বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

জাপান: নতুন ভূমিচিহ্ন “টোকিও গগণবৃক্ষ” বেড়ে উঠছে

টোকিওর ২০১১ সালের প্রথম দিনটি ছিল রৌদ্রকরোজ্জ্বল আর আকাশ ছিল নীল। একটা আনকোড়া নতুন বছরের দিনটি ছিল একদম নিখুঁত। প্রথা অনুযায়ী  নতুন বছরের বন্ধের দিনে সৌভাগ্য সূচক কোনো কিছুর সাথে যুক্ত থাকাকে জাপানীরা শুভ মনে করে যেমন বিশেষ কোনো খাবার প্রতিটি উপকরণকে তাঁরা মানুষ যে ভালো গুণগুলোকে আয়ত্ত করতে চায় এবং তার সাথে অর্থবহ করে ভাবতে পছন্দ করে। নববর্ষের প্রথম দিনে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখে তারা সুর্যের আশীর্বাদ গ্রহণের চেষ্টা করে এবং একটা ভালো বছরের জন্য মন্দির ও ধর্মীয় স্থানগুলোতে  প্রার্থনা করে।

এ বছর জাপানের নতুন “সৌভাগ্যের প্রতীক” কে জাপানী জনগণ উপভোগ করবে।

এটা হলো টোকিও গগণ বৃক্ষ। এ বৃক্ষ হল একটা সুউচ্চ ভবন যা উচ্চতায় ৬৩৪ মিটার হবে এবং ডিসেম্বর ২০১১ সালের মধ্যে বিশ্বের সবচাইতে উচু ভবনে পরিণত হবে। এ ভবনটির তিনটি ভূমিকা-প্রথমতঃ এটা টোকিওর পূর্বাঞ্চলের একটা ভূমি চিহ্নে পরিণত হবে এবং পর্যটনকে নাড়া দেবে। দ্বিতীয়ত: টেরিস্ট্রিয়াল ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং পদ্ধতির নতুন এন্টেনা হবে এবং তৃতীয়তঃ দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ত্রাণের ক্ষেত্রে  উন্নত তথ্য কাঠামো গঠন হবে যা জাপানের মত  বছরব্যাপী একাধিকবার ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পের দেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে ভবনটি ৫৩০ মিটার উচু এবং প্রতিদিনই এর উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। টোকিওবাসী এ বৃক্ষের “বেড়ে”ওঠা উপভোগ করে।এরপর দেখবে কিভাবে জনগণ এ বৃক্ষের যত্ন নেয়।

あけましておめでとうございます。2011年1月1日元旦の「東京スカイツリー」です。薄い雲はありますが元旦から晴れました。

শুভ নববর্ষ! এটা হলো ২০১১ সালের টোকিও গগণবৃক্ষ। এ বছরের প্রথম দিনটিতে আকাশে হালকা কিছু মেঘ থাকলেও দিনটি ছিল রৌদ্রকরোজ্জ্বল।

এ দুটি ছবি “টোকিও গগণবৃক্ষের স্থির পর্যবেক্ষন কেন্দ্র”- নামের ব্লগ থেকে নেওয়া, ব্লগ লেখক  শুরু থেকে প্রায় প্রতিদিনই নির্মাণ কাজের ছবিগুলো তুলেছেন।

2008年3月23日の「東京スカイツリー」の建設現場です。この頃はまだ名称が決定しておらず

২৩ মার্চ ২০০৮-তারিখে তোলা টোকিও গগণবৃক্ষের স্থান। তখনো ভবনটির নামকরণ করা হয়নি।

গল্পে ফিরে যাই। এ সুউচ্চ ভবনটিকে সৌভাগ্যের প্রতীক বলে মনে করা হয়। এ ভবন থেকে নববর্ষ উদযাপনকারী কিছু ব্লগার তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এভাবে ব্লগার দানকাই-জিন বলেন:

お昼頃になって再度ベランダに出てみました。そして先ほどの高い塔を確認したら、やはり建造中のスカイツリーでした。わが家のベランダからスカイツリーが 眺望出来るとは思ってもいませんでしたので、正月から縁起の良い大発見でした。現在の塔の高さは539mとのことで、これからあと1年ほどで約100m伸 長して634mの世界一の電波塔が完成する予定になっています。これからはわが家のベランダから完成までの偉業を見守っていきたいと思います。

দুপুরের দিকে আমি বারান্দায় দাড়িয়ে সুউচ্চ ভবনটির দিকে তাকাই, এ ভবনটিকেই আমি সকালে দেখেছিলাম। এই গগণবৃক্ষটি ছিল নির্মাণাধীন। আমি ভাবিনি যে আমি কখনো আমার বারান্দায় দাড়িয়ে গগণবৃক্ষ দেখতে পাবো। নববর্ষের প্রথম দিনে এটা ছিল আমার জন্যে সৌভাগ্য মূলক আবিষ্কার। বর্তমানে এটি ৫৩৯ মিটার উঁচু এবং এক বছরের মধ্যে এর উচ্চতা হবে ৬৩৪ মিটার যা হবে বিশ্বের সবচাইতে উঁচু টিভি টাওয়ার। আমার বারান্দা থেকে আমি এই চমৎকার কর্মযজ্ঞের পরিসমাপ্তি দেখতে পাবো।

ইওকোহামান নিক্কি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন এভাবে:

明けましておめどうございます。東京スカイスリーが、閉塞感に満ちたいまの社会で、大空に伸びゆく姿が、希望と夢を分かち与えてくれると思い、新年最初の写真としました。

শুভ নববর্ষ। আমাদের এই বদ্ধ সমাজে গগণবৃক্ষের বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখাবে ও আশার সঞ্চার করবে। আমি আমার ব্লগে এ ছবিটিকে প্রথমে রেখেছি।

জাপানের বিখ্যাত মন্দির সেনসো-জি পরিদর্শনকারী টি.এন.টি-শো বলে:

浅草寺へ行く途中、新東京タワーの近くを通りました。
スカイツリーの名の通り、巨大な構造物は晴れた元日の空にそびえ立っていました。
浅草寺の近くからもその姿が見え、たくさんの参拝客が記念撮影に興じています。
構造的に日本古来の建築である五重塔の構造を参考にしたと言われる塔ですが
その外観はあまりに異なります。
一年前、通勤途中の電車から見たスカイツリーは今の半分くらいの大きさでした。
それが今ではこの威容です。日本の建築技術も捨てたものではありませんね。
今年の日本の行く末はまだ霧の中ですが希望が持てると思えてきます。

সেনসো-জি মন্দিরে যাবার পথে আমি নতুন টোকিও ভবনকে অতিক্রম করি। গগণবৃক্ষ নামটির মতই নববর্ষের প্রথম দিনটিতে ঝলমলে আকাশের দিকে এই বিরাট নির্মাণ টি সোজা আকাশের দিকে উঠে গেছে। সেনসো-জি মন্দিরের নিকট থেকে ভবনটি যখন দেখা যেতে শুরু করলো তখন থেকেই পর্যটকরা মন্দির থেকেই ভবনের ছবি তুলতে শুরু করলো। বলা হয়ে থাকে যে ভবনটির নকশা পাঁচতলা প্যাগোডার মত কিন্তু আসলে এটা সম্পূর্ণ আলাদা ধরণের। এক বছর আগে আমার কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ট্রেন থেকে ভবনটিকে বর্তমান উচ্চতার অর্ধেক উচ্চতায় দেখা যেত। আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী এ স্থাপনাটিকে দেখুন! জাপানী স্থাপত্য প্রকৌশলের এখনও আরও অনেক কিছু দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে যদিও জাপানের ভবিষ্যত এখনো ধোঁয়াটে তবুও আমি মনে করি এ নতুন  সুউচ্চ ভবনটি আশা জাগানিয়া।

পর্যটন ও গগণবৃক্ষ

ভবনটির সৌভাগ্য সূচক দিক ছাড়াও ব্যবসা-কেন্দ্রিক দিক রয়েছে। গগণবৃক্ষের এ নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ চাচ্ছেন এর চারপাশের এলাকাকে নবজীবন দিতে। আগে এ এলাকা গায়ে গায়ে লাগানো মধ্য ও ক্ষুদ্র শিল্প উৎপাদন কারখানার শিল্পাঞ্চল ছিল। বর্তমানে এ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত। বর্তমানে এলাকাটি ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল পরিবেশ হারিয়ে ভুতের শহরে পরিণত হচ্ছে।

বৃক্ষের মূল ভূমির মত সুউচ্চ ভবনটি অবশ্যই পর্যটন সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

তারোবে মরিতা একটি নতুন ভাতের খাবারের পরিচয় করিয়েছেন।

ご近所グルメ すみだ《そば処かみむら》名物「タワー丼」。東京スカイツリーは、514mになった。テレビや雑誌でおなじみの、スカイツリー近くの《そば処かみむら》へ行く。話題のタワー丼に挑戦。特大エビの天ぷら3本にかき揚げを、スカイツリーに見立てたもの。スカイツリー関連食べ物の元祖である。

সুমাইদা ওয়ার্ডের নিকটবর্তী রেস্টুরেন্ট সোবা কামিমুরা! টিভি ও ম্যাগজিনে এ সময়ে বিখ্যাত সোবা কমিমুরা তে আমি গিয়েছিলাম “টাওয়ার বোল” খাওয়ার জন্য। তিনটি অতিকায় চিংড়ির টেম্পুরা এবং সবজী মিশ্রিত টেম্পুরা যা গগণবৃক্ষের মত দেখাচ্ছিল। এটা আসলে “গগণবৃক্ষ খাবার”।

কিয়ামামা না জিকান একটি পারফে খেয়েছিলেন।

歩き疲れたら、ちょっと休みたいですよね。ちょっと甘いものなんて嬉しいと思います。
そんな時にこちらはどうでしょう。東武橋の所にある「さくらcafe向島」さんです。外でソフトクリームも食べられますが・・・お隣のテーブルに運ばれて来たのは・・・
まさしく、あのスカイツリーパフェです。高く聳え立つツリーの如く。。。すごい。みんなが写メ撮らせてもらってました。

হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হলে আসুন আমরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেই। মিষ্টি জাতীয় কিছু হলে ভালো হয়। তবু-বাশী সেতুর কাছে এ ক্যাফে টা কেমন? “সাকুরা ক্যাফে মুকোঝিমা” – এর ভিতরে ওরা আইসক্রিম বিক্রি করে কিন্তু আরো যেন কিছু আছে…হ্যা বিখ্যাত “গগণবৃক্ষ পারফে (আইসক্রিম)”! এমনভাবে দাড়িয়ে আছে যেন গগণ বৃক্ষ…ওয়াও অনেকেই ছবি তুলতে চাইছে।

এ সুন্দর লম্বা পারফেটি ৬৩৪ মি.মি. উচু আর সত্যিকারের ভবনটি ৬৩৪ মিটার উঁচু হতে যাচ্ছে।

একবারেই প্রচলিত চাবির গোছা বা পোস্টকার্ড ছাড়াও এ সুউচ্চ ভবনকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করে আরো অনেক সংগ্রহের বিষয়ের উদাহরন রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে গগণবৃক্ষের ছেলেদের অন্তর্বাস এবং বিয়ার ক্যান যা গগণবৃক্ষের ছবিতে মোড়ানো এবং আরো অনেক কিছু দেখা যাবে টোকিও গগণবৃক্ষ ভক্ত ব্লগে

২০১১ সালের শেষের দিকে টোকিও গগণবৃক্ষের নির্মাণকাজ শেষ হবে। জাপান টোকিওর এই নতুন ভূমি চিহ্নের “জলের” প্রথম দিনটির প্রতীক্ষায় আছে। “জলের” অর্থ একেক মানুষের কাছে একেক রকম। কেউ এর ছবি তুলবে কেউ এর শীর্ষে আরোহন করবে আবার কেউবা এই গগণবৃক্ষকে কেন্দ্র করে নব উদ্যমে সংগ্রহ গড়ে তুলবে।

সেই বিশেষ ঐতিহাসিক মুহুর্ত দিন দিন এগিয়ে আসছে!‍

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .