বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

গুয়াতেমালা: প্রথম নারী সরকারী আইনজীবির চ্যালেঞ্জ

নারী, মার্লিন হার্মসের সৌজন্যে। সিসি ৩.০ লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহৃত

যে দেশে মাত্র ৩২ শতাংশ নারী উচ্চ বিদ্যালয় শেষ করতে পারে, যেখানে লৈঙ্গিক সমতা নিম্ন হারে বিদ্যমান, যেখানে সংসদ সদস্যদের মাত্র শতকরা ৮% নারী আর কোন নারী সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা আর শিল্প চেম্বারের সভাপতি হননি, সেই সরকারী প্রশাসনে আর গুরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক পদে এক সাম্প্রতিক নিয়োগ রাজনৈতিক চিত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

গুয়াতেমালার নতুন নিযুক্ত ক্রিমিনাল পাব্লিক ডিফেন্স সার্ভিসের পরিচালক, কম্পট্রোলার জেনারেল, সাধারণ আইনজীবি আর জাতীয় কাউন্সিল অভিবাসন কার্যের সচিব হচ্ছেন নারী, যেমন সেন্ট্রাল আমেরিকান পলিটিক্স ব্লগ জানিয়েছে:

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গুয়েতেমালা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বলা যায় যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীর সাথে এর সম্পর্ক আছে।গত কয়েক সপ্তাহে, নারীদেরকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয় যেমন সরকারী আইনজীবি আর কম্পট্রোলার জেনারেল, ক্লাউডিয়া পাজ ই পাজকে সরকারী আইনজীবি আর সরকারী মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয় চার বছরের জন্য আর তিনি ক্রিমিনাল তদন্ত আর বিচারের এজেন্সির দায়িত্বেও থাকবেন, আর নোরা সেগুরা পাঁচ বছর মেয়াদের নতুন কম্পট্রোলার জেনারেল হয়েছেন আর সরকারী খরচ অডিটের দায়িত্বে থাকবেন যা শুরু হবে ২০১১ সালের ৬.৮ বিলিয়ন ডলারের বাজেট দিয়ে। পাজ ই পাজ আর সেগুরা ব্লাঙ্কা স্ট্যালিং এর সাথে যোগদান করছেন যাকে প্রেসিডেন্ট কোলোম পুনর্নিয়োগ দিয়েছেন ক্রিমিনাল পাব্লিক ডিফেন্স ইন্সটিটিউটের (এই সংস্থা অভিযুক্ত অপরাধীদের আইনি সাহায্য দেয়) পরিচালক হিসাবে আর হেইডি গোরডিল্লোকে জাতীয় কাউন্সিল অভিবাসী সার্ভিসের মহা সচিব হিসেবে।

গুয়াতেমালাতে, যেখানে সকল সামাজিক আর জাতিগত দলের নারীদের নৃশংসভাবে হত্যা ও আঘাত দেয়া হয়, সেখানে ক্লাউডিয়া পেজ ই পাজের নিয়োগ সরকারী আইনজীবি হিসাবে অনেক সংস্থা স্বাগত জানিয়েছে, বিশেষ করে মানবাধিকার দলগুলো- যা দেখা যাচ্ছে ব্লগ ফুন্দাসিও দে সোব্রেভিভিয়েন্তেসে (বেঁচে যাওয়াদের ফাউন্ডেশন ব্লগে)।

ব্লগ ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স স্বাগত জানিয়ে গত ডিসেম্বরে গুয়াতেমালাতে সাধারণ আইনজীবি হিসাবে প্রথম নারীর নিয়োগ উদযাপন করেছে:

ডঃ পাজ ই পাজ নিরলসভাবে মানবাধিকার বিশেষ করে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন, একজন শিক্ষক, কর্ম আর আইনজীবি হিসাবে। তিনি জাতিসংঘের হাই কমিশন শরণার্থী আইন অফিসের পরিচালক ছিলেন আর জাতিসংঘের গুয়াতেমালার জন্য মিশনের জাতীয় পরামর্শক ছিলেন। ডঃ পেজ ই পেজ আইসিসিপিজি তে পরিচালক হিসাবেও কাজ করেছেন যেটা তুলনামূলক গবেষণার ক্রিমিনাল বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুয়েতেমালার ইন্সটিটিউট।

তবে চ্যালেঞ্জগুলো বিশাল। ব্লগ আসোসিয়েসন পোর তি মুজের (নারীর সংঘ) অনুসারে কেবলমাত্র ২০১০ সালে গুয়াতেমালা শহরে ৬৮০ জন নারীকে গুলি করে বা ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে, আর গৃহ নির্যাতনের ৪৮,০০০টি অভিযোগ করা হয়েছে। গুয়াতেমালাতে খুনিকে ভাড়া করা আমেরিকান ডলার ১৫০ এর মতো সস্তা আর শাস্তির অভাব নারীদের প্রতি অত্যাচারকে ইন্ধন যোগায়।

কেবলমাত্র গত ডিসেম্বরে, সমাজবিজ্ঞানী আর গবেষক এমিলিয়া কুয়ানকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় গুয়াতেমালার পাহাড়ে, মেক্সিকোর সীমান্তের কাছে। তিনি সেন্টার ফর স্ট্যাডি এন্ড ডকুমেন্টেশন অফ দ্যা ওয়েস্টার্ন বর্ডার অফ গুয়াতেমালাতে কাজ করতেন। তাকে চোখ আর হাত বাঁধা অবস্থায় মুখে একটা কাপড় ভরা পাওয়া যায়, যা গুয়াতেস গোয়িং অন ব্লগ ব্যাখ্যা করেছে। এলাকায় একটা মায়ান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় আর একটা প্রার্থনা করা হয় শক্তি প্রার্থনা করে মারামারি আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এর জন্য দেশে, যা রেডিও সান্টা ক্রুজ ব্লগে রিপোর্ট করা হয়েছে।

এমেলিয়া কুয়ানের কেস নতুন নিযুক্ত আইনজীবীকে একটা সুযোগ করে দিয়েছে তদন্ত করে হত্যাকারীদের বিচার করার। কিন্তু সমাধান করার জন্য এটাই একমাত্র সমস্যা না, যা দেখিয়েছে ব্লগ জেন্ডার অ্যাক্রস বর্ডার্স:

এমেলিয়া দারুন একজন নারী ছিলেন আর অনেকের বন্ধু, যার তিনি যে সম্মান পাচ্ছেন সেটা পাওয়া উচিত। কিন্তু একই সময়ে সেই হাজার হাজার নারীকে স্মরণ করা প্রয়োজন যাদের নাম সংবাদপত্রের আর ম্যাগাজিনের পাতায় শোভা পায়না। এমন না যে এই ধরনের দূর্ধর্ষ অতীতের দেশে প্রতিদিন একজন করে নারীকে হত্যা করা হয়, বা নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের শতকরা ২% ও সমাধান করা হয়না। এটাই যথেষ্ট বিভীষিকাময়। কিন্তু তারই সাথে হত্যা করা বা অপহৃত নারীদের দেহ দেখলে বোঝা যায় যে অনেক অত্যাচার করা হয়েছে- যৌন নির্যাতন, অঙ্গহানি, নির্যাতন- যা সামাজিকভাবে নারীদের প্রতি ঘৃণার প্রতিফলন। এই বাস্তবতা যে এই সব অপরাধের অনেকটাই কখনো তদন্ত করা হয়না তুলে ধরে গুয়াতেমালার সরকারের নারীদের জীবন সম্পর্কে ঘৃণা আর ঔদাসিন্য।

চ্যালেঞ্জগুলো গুয়েতেমালার মানুষের ইচ্ছার মতোই বিশাল যারা এখনো পরিবর্তনে বিশ্বাস রাখেন আর অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন আইনের শাসন আর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যেখানে নারীরা পরিবর্তন আনতে পারেন।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .