বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

যুক্তরাষ্ট্রঃ প্রাণ বিকাশের পরিবেশ রয়েছে, নাসা এমন একটি গ্রহ আবিষ্কার করেছে

দৃশ্যমান এই মহাবিশ্বে অন্তত একশ বিলিয়ন গ্যালাক্সি বা মহাবিশ্ব রয়েছে এবং আমাদের বিশ্ব যে মিল্কিওয়ে নাম গ্যালাক্সিতে অবস্থান করছে, কেবল এই গ্যালাক্সিতে দুইশত বিলিয়ন তারা রয়েছে, এই রকম বাস্তবতায় এখন এমন একটি গ্রহ আবিষ্কার করা, যার পরিবেশ মানব বসবাসের উপযোগী, তার সম্ভবনা অনেক জোরালো। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কোন সুনিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যাতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে মহাবিশ্বে এ রকম কোন গ্রহের অস্তিত্ব রয়েছে।

তবে, ৫ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাশূন্য বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা ঘোষণা প্রদান করে যে, কেপলার নামক টেলিস্কোপ-এর মাধ্যমে কেপলার -২২ বি নামক একটি গ্রহের খোঁজ পাওয়া গেছে। উক্ত গ্রহ তার নিজস্ব সৌরজগতের নক্ষত্র থেকে সঠিক দূরত্বে অবস্থান করছে। এবং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এই গ্রহে প্রাণের বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। বিজ্ঞান বিষয়ক ব্লগ লেখকরা এই সংবাদে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রদান করেছে এবং সাথে তারা তাদের বিশ্লেষণ এবং নিজস্ব তত্ব প্রদান করেছে।

Kepler-22b

শিল্পীর চোখে পৃথিবীর সৌরজগৎ-এর সাথে কেপলার-২২ এর সৌরজগতের তুলনা। নাসার কেপলার নামক টেলিস্কোপ এমন এক সৌরজগতের সন্ধান পেয়েছে, যেখানে প্রথম কোন “বাস যোগ্য “ গ্রহের সন্ধান পাওয়া গেল। ছবির কৃতিত্ব নাসা/ আমেস/ জেপিএল-ক্লাটেক-এর

হ্যামেস্ফিয়ার কলেজ-এর জ্যোতির্বিজ্ঞান-এর অধ্যাপক সালমান হামিদ এই আবিস্কারে উত্তেজিত:

হ্যাঁ, জ্যোতির্বিদেরা নক্ষত্রমণ্ডল-এ, এক সৌরজগতে পৃথিবীর মত এক গ্রহ আবিস্কার করেছে-এটি তার নক্ষত্র বা সূর্য থেকে এমন এক দূরত্বে অবস্থান করছে, যার ফলে যেখানে পানি তরল অবস্থায় পাবার সম্ভাবনা রয়েছে-যদি তা বিস্ময়কর নাও হয়, তারপরেও এটা একটি অসাধারণ আবিস্কার। মহাবিশ্বে অজস্র গ্রহ রয়েছে, এবং কোন গ্রহের পরিবেশ, পৃথিবীর পরিবেশের সাথে মিলে যায়, এমন গ্রহ আমরা খুঁজে পেতে বাধ্য। এবং উভয় গ্রহের জীবনেরও মাঝেও অনেক মিল খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। এমন প্রাণীও সেখানে হয়ত পাওয়া যাবে, যারা দূরবীক্ষণ বা টেলিস্কোপ বানাতে সক্ষম? জানি না!

তিনি আরো বিস্তারিত বর্ণনা প্রদান করেছেন:

বেশ, এই গ্রহ সম্বন্ধে আমরা কি কি জানি? এটাকে কেপলার ২২বি নামে ডাকা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা যতগুলো গ্রহের নাম পেয়েছে তার মধ্যে এটাই সবচেয়ে আকর্ষণীয় (এর প্রকৃত কারণ হচ্ছে এটি কেপলার নামক টেলিস্কোপ আবিস্কার করেছে)। এটি পৃথিবী থেকে ৬০০ আলোক বর্ষ দুরে অবস্থিত-এটা কেবল এত দুরে যে, আমরা আসলে যাত্রার জন্য এখনই ব্যাগ গোছানোর কথা চিন্তা করতে পারি না। সেখানে কি কোন প্রাণের অস্তিত্ব আছে? এখনো আমরা জানি না। যখন গ্রহটি তার নিজ নক্ষত্রের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিল, তখনই তাকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, যে সৌরজগতে তার বাস, সেই সৌরজগতের সূর্য অতিক্রম করার সময় সেই নক্ষত্রের আলোয় খানিকটা অনুজ্জ্বল ভাবে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়ে। এই গ্রহের কোন ছবি আমাদের কাছে নেই। যখন আমাদের কাছে আসবে, এবং সেই ছবি পেতে আমাদের প্রায় এক বছর লাগবে- তখন আমরা সম্ভাবনার ভিত্তিতে এর পরিবেশে কি কি রাসায়ানিক উপাদান রয়েছে তা বিশ্লেষণ করতে পারব। এর আবহাওয়া মণ্ডলে বাতাসের উপস্থিতি প্রাণ ধারণের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন, কারণ আমাদের পৃথিবীর পরিবেশে অক্সিজেন রয়েছে, যার কারনে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব বিরাজমান। .

মহাকাশে প্রাণের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া আর খুব বেশী দুরের ব্যাপার নয়।

হেলেন চ্যাপেল একজন প্রাক্তন জ্যোতিবিজ্ঞানী, যিনি ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডোর পদার্থবিদ্যায় শিক্ষা লাভ করেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তিনটি কারনে তিনি কেপলার -২২বি নামক গ্রহটি নিয়ে তেমন একটা আগ্রহী নন:

সৌরজগতের শত শত গ্রহ যাচাই করার পর কেপলারকে পাওয়া গেছে। আর এর ফলে আগামীতে আরো শ-খানেক গ্রহ যাচাই করার জন্য অর্থ পাওয়া যাবে, যতক্ষণ না এই কাজে প্রদান করা অর্থ ফুরিয়ে আসে। কেপলার ২২বি হচ্ছে নাসা নামক প্রতিষ্ঠানের জন্য পোস্টার চাইল্ড (এমন শিশুর পোস্টার যার দেখিয়ে সাহায্য গ্রহণ করা হয়) যার মধ্যে দিয়ে নাসা ১,০০০ নতুন গ্রহের অনুসন্ধানের কথা ঘোষণা প্রদান করতে পারবে।
[..]
মঙ্গল [ যা অনেকটা কেপলার ২২বি-এর মত] সেটি বসবাসযোগ্য পরিবেশের একেবারে ঠিক বাইরে নয়।। [কিন্তু] আমরা জানি যে এটার উপরিভাগ এত গরম যে তা সীসাকে গলিয়ে দিতে পারে। জীবন ধারনের জন্য মঙ্গল খুব একটা চমৎকার গ্রহ নয়, কিন্তু বর্হিবিশ্বে নিয়ে গবেষণা করা জ্যোতি বিজ্ঞানীদের এখনো বের করার কোন উপায় নেই যে, মহাবিশ্বের বাইরের কোন প্রাণী কি ঠিক আমাদের মত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিনা। সম্ভবত মঙ্গলের জীবন ধারণের পরিবেশের বাস্তবতায় বলা যায় কেপলার ২২বি বাসিন্দার অনেকটা আগ্রহী হতে পারে যে প্রাণের অস্তিত্ব আছে কিনা।

[…]
আমাদের পরিষ্কার ভাবে বের করার উপায় নেই, যে কেপলার ২২বি –অথবা মহাকাশের অন্য কোন সৌরজগতের কোন গ্রহে –আদতে কোন প্রাণের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ আছে কিনা।

এই উত্তেজনাকর আবিস্কারের ক্ষেত্রে ভদ্রমহিলা একটি ইতিবাচক দিক দেখতে পাচ্ছেন:

কেপলার ২২বি-এর মত একটি গ্রহের আবিস্কারে সবাই জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্বন্ধে আগ্রহী হয়ে উঠবে, এবং এর ফলে জনতাকে (বিশেষ করে শিশুদের) বিজ্ঞান সম্বন্ধে শিক্ষা প্রদান করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

[…]

এমনকি যদিও আমি কেপলার ২২বি নিয়ে আপনাদের কল্পনার বুদবুদ ফাটিয়ে দিয়ে থাকি, তারপরেও বিজ্ঞানের জন্য এটা হুররে বলে চেঁচিয়ে ওঠার বিষয়।

আরেকজন সমালোচক, ছদ্মনামের এই ব্লগার যে কিনা ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে বেঁচে থাকা নিয়ে পড়ালেখা করেছে, সে কেপলার ২২বি নিয়ে যে ভুল ধারনা সে সম্বন্ধে আলোচনা করেছে। কিন্তু সে সর্বোপরি যুক্ত করেছে:

এটি হচ্ছে প্রথম এক ধাপ এবং এটি হচ্ছে এমন এক ধাপ যা আগে গ্রহণ করা হয়নি। এটা একটা বিশাল সংবাদ! এবং বাস্তবতা হচ্ছে বসবাস যোগ্য পরিবেশ থাকতে পারে এমন নক্ষত্র সম্বলিত সৌরজগতের মাঝে ৪৮ ভিন্ন গ্রহ এখনো প্রাণের বাসযোগ্য বিবেচনায় নিজেদের প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছে।

মন্তব্য বিভাগে, এই পৃথিবী এবং কেপলার -২২ বি-এর মাঝে প্রকৃত দূরত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে:

বর্তমানে পৃথিবীর সর্বোচ্চ গতির যে যান, সেই যানের গতি অনুসারে চললে এই গ্রহে পৌঁছতে মানুষের লক্ষ লক্ষ বছর লেগে যাবে। এমন কি বিজ্ঞানের কল্পকাহিনীর ক্ষেত্রেও তা এ রকম জাহাজ এবং ক্রাউস্টসিস (শীতনিদ্রার মত মহাশূন্যে যানের জন্য বিশেষ নিদ্রা) তৈরি করা কল্পনার বাহিরে। এবং এর ফলাফল হচ্ছেঃ আগামীতে এই গ্রহ নিয়ে আরো যে সব পর্যবেক্ষণ আমরা করব, সেটি হবে ৬০০ বছর আগের চিত্র।

৬০০ আলোকবর্ষ শুনতে অনেক বেশী মনে হলেও, জ্যোতির্বিদ্যার ভাষায় এটা মিনিট মাত্র, এমনকি যদিও বর্তমানে পৃথিবীতে সর্বোচ্চ গতির যানে করে সেখানে যেতে চাইলে লক্ষ লক্ষ বছর লাগবে। কিন্তু যদি আমরা এমন কোন যান তৈরি করতে পারি যা আলোর গতির কাছাকাছি গতিতে যেতে সক্ষম, তাহলে কেপলার ২২ বি-তে উক্ত যানের যাত্রীরা পৌঁছাতে সক্ষম হবে।আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব অনুসারে ভ্রমণকারীরা আরো কম সময়ে এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবে, প্রায় ২৪ বছরে তারা সেখানে পৌঁছে যেতে পারবে।

কয়েকজন ব্লগার মহাকাশ যাত্রার মত বিষয়টিকে কম বেশী গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছেঃ

ফ্রিল্যান্স লেখক ক্রিস রোডেল- এর ব্লগের নাম এইট ডে টু আমিশ, সেখানে তিনি লিখেছেন:

আমি নিশ্চিত যে রিপাবলিকানরা চিন্তা করছে, হুররে, এখন এমন একটা জায়গা পাওয়া গেল, ঐ সব বিরক্তিকর ডেমোক্রেটরা যতক্ষণ ইচ্ছা, ততক্ষণ জায়গাটা দখল করে রাখতে পারবে।”

ডেমোক্রেটদের চিন্তা হচ্ছে, আপনারা বাজী ধরতে পারেন যে লোভী রিপাবলিকানরা ইতোমধ্যে তাদের লুইস ভুইটন সুটকেস গোছাতে শুরু করেছে, তেলের কুপ খনন করা শুরু করেছে এবং হ্যালিবার্টেনের তেলের ব্যারেল থেকে তেল চুয়ে পড়তে শুরু করে আরেকটি পরিবেশ বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটাতে যাচ্ছে, যতক্ষণ না বারাক ওবামা এটাকে যথেষ্ট বলে ঘোষণা না করে।

এ্যাডভোকেট এথিস্ট হচ্ছে ত্রিস্টান ডি. ভিক-এর ব্লগ। তিনি জাপানে ইংরেজির শেখান। যদি কেপলার ২২বি- এক সভ্যতা বিরাজ করে থাকে যারা আন্তঃ মহাবিশ্বের যোগাযোগে সক্ষম, সেক্ষেত্রে তিনি কেপলার ২২বি-এর সাথে যোগাযোগ –এর বিষয়ে আরো আশাবাদী। তিনি একটি ওয়ার্মহোল ( মহাশূন্য সময়ের মাধ্যমে একটি হাইপোথেটিকাল সংক্ষিপ্ত তৈরি করা) তৈরির পরামর্শ প্রদান করেন , যার মাধ্যমে হয়ত উভয়ের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করা সম্ভব। তবে তিনি স্বীকার করেন যে তার এই পরামর্শ, কেবল তত্ত্বীয় ভাবে সম্ভব।

ভিক যে উপসংহার টেনেছেন, মনে হচ্ছে কেপলার-২২বি-এর ক্ষেত্রে শিক্ষা গ্রহণের জন্য একটি উত্তম সারংশ:

মহাবিশ্বের বাইরের কোন প্রাণীর সঙ্গে আমরা যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম হব কি না, তারচেয়ে আমার কাছে মনে হচ্ছে কেপলার ২২ বি আমাদের একটা স্বপ্ন দেখাচ্ছে যা সকল মানুষের স্বপ্ন- এক অভিযানের স্বপ্ন, এক কৌতূহল জনক যাত্রা এবং ইতিহাসের এক অংশ হবার। আমার কাছে মনে হচ্ছে , আমরা হয়ত ইতোমধ্যে ইতিহাস নির্মাণের এক স্বাক্ষীতে পরিণত হয়েছি এবং যদিও সত্যিকার অর্থে এই বিষয়ে সচেতন না হয়ে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .