বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

লিবিয়া: সাব-সাহারান আফ্রিকার ভাড়াটে সেনারা গাদ্দাফির পক্ষে লড়ছে?

এই পোস্টটি লিবিয়ার গণজাগরণ ২০১১-এর উপর তৈরি করা বিশেষ কাভারেজের অংশ

২০১১ সালের লিবিয়া গণজাগরণের প্রথম দিন থেকেই, বিদেশী ভাড়াটে সৈন্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই সব সৈন্যের একই সাথে সাব সাহারান আফ্রিকা এবং পূর্ব ইউরোপে থেকে এসেছে। তারা লম্বা সময় ধরে লিবিয়ার নেতৃত্বে থাকা কর্ণেল গাদ্দাফির অধীনে কাজ করছে।

একটি ভিডিও (বিশেষ সর্তকতা:এই ভিডিওটি বেশ পীড়াদায়ক ) যা ১৯ ফ্রেব্রুয়ারি, ২০১১ সালে পোস্ট করা হয়, সেটা থেকে প্রথম গুজব ছড়ায় যে লিবিয়ায় আফ্রিকার ভাড়াটে সৈন্যদের দেখা যাচ্ছে। এই তথ্য মূলধারার সংবাদপত্রে [ইংরেজী ভাষায়] [ফরাসী ভাষায়] এবং আফ্রিকার ব্লগে এক উত্তপ্ত বিতকের্র সৃষ্টি করে ।‌

Military men in Tripoli. Image (original owner unknown) published on the Libyan Youth Movement's public Facebook page.

ত্রিপোলির সামরিক সেনা। (ছবির প্রকৃত মালিকের নাম জানা যায়নি) লিবিয়ার যুব আন্দোলনের জন্য তৈরি উন্মুক্ত ফেসবুকের পাতায় (লিবিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্ট পাবলিক ফেসবুক) এই ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

পশ্চিম আফ্রিকার রাষ্ট্র গিনিতে, ব্লগ লেগুয়েপাড.নেট-এ সালিয়ু বাহ-এর একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে [ফরাসী ভাষায়], তিনি গিনির সংবাদপত্র লো জুর ডে কোনাক্রির [ফরাসী ভাষায়] (দৈনিক ক্রোনাক্রি) প্রধান র্নিবাহী, যেখানে তিনি বিবৃতি প্রদান করেছেন যে:

Les présidents Guinéen, Burkinabé, Angolais, Soudanais, Tchadien, Centrafricain et autres ont été contactés par les « émissaires » du guide [Mouammar Kadhafi], tous ont répondu positivement à la demande de sauvetage du patron de la révolution verte.

Ils sont des centaines de militaires Guinéens à avoir quitté la capitale Guinéenne au début du mois [de février] pour Tripoli.

Joint au téléphone par la rédaction de lejourguinee, un Guinéen résident à Tripoli depuis 18 ans, confirme avoir vu des militaires Guinéens aux cotés des forces « mercenaires » pro Kadhafi dans les rues de la capitale en train de « restaurer » l'ordre. « Il y a bel et bien des Guinéens parmi les forces de répression en Libye » nous dit-il avant de raccrocher son téléphone.

গাদ্দাফির প্রতিনিধিরা গিনি, বুরকিনাবে (বুরকিনা ফাসো), অ্যাঙ্গোলা, সুদান, চাদ এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকার রাষ্ট্রপতিদের সাথ যোগাযোগ করেছিল এবং তারা সকলেই সবুজ বিপ্লবের জনকের আহ্বানে ভালোভাবে সাড়া দিয়েছে [সবুজ বিপ্লব, ১৯৬০ সালে গাদ্দাফির অভ্যূত্থানের নাম]।

গিনির শত শত সৈনিক, ২০১১ সালের ফ্রেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে [লিবিয়ার রাজধানী] ত্রিপোলির উদ্দেশ্যে গিনির রাজধানী [কোনাক্রি] ত্যাগ করে।

১৮ বছর ধরে ত্রিপোলিতে বাস করা গিনির একজন নাগরিকের সাথে [সংবাদপত্র] লেজুরগিনির সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সে নিশ্চিত করে যে, দেশটির নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে রাস্তায় গাদ্দাফি-পন্থী “ভাড়াটে সৈনিকদের” মাঝে গিনির সামরিক সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে। ফোন কেটে দেবার আগে সে জানায়: দমনকারী লিবিয়ার সেনাদলের মাঝে সে গিনির সেনা সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ্য করেছে”।

চাদের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়টি অস্বীকার করেছে [ফরাসী ভাষায়] কিন্তু চাদের সংবাদপত্র তাচাডাকটুয়াল-এর সাইটের সম্পদাকীয় বিভাগের দপ্তর, নিজস্ব সূত্র থেকে এই দাবী করেছে:

La Libye a demandé au [président tchadien] Deby de lui envoyer des hommes et mobiliser les tchadiens de Libye, ce qu'il fait à merveille.Selon des sources concordantes Kadhafi aurait demandé le même service aux soudanais, mais ces derniers auraient poliment décliné la demande, par contre, ils autorisent les soudanais volontaires à se rendre en Libye via le Tchad.

লিবিয়া ডেবিকে, [চাদের রাষ্ট্রপতি] অনুরোধ জানিয়েছিল, যাতে সেখানে সেনা পাঠানো এবং লিবিয়ায় চাদের নাগরিকদের একত্রিত করা হয়, যা চমৎকারভাবে পালন করা হয়। সেই একই সূত্রের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গাদ্দাফি, সুদানের কাছে একই ধরনের সাহায্যের অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু সুদান তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করেছে, তবে তারা সুদানের নাগরিকদের, চাদের মধ্য দিয়ে লিবিয়ায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করার অনুমতি প্রদান করেছে।

লিবিয়ার নাগরিক ওমর লিবিয়া [ফরাসী ভাষায়], যিনি বর্তমানে লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন এবং তিনি ফরাসী টিভি চ্যানেল ফ্রান্স ২৪ এর একজন পর্যবেক্ষক এবং সম্প্রতি তিনি লিবিয়ার যুব আন্দোলনের ফেসবুক পাতার তত্ত্ববধায়ক-এর দায়িত্ব পালন করছেন।

Les manifestants ont filmé ces vidéos, non par sadisme, mais pour montrer au monde entier que Mouammar Kadhafi a recruté des mercenaires africains pour s’assurer que la répression soit radicale. Il y a une rumeur selon laquelle ils seraient payés 9 000 euros par Libyen tué [Certains sites libyens parlent de 30 000 dollars (22 000 euros) pour la mission, d’autres de 500 dollars par jour (370 euros). Ces rumeurs ne sont pas vérifiées]. Ce qui est sûr, c’est qu’ils ne parlent pas l'arabe dialectal local. Ils parlent souvent anglais ou français.

বিক্ষোভকারীরা ধর্ষকামী হিসেবে বা নির্মমতার কারণে এইসব ভিডিও ধারণ করেনি, তার বদলে তারা বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে যে, মুয়াম্মার গাদ্দাফি আফ্রিকার ভাড়াটে সেনাদের নিয়োগ দিচ্ছে, যাতে ভয়াবহ এক দমন চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। এখানে এক গুজব ছড়িয়ে পড়েছে যে, প্রতিটি মৃত লিবিয়ার নাগরিকের বিপরীতে তাদের ৯,০০ ইউরো প্রদান করা হয়েছে [বেশ কিছু লিবিয়ান সাইট বলছে যে, তাদের এই কাজের জন্য ৩০,০০০ মার্কিন ডলার (২২,০০০ ইউরো) প্রদান করা হয়], অন্যদের প্রতিদিন ৫০০ মার্কিন ডলার (৩৭০ ইউরো) প্রদান করা হয়েছে। এগুলো অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশ পেয়েছে] তবে যে বিষয়টি নিশ্চিত তা হচ্ছে, তারা [ভাড়াটে সেনারা ] স্থানীয় আরবীতে কথা বলে না। তারা প্রায়শই ইংরেজী অথবা ফরাসী ভাষায় কথা বলে।

লিবিয়ার মানবাধিকার সংস্থা (লিবিয়ান লীগ ফর হিউম্যান রাইটস এলএলএইচআর) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে [ফরাসী ভাষায়], যা আবার আন্তর্জাতিক যুক্ত মানবাধিকার সংগঠন (ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস), পুনরায় প্রকাশ করেছ, যেখানে তারা বিবৃতি প্রদান করেছে:

La répression serait menée par les forces de sécurité avec le soutien de mercenaires tchadiens, zimbabwéens, et d’anciens miliciens [libériens] de Charles Taylor. L’utilisation, par les forces de sécurité et les agents de l’État sous son contrôle effectif, de balles réelles et d’armes lourdes pour mener la répression et des bombardements indiscriminés des populations civiles constituent des violations graves du droit international des droits de l’Homme et du droit international humanitaire.”

এই দমন নিপিড়ন পরিচালিত হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা এবং এই কাজে তাদের সাহায্য করেছে চাদ, জাম্বিয়া, এবং [লাবাইব্রেরিয়ার] চার্লস টেইলরের বিদ্রোহী [আধা সামরিক] বাহিনী। তারা তাজা বুলেট, ভারী অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী এবং এজেন্টরা এই ধরনের দমনের সময় সাধারণ নাগরিকদের উপর বিরামহীন ভাবে বোমা বর্ষণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং মানবাধিকার আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি (ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অফ রেডক্রস) -এর সংজ্ঞা [ফরাসী ভাষায়] অনুসারে লিবিয়ার বিপ্লবকে দমন করার এই সকল চেষ্টা, ভাড়াটে সেনাদের দ্বারা সংগঠিত কাজ বলে বিবেচিত হবে। লিবিয়ার এই বিপ্লব দমন করার ঘটনায় দুই ধরনের পোশাক পরিহিত সেনা কাজ করেছে: লিবিয়ার সামরিক বাহিনীর ব্লাক লিবিয়ান সেনা এবং গাইড [গাদ্দাফির] অনুরোধে ভিন্ন ভিন্ন দেশের নিজেদের সরকারের পাঠানো বাহিনী।

বোউবাহ.কমের ফোরামে গিনির একজন ব্লগার আলফা ব্যাখ্যা করেন [ফরাসী ভাষায়]:

Les arabes utilisent le mot africain pour désigner les personnes d'origine noire, comme on dit african american aux states. Ils sont d'ailleurs très nombreux dans un des corps de l'armée libyenne qu'on appelle aussi la LÉGION ISLAMIQUE. C'est un corps qui est calqué sur le modèle français de la légion étrangère. Cette armée des mercenaires a été constitué par Kadhafi lors de la guerre contre le Tchad (Bande d’Aozou), [composée] essentiellement d'éléments sahéliens (Tchad, Niger, Soudan etc).

কালো মানুষদের ক্ষেত্রে আরবরা আফ্রিকান শব্দটি ব্যবহার করে, যেমনটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও তারা আফ্রিকান আমেরিকান নামে কালো মানুষদের অভিহিত করে থাকে। তাদের একটি বড় অংশ ইসলামিক লিজিওন নামে পরিচিত ইসলামিক সেনা সদস্যের অংশ, যা লিবিয়ার সামরিক বাহিনীর অংশ। এই অংশটি ফরাসী এক ধারার অনুকরণ করছে, যা ফরাসী লিজিওন নামে পরিচিত সেনা সদস্যের অংশ ছিল। গাদ্দাফি এই ভাড়াটে সেনা বাহিনী তৈরি করে চাদের সাথে যুদ্ধের সময় (আজাউ স্ট্রিপ) এবং মূলত তা সাহেল -এর (চাদ, নাইজেরিয়া, সুদান, ইত্যাদি এলাকা) লোকদের নিয়ে গঠিত হয়।

সকল প্রচার মাধ্যম বিরক্তি এবং ক্ষোভের সাথে এই ঘটনার বর্ণনা প্রদান করে। কোলেটে ক্লারাজ [ফরাসী ভাষায়] ফরাসী দৈনিক সংবাদপত্র লে ফিগারোস এর ওয়েব সাইটে মন্তব্য করেছে, সেখানে সে বলেছে:

Rien de nouveau sous le soleil. Tous les dictateurs le font. Ex : Chavez. il s'est entouré de miliciens qui ne sont pas vénézuéliens mais cubains. Donc, en cas de contre-révolution, ces derniers sauront quoi faire. On parle même de mercenaires cubains en Libye.

একই সূর্যের নীচে নতুন কিছু ঘটেনা। সকল স্বৈরশাসক এই কাজটি করেছে। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, শ্যাভেজ-এর কথা, তিনি এমন এক সেনাবাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত, যারা ভেনেজুয়েলার নয় বরঞ্চ কিউবার সেনা। কাজে যদি প্রতি বিপ্লবের ঘটনা ঘটে, তাহলে এরা জানে কি করতে হবে, এমনকি লিবিয়ায়, কিউবার ভাড়াটে সেনাদের উপস্থিতির কথা আলোচনা করা হচ্ছে।

ডিডি লোলো [ফরাসী ভাষায়] এর সাথে যুক্ত করেছে:

[…] je doute qu’il y ait vraiment beaucoup de professionnels dans le lot il est facile pour khaddafi d’employer des pauvres bougres d’Afrique subsaharienne ou des pays d’Europe de l’est pour faire le sale travail en compagnie de ses troupes libyennes.

[…] কোন সন্দেহ নেই এই বাহিনীতে অনেক পেশাদার লোক রয়েছে। গাদ্দাফির জন্য সাব সাহারা অথবা পূর্ব ইউরোপের এই সব গরীব লোকদের ভাড়া করার বিষয়টি সহজ, যারা লিবিয়ার সেনাদের সাথে মিলে এই সব নোংরা কাজ করছে

ডিডি লোলো, আফ্রিকার মানবাধিকার এবং নাগরিক অধিকার কমিশনের (আফ্রিকান কমিশন অন হিউম্যান এন্ড পিপলস রাইট বাএসিএইচপিআর) এবং আফ্রিকার শান্তি এবং নিরাপত্তা পরিষদ [পিস এন্ড সিকিউরিটি কাউন্সিল অফ আফ্রিকান ইউনিয়ন (এইউ)-কে], এই ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানিয়েছে [ফরাসী ভাষায়]।

আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা, আফ্রিকার যে সব অভিবাসী লিবিয়ায় বাস করছে তাদের ভাগ্যে নিয়ে উদ্বিগ্ন [ফরাসী ভাষায়], যারা সেখানে কোন কাগজ ছাড়া বাস করছে। তারা হয়ত ভাড়াটে “সেনাদের মানসিক বৈকল্যের” শিকার হতে পারে।

Sur les dizaines de milliers d'Africains subsahariens et de sud Asiatiques qui travaillent en Libye, seul un petit nombre est parvenu à atteindre la frontière jusqu'ici. Cela est probablement dû au manque de ressources pour payer le transport.

লিবিয়ায় লক্ষ লক্ষ যে সব সাব সাহারান আফ্রিকার এবং দক্ষিণ এশিয়ার লোকজন কাজ করছে, তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজন সীমান্ত এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। সম্ভবত অর্পযাপ্ত পরিবহণের জন্য অর্থ ব্যয় না করতে পারার কারণে তা ঘটেছে।

এই পোস্টটি লিবিয়ার গণজাগরণ ২০১১-এর উপর তৈরি করা বিশেষ কাভারেজের অংশ

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .