বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ল্যাটিন আমেরিকা: মিশরের ঘটনাবলীর সাথে সাদৃশ্য

মিশরে যখন বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে, তখন ল্যাটিন আমেরিকান ব্লগাররা এ অঞ্চলে একই ধরনের অভ্যুথানের সাথে ঐতিহাসিক তুলনা করছিল, আর তাদের কেউ কেউ ভাবছিল; এখানেও কি সে রকম ঘটনা ঘটবে নাকি?

দি মেক্স ফাইল-এ, রিচ মিশরের পরিস্থিতিকে মেক্সিকান বিপ্লবের সময়কালের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করেছে। এই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে পোরফিরিও ডিয়াজের ত্রিশ বছরের শাসনের পতন ঘটে। রিচ তার পোস্টে লিখেছে: মিশরের মত হাঁটা: পোরফিরিও থেকে মুবারক (ওয়াক লাইক ইজিপশিয়ান, পোরফিরোও টু মুবারক) আজকের মেক্সিকোর দিকে তাকিয়ে তার বিশ্লেষণের ইতি টেনেছেন এভাবে:

কেউ কেউ বিশ্বাস করে মেক্সিকোর নাগরিকরা মিশরীয়দের মত এত বেপরোয়া নয়, অন্ততঃ কায়রোর রাস্তায় যে পরিমাণে তাদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, যদি মেক্সিকানরা এটাকে এখনই মেক্সিকোর ক্ষমতায় যাওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে যাওয়া বলে বিবেচনা করে তখন কি হবে। এর মাধ্যমে বৃহত্তম স্প্যানিশভাষী এই জাতি যদি তাদের সম্ভাবনা পূরণের সুযোগ দাবি করে বসে, তাহলে আসলে কি ঘটতে পারে?

গ্রেগ উইকস্ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে তার ব্লগ টু উইকস নোটিশ-এ, নিকারাগুয়ার সাথে মিশরের মধ্যে মিল এবং অমিল নিয়ে লিখেছেন:

মিশরের বর্তমান পরিস্থিতি আর ল্যাটিন আমেরিকার স্বৈরতন্ত্রের ধ্বংসের মধ্যে মিল খুঁজে না পাওয়া, অসম্ভব এক ব্যাপার। বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে চলে আসে আনাস্তাসিও সোমোজার কথা। খোলাখুলি বললে, কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনায় করে কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র, দেশটির এই স্বৈরচারী শাসককে সমর্থন দিয়ে আসছিল। সে সময় এ অঞ্চলেরই আরেকজন স্বৈরশাসকের পতন ঘটে। তার অনুকরণে নিকারাগুয়ার অভ্যন্তরে এই স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে বিরোধিতা ফুঁসে উঠতে শুরু করে।

তবে, দুটি ক্ষেত্রে, বেশ গুরুত্বপূর্ণ এক পার্থক্য রয়েছে

সম্প্রতি গ্লোবাল ভয়েসেস-এর লেখক রডরিগো পেনালবা নিকারাগুয়ার সংবাদপত্র এল নুয়েভো দিয়ারিও-তে সাক্ষাৎকার প্রদান করেছেন। পত্রিকায় প্রদান করা প্রশ্নের উত্তর, রডরিগো তার ব্লগে পোস্ট করেছেন [স্প্যানিশ ভাষায়]:

¿En Nicaragua el fenómeno de Túnez y Egipto esta lejos de la realidad nacional?

Tunez y Egipto responden a contextos específicos de gobiernos autoritarios con lideres en el poder durante décadas y con el apoyo abierto de Estados Unidos. Si hubiera efecto domino entre ambos  paises, este pasaría antes a Siria, Libano, Jordanía o Arabia Saudí más que a Centroamérica.

Si la idea de la pregunta es que si podria pasar algo así en Nicaragua habría que buscar contextos más cercanos como son la narcoviolencia mexicana, los grupos de maras en Guatemala, Honduras y El Salvador, la inmigración en la región, el golpe de estado de Honduras, o las drama-novelas del poder de Panamá, Costa Rica, Venezuela o Colombia; o en el caso de Nicaragua el triple matrimonio a 3 bandas entre empresarios (anunciantes en los grandes medios), partidos políticos (que les dan entrevistas a los medios), y gobierno (al que amigos de los medios aspiran a manejar).

তিউনিশিয়া ও মিশরে ঘটতে থাকা ঘটনাগুলো কি নিকারাগুয়ার বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে?

তিউনিশিয়া ও মিশরের ঘটনা, এক একটা বিশেষ প্রেক্ষাপটে ঘটছে, যেখানে কর্তৃত্বপরায়ণ সরকার প্রধানেরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দশকের পর দশক ধরে ক্ষমতায় টিকে ছিল এবং রয়েছে। যদি এই দুই দেশের ঘটনা, একটি অন্যকে প্রভাবিত করে (ডোমিনো ইফেক্ট), তা হলে এটি, মধ্য আমেরিকার আগে সিরিয়া, লেবানন, জর্দান বা সৌদি আরবের উপর প্রভাব বিস্তার করবে।

যদি এ রকম কোন প্রশ্ন উঠে আসে, এরকম কিছু নিকারাগুয়ায় ঘটবে কিনা, তাহলে আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে মেক্সিকোর মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে সংঘর্ষ, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, আর এল সালভাদরের মারাস (গুণ্ডার দল) নামক গ্রুপের উপর, এই অঞ্চলের অভিবাসন, হন্ডুরাসের অভ্যুত্থান অথবা পানামা, কোস্টারিকা, ভেনিজুয়েলা বা কলম্বিয়ার ক্ষমতা নিয়ে নাটক; নিকারাগুয়ায় ব্যবসায়ীগোষ্ঠীর (গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতা), রাজনৈতিক দলসমূহ (প্রচার মাধ্যম যাদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করে) আর সরকারের (যার প্রচার মাধ্যমের বন্ধুরা সবকিছু মানিয়ে চলতে চায়) ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতামূলক সম্পর্ক, যাকে অনেকটা সফল বিবাহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, এর মত ঘটনাগুলোর দিকে।

ব্লগিংস বাই বজ-নামক ব্লগে বজ একটা লেখা পোস্ট করেছে, যার শিরোনাম, ল্যাটিন আমেরিকায় কি অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়তে পারে?, সেখানে বজ “বৈশ্বিক” বা “সুনামি” তত্ত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন: এখানে বজ ব্যাখ্যা করেছেন অনেকগুলো রাষ্ট্রকে একইসাথে আঘাত করার জন্যে একটা বহিঃশক্তি এই পরিস্থিতি তৈরী করেছে।

এই বৈশ্বিক উপাদানটির দিকেই আমি মনোযোগ দিতে চাই। কারণ এটা সত্যি হলে বর্তমান সংকটটি শুধুই মধ্যপ্রাচ্যকে প্রভাবিত করবে না, ক্রমান্বয়ে লাতিন আমেরিকা, সাব-সাহারান আফ্রিকা আর এশিয়া এর পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে।

এই প্রশ্নের উত্তর তিনি ছয়টি বিষয়ের মাধ্যমে দিয়ে গিয়েছেন এবং প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন: যদি [ ২০১১] সাল সংকটের বছর হয় তাহলে ল্যাটিন আমেরিকার জন্য তার অর্থ কি দাঁড়ায়? এরপর তিনি লিখেছেন:

এটা যদি একটা সংকটের বছর হয়, সেক্ষেত্রে সরকারগুলো যে এভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে, ছয়মাস আগে তা চিন্তা করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

তার অর্থ, অধিকাংশ সরকারই টিকে যাবে। এমনকি কঠোর প্রতিবাদের মুখোমুখি এ ধরনের সরকারগুলো পতনের চেয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার প্রবনতা দেখা দেয়। প্রত্যেক প্রতিবাদ বা সংকটের মুর্হূত সরকার পতনের দিকে ঠেলে দেয় না। তার ওপর, এটি এমন এক অঞ্চল, যেখানে গণতন্ত্রকে আশা করা হয় না। তার চেয়ে এখানে গণতন্ত্রকে ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হয়। এখানে বিক্ষোভের মাধ্যমে অপসারিত সরকারগুলো পৃথিবীর অন্য যে কোন অঞ্চলের চেয়ে বেশী দ্রুত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরে আসবে।

সেন্ট্রাল আমেরিকান পলিটিক্স-এর মাইক এই বিষয়ে ব্লগিংস বাই বজের লেখার উপর উন্মুক্ত ধারাবাহিক আলোচনায় এই প্রতিক্রিয়া প্রদান করছেন। তিনি ভিন্ন ভিন্ন দেশের প্রেক্ষাপটে তার মত ব্যাখ্যা করেছেন:

কোথা থেকে শুরু করতে পারি? মজার বিষয়, আমার মনে হয় ল্যাটিন আমেরিকা নামক অঞ্চলটিতে জরিপ চালালে দেখা যাবে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যে সমস্ত সরকার মোটেও বন্ধুত্বপূর্ণ নয়, সেগুলোর পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশী।

ইকুয়েডর- গত বছরই সরকারে পতন ঘটতে যাচ্ছিল; সম্প্রতি অসাংবিধানিক কিছু পদক্ষেপ বাতিল করা হয়েছে।

বলিভিয়া- সাম্প্রতিককালে সে দেশে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে; সম্প্রতি অসাংবিধানিক কিছু পদক্ষেপ বাতিল করা হয়েছে।

ভেনিজুয়েলা এবং কিউবা এই দলে পড়ে, কিন্তু এই দুটি দেশে সম্ভবত ততটা অস্থিতিশীলতা দেখা যাবে না। হন্ডুরাসও এ দলের মধ্যে পড়ে, তবে সেখানে আবার আগুন জ্বালাতে আরো স্ফুলিঙ্গ লাগবে।

এটা কি এখানে ঘটতে পারে?সব ব্লগারের কাছে এই প্রশ্নটিই অবশ্যম্ভাবী এক প্রশ্ন ছিল। তারা নিবিড়ভাবে এ অঞ্চলের রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলন পর্যবেক্ষণ করেছেন। কোন ব্লগারই হয়তো নিশ্চিত জানতে পারেননি, ল্যাটিন আমেরিকার কোন দেশটি এই “রাজনৈতিক সুনামি” ধরা পড়বে; তবে তারা এটা জানেন যে সরকারবিরোধী অভ্যুত্থান ল্যাটিন আমেরিকার ইতিহাসে অস্বাভাবিক কোন কিছু নয়।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .