বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশঃ ব্লগাররা চুপ করে থাকবে না

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর যাত্রা শুরু হয় ১৮৫৮ সালে। এটি বাংলাদেশের অন্যতম এক প্রাচীন সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের অনেক নাগরিক ব্যয়বহুল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় বহন করতে পারে না এবং তারা উচ্চ শিক্ষার জন্য এ রকম সরকারি প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে থাকে।

সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রস্তাবনায় সরকার, সরকারী কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে বেসরকারি খাতে নিয়ে যাবার মাধ্যমে শিক্ষাখাতে ভর্তুকি হ্রাস করার যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে ক্ষেত্রে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে প্রথম পরীক্ষাগার।

ছাত্র বিক্ষোভ

পারভেজ আলম [বাংলায়], জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং বিক্ষোভের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করছেন:

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় স্রেফ শুরু মাত্র, এরপরে দেশের প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধরা হবে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাকিগুলোও আস্তে আস্তে করে ফেলা হবে।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১১-এ পুলিশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর হামলা চালায়, এর কারণ হচ্ছে বিক্ষোভের সময় কিছু ছাত্র ভাঙচুর করে। যদিও এর ফলে গণহারে ছাত্রদের উপর হামলা চালানো এবং গ্রেফতার করা হয়।

জাতীয় স্বার্থে ব্লগার -অনলাইন একটিভিস্ট [বাংলায়] নামক ফেসবুক গ্রুপের অ্যাক্টিভিস্টরা পুলিশের এই নির্মমতার নিন্দা জানায় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের চার দফা দাবী এবং বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানায়।

Asif Mohiuddin. Image courtesy Arfan Ahmed/Unmochon

আসিফ মহিউদ্দিন। ছবি আরফান আহমেদ/ উন্মোচন

বেশ কয়েকজন ব্লগারের মধ্যে আসিফ মহিউদ্দিন, একজন আইটি বিশেষজ্ঞ এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত ভাবে লিখেছেন [বাংলায়] এবং তিনি ছিলেন জাতীয় স্বার্থে ব্লগার -অনলাইন একটিভিস্ট ফোরাম আয়েজিত ৩০ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভের অন্যতম এক সংগঠক। তিনি তার পোস্টে এই কথাগুলো উচ্চারণ করেন:

জয় আমাদের হবেই। আমরা আমদের শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত হতে দেবো না। আমাদের শিক্ষা হোক সকলের জন্য।

আসিফ মহিউদ্দিনের গ্রেফতার

পুলিশ ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ সভায় হামলা চালায় এবং বেশ কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করে, পরে তদের জামানতের ভিত্তিতে মুক্তি প্রদান করা হয়। ১ অক্টোবের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে,আসিফ মহিউদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কৌশিক আহমেদ সংবাদ প্রদান করেছে [বাংলায়]:

গতকাল অনলাইন অনলাইন ব্লগার অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপের অন্যতম সংগঠক আসিফ মহিউদ্দীনের বাসায় ডিবি পুলিশ খুঁজতে যায়, না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাকে থানায় রিপোর্ট করতে বলে। আজকে আসিফ মহিউদ্দীন তার বোনকে নিয়ে থানায় রিপোর্ট করলে, পুলিশ তাকে আটক করে। যারা কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ দেখানো হয়নি, তবে শোনা যাচ্ছে তার মোবাইল কল ট্রাক করা হয়েছে।

ব্লগার আসিফের মুক্তি দাবী করে আয়োজিত বিক্ষোভের পোস্টার

ব্লগার আসিফের মুক্তি দাবী করে আয়োজিত বিক্ষোভের পোস্টার

এই ঘটনায় ব্লগ জগৎে প্রতিক্রিয়ায় ভরে যায় এবং সকলেই আসিফের মুক্তি দাবী করে। অর্থহীন লিখেছে:

আসিফ আসলে কি করেছে? সে কি কারো সম্পত্তিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, সে কি কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে অথবা কোন আইন ভেঙ্গেছে। ঠিক আছে, সে আসলে আইন ভেঙ্গেছে এবং এর ফলে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। সে লিখেছে এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের প্রতি প্রশ্ন তুলেছে এবং সরকার এই বিষয়টি সহ্য করতে পারেনি। আর এই হচ্ছে তার অপরাধ।

ভয়াল অগ্নিপুরুষ দাবী করেছে যে সরকারের তাকেও গ্রেফতার করা উচিৎ, যাতে সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার মত আর কেউ না থাকে।

কৌশিক এই ঘটনার নিয়মিত সর্বশেষ সংবাদ প্রদান করতে থাকে। ২রা অক্টোবর আসিফের মুক্তি দাবী করে শহরে এক জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আসিফকে সারারাত থানায় আটকে রাখা হয় এবং ২রা অক্টোবরে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে তাকে শীঘ্রই মুক্ত করে দেওয়া হবে। অমি রহমান পিয়াল জানায় [বাংলা ভাষায়] যে, তাকে এখনো আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার করা হয়নি, কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকে রাখা হয়েছে।

ঘটনাক্রমে ১৮ ঘণ্টা আটকে রাখার পর পুলিশ মহিউদ্দিনকে ছেড়ে দেয়, কিন্তু পুলিশের বিবৃতি এবং যে ভাবে তারা ব্লগারকে ছেড়ে দেয়, তা অনলাইন সম্প্রদায়কে রাগান্বিত করে তুলেছে।

বিডিনিউজ২৪.কম-এর মতে আসিফকে একটি মুচলেকায় স্বাক্ষর করতে হয়েছে যে অনলাইনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের পক্ষে র‍্যালি করার জন্য সে ব্লগ আর ফেসবুকে কোন আহবান জানাতে পারবে না। এছাড়াও পুলিশ তাকে বার বার উপদেশ দিয়েছে: “লিখবেন না, আপনার একটা চাকুরী আছে, বিয়ে করুন। লেখালেখি করে কেউ কিছু অর্জন করেনি”। আরেক কর্মকর্তা তাকে বলে যে, “বাক স্বাধীনতা, নৈতিকতা- জীবনের এসবের কোন মূল্য নেই”। সংবাদ অনুসারে এক গোয়েন্দা তাকে বলেছে: “রাষ্ট্র খেয়াল রাখবে আপনি কি তার পক্ষে নাকি বিপক্ষে, যদি আপনি তার বিপক্ষে হন, তাহলে আপনাকে আঘাত করা হবে”।

ব্লগার এবং সাংবাদিক বিপ্লব রহমান প্রশ্ন করেছেন [বাংলা ভাষায়]:

এ অবস্থায় প্রশ্ন জাগে, দেশটা কি শেষ পর্যন্ত পুলিশী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে?

কৌশিক মন্তব্য করেছে [বাংলা ভাষায়]:

সরকারী আমলাতন্ত্র সম্ভবত বিকল্প মিডিয়ার শক্তি সম্পর্কে অনভিজ্ঞ। আসিফ মহিউদ্দীন মাত্র একটা নাম – তবে ভার্চুয়াল অঙ্গনে এখন লাখো আসিফ মহিউদ্দিন সরব হয়ে আছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .