বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

সিরিয়াঃ “গে গার্ল ইন দামেস্ক”-কে আটক করা হয়েছে

এই প্রবন্ধটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১১-এর উপর করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

আমিনা আরাফ দ্রুত খ্যাতি অর্জন করে ফেলেছে। সে আমিনা আবদুল্লাহ এই ছদ্মনামে ব্লগিং করে থাকে। সে রাজনীতি, সাম্প্রতিক গণজাগরণ, নএবং এক নারী সমকামী হিসেবে সিরিয়ায় তার জীবন নিয়ে লেখে থাকে। সে একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র এবং সিরিয়ার দ্বৈত নাগরিক। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিরিয়ার মাটিতে কি ঘটছে, সেগুলো সে তার শক্তিশালী ভাষায় তুলে ধরছে।

আজ আমিনার নিজস্ব ব্লগে, সংবাদ প্রদান করা হয় যে কর্তৃপক্ষ তাকে ধরে নিয়ে গেছে। তার চাচাতো বোন রানিয়া ও ইসমাইলসংবাদ প্রদান করছে:

আজ কিছুক্ষণ আগে, দামেস্কের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬.০০ টার দিকে, আমিনা আব্বাসাইড বাস স্টেশনের কাছে হাঁটছিল, এলাকাটি ফারেশ আল খৌরি নামক রাস্তার কাছে। সেখানে সে একজন ব্যক্তির সাথে দেখা করতে যায়, যে তার স্থানীয় কমিটির সম্বনয়কারী এবং সে সময় তার এক বান্ধবী তার সাথে ছিল।

আমিনা আরাফ


আমিনা তার বান্ধবীকে বলে যে সে সামনে যাবে এবং এরপর তারা আলাদা হয়ে যায়। দৃশ্যত আমিনা সেই মানুষটিকে চিনতে পরেছিল, যার সাথে তার দেখা করার কথা। তবে তার সঙ্গী তখনও তার কাছে ছিল, সেই সময় তিনজন মানুষ আমিনাকে ধরে ফেলে, যাদের বয়স ছিল ২০ এর ঘরে। প্রত্যক্ষদর্শীর মতে (যে তার পরিচয় তুলে ধরতে চায় না) এই সব ব্যক্তিরা সশস্ত্র অবস্থায় ছিল। আমিনা এদের একজনকে আঘাত করে এবং তার বান্ধবীকে বলে সে যেন তার পিতাকে খুঁজে বের করে।

এরপর সেই সব ব্যক্তিদের মধ্যে একজন আমিনার মুখ চেপে ধরে এবং তারপর আমিনাকে টেনে হিঁচড়ে একটা লাল রঙের ডোসিয়া লোগান গাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়, যার জানালার কাচে বাসেল আসাদের একটা স্টিকার লাগানো ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী এই গাড়ির নম্বরটি নিতে পারেনি। সে দ্রুত আমিনার পিতাকে খুঁজে বের করে।

ধারনা করা হচ্ছে এই সব ব্যক্তি বাথ পার্টির আধা সামরিক নিরাপত্তা কর্মী। আমিনা এখন কোথায় আছে তা আর জানা যাচ্ছে না এবং সে কি জেলে নাকি দামেস্কের কোন একটা জায়গায় বন্দী হয়ে আছে।

প্রথম পোস্ট প্রকাশ হবার কয়েক ঘণ্টা পরে আমিনার চাচাতো বোনএই তাজা সংবাদ প্রকাশ করে:

আমি টেলিফোনে তার বাবা মা উভয়ের সাথে কথা বলেছি এবং এখন আমরা যা বলতে পারি তা হচ্ছে তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে কোথায় আছে তা জানার জন্য তার পিতা এখন হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং কাতা তাকে ধরে নিয়ে গেছে।

দুভার্গ্যজনক ভাবে, সিরিয়ায় অন্তত ১৮ রকমের পুলিশ রয়েছে, একই সাথে এখানে বিভিন্ন রকমের আধা সামরিক বাহিনী এবং দল রয়েছে। আমরা জানি না কারা তাকে নিয়ে গেছে, যার ফলে কাকে তাকে ফিরিয়ে দেবার কথা বলব তা বুঝতে পারছি না। এমন সম্ভবনা থাকতে পারে, তারা তাকে জোর করে বের করে দিতে পারে।

সেখানে যারা বন্দী হয়ে আছে তাদের পরিবারের মত আমরা বিশ্বাস করি যে শীঘ্রই তাকে মুক্ত করে দেওয়া। যদি তারা তাকে হত্যা করতে চায়, তাহলে তারা তা করতে পারে।

আমরা ঠিক এর জন্য প্রার্থনা করছি।

কয়েক সপ্তাহ আগে গার্ডিয়ান পত্রিকায় তার কাহিনী ছাপা হবার সাথে সাথে আমিনার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। তাদের এই প্রবন্ধে আমিনাকে “এক রক্ষণশীল রাষ্ট্রে বিপ্লবের এক অন্য রকম বীর হিসেবে অভিহিত করা হয়”।

টুইটারে আমিনার বন্ধু এবং সমর্থকরা এক ঐক্যের জন্য টুইট করছে, এর জন্য তারা #ফ্রিআমিনা হ্যাশট্যাগ এবং একটি ফেসবুকের পাতা সৃষ্টি করেছে সারা বিশ্বের নাগরিকরা কছে এই আবেদন করার জন্য, যেন তারা তাদের স্থানীয় আমেরিকান দূতাবাসে যোগাযোগ করে, একই সাথে তারা সাংবাদিক, এবং অন্য সব বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের এই একই আহ্বান জানাচ্ছে।

এই প্রবন্ধটি সিরিয়া বিক্ষোভ ২০১১-এর উপর করা আমাদের বিশেষ কাভারেজের অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .