বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

থাইল্যান্ড: বিরোধী দলের জয়ে নেট নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া

দৃশ্যত বিরোধী দলের প্রার্থী ইংলাক সিনাওয়াত্রা থাইল্যান্ডের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন, কারণ তার দল ফিউ থাই পার্টি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আজকের নির্বাচনে ২৬০ টির বেশি (২৬৫ টি) আসন লাভ করেছে। ইংলাক থাইল্যান্ডের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার ছোট বোন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অভিশিত ভিজ্জাজিভা ইতোমধ্যে জাতীয় টেলিভিশনে তার পরাজয় মেনে নেবার কথা ঘোষণা করেছেন।

নিউলি পারনেলে, সিয়াম ভয়েসেস, ব্যাংকক পণ্ডিত, এবং খি কাউয়ি-তে সরাসরি নির্বাচনের সংবাদ ব্লগ করা হয়। থাই নেট নাগরিকরা টুইটারে নির্বাচনের সংবাদ এবং ফলাফল পর্যবেক্ষণ করার জন্য #দিথাইইলেকশন হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে। রিচার্ড ব্যারো এই নির্বাচনের ছবি পোস্টেরিয়াস এবং ফেসবুকে পোস্ট করেছে।

এখানে নির্বাচন নিয়ে টুইটারে আসা কিছু প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হল:

@ললিলোলজ: আমি বলছি না যে এই ফলাফলের সাথে আমি একমত, কিন্তু তারপরেও বলতে হবে এটা জনতার সিদ্ধান্ত-আমাদের কি তা মেনে নেওয়া এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া উচিত নয় কি?

@ভানসিটিজ: @গান_জিলিঙ্গার: তোমার যা করেছে, সেই কর্ম অনুসারে তোমরা এরই যোগ্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদের কাজ করেছে #দিথাইইলেকশন; আর হ্যাঁ, আমরা ভালো কর্মের ফল উপভোগ করব।

@জর্জবিকেকে:আরটি @নটথনঙ্গকে: সবাই মনে রাখবেন, এখানে জয়ের বিষয়টি এখন হিসেব করা হবে না, কিন্তু পরবর্তীতে তা গণ্য করা হবে।

@পোবিস্ট:আরটি @পাইসা_ফাইভ: আমাদের নতুন প্রধানমন্ত্রীর নতুন একদল বক্তৃতা লেখকের দরকার এবং যত দ্রুত সম্ভব তাঁর, জনসম্মুখে ভাষণ দেবার একটা কোর্স করা দরকার!!

@সারেন্ড্ররা: #থাই রাজনীতিতে যে অসুস্থতা, এখন তা দূর করার এবং দেশটিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার সময় এসেছে। এখন সময় এসেছে রাজা এবং সেনাবাহিনীর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ বন্ধ করার, #থাইল্যান্ড আবার হেসে উঠবে।

Yingluck Shinawatra

ইংলাক সিনাওয়াত্রা

২০০৬ সালে থাকসিন ক্ষমতাচ্যুত হয়। এখন দুর্নীতির দায়ে পাওয়া শাস্তি এড়ানোর জন্য সে বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছে। যখন থাকসিনের দল আবার নির্বাচনে জয় লাভ করল তখন থাকসিনের ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে নিউলি পারনেল খানিকটা কৌতূহলী:

অতীতে এই বিষয়টি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে যে সামরিক বাহিনী কি থাকসিনের প্রতি বন্ধুত্ব মনোভাব সম্পন্ন আরেকটি সরকারকে মেনে নেবে।

আজকে টেলিভিশনে আলোচনায় থাই রাজনীতিতে পণ্ডিত ব্যক্তিরা পরোক্ষ ভাবে উল্লেখ করেছেন যে আপাতত থাকসিনকে ক্ষমা প্রদানের প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হচ্ছে না।

পণ্ডিতরা বলছে: যদি নির্বাসিত এই কোটিপতি রাজনীতিবিদ ফিরে আসে তাহলে কি ঘটবে তা বলা কঠিন।

কিন্তু ফিউ থাই কি তাকে ক্ষমা করে দেবার জন্য চাপ সৃষ্টি করবে?
কি ঘটে তা দেখার জন্য আমাদের আগামী সপ্তাহগুলোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সিয়াম ভয়েসেস সম্প্রতি হয়ে যাওয়া নির্বাচনী প্রচারণার শিক্ষা এবং নতুন সরকারকে যে সব চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে তার উপর আলোকপাত করেছেন:

আমরা, সম্ভবত আমাদের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রীকে পেতে যাচ্ছি। বিরোধী দলের ( সংসদ এবং সংসদের অতিরিক্ত) কারণ রয়েছে উদযাপন করার; ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের নেতিবাচক প্রচারণা নিয়ে জুয়া খেলেছে এবং তারা হেরে গেছে, এদিকে ইংলাক কেবল মাত্র তার নির্বাসিত ভ্রাতার কারণে জয় লাভ করেনি, তার সাথে সে তার নমনীয় আচরণের কারণে জয় লাভ করেছে; তা ছিল এক সরাসরি অর্জন, রাগান্বিত দুর্বল প্রার্থী আপনাকে অন্য কোথাও নিয়ে যাবে এবং থাইল্যান্ড-এর পূর্বঘোষিত জরিপের সাথে ফলাফলের কোন মিলে নেই এবং এই সব ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তৈরি সংখ্যার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যেন আমরা এর দ্বারা বোকা বনে না যাই…

এখন যে বিষয়টি গুরুত্বপুর্ণ তা হচ্ছে নতুন সরকার কোন ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব প্রদান করবে এবং দেশটি যে নানাবিধ সমস্যায় আক্রান্ত কি ভাবে তাঁর মোকাবেলা করবে- যেভাবে খাবারের দাম বাড়ছে, কি ভাবে তা মোকাবেলা করবে? তারা কি সব মিটমাট করে ফেলার চেষ্টা করবে, এমনকি ন্যায়বিচারে মূল্যে? প্রধানমন্ত্রী ইংলাক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের বাইরের সংগঠন থেকে এবং বিদেশের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে?বলাইবাহুল্য: জনতার ইচ্ছার মুল্য কি তার কানে যাবে?

এন্ড্রু ওয়াকার এবং নিকোলাস ফারেল্লি,নিউ মান্দালয়ে লিখে থাকেন, তারা আশা করছে যে থাইল্যান্ড নির্বাচনী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুনঃর্নিমাণের বেলায় তার আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাবে:

আজ রাতের ভোটের ফলাফল একটি রাজনৈতিক দলকে আবার দারুণভাবে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে, যারা ১৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে বন্দুকের নলের সামনে ক্ষমতা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল। বাকি এই কয়েকটি বছর দলটি রাজতন্ত্র-পন্থী, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগের হস্তক্ষেপের দ্বারা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে এর অন্যতম ১০০ জন নেতাকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে ফিউ থাই নামক দলটি সফলভাবে একতাবদ্ধ হয়ে ভঙ্গুর ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে ভালোভাবে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে।

থাইল্যান্ডের সামনে এখন সুযোগ এসেছে আবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর আবার সবার বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার। যদি এই সুযোগ হেলায় হারিয়ে যায় তাহলে তা হবে দেশটির জন্য এক জাতীয় বিয়োগান্তক ঘটনা।

ভোটার তার নির্বাচনী ব্যালট পেপার দেখাচ্ছে। ছবি নেওয়া হয়েছে রিচার্ড ব্যারোর পোস্টেরিয়াসের পাতা থেকে

ওয়ানএডিটোরিয়াল আরেকটি দেশ থেকে ভোট দিতে সক্ষম হয়েছে:

যে দলকে আমি ভোট দিলাম সে দলটি নির্বাচনে জয় অর্জন করেছে কিনা, আমার কাছে তার কোন গুরুত্ব নেই। আমি কেবল আমার গণতান্ত্রিক অধিকারের চর্চা করতে চাই। যে দলটিকে আমি পছন্দ করি না সেটি যদি নির্বাচনে জেতে, তাহলেও আমি তাকে আন্তরিকতার সাথে অভিন্দন জানবো। ফলাফল অনুকূলে আসুক বা না আসুক, সকলকে এই ফলাফল গ্রহণ করা উচিত; নতুবা এই দেশটি ইয়োলো শার্ট (হলুদ জামা) এবং রেড শার্ট (লাল জামার) সেই চক্রাকার লড়াইয়ের মাঝে ফিরে যাবে। দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের কেউ পছন্দ করে না। কিন্তু এই সমস্যার মোকাবেলা করার জন্য সকলকে একমত হতে হবে, যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তাকে মোকাবেলা করতে হবে।

এখানে ইয়োলো আর রেড শার্ট নামক যে দল দুটির কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে, ইয়োলো শার্ট নামক বিক্ষোভকারীরা থাকসিন বিরোধী, যারা ২০০৮ সালে বিমানবন্দর দখল করে নিয়েছিল; অন্যদিকে রেড শার্ট দলটি হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অভিশিত- বিরোধী, যারা গত বছর ব্যাংককের রাস্তা অবরোধ করেছিল।

রবার্ট আমস্ট্রাডম, এক রেড শার্ট সমর্থক, এই নির্বাচনে বিরোধী দল যে সমস্ত সমস্যারমুখোমুখি হয়েছিল, তিনি তা চিহ্নিত করেছেন:

ফিউ থাই নামক দলটি যে সব জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিল সে সব বিবেচনা করলে নির্বাচনী ফলাফল এক দারুন বিস্ময় উপহার দিয়েছে। এমনকি রাষ্ট্রের সম্পুর্ণ সমর্থনে, সামরিক বাহিনীর সহায়তায়, হাজার হাজার ভোটারদের ভোটের এলাকা এলোমেলো করে দিয়ে, প্রচার মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, আমাদের প্রার্থীদের জেলে দিয়ে, আমাদের ডজন ডজন প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণা করেও, ডেমোক্রেটাস নামক দলটি লড়াইয়ে দাঁড়াতেই পারেনি। আর এই এক আন্দোলন যা, লক্ষ লক্ষ থাই নাগরিককে তা অনুপ্রাণিত করেছে।

নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবে সমাপ্ত হয়েছে। তবে কিছু কিছু জায়গায় কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যেমন ভোটার তালিকায় ভোটারের নাম না থাকা, ব্যালট নষ্ট হয়ে যাওয়া বা সেখানে এমন ভাবে সিল মারা, যার ফলে তা অযোগ্য ঘোষণা করার মত ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও ভোটের জন্য লম্বা লাইন দেখা গেছে, আবার কোথাও অবৈধ ভাবে ভোট দেবার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .