বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

দক্ষিণ কোরিয়া: সিউলে ওয়াল স্ট্রিট দখল বিক্ষোভের ছবি

এই পোস্টটি আমাদের #অকুপাই ওয়ার্ল্ডওয়াইড (বিশ্বব্যাপী দখল) সংক্রান্ত বিশেষ কাভারেজের অংশ।

ওয়াল স্ট্রিট দখল অভিযান অবশেষে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে পৌঁছেছে। প্রচন্ড বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত আর বিদ্যুত চমক আর হঠাৎ করে তাপমাত্রা কমে যাওয়া সত্ত্বেও প্রায় ৩০০ মানুষ সিউল দখল প্রতিবাদে একত্র হয়েছিলেন গত ১৫ই অক্টোবর, ২০১১ তারিখে। প্রথমে তারা সিউলের অর্থনৈতিক কেন্দ্র ইউইদোতে ফাইন্যানশিয়াল সুপারভাইজরি সার্ভিসের সামনে একত্র হন আর এর পরে সিউলের শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে মিছিল করেন।

যারা অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিলেন এমন তরুণ আর কর্মীদের করা এসংক্রান্ত টুইট আর ছবিতে জীবন্ত হয়ে ওঠে টুইটার জগৎ। কিছু ছবি দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক সংবাদ সাইট উইকি ট্রিতেও পোস্ট করা হয়

মিন গিয়ং চুল (@এমজিসি০৯০৯) বিক্ষোভের বেশ কিছু ছবি টুইট করেন। নীচের ছবিতে তার শিরোনাম (কোরিয়ান ভাষায়) হলো, ‘আমরা ফাইন্যানশিয়াল সুপারভাইজরি সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ের সামনে। প্রচন্ড বৃষ্টি আর বজ্রপাত হচ্ছে, কিন্তু আমরা ৯৯% ওই ১% এর অর্থনৈতিক ঠকানোর প্রতিবাদ করছি। ‘সিউলে ইউইদো ঘেরাও কর’!

বৃষ্টিতে সিউল দখল কর
টুইটার ব্যবহারকারী @এমজিসি০৯০৯ এর সৌজন্যে

এখানে ইউইদো থেকে তোলা আর একটি ছবি:

সিউলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে ওয়াল স্ট্রীট দখল প্রতিবাদ

টুইটার ব্যবহারকারী @এমজিসি০৯০৯ এর সৌজন্যে

বুসান সঞ্চয় ব্যাংকের ব্যার্থতার শিকারদের বসে বিক্ষোভের ছবি নীচেরটা। জোরালো গুজব আছে যে এই ব্যাংক অর্থ ব্যবহার করেছে তাদের অনিয়ম ঢাকার জন্য সরকারী আমলা আর সাংসদদের লবি করার জন্য।

সিউলে ওয়াল স্ট্রীট দখল প্রতিবাদ

টুইটার ব্যবহারকারী @এমজিসি০৯০৯ এর সৌজন্যে

সাংবাদিক আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী টুইটার ব্যবহারকারী হু জে-ইয়োন (@উইলাভহানি) একটি ছবি পোস্ট করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন নাগরিক ‘প্রতিশোধ’ লেখা মুখোশ পরে আছেন। তার শিরোনামে লেখা আছে, ‘একজন নাগরিক এসেছেন ইউইদোর লোভী ওইসব কর্পোরেশন দখল করতে।‘

সিউলে ওয়াল স্ট্রীট দখল প্রতিবাদ

ইটার ব্যবহারকারী @উইলাভহানি এর সৌজন্যে

পুলিশ শহরতলী সিউলের বিক্ষোভ আটকানোর চেষ্টা করেন। টুইটার ব্যবহারকারী @বিউলফ৯৬ টুইট করেছেন [কোরিয়ান ভাষায়]:

역시 월가시위도 불법이라며 저지시키려한다 전세계인이하는데 왜 우리는 못하지

আমি যেমন ধারণা করেছিলাম- তারা ওয়াল স্ট্রিট দখল বিক্ষোভ আটকানোর চেষ্টা করেছিল, বেআইনি বলে। আমরা কেন এটা করতে পারবো না যখন বাকি পৃথিবী করছে?

বিষ্ময়কর না যে রক্ষণশীল দক্ষিন কোরিয়ার মিডিয়া কড়াভাবে এই বিক্ষোভকে খারাপ, রাজনৈতিক প্রণোদিত কাজ বলে অভিহিত করেছে। জোন-গু (@অজকেপপ) তাদের এই দাবীর বিরুদ্ধে টুইট করেছেন:

월가시위는 순수한데 오늘 서울점령은 불순하다는 보수언론의 망발! 월가시위는 부자증세,공정사회화 등을 요구하는 “정치적” 시위다. 그리고 옳다. 서울시위도 옳을 것.

কখন এইসব রক্ষণশীল মিডিয়া বকা বন্ধ করবে! তারা ওয়াল স্ট্রিটের বিক্ষোভকে বিশুদ্ধ (তৃণমূল) বিক্ষোভ বলছেন, আর অকুপাই সিউলকে দোষ দিচ্ছেন কোন (খারাপ) চিন্তার জন্য। দেখুন ওয়াল স্ট্রিটের বিক্ষোভ একটা ‘রাজনৈতিক’ বিক্ষোভ যেখানে ধনীদের আয়কর দেয়া আর সমাজে সাম্যতা আনার কথা বলা হচ্ছে। আর তারা ঠিক। একই ভাবে ঠিক অকুপাই সিউল (সিউল দখল) ও।

তবে কিছু তরুন অকুপাই সিউলের জোরালো সমালোচনা করেছেন, তারা বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট আর অকুপাই সিউল আপেল আর কমলার মতো আলাদা। কেউ কেউ আরো এগিয়ে গিয়ে সরাসরি অপমান করেছেন। ও মি-মি (@মিমি নুনা) টুইট করেছেন:

월가 시위하는 것들! 평소에 반미 반미 외치면서 미국이 뭐만 하면 무조건 따라하다가 이젠 시위까지 따라하냐? 그러니 너네가 어디가서 대접도 못받는거야. 좀비들아!

সব ভন্ড যারা ওয়াল স্ট্রিটের বিক্ষোভ এখানে করছে! আপনারাই সব সময় ‘যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী, যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী’ এমন কথা বলতেন। কিন্তু আপনারা সব সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে নকল করেন আর এখন তাদের বিক্ষোভকেও নকল করছেন? এই কারনেই বিভিন্ন জায়গায় আপনাদের সাথে অন্যায় ব্যবহার করা হয়।

বেশ কয়েকজন আরো সংযত হয়ে তাদের মতামত দিয়েছেন, ব্যাখ্যা করে যে যদিও বিক্ষোভটা অর্থপূর্ণ, খুব কম অংশগ্রহণকারী এর মানে বুঝতে পেরেছে। রে ওয়ং (@রে০৪০৩) টুইট করেছেন:

한국서 월가시위를 지지한다는 사람들조차 그들의 의제를 제대로 파악하지 못하고 있습니다.자본주의에 대한 좌파들의 저항이라는 식으로 스스로 몰아가는데,이건 그런수준이 아니라 민중과 기득권 간의 거대한 싸움입니다.죽느냐 사느냐의 문제인것이죠

দক্ষিণ কোরিয়াতে, যারা খোলাখুলিভাবে ওয়াল স্ট্রিট এর বিক্ষোভের সমর্থন করেন তারাও আসলে বিক্ষোভের বিষয়টা ধরতে পারছেন না। কেউ কেউ এটাকে পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে বামপন্থীদের আবরোধ মনে করছেন। কিন্তু এটা তার বাইরে। এটা তৃণমূল আর সুবিধাভোগী শ্রেনীর মধ্যে বিশাল একটা সংঘাত। সাধারণ মানুষের জন্য এটা জীবন মৃত্যুর ব্যাপার।

কর্মীরা জানাচ্ছেন যে অক্টোবর ২১, ২০১১ তারিখে আর একটা অকুপাই সিউল বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আমাদের #অকুপাই ওয়ার্ল্ডওয়াইড (বিশ্বব্যাপী দখল) সংক্রান্ত বিশেষ কাভারেজের অংশ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .