বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

নেপালঃ ভারতের অংশ নয়!

……নেপালের কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়, কারণ নেপাল নামক এলাকাটিও ভারতের একটি অংশ। …

সম্প্রতি ভারতের একটি টিভি চ্যানেলের সঞ্চালকের (উপস্থাপক) করা একটি মন্তব্য অনেক নেপালী নাগরিক ক্ষুব্ধ, যারা বিভিন্ন সামাজিক প্রচার মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে, একটি চলচ্চিত্র পর্যালোচনা বিষয়ক অনুষ্ঠান ইটিসি বলিউড বিজনেস-এর উপস্থাপক এবং চলচ্চিত্র বিশ্লেষক কমল নাহাতা, তার এক পর্বে বলিউডের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ডন-২ এর আয়ের বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে বলে বসেন যে নেপালও, ভারতের একটি অংশ।

নীচে ইউটিইউবের যে ভিডিওটি রয়েছে, সেখানে ইটিসি নেটওয়ার্ক নামক প্রতিষ্ঠান জনাব নাহাতার প্রদান করা বক্তব্যের বিষয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে:

এই সপ্তাহে এটি সামাজিক প্রচার মাধ্যমে অত্যন্ত আলোচিত একটি বিষয়ে পরিণত হয় এবং আরো একবার ভারত-নেপাল সম্পর্কের উপর উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

যখন বিষয়টি ইন্টারনেটে আলোচিত হতে থাকে, বিশেষ করে কমল নাহাতাকে (@কমলনাহাতা) উল্লেখ করে টুইটারে যখন তার বক্তব্য নিয়ে আলোচনা চলতে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে তিনি নিজেও তার বক্তব্যকে ব্যাখ্যা করে একটি প্রবন্ধ এবং তার একই বক্তব্যকে ধরে রেখে, সেই বিষয়ে যুক্তি দিয়ে একটি ব্লগ পোস্ট করেন

যে বিষয়টি ছিল বিস্ময়কর, সেটি হচ্ছে নাহাতা ব্লগ পোস্টে তার এই বক্তব্যের জন্য অনুতাপ করেনি। তার বদলে তিনি তার বক্তব্যকে যৌক্তিক প্রমান করার চেষ্টা করেন। এতে তিনি আরো দাবি করেন যে, যারা তার বিরুদ্ধে এ রকম বক্তব্য প্রদান করছে তারা বিরক্তকর নাগরিক এবং তার ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি সম্বন্ধে তেমন কিছু জানেন না। সাথে তিনি আরো যোগ করেন:

সম্ভবত, যে সমস্ত নেপালী নাগরিক, যারা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে, তাদের কারো আসলে বাস্তবিক অস্তিত্ব নেই, এমনকি নেপাল সম্বন্ধেও তাদের তেমন ধারনা নেই, আদতে যখন বলিউডের চলচ্চিত্রের আভ্যন্তরীণ আয়ের বিষয়টি হিসাব করা হয়, তখন নেপালকেও-এর একটা অংশ হিসেবে ধরা হয়।

অন্যদের টুইটের জবাব দিতে গিয়ে করা তার টুইটও প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে।

লেক্স লিম্বু লিখেছে:

যখন আমি এই বক্তব্যটি শুনি, তখন আমি অস্বস্তি অনুভব করছিলাম। কিন্তু পরে আমি বিস্মিত হলাম, কেমন করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ, নিশ্চিতভাবে যে একজন শিক্ষিত নাগরিক, সে এমন একটি কথা বলতে পারে। এই বক্তব্য প্রদানের যৌক্তিকতা তুলে ধরার পর কমল নাহাতা টুইটারে সুবিধা গ্রহণ করে এবং নিজের বক্তব্যের পেছনে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন […]। যথেষ্ট, এই রকম কথা বলার পেছনে তার হয়ত একটা যুক্তি আছে, কিন্তু এই বিষয়টি এখন উদ্বেগজনক ভৌগলিকভাবে সীমাবদ্ধ চিন্তার জায়গা থেকে ভারতের লক্ষ লক্ষ দর্শক এখন ভাবতে থাকবে যে নেপাল আসলে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য (হায়)।

এই বিষয়ে কেবল ব্লগ পোস্ট কিংবা ওয়েবসাইটের প্রবন্ধ নয়, এর বিরুদ্ধে কিছু ইউটিউব ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। এই বিষয়ে এই ভিডিওটি দেখুন:

http://youtu.be/xI9BeNHH2_g

এ ধরনের বিতর্কের ক্ষেত্রে নেপালীদের এর বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তুলে ধরার ঘটনা এই প্রথম নয়। ১৯৯৮ সালে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দিক্ষিত “নেপাল এক সময় ভারতের অংশ ছিল’ বক্তব্য প্রদান করার পর নেপালীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আবার, ২০০ সালে বলিউডের আরেক অভিনেতা হৃতিক রওশনকে এই বিষয়টি পরিষ্কার করতে হয় যে, সে কখনো এমনটা বলেনি যে, সে নেপাল এবং তার জনগণকে ঘৃণা করে।

হৃতিক রওশন এবং মাধুরী দীক্ষিতের ঘটনা বিবিসি, সংবাদ হিসেবে প্রদান করে। বিবিসি জানায়, “বলিউডের তারকাদের নেপাল বিরোধী উক্তি করছে এমন অভিযোগের পর সেখানকার সিনেমা হলগুলো থেকে ভারতীয় চলচ্চিত্র নামিয়ে ফেলা হয়”।

সম্প্রতি টেলিভিশনের একটি কৌতুক অনুষ্ঠানে স্টিফেন কোলবার্ট নেপালীদের পরিচয় এবং সংস্কৃতি নিয়ে ঠাট্টা করেন, এই বিষয়টিও সামাজিক প্রচার মাধ্যমে একই ধরনের আলোচনার সৃষ্টি করে।

আমি আমার নিজের ব্লগ পোস্টে মন্তব্য করেছি :

এই বিষয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে এই যে চলচ্চিত্রে আয়ের হিসাব অথবা শিল্প নীতিতে অথবা যে কোন বিষয়ে, এটা অতীব নিন্দনীয় ভুল। যদি কোন বাণিজ্যে এটা নিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তার অনুষ্ঠানে এই বিষয়ক সংবাদটি পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন।

থাম্বনেইল ছবিঃ ইউটিউব ভিডিওর স্ক্রিনশট

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .