বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

মরোক্কো: ২০ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১১, তারিখে “মুভমেন্ট ফর ডিগনিটি” নামক আন্দোলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে

মরোক্কো নামক দেশটিকে আরব বিশ্বের বর্তমান অস্থিরতার মাঝেও “অবিচল ব্যতিক্রম” মনে করা হচ্ছে। মরক্কোর রাজা ৬ষ্ঠ মোহাম্মদের বিশাল জনপ্রিয়তার কয়েকটি কারণের মাঝে রয়েছে ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনের প্রতি সরকারের কৌশলগত অবস্থান এবং সারাদেশে সামাজিক পুনর্গঠন প্রকল্পের প্রবাহ সৃষ্টি করতে থাকা। অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল রাজ্যের ধারণাটি ঐতিহাসিক রাজতন্ত্র ও মরক্কোর সংস্কৃতির মাঝে একটা জটিল সম্পর্কের ফলাফল।

গত ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১১ রাজধানী রাবাত-এ মরক্কোর নাগরিকরা মিসরের গণতন্ত্রপন্থী প্রতিবাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে, সংসদের সামনে অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে:

Gathering in Moroccan capital Rabat, Morocco on 9 February, 2011 to express solidarity with Egyptians protestors. Image by article author Nabila Taj.

৯ ফেব্রুয়ারী ২০১১, তারিখে মিসরের প্রতিবাদকারীদের প্রতি সংহতি ব্যক্ত করতে মরক্কোর রাজধানী রাবাত-এ এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি পাঠিয়েছেন প্রবন্ধের লেখিকা নাবিলা তাজ।

মূলত: রাজাই মরক্কোর সরকার হলেও, এ দুটো বিষয় নিয়ে মরক্কোর নাগরিকদের মাঝে বিশাল দ্বিধাবিভক্তি রয়েছে, যার কারণে রাজাকে সমর্থনের জন্যে ফেসবুকে “ওয়াক অব লাভ” (ভালোবাসার জন্য হাঁটা) নামক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে।

এতসব কিছু সত্ত্বেও ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১১, তারিখের “মুভমেন্ট ফর ডিগনিটি” বা মর্যাদার আন্দোলন নিয়ে [আরবী ভাষায়] ইন্টারনেটে কথা চলছে:

এটি এলাকার সকল রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন এবং অন্যান্য সংগঠনের প্রভাবমুক্ত, এর কর্মকাঠামো প্রদত্ত মানবাধিকার আইন ও আন্তর্জাতিক চুক্তিসমূহের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করতে ইচ্ছুক এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, আর এর লক্ষ্য হল মরক্কোর জনগণের পাশাপাশি থেকে মর্যাদার দাবি এবং জনগণের ইচ্ছের প্রতিকূলে থাকা দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশের মঙ্গলের জন্যে কাজ করা।

পরিকল্পিত প্রতিবাদের নেতারা জীবনধারণের উচ্চমূল্য, নিম্ন মজুরি, ব্যপক বিস্তৃত বেকারত্ব, অশিক্ষার বিস্তার, সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক বন্দীদের অপহরণ ও নির্যাতনের পুনরাবির্ভাব এবং সর্বোপরি সরকার যে জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করছে, তারা এইসব বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‘মর্যাদার আন্দোলন‘ নামক কর্মসূচির প্রতি ব্যপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। টুইটারে মাগরেবব্লগ, মরোক্কানলাভ এবং _নিজার_বি সবাই মরক্কোর একটিভিস্ট নাদিয়া ইয়াসিনের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি প্রদান করেছে: “সত্যিকারের পরিবর্তন অর্জিত হবে. হয় স্বতস্ফূর্তভাবে নয়তো বলপ্রয়োগে।“

ইয়াসিন ইসলামী আন্দোলন আল আদল ওয়া আল ইহসান (ন্যায় ও দয়া)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান; তিনি প্রকাশ্য ভাষণের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে হলে ‘মর্যাদার আন্দোলন ‘-এর তার সমর্থন জানিয়েছেন।

ব্লগার শিফ্টিবক্স ব্যর্থতার পূর্বাভাস জানিয়েছেন [ফরাসী ভাষায়]:

Puisque la notion de gouvernement chez les marocains est entièrement distincte de la personne du roi, et que ce dernier ne ferait pas parti de l’appareil étatique corrompu, le roi bénéficie automatiquement d’une continuité d’allégeance en cas de révolte anti-gouvernementale et la machine communicationnelle poli sa réputation. Et face à un gouvernement « pourri » et « intéressé », le roi devient l’alternative idéale et personnalise l’espoir.

মরোক্কোতে সরকারের ধারণা রাজা থেকে সম্পুর্ণ আলাদা, আর দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে সে কোন সুবিধা পায় না বলে, রাজার প্রতি আনুগত্যের ধারাবাহিকতায়, স্বয়ং রাজা সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের সাথে যোগাযোগ তৈরি ও মেশিনের মত চকচকে সম্মানে প্রতি ক্রমাগত আন্দোলনের নিশ্চয়তা প্রদান করে। মরক্কোতে রাজা, “বাজে” এবং “স্বার্থান্বেষী” সরকারের আদর্শ বিকল্প ও ব্যক্তিগত আশার প্রতিভূ।

শিফ্টিবক্স আরো যুক্তি দেখিয়েছেন যে “ মরক্কোর উচ্চ শ্রেণী বা মরক্কোর বুর্জোয়াদের এই ক্ষেত্রে কোন আন্দোলনে যাবার আগ্রহ নেই কারণ তারা একেবারে “আত্ম অধিকার সচেতন হীন”(হোমো ইকোনোমিকাস) এইসব অভিজাতেরা সম্পুর্ণ তুষ্ট”।

ব্লগার বিগব্রাদার [ফরাসী] ২০ ফেব্রুয়ারী ২০১১- তারিখের পরিকল্পিত প্রতিবাদের ঘোর বিরোধী:

Au Maroc, la liberté d'expression est bien plus présente qu'en Tunisie par exemple. Si la manifestation était le dernier recours, oui, j'adhérerai à ce groupe.

Sauf que ce n'est pas le cas : On pouvait très bien écrire une lettre ouverte ou des milliers, si ce n'est des millions de jeunes qui signent le document ou on pourrait demander une révision de la constitution, une justice neutre et équitable, des actions tangibles et réelles…

মরক্কোতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা আরববিশ্বের উদাহরণস্বরূপ, আর তা তিউনিশিয়া থেকে অনেক বেশী। আয়োজনটি [পরিকল্পিত প্রতিবাদটি] যদি শেষ উপায় হয়, তাহলে হ্যাঁ, আমি এই দলের সাথে আছি।

বিষয়টি এরকম না হলে: সহজ বিকল্প হিসেবে লক্ষ পরিমাণ না হলেও, সহস্র তরুণদের মাঝ থেকে কেউ একজন সংবিধান পর্যালোচনা, নিরপেক্ষ ও যথাযথ বিচার, বোধগম্য ও সত্যিকার ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করে খোলা চিঠি লিখতে পারে। যা সূক্ষ্ম এবং সত্যিকার অর্থে কাজের …

কেউ জানে না এই “মুভমেন্ট ফর ডিগনিটি” বা মর্যাদার আন্দোলন উপেক্ষিত হবে কিনা, অথবা এটাই হবে মরক্কোর পরিবর্তনের জন্যে গণবিপ্লবের প্রথম পদক্ষেপ। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১১, তো মাত্র দশদিন দূরে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .