দক্ষিণ এশিয়া: অন্যের গোপনীয়তা প্রকাশ করার নৈতিকতা

ইলাস্ট্রেশন রেমণ্ড সালভারটর হারমন-এর, ফ্লিকারের থেকে নেওয়া, সিসি বাই

উইকিলিকস একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যম যা কি না ২৫১,২৮৭ টি গোপন নথি উন্মোচন করে সারা বিশ্বে এক আলোচনার ঢেউ সৃষ্টি করেছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সারা বিশ্বে অবস্থিত সে দেশের দুতাবাসসমূহের মধ্যে যোগাযোগের এক বিস্তারিত বিবরণ। অনেকের কাছে তা কেবলগেট কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকজন ব্লগার এই বিষয়ে দ্রুত তাদের মন্তব্য প্রকাশ করেছে।

শ্রীলন্কা থেকে ইন্দ্রজিৎ সমরজিভা মন্তব্য করেছে:

এখানে মূল বিষয়টি হচ্ছে, আমেরিকা দেখতে পাবে যে এক উপকারী মহাক্ষমতাধর রাষ্ট্র হিসেবে সে মাঝে মাঝে কিছু বেদনায় ভুল করেছে। এই ভুল শোধরানোর জন্য তাদের কাছে টাকাও রয়েছে। জর্জ. ডাব্লিউ বুশের শাসনামলে আন্তর্জাতিকভাবে দেশটি অনেক অমঙ্গলজনক কাজ করছে, এমন একটি দেশের চরিত্রে পরিণত হয় এবং এটি হয় মূলত তার ব্যাপক বাজে নীতির কারণে একই সাথে (তুলনামূলকভাবে) দেশটি দরিদ্র্য রাষ্ট্রে পরিণত হয়। নথি ফাঁস হয়ে যাওয়াকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠিন বিষয় হচ্ছে- ফাঁস হয়ে যাবার বিষয়টি হয়ত খারাপ-আর যুক্তরাস্ট্রের কর্মকাণ্ডগুলো এখনো নিকৃষ্ট কাজ বলে মনে হচ্ছে।

ইন্দ্রজিৎ একই সাথে জানতে আগ্রহী যে শ্রীলন্কার ক্ষেত্রে কি বিষয় প্রকাশিত হতে পারে:

প্রবাসী ভারতীয় ব্লগার সুপ্রিয় চৌধুরী এই সব গোপন বিষয় সংক্রান্ত নথি ফাঁস করার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন করেছে:

এখানে যে প্রশ্নটি তোলা যেতে পারে তা হল, এই ধরনের তথ্য ফাঁস করার ঘটনা যা নিঃসন্দেহে নতুন তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধার মাধ্যমে পাওয়া, নৈতিকতার দিক থেকে এই কাজ করা কি ঠিক ।সম্ভবত, এর মাধ্যমে একজন পরিষ্কার ভাবে দেখতে পাবে যে সরকার আসলে তার নিজ নাগরিকদের সাথে এক ধরনের তথ্য যুদ্ধে লিপ্ত। মিথ্যা বলার চেয়ে তথ্যে ফাঁস হয়ে যাওয়া কি ক্ষতিকর? নিঃসন্দেহে আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করেছি যেখানে আমরা কাজের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের, স্বায়ত্তশাসিত এবং সরকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরো বেশী স্বচ্ছতা দাবী করতে পারি এবং করি। তবে যে কোন ভাবে হোক সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার কিছু লোক এখনো সকল বিরোধীতা সত্ত্বে গণতান্ত্রিক সরকারের ভেতর বাস করে ( সংজ্ঞায় এবং জনপ্রিয় বাস্তবতায়, নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্র-এর উদাহরণ) এবং স্বচ্ছতা এবং সততা সরকারের ক্ষমতাকে ভয়াবহভাবে হুমকির মুখে ফেলে দেয়।

পাকিস্তানের ব্লগ ক্যাফে পেয়ালা, পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদপত্র উইকিলিকস সম্বন্ধে যে সংবাদ প্রদান করেছে তা একত্রিত করেছে। ব্লগটি মন্তব্য করেছে:

নিঃসন্দেহে এই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা সরাসরি পাকিস্তানের সাথে, জড়িত যা অতি দ্রুত এদেশের নাগরিকদের আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তা সংবাদের বিচারে দেখা যা ভূ-কৌশলগত বাস্তবতার গুরুত্ব হিসেবে বিচার করলে এবং সম্ভাব্য বিশাল ঘটনা প্রভাবের কারণে, আপনি কি বলবেন না যে, সৌদি আরব নামক রাষ্ট্রের ইরানের স্থান দখলে নিতে চাওয়ার ইচ্ছে, সে দেশের বাদশাহ আবদুল্লাহ যে মনে করে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জারদারি একজন হেরে যাওয়া ব্যক্তি, তার চেয়ে সামান্য বেশী গুরুত্বপূর্ণ? অবশ্যই, এটা হয়ত সংবাদের আমার ব্যক্তিগত ধারণা, কিন্তু এখনো এটাকে আমার কাছে এক কৌতুহলজনক বিষয় যে পাকিস্তানের কোন দৈনিক প্রকাশনা মাধ্যম এই বিষয়ে কোন সংবাদ প্রকাশ করেনি।

কি ভাবে পাকিস্তানী সংবাদ মাধ্যম ‘কেবেলগেট’ নামক ঘটনাটিকে দেখছে পাকিস্তান ফরেন পলিসি ব্লগের ফাহিম হায়দার সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে:

সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর ভৎসনার দিকে নির্দেশ করে ‘ যখন মাথায় পচন ধরে তখন সারা শরীরে তার প্রভাব পড়ে’-এর দিক নির্দেশ করে (যৌক্তিক হুমকি?), ডানপন্থীরা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি জারদারিকে অভিযুক্ত করেছে । মধ্যপন্থী এবং রাজনীতিতে মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থানকারীরা সার্বভৌমত্বের কথা বলছে, যেমনটা তারা সবসময় বলে থাকে। এর উত্তরে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় সহযোগিতা প্রদান করার যুক্তি প্রদান করে, জারদারির সরকার এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সামরিক জটিলতার বিষয়ে সবসময় সমালোচনার বিষয়টি অস্বীকার না করেই, তারা পাকিস্তানের সাথে যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক, সেটিকে সবসময় উপভোগ করে আসছে।.

ভারতের জাতীয় আগ্রহের উপর তৈরি করা ব্লগ দি একর্ন। ব্লগটি উইকিলিকসের প্রভাবের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন:

এটা পরিষ্কার নয় যে, জনতা এবং সরকারের অংশগ্রহণ করা কাজের মধ্য অস্বস্থিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না করেই, উইকিলিকস বিশ্বের ঘটনাবলীর উপর সবচেয়ে বড় প্রভাব সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি এমন নয় যে মধ্যপ্রাচ্যের লোকজন জানে না যে তাদের নেতার কত দুর যেতে পারে, এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নেতাদের সম্বন্ধে কি ভাবে। এটা যেন এমন যে, চীন তার গণ বিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণ, কেবল কিছু নথি প্রকাশের কারণে বন্ধ করে দেবে। যে কোন বাস্তবতায় বলা যায়, রাজনীতিবিদদের চামড়া মোটা।

সরকার এবং বিভাগীয় সংরক্ষণাগারে তথ্য প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে যদি এক প্রতিবন্ধকতার ধারা প্রয়োগ করা হয়, তাহলে কি ঘটতে পারে। এরপর এক প্রক্রিয়ার শুরু হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের তথ্য এক সাথে করার ব্যর্থতার ফলাফলের কারণে ঘটে, যে প্রক্রিয়া থাকলে তা হয়ত ৯/১১ এর ঘটনা ঘটার পূর্বে উন্মোচন করতে পারত-এবং বিশ্বের অনেক দেশের সরকার এই প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছিল, যার মধ্যে ভারত সরকার অর্ন্তভুক্ত রয়েছে- উইকিলিকসের প্রযুক্তির ক্ষমতাকে অপব্যবহারের মধ্যে দিয়ে তার হয়ত ইতি ঘটতে যাচ্ছে। সরকারের “ইনফরমেশন ফিউশন” বা ‘তথ্য একত্রিত করণের’ বিষয়টির উপর প্রথম ক্ষতিটি ঘটল জনাব. অ্যাসাঞ্জের দায়িত্ববান হবার যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .