বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পাকিস্তান: মোবাইলে মেসেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে ১,৫০০ টি শব্দ নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা

পাকিস্তান টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় বা পিটিএ (পাকিস্তান টেলি কমিউনিকেশন অথরিটি) প্রচার মাধ্যমের নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তি এবং মানবাধিকার সংস্থার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পিটিএ, মোবাইলে মেসেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে কিছু কিছু অশ্লীল শব্দের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য একটি তালিকা প্রস্তুত করে। যখন বাছাইকৃত শব্দের এই তালিকার মত এক কুখ্যাত বিষয় উন্মোচন হয়ে পড়ে তখন এই ঘটনা ঘটে। এই তালিকায় যে সব শব্দ রয়েছে, সে গুলো হচ্ছে, “ডু ইট”, “টাঙ্গ”, “জেসাস ক্রাইস্ট”, “টাম্পন”, “পিরিয়ড”, “শয়তান”, “ মাঙ্কি ক্রাউচ”, “ডিপোজিট” এবং “ফেইরী”। ‘এফ’ শব্দ দিয়ে শুরু হয় এমন ৫০ টি ভিন্ন ভিন্ন শব্দ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর সাথে ‘বাডওয়াইজার’ এবং ‘লুণ্ড’ নামক শব্দটি নিষিদ্ধ। [এ সব শব্দ শারীরিক মিলন, বিশেষ অঙ্গ, ধর্মীয় বর্ণনায় ব্যবহৃত হয়]

এই ঘটনায় পিটিএ এক হাসির পাত্রে পরিণত হয়। প্রথমে অনেকে মনে করেছিল যে এটা একটা ভুয়া তালিকা। এই তালিকায় ৫৮৬ টি উর্দু, ১,১০৯ টি ইংরেজী শব্দ এবং বাগধারা রয়েছে। ১৪ নভেম্বর ২০১১ তারিখে পিটিএ এই তালিকা দেশটির সব মোবাইল কোম্পানীর কাছে পাঠিয়ে দেয়।

সূত্র বলছে যে মোবাইল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সমূহকে আগামী সাত দিনের মধ্যে স্প্যাম থেকে ইন্টারনেট রক্ষা, অবাঞ্ছিত, প্রতারণ এবং অশ্লীল বার্তা বিষয়ক যোগাযোগ আইন ২০০৯ অনুসারে এই সমস্ত শব্দসমুহকে নিষিদ্ধ করার আদেশ প্রদান করা হয়েছে। এই বিষয়ে পিটিএ-এর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে যে মোবাইল কোম্পানীগুলো এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের ব্যাপারে তাদের মাসিক রিপোর্ট পিটিএকে প্রদান করবে। তবে মোবাইল কোম্পানীগুলো এই নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা থেকে আপাতত বিরত থেকেছে।

নিষিদ্ধ শব্দসমূহের তালিকার ছবি, ছবিটাকে আরো বড় করে দেখতে চাইলে এর উপর ক্লিক করুন।

এই তালিকাটি ফাঁস হয়ে পড়ে এবং বাইটস ফর অল নামের (বিএফএ) একটি সাইট সেটি অনলাইনে প্রকাশ করে দেয়। এটি একটি ইন্টারনেট বিষয়ক অধিকার সংরক্ষণকারী সংগঠন। বিএফএ, এই নিষেধাজ্ঞাকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার জন্য প্রস্তুত। বাইটস ফর অল পাকিস্তানীদের উপর অপ্রয়োজনীয় নৈতিকতার নজরদারীর বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে

আমরা বিশ্বাস করি যে পিটিএ নামক প্রতিষ্ঠানের নেওয়া এই অস্বস্তিকর এবং লজ্জাজনক উদ্যোগ, কেবল বাজে শব্দসমূহকে নিষিদ্ধ করা নয়, আদতে তা কর্তৃপক্ষকে নৈতিকতার উপর নজরদারি বাড়াতে উৎসাহ প্রদান করা।

বাইটস ফর অল এই কারণে শঙ্কিত যে পিটিএর এ ধরনের প্রচেষ্টা, এই ধরনের শিল্পের ক্ষেত্রে কোন কিছু আটকে দেওয়া এবং তার উপর নজরদারি মত বিষয়ের বৃদ্ধি ঘটাবে এবং এর পরিমাণ ভয়াবহ ভাবে বাড়িয়ে তুলবে, যা সমস্ত বিষয় ইতোমধ্যে পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য প্রচণ্ড এক হুমকি দেখা দিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে এই ধরনের কোন কিছু, যা কিনা শুধুমাত্র রাষ্ট্র তার ক্ষমতায় নিজস্ব যোগাযোগ কাঠামোয় প্রবেশের সুযোগ সীমাবদ্ধ করে দিতে বা প্রতিরোধ করতে পারে, কিন্তু অন্য দিকে এর মাধ্যমে রাষ্ট্র মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্যে প্রবেশের অধিকারে বাঁধা দিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

“জেসাস ক্রাইস্ট” এবং “শয়তান”-এর মত শব্দ পিটিএ-এর নিষিদ্ধ শব্দের তালিকায় আছে। মূলত ইসলামের গৌরব তুলে ধরার মত ভাবনা থেকে তারা এই দুটি শব্দ বেছে নিয়েছে। ব্লগার উমর তারিক প্রশ্ন করেছে:

যখন এই সব নিষিদ্ধ হতে যাওয়া শব্দের দিকে তাকালাম, আমি আবিষ্কার করলাম যে, প্রতিদিনের ব্যবহার্য অন্য অনেক শব্দের সাথে জেসাস ক্রাইস্ট নামক শব্দটি হয়ত নিষিদ্ধ হয়ে হতে পারে। পৃথিবীতে কি এমন আপদ এসে পড়ল যে যিশুর (হজরত ঈসা) নাম নিষিদ্ধ করতে হবে? এটা কি কোন অশ্লীল শব্দ? ডানপন্থী এবং ম্যাকবার্গাস হয়ত এটা পছন্দ করবে, কিন্তু এটি একবারে বিচিত্র এক তালিকা।

যারা এই তালিকা তৈরি করেছে তাদের আমি প্রশ্ন করতে চাই, বিশ্বের অন্য প্রান্তে কেউ যদি আমাদের পবিত্র রাসুল (সঃ)-এর নাম যদি নিষিদ্ধ শব্দের তালিকায় রাখে, তাহলে তাদের অনুভূতি কেমন হবে।

খ্রিস্টান ধর্মীয় এক সংসদ সদস্য সালিম খুরশীদ খোক্কার এই বিষয়ে সিন্ধু প্রদেশের সংসদে আপত্তি তোলেন। তিনি বলেন, যদি সরকার “জেসাস ক্রাইস্ট” নামক শব্দটিকে নিষিদ্ধ করে ফেলে, তাহলে তা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অধিকার ক্ষুন্ন করার সামিল হবে।

ইয়োথ এ্যাওয়ারনেস ব্লগ এই তালিকার বিষয়ে প্রথম মন্তব্য করে:

কি এক ধর্ষণ :O, আরওএফএল। (রোলিং অন ফ্লোর লাফিং/ হাসতে হাসতে পেট ফেটে যাওয়া) এলএমএওএও (লাফিং মাই এ্যাশ অফ/ দারুণ মজার), লোল (দারুণ), ইত্যাদি শব্দে যে মজা, অন্য শব্দে সে রকম কোন মজা পাইনা। কিন্তু যদি আপনি পিটিএ- দ্বারা সম্ভব্য নিষিদ্ধ হতে যাওয়া শব্দের তালিকায় তাকান, তাহলে আপনি আক্ষরিক অর্থে হাসতে হাসতে পেট ফেটে মরবেন। আমি এই বিষয়ে কোন কিছু লিখছি না, কেবল শব্দগুলোর মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি এবং কল্পনা করছি যে, কোন ধরনের বেবুন এই দেশটা চালাচ্ছে।

শিভাম_ভিজ যখন তাঁর প্রবন্ধটি ফার্স্টপোস্ট.কমে প্রকাশ করে, তখন তিনি শহরের অন্যতম এক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হন:

কিছু ইংরেজি শব্দ যা “এ.এস.এস” এবং ইয়লোম্যান দিয়ে শেষ হয় তার তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু শব্দ আপাত নিরিহ ( ক্রাপ এবং ক্রাপি), অন্য গুলো এই তালিকায় আসার কারণ্টা বিচিত্র (“জেসাস ক্রাইস্ট”, “ফাল্টুলেন্স” বা “মার্ডার” এবং “মাঙ্কি ক্রাউচ”) এর মধ্যে কিছু শব্দ খুব সাধারণ ভাবে ব্যবহৃত অশ্লীল শব্দ (ফাক ইউ) এবং এ রকম উচ্চারিত আরো কিছু শব্দ তালিকায় আনা হয়েছে ( বীচ, মুথাফাক্কা {মুথাফাক্কা-মাদারফাক নামক শব্দটির-এর সাথে সুক্ত}) এখানে বিভিন্ন বানানে “মাস্টারবেশন শব্দটিকে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে সঠিক বানানটিই যুক্ত করা হয়নি। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বেশিরভাগ শব্দ দেখে মনে হচ্ছে কর্তৃপক্ষ যৌন বিষয়ক বা অশ্লীল শব্দ দিয়ে লিখিত টেক্সট মেসেজ পাঠানো বন্ধ করতে চাইছে ( যেমন “সেক্সি”, “লাইক মি”, “ডু মি”, “এস এন্ড এম”, “লোশন” পর্নো) – এই তালিকাটি যৌনতার ক্ষেত্রে শারীরিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিষয়ক যে সব শব্দ উচ্চারণ করা হয় তার চেয়ে মিলনের ক্ষেত্রে মৌখিক ভাবে উচ্চারণ করা শব্দের দিকে বেশী মনোযোগ প্রদান করেছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তারা কেবল যৌন বিষয়ক শব্দই নিষিদ্ধের তালিকায় রাখেনি, তারা “ড্রাঙ্কেন” নামক শব্দটি নিষিদ্ধ করতে চাচ্ছে। সম্ভবত তারা মনে করছে যে এর ফলে মদ্যপান করা কমে যাবে।

পাকিস্তানি অনেক সামজিক প্রচার মাধ্যম একটিভিস্ট নিষিদ্ধ শব্দের তালিকায় আসা শব্দের ক্ষেত্রে অক্ষর লেখার বদলে সংখ্যা টাইপ করার মত এক চিন্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। পিটিএ-এর এই নিষিদ্ধ শব্দের তালিকার ঘটনায় পাকিস্তানের টুইটারস্ফেয়ার হাস্যরসাত্মক এবং মজার মজার সব মন্তব্যে ভরে গেছে।

একদিকে পাকিস্তানের মোবাইল কোম্পানিগুলো এখনো পিটিএর সাথে তাদের এই তালিকা নিয়ে কথা বলে যাচ্ছে, অন্যদিকে ফাঁস হয়ে যাওয়া এই তালিকা, অশ্লীল শব্দ, ব্যক্তিগত অবস্থান এবং দেশটির টেলি যোগাযোগ বিষয়ে দেশটির আদর্শিক মাত্রা নিয়ে এক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনগুলো উভয় দৃষ্টিভঙ্গির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দৃশ্যত মনে হচ্ছে, ইতোমধ্যে দেশটি যে রাজনৈতিক আগুনে জ্বলছে, এই বিতর্ক সেই আগুনে আরো ঘি ঢালতে যাচ্ছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .