বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইরানঃ বেতন না পাওয়া শ্রমিক, রাষ্ট্রপতি আহমাদিনেজাদ-এর দিকে জুতা নিক্ষেপ করেছে

১২ ডিসেম্বর, ২০১১-এ ইরানের উত্তরের শহর সারি-তে দেশটির রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করে। সে সময় তিনি জনতার উদ্দেশ্য ভাষণ দিচ্ছিলেন। বেশ কয়েকজন ইরানী ব্লগার এই ঘটনায় পরিহাসের সাথে তাদের প্রতিক্রিয়া প্রদান করেছে।

জুতা নিক্ষেপকারী প্রাক্তন টেক্সটাইলের কর্মী, যার নাম রাশিদ এস। সংবাদে জানা গেছে সে তার লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করতে সক্ষম হয়নি, কিন্তু সে উপস্থিত জনতা তার উপর হামলে পড়ে এবং নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপের আগে পর্যন্ত তাকে পিটাতে থাকে। ইরানের প্রচার মাধ্যম এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে উক্ত ব্যক্তিকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করে, যারা জানায় যে এই একই ব্যক্তি এর আগে প্রাক্তন এক রাষ্ট্রপতির দিকে কোন একটা বস্তু ছুড়ে মেরেছিল। এদিকে, ব্লগ কল্পকাহিনী থেকে বাস্তব সত্য বের করার চেষ্টা করছে।

Cartoon: "The future of the presidency"

“রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ” কার্টুন নিকহঙ কোস-এর, যিনি ইরানের অন্যতম এক কার্টুনিস্ট এবং ব্লগার (রোজেলিন)

গুগল প্লাসে, বাহমান দারোসাফাই, ১৬ বছরের এক কিশোরের উদ্ধৃতি প্রদান করেছে [ফারসী ভাষায়], যাকে তার স্কুল থেকে আহমাদিনেজাদের ভাষন শুনতে পাঠানো হয়েছিল:

সরকারী ভাষ্যের বিপরীতে, সেখানে উপস্থিত জনতার ভাষ্য থেকে জানা যাচ্ছে, উপস্থিত নাগরিকরা সকলে সেই জুতা নিক্ষেপকারীকে প্রহার করেনি। কেবল তাদের মধ্যে দু-তিনজন তাকে প্রহার করে। এরপর পুলিশ আসে এবং তাকে উদ্ধার করে। ইরানের প্রচার মাধ্যম সামগ্রিক ঘটনা তুলে ধরেনি। আহমাদিনেজাদ-এর ভাষণের ঠিক মাঝখানে একদল পোশাক নির্মাণ কর্মী সেখানে এসে হাজির হয়, যাদের কারখানা শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারা একটা ব্যানার তুলে ধরে এবং তাদের বেতন পরিশোধের দাবী জানায়। এই সভা প্রায় পণ্ড হবার উপক্রম হয় এবং অবশেষে দৃশ্যপটে সেই জুতা নিক্ষেপকারী এসে হাজির হয়, সেখানকার জনতা এবং শ্রমিকরা আহমাদিনেজাদের বিরুদ্ধে স্লোগান প্রদান করে, উক্ত জুতা নিক্ষেপকারীর বিরুদ্ধে নয়।

আফকার মাজিয়ার তার ব্লগে লিখেছে [ফারসী ভাষায়], সংবাদ অনুসারে উক্ত শ্রমিক এক বছর ধরে বেতন পাননি এবং এই ঘটনার সাথে সাথে নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে নিজেদের প্রহরায় বাইরে নিয়ে যায়। ব্লগার এর সাথে যোগ করেছে:

ইরানের প্রচার মাধ্যম এই ঘটনার তেমন বিস্তারিত সংবাদ প্রদান করেনি, কিন্তু সরকার পন্থী প্রচার মাধ্যম জুতা নিক্ষেপকারীর আচরণকে সন্দেহ জনক বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এই সব সরকার-পন্থী প্রচার মাধ্যমের লক্ষ্য হচ্ছে প্রতিবাদের কার্যক্রমকে এক নিন্দনীয় রুপ প্রদান করা এবং তারা দাবি করেছে যে সেখানে উপস্থিত অনেকে রাষ্ট্রপতির সমর্থনে স্লোগান দেয়। তারা লিখেছে যে উক্ত ব্যক্তি এর আগেও প্রাক্তন এক রাষ্ট্রপতি, সংস্কারপন্থী মোহাম্মদ খাতামীর বিরুদ্ধে একই ধরনের কাজ করেছে [ কিছু একটা নিক্ষেপ করেছে]।

আরজাকা লিখেছে যে [ ফারসী ভাষায়], ২০০৮ সালে যখন একজন ইরাকি সাংবাদিক রাষ্ট্রপতি জর্জ ডাব্লিউ. বুশের প্রতি জুতা নিক্ষেপ করে তখন ইরান সরকার সেই সংবাদকে পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ হিসাবে উপস্থাপন করে, তারা কখনোই কল্পনা করেনি যে সেই একই টেকনিক তাদের বিরুদ্ধেও কেউ প্রয়োগ করতে পারে। ব্লগার এর সাথে যোগ করেছে যে আহমাদিনেজাদ এই ব্যায়বহুল যাত্রাকে সঠিক বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, এই দারিদ্র কবলিত লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদানের জন্য এই যাত্রার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু জুতা নিক্ষেপের ঘটনার মধ্যে দিয়ে এই বিষয়টি প্রদর্শিত হচ্ছে যে, সেখানকার জনতার পরিস্থিতির তেমন একটা উন্নতি ঘটেনি, বরঞ্চ তারা এখন যে কোন সময়ের চেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে বসবাস করেছে।

2 টি মন্তব্য

  • এম, সানোয়ার হোসেন

    আমি শুনেছি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদ অত্যান্ত সৎ একজন ব্যাক্তি। তিনি বাসাথেকে দুপুরের খাবার সাথে করে নিয়ে যান এবং সে কোন রাস্ট্রীয় গাড়ি ব্যবহার করেন না, রাষ্ট্রীয় অতিরিক্ত সুযোগসুবিধা গ্রহন করেন না। তার বাবার একটা পুরোনো গাড়ি আছে সেটাই ব্যবহার করেন। হয়তো ঘটনাটি সত্য। আমরাতো আমাদের প্রধান মন্ত্রীতো দূরের কথা মন্ত্রীকে সামনাসামনি একটা গালিও দিতে পারবো না। ওবামা ইরানের বিরুদ্বে অর্থনৈতিক অবরোধ না দিলেও পারতো। শুধু তারাই পারমানবিক শক্তির আধার হবে আর মসুলমানদের কোন অধিকার নাই। আসলে আমেরিকা পৃথীবীকে কেয়ামতের কাছাকাছি নিয়েই যাবে।

  • এম সানোয়ার হোসেন, আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। এই লেখা একটি ঘটনার অনুবাদ মাত্র।

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .