে একমত হয়। তাকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। ক্রিস্টিনা বলেন:

Não tenho nada contra o Teló, porém essa música é um pé no saco (saco esse que nem tenho!) sou prof de educação infantil e é triste ver meus alunos cantando essa música como se fosse um mantra: “ai se eu te pego, ai ai se eu te pego…”).

আমি টেলোর বিরোধী নই। কিন্তু গানটা আমাকে কষ্ট দেয় (এবং আমি এটা আর চাই না)। আমি বাচ্চাদের পড়াই। তাদেরকে মান্ত্রা হিসেবে ‘ওহ, ইফ আই ক্যাচ ইউ. ‘ওহ, ইফ আই ক্যাচ ইউ…’ গাইতে দেখলে আমি দুঃখ পাবো।

র‍্যাকুয়েল বি বলেন:

Eu não gosto da música do Michel Teló, o conteúdo é vergonhoso, jamais podemos achar que isso se trata de cultura. Temos que valorizar o que tem de bom no Brasil, músicos ótimos, letras que fazem bem ao ouvido. E se ele esta fazendo sucesso la fora é porque lá a cultura musical anda bem precaria também.

টেলোর গানের প্রতি আমার মুগ্ধতা নেই। গানের বিষয়বস্তুও লজ্জাকর। একে সংস্কৃতি হিসেবে আমরা কখনোই নিবো না। ব্রাজিলের ভালো, খ্যাতিমান সংগীতজ্ঞ, চমৎকার লিরিক, যা আমাদের কানে সুন্দর শোনায়, তাকে মূল্যায়ন করবো। যদি সে এর বাইরে সফলতা পায়, সেটা হতে পারে, কারণ, বাইরের সংগীত সংস্কৃতি পুরোটাই অনিশ্চিত।

সংগীত সমালোচক পেদ্রো আলেক্সজান্ডার স্যানচেজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে টেলোর এই অপ্রত্যাশিত সাফল্যকে  ব্রাজিলিয়ানদের বিবেচনা করে (পর্তুগিজ ভাষায়), তাকে ব্রাজিলের সংগীত তারকা হিসেবে উপস্থাপন করতে বলেছেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেছেন, ব্রাজিলের লোকদের ‘আন্ডারডগ কমপ্লেক্স’ থেকে বের হয়ে আসার এবং মাইকেল টেলোর সাফল্যকে উপযুক্ত মনে করে মেনে নিতে বলেছেন। ব্রাজিলের বিশিষ্টতা বিবেচনা করে আমরা পরে কী আশা করবো?

দেবোরা বালদেলি এই পোস্টে সহায়তা করেছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .