বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মিসর: তাহরির চত্বরে সোমবারে সংগঠিত দমণের কিছু দৃশ্য

এ পোস্ট টি আমাদের স্পেশাল কাভারেজ মিসর বিপ্লব ২০১১-এর অংশ

Tahrir square in Cairo cleared by army on 1 August, 2011

১লা আগস্ট ২০১১ তারিখে বল প্রয়োগ করে সেনাবাহিনী অবস্থান কর্মসূচি বানচাল করে দেয়। ছবি ফ্লিকার থেকে ম্যাগী ওসামার তোলা ( সিসি বাই-এনসি-এসএ)

বিপ্লবের কিছু অপূরণকৃত দাবি আদায়ে কায়রোর তাহরির চত্বরে প্রতিবাদকারী মিসরীয়দের জন্য মুসলিমদের পবিত্র মাস রমজান-এর শুরুটা ভাল হয়নি।

সোমবার ১লা আগস্ট, ২০১১ তারিখে সেনাবাহিনী শক্ত হাতে তাঁদের উৎখাত করে, অনেককে আহত করে এবং শতাধিক জনকে গ্রেফতার করে। এর আগের দিন ৮ই জুলাইয়ের স্মরণে সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার লক্ষ্যে রমজান ও ছুটির পরে কর্মসূচি ঘোষনা করবে বিধায় ত্রিশটিরও বেশি সংগঠন অবস্থান কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দেয়।

যদিও শহীদ পরিবারের সদস্যগণ এবং ব্যক্তি পর্যায়ের সক্রিয়তাবাদীরা স্থান ত্যাগে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তী ঘটনাক্রম? সেনাবাহিনী বলপূর্বক তাঁবু অপসারণ করতে গেলে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। মঙ্গলবার রাতে কেবল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের রোজার শেষে ইফতার-এর জন্য চত্বরে অবস্থান করে।

প্রত্যক্ষদর্শীর দৃশ্যাবলী

কিখোতে সোমবারের সংঘর্ষের ভিডিও ইউটিউবে তুলে দেন:

আহহোসাম আক্রমণের এ ভিডিও ধারণ করেন:

মিসরীয় ব্লগার ও গ্লোবাল ভয়েসেস-এর লেখিকা লিলিয়ান ওয়াগদি দমণকালে তাহরির চত্বরে উপস্থিত ছিলেন, প্রতক্ষ্যদর্শী হিসেবে তিনি যা দেখেছেন তা তুলে ধরেছেন টাম্বলার ব্লগে [ আরবি]:

شفت العميد اللي اسمه ممدوح عباس اللي رشا عزب قالت انها شافته وهو في المتحف العسكري بيعذب الثوار في مارس واللي انا بشكل شخصي شفته بعد كدة في ماسبيرو والعباسية.. لما شفته قلبي انقبض وحسيت ان الاعتصام هيتفض بالقوة .. المهم سمعت ناس بتهتف من ورا الجيش .. الشعب يريد اخلاء الميدان.. رحت ناحية الرصيف وتجاوزت الصف بتاع الشرطة العسكرية .. لقيت امن مركزي هناك كتير.. وانا بصورهم فجأة سمعت صوت قوي بيهتف صاعقة والجيش والامن بيجروا على الميدان.. جريت وراهم وانا بصور فيديو.. دخلوا الميدان.. اقتحموا الصينية ومعاهم مجموعة من المواطنين بيهتفولهم رجالة والله أكبر كسروا كل حاجة وهدوا الخيم.. وأنا بصور لقيت ضابط جيش بيشدني من إيدي وبيحاول يخطف مني الموبايل وهو بيزعق مفيش تصوير.. قلتله سيب إيدي مش هصور.. قاللي اطلعي برة الميدان.. بعدت طبعا عنه ورحت راجعة ناحية هارديز.. حاولت اصور تاني بس الجو كان متوتر جداً .. وانا خارجة من ناحية شارع محمد محمود كان فيه صف من المواطنين الشرفاء واقفين سادين مدخل الشارع وبيهتفوا الله أكبر أيوة كدة طهروا الميدان من الصيع .. صرخت فيهم وقلتلهم اسكتوا حرام عليكوا فيه أهالي شهدا جوا.. جه الرد في صورة حدف طوب وشتيمة من عينة امشي يا كلبة يا بنت الكلب يا حيوانة يا بنت الوسخة.. خربتي البلد إنتي واللي زيك..
মাহমুদ আব্বাস নামের এক জেনারেল কে আমি সেখানে দেখলাম, রাশা আজাব বললেন গত মার্চ মাসে সামরিক যাদুঘরে তিনি ঐ জেনারেল কর্তৃক বিপ্লবীদের নির্যাতন করতে দেখেন আর পরবর্তীতে আমিও ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে মাসপিরো ও আব্বাসিয়াতে নিপীড়ন চালাতে দেখি। ঘটনাস্থলে তাঁকে দেখে আমার মন ভারাক্রান্ত হল এবং আমি বুঝতে পারলাম বল প্রয়োগের মাধ্যমে অবস্থান কর্মসূচি বানচাল হতে যাচ্ছে। অল্প কিছুক্ষণ পরেই আমি সেনাবাহিনীর পেছন থেকে জনগণের চীৎকার শুনতে পেলাম, ”জনগণ এ চত্বরকে খালি দেখতে চায়।“ আমি ফুটপাথ অভিমুখী হয়ে সামরিক পুলিশকে অতিক্রম করলাম। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর অনেক সদস্যকে সেখানে দেখলাম… ছবি তোলার সময় একটা জোরালো কণ্ঠ হঠাৎ চীৎকার করলো “হল্ট!” সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা রক্ষীরা এক সঙ্গে চত্বরের দিকে দৌড় শুরু করলো… চিত্র ধারণ করতে করতে আমি তাদের অনুসরণ করলাম… তারা চত্বরে প্রবেশ করলো,কেন্দ্র দখল করলো, কিছু লোক তাদের স্বাগত জানালো। সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করে বলছি তারা সবকিছু ভেঙ্গে ফেলে, তারা তাঁবুগুলো ভাঙ্গে… আমি যখন চিত্র ধারণ করছিলাম,তখন একজন কর্মকর্তা আমার হাত ধরে টানা শুরু করলো এবং আমার মোবাইল ফোন কেঁড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলো, সে চীৎকার করে বললো: ”ছবি তোলা যাবেনা…” আমি তাকে বললাম: ”আমার হাত ছাড়ো!.. আমি আর পারছিনা…” তিনি আদেশ দিলেন: ”এখান থেকে ভাগো!”…. অবশ্যই আমি চলে গেলাম, এবং আমি হার্ডির দিকে রওনা হলাম … আবার আমি আমার ক্যামেরা ব্যবহার করতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু পরিস্থিতি ছিল খুবই উত্তপ্ত…যখন মোহাম্মদ মাহমুদ সড়ক ত্যাগ করি তখন একসারি নিষ্ঠাবান লোকজনকে সড়কের প্রবেশমুখ অবরোধ করতে দেখি, তারা চীৎকার করছিল:” আল্লাহু আকবার! হ্যা চত্বরের দুষ্কৃতকারীদের পরিষ্কার কর!” আমি তাদের উদ্দেশে চীৎকার করে বলি: ”খবরদার! শহীদদের পরিবারগুলো সেখানে আছে!”… গালি-গালাজ আর ইট ছুঁড়ে আসার মাধ্যমে আমি প্রত্যুত্তর পাই যেমন” ভাগ কুত্তা.. কুত্তার বাচ্চা…জানোয়ার….বেশ্যার মেয়ে… এ তোরা আর তোদের মত লোকজনরাই দেশটাকে শেষ করলি।“.”

ঐ দিনে লিলিয়ানের করা ভিডিওগুলো দেখতে পাবেন এখানে এবং এখানে

মিসরীয় ব্লগার হোসাম হামালাওয়ী যিনি ৩আরবওয়াই নামেও পরিচিত,তিনিও দমণের একাধিক ভিডিও পোস্ট করেছেন।

টুইটারেও একাধিক প্রথম শ্রেণীর একাউন্ট রয়েছে। সেনাবাহিনী কর্তৃক বিক্ষোভকারীদের দমণের সময় তাহরিরে আলোকচিত্রী ও সক্রিয়তাবাদী জোনাথান রাশাদও উপস্থিত ছিলেন। তিনি টুইট করেন:

@জোনাথানরাশাদ:সেনাবাহিনী ও সিএসএফ এখানে প্রচুর লোক কে গ্রেফতার করে। তারা তাদের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত প্রহার করে। # তাহরির # মিসর

স্টোরিফাই-এ গ্রীসের আ্যস্টেরিস মাসোরাস কর্তৃক সংগৃহিত আরও অনেক টুইটার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাবে এখানে

ছবির জন্য আপনি দেখতে পারেন নোরা শালাবিম্যাগী ওসামা কর্তৃক আপলোড কৃত ফ্লিকারের ছবিগুলো।

ফ্রন্ট টু ডিফেন্ড ইজিপ্ট প্রোটেস্টর-নামক একটি সংগঠন তাঁদের ব্লগে সকল অন্তরীণ লোকের[আরবি] তালিকা প্রকাশ করেছে এবং যারা আইনগত সহায়তা চান তাঁদের জন্য(০১২-০৬২-৪০০৩) হটলাইন এবং যারা চিকিৎসা সহায়তা চান তাঁদের জন্য(০১৭-৯৯০-১০৮১) হটলাইন চালু করেছে।

অনেক সক্রিয়তাবাদী এমনকি আইনজীবী ও আরাবিক নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস ইনফরমেশন-এর নির্বাহী পরিচালকগামাল ঈদ ও সতর্কতা অবলম্বনের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। সোমবার তিনি টুইট করেন:

@gamaleid
يا جماعة رجاء من اي ناشط موجود في الميدان او بجواره ، حافظ على نفسك وبلاش تشد مع الجيش ، وجودك بره أهم
জনতা!!! চত্বর এবং এর নিকটবর্তীতে যে সকল সক্রিয়তাবাদী উপস্থিত আছেন তাঁরা নিরাপদে থাকুন আর দয়া করে সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়াবেন না। জেলের বাইরে আপনাদের অবস্থান অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এ পোস্ট টি আমাদের স্পেশাল কাভারেজ মিসর বিপ্লব ২০১১-এর অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .