বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

উইকিলিকস কর্তৃক প্রায় এক ‘ককটেল টক’ বিষয়ক মন্তব্যের উন্মোচন সিঙাপুর খারিজ করে দিয়েছে

উইকিলিকসের সাম্প্রতিক উন্মোচিত তারবার্তা অনুসারে সিঙ্গাপুরের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিবিদেরা বিশ্বাস করেন যে তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নেতারা সুযোগ সন্ধানী, পায়ুকামী আচরণে আসক্ত, এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদ। এবং তারা মনে করে যে ভারত আহাম্মক এবং জাপান হচ্ছে মোটাসোটা এক পরাজিত রাষ্ট্র। এই সমস্ত সংবাদ গত রোববার অস্ট্রেলিয়ার ফায়ারফক্স মিডিয়া গ্রুপ প্রকাশ করে, যাদের কাছ উইকিলিকসের বেশ কিছু অতীব গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে।

সিঙাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ ইয়ো এই সব সংবাদকে অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দেন এবং জনতাকে মনে করিয়ে দেন যে এই সব মন্তব্য মূল উপাদানের বাইরে থেকে এসেছে

যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিবিদেরা যা শুনেছে, এসব হচ্ছে তাদের আলোচনার অনুবাদ। আমি মনে করি না এসবের উপর আমাদের মন্তব্য করা উচিত হবে, কারণ এই আলোচনা অত্যন্ত গোপনীয়, এর কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক, কিন্তু আমরা এর প্রেক্ষাপট জানি না, কাজেই আমি এসবের বাইরে যাব না। কিন্তু আমরা জন্য এটি একটি খারাপ অভ্যাস যে, এ রকম গোপনীয় সব তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে, কারণ ভবিষ্যৎ-এ এইসব গোপনীয় যোগাযোগ আরো কঠিন হয়ে পড়বে।

এই বিষয়ে সিঙ্গাপুরের ব্লগারদের প্রতিক্রিয়া কি? লোহ এন্ড বিহোল্ড বিস্মিত যে কূটনীতিবিদেরা এই সমস্ত বিব্রতকর মন্তব্য করেছে

ভাই সকল- কূটনীতিবিদেরা কম যায় না- দেখে মনে হচ্ছে, যদি সামান্য সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তারা আর তাদের মুখ বন্ধ রাখতে চাইছে!

এখানে আমরা বেশ কিছু সুন্দর উদাহরণ রেখে দিয়েছি!

এ ধরনের মন্তব্য এসেছে অ্যাম্বাসেডার-এ্যাট লার্জ”-অথবা তাকে যে নামে ডাকা যায়-তা প্রচণ্ড বিব্রতকর এক মন্তব্য।

কেন আমরা কোন কোন লোককে কূটনীতিবিদ বলে “উল্লেখ” করব, যখন তারা আদৌও কূটনীতিবিদ নয়?

সিঙাপুর লাইফ এন্ড টাইম উইকলিকসকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে দ্বিধান্বিত:

আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না যে এই সমস্ত সংবাদগুলো বিক্রি হয় এবং একই সময় এই সব সংবাদ অনেককে বিব্রত করে। আমাদের শীর্ষ নেতারা একে অন্যের সম্বন্ধে যে ভাবে বিবৃতি প্রদান করে তা আমাদের বাজে গুণাবলির প্রকাশ ঘটায়। নিঃসন্দেহে তা ভদ্র ধরনের কথাবার্তা নয়। এই ধরনের আলাপচারিতা অবশ্য প্রকাশ্যে আসা উচিত নয়, কাজে আমাদের নায়কেরা আসুন আমরা একে অন্যের নামে রঙিন বাক্য ব্যবহার করি। আমি নিশ্চিত যে প্রতিটি বর্ণিল সুনাম একজন ব্যক্তি অন্যজনের নামে ব্যবহার করেছে, অন্তত আরেকজন এর প্রতি উত্তরে আরেকটা এ ধরনের সুনাম করবে। আপনি আত্মবিশ্বাসের কারণে নিজেকে পরাজিত করতে পারে। এটা সৎভাবে খেলা।
.
এবং যে কোন ভাবে হোক না কেন, আমরা কি সকলেই কি এমনটা পছন্দ করি না? কারো কারো পেছনে আমরা তার সম্বন্ধে যাচ্ছেতাই মন্তব্য করি, কিন্তু তার সামনে খুবই ভদ্র থাকি। আর আমরা প্রায়শই তা কেবল আক্রোশে বসে করি না, অনেক সময় আমাদের খুব কাজের লোকটি সম্বন্ধে সৎ মন্তব্য করার ক্ষেত্রেও, একই রকম মন্তব্য করি, কারণ তারা জানে আমরা কোথা থেকে এসেছি এবং ঘটনা পরম্পরা আমাদের সেই সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রদানের দিকে ঠেলে দেয় (প্রেক্ষাপট)। এবং সত্যকে প্রকাশ করা উচিত, এটা অনেক প্রয়োজনীয় এক যোগাযোগ ব্যবস্থা। আমি কারো জন্য ক্ষমা চাইছি না, কেবল একমত এই বিষয়ে যে, বিশেষ কিছু বিষয়কে প্রকাশ্যে জনতার সমানে না বলাই ভালো।

একারণে আমি সম্মিলিত কণ্ঠস্বর যে ভাবে উইকিলিকসকে সমর্থন করছে সে ভাবে তা সমর্থন করি না। যদি আপনি তাকে সমর্থন করেন, তাহলে পরবর্তী সময় আপনি আড়ালে অন্যদের সম্বন্ধে যা বলেছেন, প্রকাশ্যে এসে কি সেই কথা বলবেন, অথব সব সময় কি তাই করবেন? যদি তা নয় হয়, তাহলে ভণ্ড হবার কোন প্রয়োজন নেই।

মাউসিং ফ্রম দি লাওন সিটি যুক্তি দেখাচ্ছে যে সিঙাপুরের কূটনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা পরিচালিত, কারণ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সিঙাপুর সবচেয়ে যুক্তরাষ্ট্র-পন্থী দেশ হিসেবে পরিচিত:

আমি বিশ্বাস করি যুক্তরাষ্ট্র যে আমাদেরকে এইসব বিষয়ে মূল্যায়ন করতে বলেছে তা খুব সাধারণ, কারণ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সিঙাপুর সবচেয়ে যুক্তরাষ্ট্রপন্থী রাষ্ট্র।

আমি মনে করি পুরো উইকিলিকসকে নিয়ে অনেক বেশী মাতামাতি করা হচ্ছে। কূটনীতিবিদদের মন্তব্য অযথাই অঞ্চলগুলোতে উত্তেজনার সৃষ্টি করছে, কারণ কথা আসলে কেবল কথাই। সবচেয়ে খারাপ বিষয়, এসব কথাবার্তা দুই বছর আগের কথা! এগুলোর কিছু বিব্রতকর, কিন্তু এগুলো এমন কিছু নয়, যার জন্য সিঙাপুরের নাগরিকরা ভীত বা গর্বিত হবে।
ইয়াউইনিং ব্রেড আমাদের এইসব মন্তব্যকে “নিজেকে গুরুত্ব” প্রদানের মত এক শূন্যগর্ভ বিষয়ের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা প্রদান করছেন:

ইয়াউইনিং ব্রেড আমাদের এইসব মন্তব্যকে “নিজেকে গুরুত্ব” প্রদানের মত এক শূন্যগর্ভ বিষয়ের প্রতিফলন হিসেবে ব্যাখ্যা প্রদান করছেন:

আমাদের যা উদ্বিগ্ন করছে তা হচ্ছে আমাদের পররাষ্ট্র বিভাগের কর্তাব্যক্তিরা খবু বেশী যোগ্য নয়। তারা সাধারণ জ্ঞান, উন্মুক্ত রহস্য অথবা প্রচলিত প্রজ্ঞা নিয়ে জুয়া খেলছে। তারা নিজেদেরকে তুলে ধরতে পারেনি এমন এক ভাবে যে, তাদের ভেতরে বিশেষ কিছু রয়েছে অথবা কোন কিছু ধারণা করার ব্যাপারে সাহস রয়েছে।

বাস্তবতা হচ্ছে, তারাও এটা জানে, যেমনটা দেখা যায় যেভাবে তারা অতি দ্রুত নিজেদের সম্বন্ধে অতিশয়োক্তি করেছে। এটা অনেক মূল্যবান, যখন একজন নিজে জানে যে, একজনের কাছে সারবস্তু বলে কিছু নেই যা বিশেষ প্রজাতি প্রদান করতে পারে।

এর ফলে এই সমস্ত সংবাদ এই পরামর্শ প্রদান করছে এই অঞ্চলের বিভিন্ন বিষয়ে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জিত মন্তব্য করার ঘটনাটি আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে মুগ্ধ করার প্রচেষ্টা। কিন্ত যথেষ্ট পরিমাণ সারবস্তুর অভাব এবং অবজ্ঞার স্বর কেবল আমাদের শূন্যগর্ভ বোধগম্যতার দিকটি উন্মোচন করেছে এবং আমাদের লজ্জাজনক উদ্ধত চারিত্রিক বৈশিষ্ট আরো জোরাল হয়েছে।

সিনাং ডিরি মনে করেন যে কূটনীতিবিদেরা এই অঞ্চলের পরিস্থিতির উপর খোলামেলা এবং বিশ্বাসযোগ্য মূল্যায়ন প্রদান করেছে।

এখানে যে সব মন্তব্য করা হয়েছে, তা সিঙাপুরের জন্য ততটা খারাপ নয়। এটা হয়ত ক্ষতির কারণ হবার বিষয় থেকে অনেক দুরে রয়েছে, তবে বলা যাচ্ছে না যে তা সিঙাপুরের জন্য বিব্রতকর হবে, যদি তার কূটনীতিবিদেরা নিজেদের এক বোকা হিসেবে প্রকাশ করে থাকে, যাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে হাস্যকর এক ঘটনার পরিত্রাণের পরই অনুসন্ধান করা হয়েছিল। ধন্যবাদজ্ঞাপনে, বলা যায়, উইকিলিকসের এই সমস্ত উন্মোচনের ঘটনা প্রদর্শন করেছে যে, গোপন দরজার পেছনে, আমাদের কূটনীতিবিদেরা জ্বলজ্বল করে।

সিঙাপুর নোটস সরকারী কর্মকর্তাদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন, তারা যেন তাদের এই নড়তে থাকা জিভ নিয়ন্ত্রণ করে, বিশেষ করে ককটেল টকের [মূলত মদ্যপানের জন্য আয়োজন করা অনুষ্ঠানে বলা কথাবার্তা] সময়।

আয়োজন করা অনুষ্ঠানে বলা কথাবার্তা] সময়। এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে বিএমডি (বিগ মাউথ ডিজিজ) বা উল্টাপাল্টা কথা বলার রোগ বড়ই ছোঁয়াচে। এমনকি এইচ১এন১ নামক রোগের চেয়ে বেশী মারাত্মক, আমাদের জাতীর নিরাপত্তা সেই সমস্ত চরিত্রের দ্বারা হুমকির সম্মুখীন, যাদের সামান্য পাপ বিশ্বের মঞ্চে আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে, তারা হয়ত অতিভক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ ইয়ো ককটেল টকের বা মদ্যপান পার্টিতে কথা বলা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হতে বলেছেন, এতে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, অনেক বেশী আয় করা ব্যক্তিরা কর দাতাদের প্রদান করা অর্থে মদ উদরে আত্মসাৎ করত পারবে। অন্তত তারা যা করতে পারে তা পানীয় গ্রহণ না করার শিক্ষা নেওয়া এবং নড়াচড়া করা জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .