বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ইরান: ভর্তুকি প্রদানের পরিমাণ কমিয়ে আনায়, পণ্যের দামে নাটকীয় বৃদ্ধি

Bandar-Abbas strike

সাবজলিঙ্ক লিখেছে যে ইরানের দক্ষিণের বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসের বন্দরের কর্মীরা এক ধর্মঘট শুরু করেছে।

ইরানে বেশ কিছু পণ্যের উপর যে বড় আকারে ভর্তুকি প্রদান করা হত, যার ফলে কৃত্রিমভাবে জিনিসের দাম কমিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল, এই ভর্তুকির পরিমাণ দারুণভাবে কমিয়ে আনার ফলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, বিষয়টি ইরানের অনেক মধ্যবিত্ত এবং গরিব জনতার জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এমএসএনবিসি এর সূত্রানুযায়ী গত সপ্তাহে সরকার নাটকীয়ভাবে ভর্তুকির পরিমাণ কমিয়ে আনার ফলে তেলের দাম চারগুণ এবং রুটির দাম দ্বিগুণের চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

বিরোধী দলের নেতা মীর হোসাইন মৌসাভি এবং মেহেদি কারবি বুধবার বলেন যে দেশের অর্থনীতির জন্য সামনে এক “অন্ধকার ভবিষ্যৎ” অপেক্ষা করছে কারণ সরকার অর্থনীতিবিদদের কথা শুনছেন না। ( বিদেশী এক প্রচার মাধ্যমের সাথে কথা বলার কারণে এক অর্থনীতিবীদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে)

যাকে ইরানের রাষ্ট্রপতি দেশটির অর্থনীতির ৫০ বছরের ইতিহাসে “সবচেয়ে বড় শল্য চিকিৎসা” বা কাটাছেঁড়ার বিষয় হিসেবে অভিহিত করেছে তার উপর দেশটির ব্লগাররাও প্রতিক্রিয়া প্রদান করেছে।

এই ভাবে ভর্তুকি উঠিয়ে নেবার ফলে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হবে, তা নিয়ে একজন আহমেদিনেজাদপন্থী ব্লগার সহ বেশ কয়েকজন ব্লগার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আজারমাহের লিখেছে:

শনিবারে, অবশেষে আহমেদিনেজাদ ভর্তুকি উঠিয়ে নেবার কথা ঘোষণা দিলেন, যা কারণে এতদিন ধরে ইরানের অর্থনীতিতে পণ্যের দাম কৃত্রিম ভাবে কমিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল। এইভাবে ভর্তুকি উঠিয়ে নেবার ফলে যে সমস্যা তৈরি হবে, সেই সমস্যা কমিয়ে আনার জন্য প্রত্যেক ইরানী নাগরিকের ব্যাংকের একাউন্টে কিছু টাকা সরকারের তরফ থেকে প্রদান করা হবে। একজন সত্যিকারে ত্রাতার ভূমিকায় কাজ করে যাওযা আহমেদিনেজাদ, এই অর্থ প্রদানের বিষয়টিকে লুক্কায়িত ইমাম [ ১২ ইমামের অনুসারে শিয়া মুসলমানরা বিশ্বাস করে যে ইমাম মাহদি সেই লুক্কায়িত ইমান]-এর অর্থ হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরানের জনগণের জন্য বিনা সুদে অর্থ প্রদান করা হয়েছে. যা সকল সময়ের অন্যতম ত্রাতা ইমাম মাহদির অর্থ। যখন পৃথিবী দূর্নীতি আর অনাচারে ছেয়ে যাবে তখন তিনি আবার পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং শাসন করবেন। এই অর্থ আসলে কত দুর যাবে এবং এই ভাবে সাহায্য হিসেবে প্রদান করা অর্থ দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বা ভয়ানক মূল্যস্ফীতির কতটা কারণ হয়ে দাড়াবে বলা কঠিন, যাই হোক আমি এইসব বিষয়ে কথা বলতে চাইছি না।

আজরাক বলছে [ফারসী ভাষায়]:

ইরানের যে ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠী যারা দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে তাদের জন্য এখন বিষয়টি রাতের দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে এবং তারা ইরানী নববর্ষের সময় তাদের সন্তানদের জন্য নতুন জামা এবং জুতা কিনে দিতে পারবে না [ আগামী তিন মাস পরেই ইরানের নতুন বছর আরাম্ভ হবে]…। যে সমস্ত লোকজন এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সমালোচনা করবে তারা গ্রেপ্তার হবে…। আহমেদিনেজাদ তার পদ থেকে বরখাস্ত হবেন. কিন্তু এর আগে তিনি দেশটিকে ধ্বংস করে রেখে যাবেন।

Sabzeh Meidun vegetable market in Isfahan

সাবজেহ মেইদুন, ইরানের ইসফাহান শহরের এক অন্যতম সব্জি বাজার। ছবি আলিয়ে সাদাত © ডেমোটিক্স (৪ আগস্ট, ২০০৯)

ফ্রিডম ভয়েস লিখছে [ফারসী ভাষায়] যে, এই ঘটনা মধ্যবিত্ত এবং গরীব লোকদের উপর সবচেয়ে বড় বোঝা তৈরি করবে এবং সাধারণ ধর্মঘট হচ্ছে এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে সেরা উপায়।

মাসাবে আহমেদিনেজাদ, ইরানের রাষ্ট্রপতি আহমেদিনেজাদপন্থী এক ব্লগার, কিন্তু তিনিও এই ঘটনার সমালোচনা করেছেন। ব্লগাররা বিশ্বাস করে যে ভর্তুকি প্রদান বন্ধ করা সমস্যার সৃষ্টি করবে। তিনি লিখেছেন এর আগের রাষ্ট্রপতিদের সময় মুদ্রাস্ফীতি দাঙ্গা সৃষ্টিতে উত্তেজনা তৈরি করেছিল। ব্লগার বলছেন যে আহমাদিনেজাদের বেশীর ভাগ সমর্থক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগরিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রাষ্ট্রপতির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবে।

সাবজলিঙ্ক লিখেছে যে [ফারসী ভাষায়] যে ইরানের দক্ষিণের বন্দর নগরী বান্দার আব্বাসের বন্দরের কর্মীরা ধর্মঘট শুরু করেছে (ছবি উপরে)। ধর্মঘটী কর্মীরা বলছে যে, তারা তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে যে টাকা পায় এখন তেলের দাম তার চেয়ে বেশী হয়ে গেছে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .