বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইরানঃ জেলে যাওয়া সর্বশেষ দুই আমেরিকান পরিব্রাজককে মুক্ত করার জন্য আন্দোলন

সারাহ শোওর্ড , ইরানের একটি নির্জন কারাগারে ৪১০ দিন কাটায়, এরপর ২০১০-এর সেপ্টম্বর মাসে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, এবং যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবার অনুমতি প্রদান করা হয়।এখন সে বিশ্বকে তার দুই বন্ধুর হয়ে কথা বলার আহ্বান জানাচ্ছে। তার দুই বন্ধু শেন বাউয়ের এবং জস ফাত্তাল এখনো ইরানের কারগারে বন্দী। তদের বিরুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০০৯ সালের জুলাই মাসে ইরানের সীমান্ত এলাকায় ভ্রমণের তাদের তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়
শেন এবং জসের আত্মীয়, বন্ধু এবং সমর্থকরা এক প্রতিবাদের আয়োজন করেছে যা ফেসবুকের এক প্রতিবাদ অনুষ্ঠানের আয়োজনের শুরু। এই অনুষ্ঠানের নাম ‘ সপ্তাহান্তে সবাইকে একত্রিত করার মত এক উদ্যোগের জন্য ২ বছর অনেক দীর্ঘ সময় ‘. ফেসবুকের এই কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তব জগতে এক প্রতিবাদের জন্য জনতাকে একত্রিত করা। এই ক্ষেত্রে প্রথম প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়েছিল, শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০১১-এ জাতিসংঘের ইরান মিশনের সামনে।

ফেসবুক গ্রুপ ‘পরিব্রাজকদের মুক্ত কর‘-এর ২৭,০০০ এর মত সমর্থক রয়েছে এবং টুইটারে @ফ্রিদিহাইকার-এর (পরিব্রাজকদের মুক্ত কর)-এ ৪০০০ জন-এর মত অনুসারী রয়েছে।

ফ্রিহাইকারস.অর্গ, এর সূত্র অনুসারে

৩১ জুলাই, ২০০৯ সালে ইরানের সেনারা শেন বাউয়ের এবং তার প্রেমিকা সারাহ শোওর্ড এবং তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জস ফাত্তালকে আটক করে। সে সময় তারা ইরাকের কুর্দিস্তানের পাহাড়ে ভ্রমণের বিষয়টি উপভোগ করছিল। এই ঘটনায় পরস্পর বিপরীত কিছু সংবাদ রয়েছে, একটি সংবাদসূত্র অনুসারে ইরানী সেনারা ইরাকে প্রবেশ করে এই তিন তরুণ আমেরিকান নাগরিককে গ্রেফতার করে, অন্যদিকে আরেকটি সংবাদে জানা যাচ্ছে যে উক্ত তিন ব্যক্তি ভুল করে দুর্বলভাবে চিহ্নিত সীমান্ত অতিক্রম করে ফেলে। ১৮ সেপ্টম্বর ২০১০-এ মানবিক কারণে সারাকে মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর আগে তাকে ৪১০ দিন ইরানের কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। সারাহকে ছেড়ে দেবার সামান্য কয়েকদিন আগে তেহরানের এভিন কারগারে এক শুনানীর মাধ্যমে তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়। সেখানে অবশেষে প্রথমবারের মত তাদের আইনজীবীর সাথে দেখা করার অনুমতি প্রদান করা হয়। তবে তারা উক্ত আইনজীবীর সাথে কোন আলোচনা করার সুযোগ পায়নি।

ফেসবুকের পাতা ‘শান্তিপুর্ণ আন্দোলনের জন্য দুই বছর অনেক লম্বা সময়-এ বলা হয়েছে :

২৯ জুলাই তারিখে, ভুলক্রমে বন্দী করা আমেরিকান পরিব্রাজক শেন বাউয়ের এবং জস ফাত্তালের গ্রেফতারের দ্বিবার্ষিক-র ঠিক দুই দিন আগে তাদের আত্মীয়, বন্ধু এবং সমর্থকরা নিউ ইয়র্ক শহরের জাতি সংঘ ভবনের ইরানী মিশনের সামনে এক শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের আয়োজন করেছে। দয়া করে এই দুই নিরপরাধ শান্তি কর্মীর পরিবার এবং সারাহ শোওর্ড-এর সাথে এই প্রতিবাদে যোগ দিন। এই দুই কর্মীর সাথে সারাও ১৪ মাস কারগারে কাটিয়ে এসেছে। আসুন শেন এবং জস যে নির্দোষ, আসুন আমরা তা প্রমাণ করি এবং তাদের মুক্তি দাবী করি।
ইরানের বিচার বিভাগ ঘোষণা দিয়েছে যে তারা ৩১ জুলাই শেন এবং জসের মামলার চুড়ান্ত রায় প্রদান করতে যাচ্ছে। এই মামলার একটাই চুড়ান্ত রায় আমরা গ্রহণ করব, আর সেটি হচ্ছে তাদের মুক্তি

কাজ শুরুর আহ্বান

দুই বছর অনেক লম্বা সময় (টু ইয়ারস ইজ ঠু লং) ব্লগ প্রস্তাব করেছে যে জনগণ ২৫ জুলাই-এ শুরু হওয়া সপ্তাহটিতে (এর পরের সপ্তাহে তেহরানে উক্ত দুই বন্দীর বিচার শুরু হবে) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের তথ্য বিভাগে ফোন করে এবং নীচের বার্তাটি পৌঁছে দেয়।

আমি শেন বাউয়ের এবং জস ফাত্তালের এক সমর্থক। আমি জানি যে তারা দুজন কোন গুপ্তচর নয় এবং তাদের ছেড়ে দেবার জন্য ও তারা যেন আগামীকাল তাদের পরিবারের সাথে মিলিত হতে পারে, তার জন্য তাদের নিজ দেশে ভ্রমণ করার আবেদন জানাচ্ছি।

ব্লগ পরামর্শ প্রদান করছে, যেন এই কাজে ডিজিটাল এবং বাস্তব উভয় ক্ষেত্রে এক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে বন্ধুদের যেন ফেসবুক এবং টুইটার একাউন্টের প্রোফাইল পরিবর্তন করা হয়, যাতে তারা এই কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে অথবা অনানুষ্ঠানিক ভাবে বাসা, কর্মস্থল অথবা কমিউনিটি সেন্টারে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, উক্ত কর্মসূচিতে ফোনকে সহজলভ্য করা দরকার যাতে সবাই ফোন করতে পারে।”

নীচের এই ভিডিওতে সারা শোওর্ড, ইরানের কারাগারে কাটানোর অভিজ্ঞতার কথা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে জানাচ্ছে:

মুসলিম জগতের বেশ কিছু ব্যক্তি যেমন কিংবদন্তির মুষ্টিযোদ্ধা আলি এবং গায়ক ইউসুফ ইসলাম ( যিনি ক্যাট স্টিফেন্স) নামেও পরিচিত, তারা এই দুই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেবার আহ্বান জানিয়েছে . কোন এলাকা পরিভ্রমণে গিয়ে দুই বছরের জন্য জেলে যাওয়া, এ যেন মন্দ ভাগ্যের চেয়েও বেশি কিছু। যেমনটা ক্যাট স্টিফেন্স তার এক গানে বলেছেন ” ও আমার প্রিয়তমা, এ যে এক বন্য পৃথিবী”।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .