বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মালয়েশিয়াঃ ফেসবুকের পাতার পেছনে সরকারের ব্যয়বহুল খরচ

মালয়েশিয়ার পর্যটন মন্ত্রণালয় এখন এক বিতর্কের মধ্যে জডিয়ে পড়েছে। জানা গেছে যে পর্যটন মন্ত্রণালয়, মালয়েশিয়ার পর্যটনের প্রচারণার জন্য ফেসবুকের ছয়টি পাতা তৈরিতে ১.৮ মিলিয়ন মালয়েশীয় রিঙ্গিত ( ৫৯৪, ০০০ মার্কিন ডলার) খরচ করেছে।

মালয়েশিয়া ইনসাইডার সংবাদ প্রদান করছে যে উপ পর্যটন মন্ত্রী জেমস দাওয়াস মামিট বিরোধী দলের এক সংসদের করা এক প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য প্রদান করেন। এই ছয়টি পাতা হচ্ছে চুতি- চুতি ১ মালয়েশিয়া (এক মালয়েশিয়ায় অবকাশ যাপন)। চুতিরাওয়ারান ১ মালয়েশিয়া ( এক মালয়েশিয়ার রঙ), কার্নিভাল জুয়ালান মেগা ১ মালয়েশিয়া (১ মালয়েশিয়া মেগা বিক্রয় উৎসব) কেমপেন ১ মালয়েশিয়া বেরিশা (পরিষ্কার এক মালয়েশিয়া নামক প্রচারণা) এবং ফাবুলাস ফুড ১ মালয়েশিয়ায়( ১ মালয়েশিয়ার সুস্বাদু খাবার)। সব মিলিয়ে এই ছয়টি পাতার প্রতিটির পেছনে খরচ হয়েছে ২৯৭,০৭২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত।
এই বিষয়টি অনলাইনে মালয়েশীয়দের মাঝে অনেক প্রতিবাদের জন্ম দেয়, যাদের অনেকে অনুভব করছে ফেসবুকের একটি পাতা তৈরি করতে লক্ষ টাকা খরচ করা এক অযৌক্তিক বিষয়।

এর ফলে, প্রতিবাদকারীরা ফেসবুকে তাদের নিজস্ব পাতা তৈরি করেছে। এর নাম চুরি চুরি ওয়াঙ্গ মালয়েশিয়া (মালয়েশিয়ার অর্থ চুরি করা) এবং এই পাতাটিকে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পাতার থেকে ৩ গুণ বেশি মানুষ পছন্দ করেছে। [ ২১ জুন ২০১১-তে, মালয়েশীয় সময় রাত ১০.৩০ মিনিট পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের পাতা পছন্দ করেছে ১২৩,৯৭৪ জন এবং প্রতিবাদকারীদের পাতা ৪২, ৫৪১ জন পছন্দ করেছে]।

ফারেদ ইসা ব্লগ করেছে:

ফেসবুকে পাতা তৈরি করতে কোন টাকা লাগে না। এ কারণে এখন দিন দিন আরো অনেক অনেক ব্যবসায়ী তাদের পণ্য বা কোম্পানীর কথা প্রচার করার জন্য ফেসবুক ব্যবহার করে থাকে। এমনকি আপনি যদি উচ্চমাত্রা সম্পন্ন ফ্লাশ ব্যবহার করে থাকেন অথবা অন্য কোন কোড, তারপরে এর জন্য তেমন একটা অর্থ লাগে না। যখন আমি ভাবি যে পর্যটন মন্ত্রণালয় করদাতাদের ১.৮ মিলিয়ন রিঙ্গিত এমন একটা জায়গায় ছুঁড়ে ফেলেছে যা কিনা বিনে পয়সায় করা যায়, তখন আমার মনে হয় যেন আমি তাদের ছুঁড়ে ফেলি।

ব্লগার গালাম-এর অনুভুতিও একই রকম:

আমি বিস্মিত এ কারনে যে, কেন একজনের ফেসবুকের ছয়টি পাতার প্রয়োজন, যেখানে এই প্রচারণার একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে একটি বিষয়কে তুলে ধরা, তা হচ্ছে মালয়েশিয়া। ভিন্ন ভিন্ন পাতার ক্ষেত্রে ট্যাব বা চাবি নামক বাটন তৈরি করা তেমন কঠিন কিছু নয়। যদি আপনি ফেসবুক ব্যবহারকারী হন এবং যদি ছয়টি পাতার সবকটি পছন্দ করেন, তাহলে আপনার নিউজ ফিড সব তাজা আপডেটে ভরে যাবে।? খুবই অস্বাভাবিক, নয় কি? এখন যে প্রশ্নটি সবার ঠোঁটে, সেটি হচ্ছে এই বিষয়টি কি ১.৮ মিলিয়নের যোগ্য, নাকি নয়? আমি নিশ্চিতভাবে এই বিষয়টি বিশ্বাস করি না।

টুইটারে এক ঝলকে বোঝা যায় যে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী এই ঘটনা বর্ণনার এই ক্ষেত্রে ‘নির্বোধ’, ‘অদ্ভুত’ এবং ‘লজ্জাজনক’ শব্দটি ব্যবহার করেছে।

তবে, এমন অনেকে আছেন যারা বিশ্বাস করেন না যে খরচের এই পরিমাণ অনেক বেশি। অনেকে এই তথ্য উদ্ধৃত করেছে যে, পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রচার মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বিষয়টি পরিষ্কার করেছে। তারা বলছে, ফেসবুকের পাতা তৈরিতে একটি অর্থ ব্যয় করা হয়নি; এবং যে সব খরচের কথা বলে হচ্ছে, তা কন্টেন ডেভলপমেন্ট, গুগল এবং ফেসবুকে অনলাইন বিজ্ঞাপন এবং কন্টেন ম্যানেজমেন্ট, এই প্রচারণার জিনিসপত্র রক্ষণাবেক্ষণ ও তাজা সংবাদ যোগ করতে (আপডেট করতে), এবং একই সাথে ডাটাবেজ রক্ষণাবেক্ষণ এবং একত্রিত করার জন্য ব্যয় করা হয়েছে।

আইজুদ্দিন দানিয়ান মনে করেন এটা কেবল এক গণ সংযোগ ব্যর্থতা:

একজন সাধারণ মানুষের কাছে মনে হতে পারে যে অনেক বড় অংকের টাকা, বিশেষ করে যখন ফেসবুকে বিনে পয়সায় পাতা তৈরি করা যায়। তাহলে এত টাকা গেল কোথায়? এটা কি তাহলে দূর্নীতির আরেক অন্যতম উদাহরণ, পশ্চাৎপদতা, এবং সরকারে অপব্যয়? সম্ভবত তা নয়, যদি আপনারা প্রচার মাধ্যম এবং ব্র্যান্ডিং শিল্পের সাথে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের সাথে কথা বলেন, তা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। এই কাজগুলো বিনে পয়সায় হয় না এবং নিঃসন্দেহে এগুলো সস্তা নয়। পেপসি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করেছে । আর হ্যাঁ, মাত্র একটা ফেসবুক পাতার জন্য তারা এই পরিমাণ অর্থ খরচ করেছে। এবার ঘরের কাছে যারা রয়েছে তাদের দিকে নজর ফেরানো যাক, এয়ার এশিয়া নামক বিমান কোম্পানী তাদের প্রায় সকল বাজেট অনলাইন মার্কেটিং-এ খরচ করে। হ্যাঁ, যার মধ্যে তাদের ফেসবুকের পাতাও অর্ন্তভুক্ত, সহজে বলা যায় এর পেছনে তারা মিলিয়ন পরিমাণ রিঙ্গিত খরচ করেছে। তাহলে এখানে সমস্যা কোথায়? এক অজ্ঞ এবং সহজে বিভ্রান্তির শিকার ব্যক্তি মনে করতে পারে যে (ইন্টারনেট হচ্ছে ফ্রি? অনেকটা তাই শোনায়)। এবং মন্ত্রণালয় এতটা বুদ্ধিমান নয় যে বিষয়টিকে পরিষ্কার করবে। তার বদলে তার অস্পষ্ট দুর্বল সংজ্ঞা, যেমন “ অসীম সৃষ্টিশীলতার মত শব্দ ব্যবহার করেছে“।

জনপ্রিয় ব্লগার আহিরুদ্দিন আটানও বিশ্বাস করে যে মার্কেটিং-এর জন্য খরচ করা এই অর্থ পরিমাণে অনেক বিশাল নয়, এবং অন্য অনেক দেশ তাদের পর্যটনের পেছনে যে অর্থ বরাদ্দ করেছে, সে তার উদাহরণ তুলে ধরেছে:

১. এখানে ক্লিক করলে জানতে পারবেন অস্ট্রেলীয় সরকার তার পর্যটনের জন্য সামাজিক প্রচার মাধ্যমে যে বিপুল অর্থ ব্যবহার করছে সেই বিষয়টি। অস্ট্রেলিয়া পর্যটকদের আকর্ষণ করার জন্য সামাজিক প্রচার মাধ্যমে প্রচারণা চালানোর জন্য আগামী তিন বছরে ১৫০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার বাজেট বরাদ্দ করেছে। বলা যায় তা বিশাল পরিমাণ রিঙ্গিতের সমান এবং তা আমাদের প্রচুর খরুচে মন্ত্রীকে উত্তেজিত করে তুলবে। ইয়েন ইয়েন। কিন্তু ওয়াইবি, দয়া করে বেশি উত্তেজিত হবেন না, হ্যাঁ।

2. ফিলিপাইন হচ্ছে আমাদের অন্যতম এক দরিদ্র প্রতিবেশি, যারা অনেক মালয়েশীয় পর্যটক, বিশেষ করে পুরুষদের আকৃষ্ট করে থাকে, তারাও তাদের পর্যটনকে তুলে ধরার জন্য ১০০মিলিয়ন পেসো বা ৭ মিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত খরচ করেছে। যাতে মালয়েশীয় পুরুষরা জাকার্তা, মেদান বা ব্যাংকক না গিয়ে ফিলিপাইনে যায়।

কুয়াহ সেং সান মনে করে যে কারি কারি ওয়াং মালয়েশিয়া নামক পাতাটিকে এত পছন্দ করার বিষয়টি, এই ঘটনায় যে দেশের সকলের অনুমতি নেই তা প্রতিফলিত করে না:

ব্যক্তিগতভাবে, আমি জানি না কি ভাবে এই সংখ্যাকে ভাবে প্রকাশ করা যায়, সেখানে এই সংখ্যা নির্দেশ করছে যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকে বেশি লোক এই ঘটনায় অসন্তুষ্ট, সরকারি অর্থের বোকার মত খরচ করায় এবং তার অপব্যবহারে। কিন্তু আমার সন্দেহ যে, অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী পছন্দ (লাইক) নামক বাটন ক্লিক করেছে কেবল সরকারে জোরালো ভাবে আঘাত করার জন্য। আসলে কি তারা এই বিষয়ে সচেতন, অথবা তারা কেবল ‘পছন্দ করি’ নামক বাটনটি চাপছে, কারণ তার বন্ধুরা ফেসবুকে এই কাজটি করছে ?

2 টি মন্তব্য

  • আইরিন সুলতানা

    কাটি- কাটি ১ মালয়েশিয়া (এক মালয়েশিয়ায় অবকাশ যাপন)।
    ———–

    আমি যতদূর জানি এই উচ্চারণটা সাধারণত করা হয় “চুতি চুতি মালয়েশিয়া” , কাটি-কাটি নয়।

    ’সি’ দিয়ে শুরু শব্দের উচ্চারণ ’চ’ করা হয় মালয় ভাষায়।

    • আইরিন সুলতানা

      যেমন, চারমিন (cermin, আয়না) , চেপাত চেপাত (cepat cepat, তাড়াতাড়ি/দ্রুত) ইত্যাদি

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .