বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মালাউই: পরিচিত হোন গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক ভিক্টর কাওঙ্গার সাথে

গ্লোবাল ভয়েসেসে গত চার বছরে ভিক্টর কাওঙ্গা বেশ মজার অনেক বিষয়ে লিখেছেন যার মধ্যে প্রেসের স্বাধীনতা থেকে পানির অভাব, মালাউইর ফুটবল আর উচ্চবিত্ত সমাজের বিয়ের অনুষ্ঠান ইত্যাদি আছে। ২০০৬ সালে শুরু হওয়া তার ব্লগ এনদাঘা ছোট কিন্তু নিবেদিত মালাইউর ব্লগারদের দলে তার অবদান। সুইডেনের ওরেব্রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল সাংবাদিকতায় স্নাতক ভিক্টর বর্তমানে পেশায় একজন প্রচার সাংবাদিক। তিনি নিজেকে বর্ণনা করেন ‘বিভিন্ন সামাজিক আর লিঙ্গ বৈষম্যের ব্যাপারে সংবেদনশীল’ হিসাবে।

আমাদের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ভিক্টর জানাচ্ছেন যে কিভাবে তিনি গ্লোবাল ভয়েসেস এর সাথে যুক্ত হয়েছেন, মালাউইর ব্লগ জগত সম্পর্কে তার চিন্তা কি আর তার আশে পাশে কি কি বিষয় আলোচিত হয়।

গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক ভিক্টর কাওঙ্গা

মালাউইর প্রচার সাংবাদিক, ব্লগার আর গ্লোবাল ভয়েসেস এর লেখক ভিক্টর কাওঙ্গা

এরেমিপাগামো আমাবেবে (ইএ): কেমন করে আপনি গ্লোবাল ভয়েসেস (জিভি) এর সাথে যুক্ত হলেন?

ভিক্টর কাওঙ্গা (ভিকে):২০০৬ আর ২০০৭ সালের প্রথম দিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে মনে হয় গ্লোবাল ভয়েসেস এর আঞ্চলিক সম্পাদক এনদেসাঞ্জো মাচা আমার ব্লগ নিয়মিত পড়ছিলেন। তিনি আমাকে ইমেইল পাঠিয়ে জানতে চান যে আমি জিভির লেখক হতে আগ্রহী কিনা। এই ধারনা আমাকে কিছুটা বিভ্রান্ত করেছিল কারন আমি কখনো গ্লোবাল ভয়েসেস সম্পর্কে [শুনিনি] আর লেখক হতে হলে কি করতে হয় তা জানতাম না যদিও আমি ব্লগে নিয়মিত লিখছিলাম।

আমি যেহেতু সেই সময়ে সুইডেনে ছিলাম এ ব্যাপারে একজন সুইডিশ সাংবাদিক বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করি যে জিভি সম্পর্কে জানত। ফলশ্রুতিতে আমি গ্লোবাল ভয়েসেস এ যোগদান করি আর আমার প্রথম লেখা ২৩শে জানুয়ারী ২০০৭ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিল।

ইএ: গ্লোবাল ভয়েসেস এর বাইরে আপনার জীবন কেমন?

ভিকে: আমি বিবাহিত এবং থেম্বি আমার স্ত্রী। আমাদের চার সন্তান, ১.৫ থেকে ৯ বছর বয়সের তিন মেয়ে আর এক ছেলে রয়েছে। পরিবার হিসাবে আমরা ঈশ্বরকে ভয় করি আর এটা এসেছে খ্রিষ্টান হিসাবে আমাদের বেড়ে ওঠার মধ্য দিয়ে, তবে ধর্ম পালন সর্বোপরি আমাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

পরিবারের সাথে সময় কাটানোর ছাড়া (যেটা ক্রমশ কমে যাচ্ছে), আমি ব্যস্ত আছি ট্রান্স ওয়ার্ল্ড রেডিওর কার্যক্রম পরিচালনার কাজে যেটা কিছু ক্ষেত্রে আমার দ্বিতীয় বাড়ির মত! তবে, কাজের দিক থেকে আমি এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তার থেকে বেশী প্রচার সাংবাদিক!

ইএ: গ্লোবাল ভয়েসেস এ আপনার পছন্দের দিক কি আপনি বলতে পারেন- বিশেষ করে যারা আপনার কাজের সাথে পরিচিত না তাদের জন্যে?

ভিকে: মালাউইর সাথে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ন যে কোন জিনিষ আমি লিখি। তবে মালাউই এর বাইরে, আমার দুর্বলতা আছে নতুন আর সামাজিক মিডিয়ার প্রতি।

ইএ: আপনার মতে আপনার এলাকার কোন কোন বিষয় আছে যা প্রধান ধারার মিডিয়াতে গুরুত্ব পাওয়া উচিত?

ভিকে: মালাউইর প্রধান বিষয় হচ্ছে রাজনৈতিক আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন। এ ছাড়া আমাদের কিছু শৈল্পিক আর মানবিক বিষয়ের গল্প আছে।

এখনকার প্রধান বিষয় হতে পারে অর্থনীতি আর প্রেসিডেন্টের স্থলাভিষিক্ত কে হবে তার পরিকল্পনা। অর্থনীতির দিক থেকে, মালাউইতে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি অনুভব করেছে এক বছরের বেশী সময়ে যার ফলে ব্যবসায় বেশ কিছু ঋণাত্মক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। এর সাথে একীভুত হয়েছে জ্বালানির অভাব যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির কারনে সরবরাহের স্বল্পতার কারনে সৃষ্ট। একই কারনে সরবরাহ অস্বাভাবিক হওয়ায় মানুষ এখন প্রায়ই জ্বালানীর জন্য লাইন দিচ্ছে

রাজনৈতিকভাবে, প্রেসিডেন্ট বিঙ্গু ওয়া মুথারিকা তার ভাইকে প্রশিক্ষন দিচ্ছেন ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার যখন সংবিধানের কারনে তিনি নিজে প্রতিদ্বন্ধিতা করা থেকে নিষিদ্ধ হবেন। অনেক মালাউইবাসী মনে করেছিলেন যে তিনি মালাউইর প্রথম নারী উপ রাষ্ট্রপতি (জয়েস বান্দা) কে সমর্থন দেবেন। দুঃখজনকভাবে, তাকে বাদ দেয়া হয়েছে যাতে তার ভাই আসতে পারেন সহজে।

ভিক্টর কাওঙ্গা

ভিক্টর কাওঙ্গা

ইএ: আপনি কি জিভিতে লেখা আপনার প্রিয় কিছু পোস্টের কথা বলতে পারেন?

ভিকে: কিছু পোস্ট আছে যা নিয়ে আমি গর্বিত। তাদের বেশিরভাগ রাজনৈতিক আর কিছুটা দ্বন্দ্ব সংশ্লিষ্ট। যদিও আশ্চর্যজনকভাবে যেগুলো নিয়ে আমি সব থেকে বেশী খুশি ছিলাম (অনেকের মধ্যে) তার মধ্যে রয়েছে একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়ে একটি পোস্ট যা আমি এই বছর এপ্রিলে লিখেছি, আর মালাউইর রাষ্ট্রপ্রধানের স্ত্রীকে নিয়ে একটি ২০০৭ সালে যখন তিনি মারা যান। এই সংবাদ বিশ্বব্যাপি ব্লগারদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছিল। এই দুই পোস্ট সহ অনেকগুলোর মানবিক দিক আছে যেহেতু সেগুলো গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তি সম্পর্কে আর রাজনীতি থেকে উদ্ভুত বিষয়ে।

ইএ: আপনার কাজের সব থেকে মজার দিক কোনটা?

ভিকে: আমি মানুষের ব্লগ পোস্ট পড়ে খুবি আনন্দ পাই। আমি উদ্বুদ্ধ হই যে মালাউইবাসীরা অনলাইনে তাদের চিন্তা জানাচ্ছে। কেউ অনলাইনে কিছু লিখেছে সেটা নিজেই একটা আশির্বাদ কারন সাধারনত অনলাইনে মালাউই সম্পর্কে খুব কম জিনিষ থাকে বিশেষ করে মালাউইবাসী দ্বারা লেখা।

আমার সব থেকে বড় চিন্তা কিন্তু নারী ব্লগারদের নিয়ে। আমাদের খুব বেশী নেই যদিও আমি আশা করি আরো বেশী থাকবে। যে অল্প কয়টা ব্লগ আছে তাদের জিভিতে ভালো কভারেজ আছে আর তারা নিজেরা স্বীকার করেছেন যে তারা লিখে যাওয়ার জন্য অনেক উদ্দীপনা পান এ থেকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে আরো নারী ব্লগ দেখতে চাই।

ইএ: ধন্যবাদ, ভিক্টর। চলে যাওয়ার আগে, আপনি কি মালাউই সম্পর্কে কিছু জিনিষ দেখাতে চান তাদের জন্য যারা এই দেশ সম্পর্কে আরো জানতে চায়?

ভিকে: জনপ্রিয় একটা পোর্টাল হলো www.nyasatimes.com (নিয়াসাটাইমস.কম)। এই পোর্টালে রাজনীতি নিয়ে অনেক গল্প থাকে এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট আর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কষ্ট নিয়েও। আর এই ব্লগ আপনাদের সর্বশেষ সংবাদ জানাবে।

যদি আপনারা ভিক্টর সম্পর্কে আরো জানতে চান, এখানে ক্লিক করুন তার ‘এই সপ্তাহের ব্লগার’ প্রোফাইল ২০০৭ পড়ার জন্য।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .