বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইয়েমেনঃ মানবিক প্রয়োজনের তাগিদ এবং ক্রমশ খারাপ হতে থাকা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি

এই প্রবন্ধটি ইয়েমেন বিক্ষোভ ২০১১-এর উপর করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

ইয়েমেনের পরিস্থিতির বিষয়ে গভীর উদ্বিগ্ন প্রকাশ করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সদ্য এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে- এবং সেখানকার মানবিক চাহিদা এবং ক্রমশ খারাপ হতে থাকা অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে পরিষদ চিন্তা ব্যক্ত করেছে। ইয়েমেনের জনতা মাসের পর মাস জুড়ে শাসক আলি আব্দুল্লাহর পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ করে যাচ্ছে, যার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত কন্ডোলিত্সা রাইস টুইট করেছেন:

@এ্যাম্বাসেডররাইস: আজ আমি নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছি যে দ্রুত, শান্তিপূর্ণ ভাবে এমন এক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করতে, যাতে সর্বোত্তম উপায়ে #ইয়েমেনের জনতার স্বার্থ সংরক্ষিত হয়।

এদিকে টুইটারে দেশটির ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রপতি সালেহ যে কিনা দুই মাস আগে রাজধানী সানায় সংঘঠিত এক বোমা হামলায় আহত হয়ে সৌদি আরবে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন, তিনি কি আর ইয়েমেনে ফিরবেন, নাকি ফিরবেন না? সেই বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ওমেনফ্রমইয়েমেন সতর্ক:

@ওমেনফ্রমইয়েমেন : সালেহ ফিরবে, নাকি ফিরবে কিনা। এই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের জটিলতায় ফেলার দরকার নেই, মূল প্রশ্নটি হচ্ছে পুরো পদ্ধতি কি আগে মত একই থাকবে, নাকি এর কোন পরিবর্তন সাধিত হবে? # ইয়েমেন

ইয়েমেন_আপডেটস এর লেখা:

@ ইয়েমেন_আপডেটস: #সালেহ কি দেশে ফিরবে নাকি #সৌদি আরবে থেকে যাবে। তিনি এখন অন্তর থেকে জানেন যে #ইয়েমেনের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাকে ঘৃণা করে। তারা তাকে ঘৃণা করে গেছে। যথেষ্ট হয়েছে! [খালাস]।

এবং দিমা খাতিব বিস্মিত:

@দিমা_খাতিব: সালেহ ঘরে ফিরে যাবে, সালেহ আর ঘরে ফিরছে না, সালেহ ঘরে ফিরে যাবে, সালেহ আর ঘরে ফিরছে না! #ইয়েমেন

ইব্রাহিম মোথানা উপসংহার টেনেছে:

@আইমোথানাইয়েমেন: #ইয়েমেনে এখন অস্পষ্টতা এবং অনিশ্চয়তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছে।

এদিকে ইয়েমেনের মানবিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ দিকে যাচ্ছে। ওমেনফ্রমইয়েমেন তার ব্লগে লিখেছে যে রমজান মাসের এই দিনেও তার বাসায় ২২ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই। সে জানাচ্ছে মোমবাতির আলোয় তারা ইফতার করছে:

মোমবাতির আলোয় ইফতার করা শুনতে দারুণ লাগে, কিন্তু আসলে মোটেও তা দারুণ ব্যাপার না। একটি সন্ধ্যা মোমবাতির আলোয় ইফতার উপভোগ্য এক বিষয়, কিন্তু লাগাতার এভাবে ইফতার করা ভিন্ন বিষয়, এখন তাই ঘটছে। এই পবিত্র মাসের শুরু থেকে দিনের ২২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। তবে এর মধ্যে আজকের দিনটি ছিল ব্যতিক্রম। দিনের যে ঘণ্টাখানেক সময়টুকু আমরা বিদ্যুৎ পাই, তার প্রতিটি মুহূর্ত আমরা উপভোগ করি। এর আগ মুহূর্তে আমাদের অনেক কিছু করনীয় থাকে। যখন স্বর্গীয় আলো জ্বলে উঠে আমরা উত্তেজনায় লাফিয়ে উঠি। পানির পাম্প চালু করতে আমাদের একজন বাইরে ছুটে যায়, আরেকজন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা বৈদ্যুতিক ঝাড়ু চালু করতে যায়।
এই কয়েকদিন আমরা উভয়ে ছুটে গিয়ে কম্পিউটার চালু করে প্রার্থনা করতে থাকতাম যে বিদ্যুৎ চলে যাবার আগে যেন দ্রুত ইন্টারনেট সংযুক্ত হয়। ঘুমানোর আগে আমি এবং আমার স্বামী এই বিষয়টি নিশ্চিত করতাম যে, আমাদের দুটি মোবাইল ফোন, দুটি কম্পিউটার এবং পুনরায় রিচার্জ করার মাধ্যমে জ্বলা সেই ছোট্ট বাতিটি অবশ্যই চার্জে দিয়ে রাখা হয়েছে। যদি আমরা অন্তত এই সব যন্ত্র চার্জ করে রাখতে সক্ষম হই, তাহলে যখন বিদ্যুৎ থাকবে না সেই সময়ে আমরা কথা বলার কাজটুকু সারতে পারব, অথবা নিজেদের বিনোদনের জন্য কম্পিউটারে চলচ্চিত্র দেখতে পারব।

ওমেন ফ্রম ইয়েমেন বলছে যে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি তাকে উদ্বিগ্ন করে তুলছে:

গত কয়েক সপ্তাহ জুড়ে ইন্দ্রিয় মাত্রাতিরিক্ত সংবেদনশীল হয়ে গেছে। আমি যেন প্রান্তিক অবস্থানে পৌঁছে গেছি। আমার কান যেন স্যাটেলাইট এন্টেনার মত শক্তিশালী হয়ে গেছে। দূর থেকে ভেসে আসা বন্দুকের গুলির মত শব্দ অথবা বিস্ফোরণ, এ রকম যে কোন আওয়াজ আমি শুনতে পাচ্ছি। আমি অন্য সব চিন্তা বন্ধ করলাম এবং এই বিষয় নিয়ে ভাবলাম। এরপর আমি বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আমার স্বামী অথবা কাছে পিঠে যে ব্যক্তিটি ছিল তার কাছে গেলাম, আমরা যে আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি সেটি আসলে কোন বিস্ফোরণের শব্দ নয়। এখন বজ্রপাত, পটকা এবং বিস্ফোরণের মধ্যে পার্থক্য করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। এর ফলে সামান্য শব্দে আমি চমকে উঠছি এবং বার বার প্রশ্ন করে আমার স্বামীর বিরক্তি উৎপাদন করছি।

জীবনযাত্রার ব্যয়ও ক্রমশ বাড়ছে। সে লিখছে:

বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজন। দয়া করে ডলার দিন। এক সময় টাক্সি করে আমাদের প্রিয় ক্যাফেতে যেতে খরচ পড়ত ২৫০ ইয়েমেনী রিয়াল, এখন প্রায় ৫০০ ইয়েমেনী রিয়াল খরচ পড়ে। সাধারণত প্রতি ডাব্বা (২০ লিটারে এক ডাব্বা) জ্বালানী তেলের মূল্য ১,৫০০ ইয়েমেনী রিয়াল, কিন্তু যখন জ্বালানী তেলের সঙ্কট দেখা দেয় তখন কালোবাজারে তার মূল্য প্রায় ৯,০০ ইয়েমেনী রিয়ালে এসে ঠেকে। এখন জ্বালানী তেলের মূল্য কমে ৩,৫০০ ইয়েমেনী রিয়ালে এসে ঠেকেছে এবং তা প্রায় সব জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে (এর ফলে যত যানজট)। যখন তেলের দাম ১,৫০০ রিয়াল থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৩,৫০০ রিয়ালে পরিণত হয়, তখন আমি বিস্মিত হয়ে আবিষ্কার করি যে এই বিষয়ে কেউ কোন অভিযাগ করছে না, বরঞ্চ সবাই খুশি এই কারণে যে বাজারে জ্বালানী তেল সহজলভ্য।
কিছুদিনের জন্য সানা একটা ভূতুড়ে শহরে পরিণত হয়েছিল, এখন আর সে রকম পরিস্থিতি নেই, যানজট আবার ফিরে এসেছে। এখন যে বিষয়টি আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে তা হচ্ছে, জ্বালানী তেল, পরিবহণ এবং নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের দামে যে বৃদ্ধি ঘটেছে সেই বিষয়টি, যখন আবার সবকিছুর দাম কমিয়ে দেওয়া হবে, তখন এসবের মূল্য আর কমবে না।

এই প্রবন্ধটি ইয়েমেন বিক্ষোভ ২০১১-এর উপর করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .