বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ক্যাম্বোডিয়া: যুবরাজ রানারিধ রাজনীতিতে ফিরে এলেন

ক্যাম্বোডিয়ার যুবরাজ নরোদম রানারিধ দেশটির প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী এবং রয়ালিস্ট পার্টি (রাজকীয় দলের) নেতা। কিছুদিন অবসর নেবার পর আরো একবার তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হবার শপথ নিয়েছেন। দুই বছর আগে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তিনি দেশ ছেড়ে চলে যান এবং তার অনুপস্থিতিতে তার বিচার করা হয়। কম্বোডিয়ার রাজনীতির উপর যুবরাজ রানারিধের বিবৃতির প্রভাব, নেট নাগরিক এবং রাজনৈতিক পণ্ডিতরা বিশ্লেষণ করছেন।

২০০৮ সালে রাজনীতি থেকে অবসর নেবার পর, যুবরাজ রানারিধ ক্যাম্বোডিয়ার সকলকে বিস্মিত করেন, যখন সম্প্রতি, তিনি রাজকীয় দলের আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য রাজনীতিতে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ মাসে কাম্প চাম প্রদেশে তার ৫০০ জন সমর্থকের সামনে ভাষণ দেবার সময়, যুবরাজ জোর দিয়ে বলেন, যে তাকে ক্যাম্বোডিয়ার নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তার প্রতি সাড়া দিয়ে তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসতে চান। নম পেন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন:

আমি নরোদম রানারিধ পার্টির নেতৃত্ব প্রদানের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। রাজনীতি যেন আফিমের এক নেশা। কিন্তু যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে নরোদম রানারিধ পার্টির নেতৃত্ব প্রদান করার জন্য আমার কাছে অনেক আহ্বান এসেছে”।

একই প্রবন্ধে, যুবরাজ সরকারকে সমর্থন করে বা তার সমালোচনা না করে, মাঝামাঝি অবস্থানে থেকে তার নিজের দৃঢ় মনোভাব প্রদান করেন। তার এই অবস্থানের মধ্যে দিয়ে যুবরাজ রাজতন্ত্রপন্থী দল এবং অন্য সব দল যারা তার সাথে রাজনীতি করতে চায়, তাদের একীভূত করার আশা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্যাম্বোডিয়ার মানবাধিকার সংস্থার মত দল। তবে রাজনৈতিক পরিকল্পনা অর্জন করা বেশ কঠিন, কারণ সেখানে অস্বীকার করার মত ঘটনা ঘটে এবং বিভিন্ন দলের মধ্যে অমিমাংসিত দ্বন্দ্ব রয়েছে। এছাড়াও প্রশ্ন রয়েছে যে, তিনি কি গণতন্ত্রীপন্থী, নাকি কমিউনিস্টদের সাথে যুক্ত।

যুবরাজের ফিরে আসার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী হুন সেন সতর্ক করে দিয়ে বলছে যে, এই ঘটনা রাজনীতিতে রাজতন্ত্রকে যুক্ত করবে এবং এর জন্য যুবরাজকে তার ভাই রাজা নরোদম সিহামনির রাজকীয় উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। হুন সেন ব্যাখ্যা করেছে, কেন যুবরাজকে রাজার উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে:

“যদি আপনি রাজনীতিতে ফিরে আসতে চান, তাহলে আপনাকে রাজার সর্বোচ্চ পরিষদের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় রাজা রাজনীতিতে তার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলবে। হয়ত প্রচারণা চালানোর সময় রাজার নাম ব্যবহার করা হতে পারে, তিনি বলবেন আমি বর্তমান রাজার ভাই, আমি প্রাক্তণ রাজার সন্তান এবং এই বিষয়টি রাজাকে রাজনীতির সাথে যুক্ত করে ফেলবে”।

আগে থেকেই এরকম প্রতিক্রিয়া আশা করা হয়েছিল, যে কারণেই যুবরাজ কম্পাং চাম প্রদেশের জনসভায় উল্লেখ করেন যে, রাজনীতিতে তার ফিরে আসার উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার দ্বন্দ্বকে বাড়িয়ে তোলা নয়। পরে, বর্তমান রাজার পিতা, নরোদম সিহানুক, তার ওয়েবসাইটে লিখেন, ক্যাম্বোডিয়ার নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। যুবরাজ রানারিধ পরিষ্কার করেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর ক্যাম্বোডিয়ান পিপলস পার্টির সাথে মিলে সরকার গঠনে রাজী রয়েছেন।

তার এই অবস্থানকে সন অফ দি খেমার এম্পায়ার সমালোচনা করেছে। সে লিখেছে যে যুবরাজের কোন পরিষ্কার রাজনৈতিক দর্শন নেই এবং এই নাটক যুবরাজ এবং প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চায়নে মঞ্চস্থ হয়েছে।

  • যুবরাজ রানারিধ একজন অর্ধমৃত রাজনীতিবীদ যার কোন লক্ষ্য নেই এবং দেশের সুরক্ষার জন্য হুন সেনকে পরাজিত করার চ্যালেঞ্জ নেবার ক্ষমতা নেই, তিনি কেবল তার টিকে থাকার জন্য রাজনীতি করছেন।
  • এটা হুন সেনের এক রাজনৈতিক চাল হতে পারে, কারণ হুন সেন সাম রেইনসি পার্টির (এসআরপির) উত্থানে শঙ্কিত। এখন পর্যন্ত হুন সেন মনে করেন যে রানারিধ সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্যাম্বোডিয়ান জনগোষ্ঠীকে বিভক্ত করার জন্য রানারিধকে ব্যবহার করা যাবে, যিনি ক্যাম্বোডিয়ার পিপলস পার্টি পন্থী নন। তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেম সোখা হয়ত রানারিধের সাথে যোগ দিয়ে এই নতুন শক্তিকে বেগবান করবে এবং অবশ্যই দ্বিতীয় বৃহত্তম দল এসআরপির শক্তিকে দুর্বল কবে। এই সব অর্জনের মধ্যে দিয়ে হুন সেন ক্যাম্বোডিয়াকে তার ইচ্ছা মত পরিচালিত করতে পারবে।

যখন যুবরাজের রাজনীতিতে ফিরে আসার বিষয়টি প্রধান রাজনৈতিক দল দল এবং ঐতিহ্যবাহী প্রচার মাধ্যমের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে , তখন এই বিষয়ে স্থানীয় নেট নাগরিকদের কাছ থেকে তেমন কোন উল্লেখ যোগ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না, যারা প্রায়শই তাদের চিন্তা ব্লগ, ফেসবুক এবং টুইটারে প্রকাশ করে থাকে। ঘটনাক্রমে কেবল ক্যাম্বোডিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস নামক স্থানীয় এক অরাজনৈতিক এনজিও ফেসবুকের মাধ্যমে এক জরিপের আয়োজন করে, যে জরিপের দশ জনের কম ব্যক্তি সাড়া দেয়:

নরোদম রানারিধের রাজনীতিতে ফিরে আসা কি ক্যাম্বোডিয়ার রাজনীতির জন্য মঙ্গলজনক??

এটা হয়ত এই প্রশ্নের আংশিক উত্তর হতে পারে যে, আসলে কি যুবরাজের ক্যাম্বোডিয়ার রাজনীতিতে ফিরে আসার প্রভাব অনেক বড় হবে কি না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .