বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সার্বিয়াঃ সান্ডোর কেপিরোকে তার অপরাধ থেকে অব্যহতি প্রদান বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

সোমবার ১৮ জুলাই, ২০১১-এ, বুদাপেস্টের একটি আদালত ৯৭ বছর বয়স্ক সান্ডোর কেপিরোর উপর আনা অভিযোগ থেকে তাকে অব্যহতি প্রদান করেছে। সান্ডোর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পুলিশের এক ক্যাপ্টেন ছিলেন। যিনি দখলকৃত নাৎসী এলাকায় দখলদারদের সাথে কাজ করতেন। এবং ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত “মোস্ট ওয়ান্টেড” বা সবচেয়ে দাগী নাজি যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। নাভি সাদ-এ সার্ব, ইহুদি, রোমা (জিপসি) জনগোষ্ঠির বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধপরাধের দায়ে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। হাঙ্গেরীয সেনারা ১৯৪২ সালে এই এলাকায় এক গণহত্যা চালিয়েছিল।

সার্বিয়ার বি৯২ সংবাদ পোর্টাল এই বিষয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে। এটি সংবাদ প্রদান করেছেঃ

সান্ডোর কেপিরোর প্রতি আনীত অভিযোগ অনুসারে, নাভি সাদে এবং এর আশেপাশে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তাতে সে অংশগ্রহণ করেছিল। ১৯৪২ সালের ২১ থেকে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১২০০ সার্ব, ইহুদি এবং রোমা জাতির লোককে নদীর মধ্যে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছিল। আর যুদ্ধের শেষে এই অপরাধে কেপিরোকে ১০ থেকে ১৪ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। কিন্তু ১৯৪৮ সালের গ্রীষ্মে প্রথমে অষ্ট্রিয়া এবং পরে আর্জেন্টিনায় পালিয়ে গিয়ে সে এই শাস্তি এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়।
১৯৯৬ সালে কেপিরো আবার হাঙ্গেরীতে ফিরে আসে এবং তার অবশিষ্ট দিনগুলো সে তার গ্রামের বাড়িতে কাটায়।

Monument to the victims of the 1942 Novi Sad massacre. Image by Zoran Jevtovic.

১৯৪২ সালে নাভি সাদে সংগঠিত গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি জোরান জেভোতোভিচের।

এই সংবাদে কেবল নিহত ব্যক্তিবর্গের পরিবারই নয়, সমগ্র সার্বিয় সমাজ বিস্মিত। আদালতের সিদ্ধান্ত মূলধারার এবং সামাজিক প্রচার মাধ্যমে অনেক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

ব্রুনো ভেকারিচ, সার্বিয়ায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক সহকারী সরকারী আইনজীবী। তিনি তানজুগ নামক সংবাদ সংস্থাকে জানাচ্ছেনঃ

প্রাথমিক অভিযোগের উপর এই রায় প্রদান করা হয়েছে এবং এই বিষয়ের উপর আমরা মন্তব্য করতে পারি না। তবে হ্যাঁ আমরা এই ঘটনায় খুশি নই এবং আশা করব যে হাঙ্গেরীর সরকারী আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপীল করবে।

তিনি এর সাথে যোগ করেন যে নিহতদের প্রতি ন্যায় বিচার করা অতি গুরুত্বপুর্ণ।

এফ্রিয়াম জুরফ, সিমন ওয়াইজেনথাল সেন্টারের পরিচালক। তিনি রেডিও ফ্রি ইউরোপ সাথে কথা বলার সময় বলেন [সার্বিয়ান ভাষায়]:

আমি আশা করি যে আদালত তাকে শাস্তি প্রদান করবে… এখানে একটি মাত্র প্রশ্ন রয়েছে; কখন এবং কি ভাবে তাকে এই শাস্তি প্রদান করা হবে। আর আমি এটাই আশা করি। আমি একই সাথে মনে করি যে যারা তাকে সমর্থন করেছে তাদের একই ধরনের শাস্তি হওয়া দরকার। তাকে এই ভাবে অপরাধ থেকে মুক্ত করে দেওয়া পুরোপুরি একটা ধাক্কা দেওয়ার মত বিষয়। এটা বিচারের নামে এক প্রহসন এবং এমন এক রায়, যা হাঙ্গেরীর বিচার বিভাগের গায়ে এক কলঙ্কের দাগ তৈরি করল। এতে কোন সন্দেহ নেই যে যারা এই গণহত্যার শিকার, এই রায় তাদের প্রতি এক অপমান।

ইভান ইভানজী এক ইহুদি উপন্যাসিক যে কিনা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার অনেক আত্মীয়কে হারিয়েছে এবং তিনি নিজে গণহত্যার হাত থেকে বেঁচে এসেছেন। তিনি বলেন [সার্বিয়ান ভাষায়]:

…সে জেলখানায়, হাসপাতাল, কিংবা একজন মুক্ত মানুষ হিসেবে মারা যাবে…। হয়তবা আমার এই বক্তব্য আপনাদের বিস্মিত করতে পারে, কিন্তু তাকে নিয়ে একফোঁটাও ভাবছি না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সদস্য, আমাদের প্রতিবেশী হাঙ্গেরীর আরো অনেক ভয়াবহ সমস্যা রয়েছে।

আনা ফ্রাঙ্কেল, নাভি সাদের ইহুদি সম্প্রদায়ের এক অন্যতম সদস্য। তিনি বর্ণনা করেছেন কি ভাবে কেপিরো এই অপরাধে অংশ নেয়। ভদ্রমহিলা সেই একই প্রচার মাধ্যমে সুত্রের কাছে বলেনঃ

সে এই কাজে লোকদের সংগঠিত করে এবং তার বাহিনী নিয়ে বাড়িতে বাড়িতে যায়। যেখানে সে নিজে ব্যক্তিগত ভাবে হত্যা এবং ধবংসাত্মক কাজে লিপ্ত ছিল… কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই ঘটনার কোন প্রত্যক্ষদর্শী আর জীবিত নেই যে সেই সময়ে সান্ডোর কেপিরার কর্মকাণ্ডকে তুলে ধরতে পারে, আমার তাকে পেয়েছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক এই ঘটনার স্বাক্ষীরা আজ মৃত।

ব্লগার ভেলিমির ম্লাদেনোভিচ তার ব্লগ বি৯২-তে আলেকজান্ডার ভেলজিচ-এর বই থেকে উদ্ধৃত করেছে [সার্বিয়ান ভাষায়], যে কিনা নাভি সাদের এই ভয়াবহ গণহত্যার বিষয়ে গবেষণা করেছে এবং প্রচুর সুনিদৃষ্ট প্রমাণ, যেমন সংগ্রহশালা থেকে আনুষ্ঠানিক নথি, ছবি, এবং ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের নাম, তাদের বাড়ীর ঠিকানা, ইত্যাদি প্রদান করেছে। এতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে সান্ডোর কেপিরো এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে এবং সে নিজে এই অপরাধ করেছে।

নীচে ম্লাদেনোভিচের পোস্টের উপর আসা কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হল।

সেসিলি বলছে :

[…] আমি সংবাদে শুনেছি যে যখন তাকে তার অপরাধ থেকে অব্যহতি প্রদান করার কথা ঘোষণা করা হয়, তখন আদালতে উপস্থিত জনতা হাততালি দিয়ে এই রায়কে স্বাগত জানায়। কিন্তু যখন আমি যে সব ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে তাদের তালিকা পাঠ করি, তখন এই গরমে যেন আমি জমে যাই…

ক্রালজামাজুমানা একটি প্রশ্ন করেছে

এটা কি জানা গেছে, কেন তাকে তার অপরাধ থেকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে? […]

ক্রালজামাজুমানার প্রশ্নের জবাবে ইয়োগাইয়া বলছেন:

[…] বিচারের সময় দেখা গেছে, বেশিরভাগ অভিযোগ পরোক্ষ ভাবে এসেছে এবং আইন মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষজ্ঞদের গুণগত সাক্ষ্যের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, এর সাথে যুক্ত হয়েছে তার অপরাধের বিরুদ্ধে যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাব, যার কারণে এই জঘন্য ঘটনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের উপর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়া, ঘটনার যথাযথ অনুবাদ না হওয়া, এবং হাঙ্গেরীরতে প্রাথমিক অপরাধে কেপিরোকে অভিযুক্ত করার নথি হারিয়ে যাওয়া। আর-তাদের মতে, তাকে তার অপরাধের জন্য যে সাজা প্রদান করা হয়েছে[১০ থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড], তা সে ইতোমধ্যে খেটে ফেলেছে।

আপাচেরোসেপিকক বলছেঃ

[…] […] দেখে মনে হচ্ছে, তার বিচার হয়েছিল, সে পালিয়ে গিয়েছিল,[ এবং তারপর] সে আবার এমনকি ১৫ বছর আগে [হাঙ্গেরীতে ফিরে এসেছে], এবং?
যদি কারো শাস্তি কার্যকর হওয়া শুরু হয়, এবং সে পালিয়ে জেলে যাওয়া এড়িয়ে যেতে পারে [দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে], তাহলে যখন সে ফিরে এলো তখন তাকে কেন আবার গ্রেপ্তার করা হল না?
যেহেতু সার্বিয়া মেরুদণ্ডহীন একটা রাষ্ট্র, সেক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি যে ইজরায়েলে-এই ঘটনায় প্রতিবাদ করবে।

এখানে যে থাম্বনেইল ছবি যা ১৯৪২ সালের নাভি সাদ এই হামলা স্মৃতিচিহ্ন। এখানে ১৩০০ ইহুদি, রোমা (জিপসি) এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতীর নাগরিকদের হাঙ্গেরীয় পুলিশ ডুবিয়ে মেরেছিল। ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী আইলাইকস্পুন-এর (সিসি বাই-এনসি-এসএ ২.০) ।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .