বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

কসোভো, সার্বিয়া: কসোভোর প্রধানমন্ত্রী মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যবসার অভিযোগে অভিযুক্ত হলেন

হলুদ কুঠি

আপনি কি জানেন হলুদ কুঠি আসলে কি? আপনি এ সম্পর্কে কখনো কিছু শুনেছেন?

যে বছর কসোভো নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করলো, অর্থাৎ ২০০৮ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর কার্লা ডেল পন্ট, সার্বিয়াতে তার বিতর্কিত ‘শিকার: আমি ও যুদ্ধাপরাধীরা‘ শীর্ষক বই উন্মোচন করেন, যেখানে তিনি ১৯৯৯ সালে কসোভো লিবারেশন আর্মি (কে.এল.এ) কর্তৃক কসোভোতে সার্ব, অ-আলবেনীয় ও ‘অবাধ্যদের’ উপর ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরেছেন।

ডেল পন্টের ভাষ্যমতে, ‘হলুদ কুঠি’ হচ্ছে আলবেনিয়ার বুরেল্জ শহরের অদূরে রিপ নামক গ্রামের একটি ছোট কামরার ঘর, যেখানে যুদ্ধবন্দীদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অপসারণ করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কালোবাজারে বিক্রি করা হতো।

সে এলাকার অনেকেই তখন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসার কথা প্রথম শুনে এবং যার ফলে তারা ভীষণভাবে বিস্মিত হয়। এই বই এবং বইয়ের মধ্যকার তথ্যগুলো সার্বিয়ায় নানা রকমের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছিল।

নিম্নে প্রেসনলাইন.আরএস এ এই ইস্যু নিয়ে ২০০৮ সালে মার্চ ২২ তারিখে লেখা একটি প্রবন্ধে জমা পড়া মন্তব্যগুলির মধ্যের নির্বাচিত কিছু তুলে ধরা হল।

লাজা:

যা ঘটেছে এবং যা ঘটছে তা ভয়ানক, আমি মনে করি বইটিতে অনেক সত্য রয়েছে […] এ অপরাধ, এ কায়ক্লেশ, এ গণকবর সম্পর্কে কিছুই যে জানা গেলনা, এটা কি সম্ভব? […]

মিকি:

অবশ্যই আলবেনীয়রা এটা করেনি। কিন্তু তাদের পশ্চিমা গুরুরা এটা করেছে।

ব্লেক:

খালি তোমাদের, সার্বদেরই মা-বাবা আছে, ভাই আছে, বোন আছে। আর তোমরা যাদের হত্যা করেছ তাদের কেউই ছিলনা। কি পরিমাণ অঙ্গ তোমরা বেচেছ যখন তোমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় দুষ্কর্মটি করেছ? […] স্রের্ব্রেনিচা

জোরান (বেক):

বিভিন্ন ফোরামে সার্বদের উপর এ ভয়ঙ্কর গণহত্যা সম্পর্কে জেনে, একজন মানুষ ও একজন খ্রিস্টান হিসেবে, যারা প্রত্যেকে এ অপরাধ করেছে, যারা এ ব্যাপারে জানত কিন্তু চুপ থেকেছে এবং যারা এটি নতুন জেনেছে কিন্তু মেনে নিয়েছে, তাদেরকে আমি ঘৃণা করি। […]

কসোভোর সরকারী কর্মকর্তারা কসোভোতে এরকম মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসার কথা অস্বীকার করেছেন। এ ইস্যু নিয়ে লেখার সময়, দি গার্ডিয়ান এ ব্যাপারের উপর জোর দিয়েছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকেই এদের সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। সেখানে ফ্রেঞ্চ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও কসোভোতে জাতিসংঘের সাবেক অন্তর্বর্তী প্রশাসনিক মিশনের প্রধান বার্নার্ড কুশনারের একটি উক্তি তুলে ধরা হয়েছে, যে উক্তিটি তিনি করেছেন এ বছরের শুরুর দিকে সার্ব অধিকৃত গ্রাতনিত্সা অঞ্চল সফরের সময়:

সেখানে কোনও হলুদ কুঠি ছিলনা, সেখানে কোনও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে ব্যবসা হয়নি, যারা এ বিষয়ে কথা বলে তারা হচ্ছে নিষ্কর্মা ও খুনে।

 

ডিক মার্টি'র প্রতিবেদন

ডিসেম্বর ১২তে কসোভোতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী হাশিম থাচি, তার দল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ কসোভো নির্বাচনে অধিকাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে। নির্বাচনের ঠিক দুই দিন পর, ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি এসেম্বলি কাউন্সিল এর অনুসন্ধানকারী ডিক মার্টি হাশিম থাচিকে উল্লিখিত যুদ্ধাপরাধের অপরাধে অভিযুক্ত করেন

ডিক মার্টির প্রতিবেদনে, যেটি গার্ডিয়ান সরকারিভাবে উপস্থাপনের আগেই স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশ করেছে, থাচি, যিনি কে.এল.এ এর ‘দ্রেনিকা গ্রুপের’ প্রধান ছিলেন, যুদ্ধ চলাকালে প্রায় ৩০০ সার্ব ও অন্যান্যদের কসোভো হতে আলবেনিয়ায় অপহরণ করে নিয়ে যেয়ে হত্যা করা এবং তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অপসারণ করে ধনী পশ্চিমা রোগীদের কাছে বিক্রি করার তথাকথিত অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন।

নিম্নে একটি বি৯২ প্রবন্ধে মার্টির প্রতিবেদন সম্পর্কে পাঠকদের মন্তব্যের কিছু নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হয়েছে:

পোলাকো, ধীরে ধীরে কিন্তু নিশ্চয়ই, ন্যায়বিচার আপনার নাগালে আসবে! লিখেছেন,

[…] যদি এটি প্রমাণ করে যে তোমরা অপরাধী, তবে তোমাদের সার্বদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই বরং ভয় পাও তাদেরকে যারা তোমাদের ক্ষমতায় এনেছে।

স্করপিওন:

একজন আলবেনীয় হিসেবে আমি খুশি যে ঈশ্বরের ইচ্ছায় যারা এ অপরাধ করেছিল তারা অভিযুক্ত হয়েছে। আমি তাদের সবাইকে ঘৃণা করি এবং তাদের ব্যাপারে কিছু শুনতেও চাইনা।

ওদে সভে উ:

বিবিসি, ফক্সনিউজ, রয়টার্স, দি মিরর, দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট, হাফিংটন পোস্ট, দি নিউ ইয়র্ক টাইমস…সমগ্র পশ্চিমা বিশ্ব এই খবর প্রকাশ করেছে…সমাজের কলঙ্করা ইউরোপের মধ্যেই একটি দেশ/অঞ্চলের ক্ষমতা নিয়ে বসে আছে।

মাযনা:

[…] সিএনএন নীরব, এবং এটা পরিষ্কার যে একটা প্রশ্ন অবশ্যই জাগবে যে কারা এবং কেন এই দেশকে স্বীকৃতি দিলো, যেখানে দেশটির সৃষ্টি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অপরাধের উপর।

এ ইস্যু সম্পর্কে লিখতে গিয়ে জেলেনা মিলিচের পোস্ট ‘অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বাণিজ্য ও তত্ত্বে’ (দৈনিক ব্লিচ এর ব্লগে প্রকাশিত), মানবাধিকার সম্পর্কে সার্বিয়ার দ্বৈত-নীতিকে প্রদর্শন করা হয়েছে অর্থাৎ এটি হচ্ছে একটি অচল নীতি যেখানে মানবাধিকারকে দেখা হয় একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসেবে যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারেনা:

[…] ডিক মার্টি'র প্রতিবেদনটি, যেটি থাচিকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বাণিজ্যের জন্য সংযুক্ত করেছে, ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি এসেম্বলি কাউন্সিল এর আইনগত প্রশ্নের কমিটি তা গ্রহণ করেছে। এটা সার্বিয়ার জন্য অবশ্যই একটা বড় সংবাদ। এবং এর কারণও আছে। কিন্তু ই.ইউ ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সংকল্প ও ঘোষণা না মানার ক্ষেত্রে সার্বিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভুক জেরেমিচের লজ্জাজনক রেকর্ড রয়েছে, যে সংকল্প ও ঘোষণা ইউরোপীয় কাউন্সিল গ্রহণ করেছে ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দাখিল করেছে। এবং এর বেশিরভাগই ইরানের বর্তমান মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং যেসব দেশ কসোভোর স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয়নি সেসব বিষয় […]

ই.ইউ এর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিমালা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি ক্যাথরিন আ্যাশটন এর মুখপাত্র মায়া কচিজানসিচ মার্টিকে এ গুরুতর অপরাধের সাথে থাচির সম্পৃক্ততার প্রমাণ নিয়ে এগিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলন এ বলেন,

এই অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়া হচ্ছে। যদি কোনও শক্ত প্রমাণ থেকে থাকে তবে আমি ডিক মার্টিকে বলব তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে।

যদিও তিনি এ ইস্যু পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে করা বেশ কিছু সরাসরি প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

হাশিম থাচি এ অভিযোগ পুরোপুরিভাবে নাকচ করে দিয়েছেন, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এ পরিস্থিতির তদন্ত করার দাবি করেছেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .