বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

যুক্তরাজ্য: #ব্লেমদিমুসলিম নামক টুইটার হ্যাশট্যাগ বিষয় থেকে দূরে সরে গেছে

@স্ট্রেঞ্জ_সানুম নামে টুইট করে থাকে সানুম গোফুরনামে এক ১৯ বছরের এক মুসলমান ছাত্রী, যার বাস যুক্তরাজ্যে। সে দেখাচ্ছে কি ভাবে যে কোন হানাহানির ঘটনার পর তার দায় দ্রুত মুসলমানদের ঘাড়ে চাপানো হয়। বিশেষ করে গত সপ্তাহে, অসলোর হামলার পর তা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। এর পর সানুম উত্তেজিত হয়ে #ব্লেমদিমুসলিম হ্যাশট্যাগ সহকারে টুইট করে। তীক্ষ্ণ বিদ্রুপ বানে এবং প্রচন্ড ব্যঙ্গ সহকারে, সানুম নিচের টুইট বার্তাটি পোস্ট করে:

@স্ট্রেঞ্জ _সানুম: আসুন, আবার আমরা সেই একই কাজ করি… বিশ্বের যে কোন সমস্যার জন্য মুসলমানদের দায়ী করি।

##ব্লেমদিমুসলিম নামক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে সে বেশ কিছু টুইট পোস্ট করেছে:

@স্ট্রেঞ্জ_সানুম: আমার কোন চাকুরী নাই। #ব্লেমদিমুসলিম

তার বন্ধু এবং অনুসারীরা এই হ্যাশট্যাগটি গ্রহণ করেছে এবং এই হ্যাশট্যাগটির ব্যাপক ব্যবহার হওয়ায় তা প্রথমে যুক্তরাজ্যের এবং পরে বিশ্বের আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়। যেমনটা আমরা দেখতে পাচ্ছি যেখানে এ রকম একটি বিষয় ব্যাপকভাবে পাঠকদের কাছে পৌঁছে গেলে তা পুরোপুরি মূল বিষয় থেকে দূরে সরে পড়ে, যা হতাশ ব্যবহারকারীদের বহুল চর্চিত বিষয়ে পরিণত হয়।

এই ঘটনার পর অনেক টুইটার ব্যবহারকারী সানুমকে ঘৃণাসূচক বার্তা পাঠায়, অপরদিকে অনেকে এই হ্যাশট্যাগটিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে। এই সব ব্যক্তিদের অনেকে মুসলমানদের প্রতি অভিযোগ করে লেখা পোস্ট করে। এর ফলে আলোচনাটি এক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। যখন বিষয়টি বহুল আলোচিত, তখন এই বিষয়ে আরো অনেক ব্যবহারকারী তাদের চিন্তা এবং হতাশা পোস্ট করে।

ক্লারে নেরুদা তার ব্লগে, বর্ণনা করেছে যে, বিষয়টি পরিহাসে পরিণত হয়েছে এই কারণে যে কি ভাবে মানুষজন সানুমের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুল বুঝেছে।

দুর্ভাগ্যজনক ভাবে মনে হচ্ছে যে অনেকে তার এই ঠাট্টা বুঝে উঠতে পারেনি। ফলে অনেকে তার টুইট করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করার দাবী জানাচ্ছে (এবং বেশ কিছু বিচিত্র মানুষ রয়েছে, যারা টুইটারে আলোচিত বিষয় সৃষ্ট করার প্রয়াসকে অন্যায্য বলে মনে করে, সম্প্রতি #জাস্টিনবিবার নিষিদ্ধ করার সাথে যা্রা সম্পৃক্ত ছিল) এবং বেশ কিছু মানুষ সম্ভব্য এক দমনের আশঙ্কা করছে। তবে যে সমস্ত মানুষ এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ তা ঠিক ভাবে করেছে এবং তারা এই ধারার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, কোন মতামত গঠন করার আগে তার গঠনের ইতিহাস সম্বন্ধে গবেষণা না করার বিষয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এখানে আরো পরিহাসের বিষয় হচ্ছে, সানুম যে সব বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা করেছে, সে বিষয়টি নিয়ে লক্ষ লক্ষ লোক উত্তর দিয়েছে তাদের ভুল এক প্রচেষ্টার মধ্যে দিয়ে, তারা টুইটার জগতের উপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করছে, যা তাদের কাছে এক “শয়তানী বিষয়”, যা এক ভুল ধারনা থেকে তৈরি হয়েছে।

এখানে নাবিলা জাহির এর নেওয়া সানুমের এক সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হল:

সানুম ধারনা দেন যে কোন বিষয় যদি উল্লেখ করার মত ঘটনা হয়, তাহলে ঘটনাটি জরুরী ভাবে আলোচিত হওয়া দরকার, বিশেষ করে যে ভাবে মুসলমানদের চিত্রিত করা হয়, এবং একই সাথে সারা ইউরোপ জুড়ে ডানপন্থী উগ্রবাদীদের উত্থানের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হওয়া দরকার। অসলো হামলার উপর সংবাদ প্রদান করার বিষয়টি ছিল মুসলমানদের অগ্রাসী এবং ধর্মীয় মৌলবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার যে প্রচেষ্টা তার এক অংশ।

“প্রচার মাধ্যম মুসলমানদের যে ভাবে দেখত ৯/১১ (২০০১ সালে ১১ সেপ্টম্বর-এ টুইন টাওয়ার ধ্বংস হয়) এর পরে সেই দেখার দৃষ্টি এবং তাদের বিষয়ে যে ভাবে সংবাদ পরিবেশন করা হয়, তার পরিবর্তন ঘটেছে। একজন ব্যক্তি যে কিনা ধর্মের সাথে হামলাকে যুক্ত করছে, তার সে বিষয়টিকে এখন ইসলামের একটি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। তারপর থেকে এই ঘটনা এই ভাবনার মধ্যে দিয়ে চলছে।

হাস্যরস এবং বিদ্রুপের মাধ্যমে লেখা পোস্ট করার মাধ্যমে সানুম আশা করেছিল যে সে দেখাতে সক্ষম হবে যে সন্ত্রাসীদের চেয়ে মুসলমানদের সংখ্যা বেশী। সানুম বিশ্বাস করে যে মুসলমানরা যে মজার মানুষ হতে পারে এই বিষয়টি তুলে ধরার মধ্যে দিয়ে ইসলাম সম্বন্ধে মানুষের যে ভ্রান্ত ধরনা তা মুছে ফেলা সম্ভব ।

এলোমেলো তথ্য ছড়িয়ে দেবার ফলে টুইটার একটা অগ্রহণযোগ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে । কিন্তু আমরা তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে কথা বলছি। আমাদের মনে রাখতে হবে বর্ণনা বা সঠিক ভাবে লেখার অভাবের কারণে আরেকটি জটিল বিষয় হয়ত খুব সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। #ব্লেমদিমুসলিম হচ্ছে একগুচ্ছ তথ্যের উদাহরণ যা এক ভালো লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল এবং যার শেষ হয়েছিল কাউন্টার প্রোডাক্টিভিটি বা বিপরীত উৎপাদনশীলতা দিয়ে। যা বলছে, এটা বিষয়ের প্রতি মানুষের মনোযোগ ধরে রাখার জন্য দারুণ এক কাজ করেছে।

@স্ট্রেঞ্জ_সানুম: এই আলোচিত বিষয় আমার চেয়েও বড়। এটা মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রতি বাড়তে থাকা এক সংস্কারকে উল্লেখ করছে।

হ্যাশট্যাগ পোস্ট করতে থাকুন। কিন্তু কোন কিছু পোস্ট করার আগে দুবার ভাবুন #ব্লেমদিমুসলিম।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .