বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফিজি ওয়াটার নামক কোম্পানী নতুনভাবে ধার্য করা কর প্রদান করতে এবং ফিজিতে তার কারখানা আবার চালু করতে রাজি হয়েছে

ফিজি ওয়াটার নামক কোম্পানী হয়ত ফিজি ছেড়ে যাচ্ছে না।

ফিজি সরকারে নতুন কর নীতিকে বৈষম্যমূলক অভিহিত করে নিজস্ব পানি বোতলজাত করার কারখানাটি বন্ধ করার ২৪ ঘন্টার পরই ফিজি ওয়াটার কোম্পানী ব্যবসার জন্য পশ্চিম ভিটি লেভুতে অবস্থিত কারখানাটি আবার খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্ভবত এক বিনয়ী মনোভাবের সাথে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক প্রধান পানি কোম্পানিটির প্রতিনিধি ফিজির অ্যাটর্নি জেনারেল আইয়াজ সাইয়্যেদ খাইয়ুম ও নেতা ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামার সাথে সাক্ষাত করে। ফিজির প্রধানমন্ত্রী বাইনিমারামা এক অভ্যুথানের মাধ্যমে ২০০৬ সালে ক্ষমতায় আসে।

বাইনিমারামা এই সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছে। কেবল এই কারণে নয় যে ফিজি ওয়াটার কেবল ৪০০ ফিজির নাগরিকে চাকুরী পুনরায় প্রদান করছে, তার বাইরে তাদের প্রদান করা কর সরকারে কোষাগারে আরো ১১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা করবে। ফিজি ওয়াটার বলছ যে তারা দেশটির পানি সম্পদের উপর ধার্য করা করকে মেনে নেবে। করের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত হিসেবে যদি কোন কোম্পানী প্রতি মাসে ৩.৫ মিলিয়ন লিটার পানি উত্তোলন করে, তবে তাদের উপর প্রতি লিটারে ১৫ ফিজি সেন্ট (৮ মার্কিন সেন্ট) কর ধার্য করা হয়েছে। ফিজি ওয়াটার অভিযোগ করছে যেহেতু এতে এতে ৩.৫ মিলিয়ন লিটার উত্তোলন সীমা ধার্য করা তাতে এই কর অন্যায্য কারণ ফিজির আর অন্য কোন পানি বিক্রয়কারী কোম্পানী এই পরিমাণ পানি উত্তোলন করে না। যে সমস্ত কোম্পানী এর চেয়ে কম পানি উত্তোলন করবে তারা আগের মত প্রতি লিটারে .১১ ফিজি সেন্টে (.০৬ মার্কিন সেন্ট) কর প্রদান করবে।

ফিজি ব্রান্ডের পানির বোতলের সারি। ম্যানহাটন এলাকায় সরবরাহ করার সময় তোলা ছবি। এটি উইকিমিডিয়া কমন্সের ভেরনে ইকুইনক্স-এর ছবি।

মুখায়ব সম্বন্ধে? এই বিপর্যয় দেশটির সবচেয়ে বৃহৎ রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এবং ফিজি সরকারে মধ্যে প্রকাশ্যে লড়াইয়ের সৃষ্টি করে, যা ১৮ নভেম্বর শুরু হয়, যখন সরকার ফিজি ওয়াটার এর স্থানীয় প্রধানকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অবৈধভাবে নাক গলানোর জন্য বহিষ্কার করে। এক সপ্তাহ পরে ২০১১ সালের বাজেট ঘোষণার সময় ফিজি সরকার পানির বোতলের উপর নতুন কর ধার্যের ঘোষণা প্রদান করে। এর কয়েকদিন পরে কোম্পানিটি বলে যে তারা তাদের পানি বোতলজাত করার কারখানাটি বন্ধ করে দিচ্ছে। এর সাথে সকল চুক্তি বাতিল ঘোষণা করে এবং বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত করে দেয়। এরপর বাইনিমারামা তীব্র সমালোচনার মাধ্যমে এর উত্তর দেয় এই দাবী করে যে কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশে পানি বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা কামাচ্ছে। কিন্তু তার প্রতি বছর ৫৩০,০০০ ডলারের কম বাণিজ্যিক কর প্রদান করে। তিনি একই সাথে দাবী করেন যে ফিজি ওয়াটার যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক তার এক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে পানি বিক্রি করে রপ্তানী আয়ের পরিমাণ কম করে দেখাত।

কোম্পানী এর উত্তর প্রদান করেনি, তবে তারা লম্বা এক বিবৃতি প্রদান করেছে যাতে তারা বলছে যে এটি তাদের ভালো বাণিজ্যিক প্রতিবেশী, তারা ফিজির রপ্তানী বাণিজ্যে ৭০ মিলিয়ন ডলার যোগ করে এবং দেশটিতে লক্ষ লক্ষ ডলারের উন্নয়ন এবং শিক্ষা বিস্তার প্রকল্প চালু করেছে, একই সাথে তারা প্রায় ৪,০০০ লোককে কাজের সুযোগ করে দিয়ে সাহায্য করছে।

ইজারা প্রসঙ্গে
এখন ফিজি ওয়াটারের কর বিষয়ক মর্যাদা প্রদানের বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে। এখন বাইনিমারামা বলছে যে সরকার বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে কোন কিছু ইজারা দেবার বিষয়ে পর্যালোচনা করবে যারা ফিজির জমি ব্যবহার করে বিশাল পরিমাণে মুনাফা করছে। তিনি এর এক উদাহরণ হিসেবে ফিজি ওয়াটারকে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দাবী করেন যে কোম্পানী এই দেশে বোতল কারাখানা স্থাপন করা ইজারা বাবদ, ১৯৯৫ সালে প্রদান করা ৫০০০ ফিজি ডলার সহ ১১,০০০ ফিজি ডলার (প্রায় ৫,৫০০ মার্কিন ডলার) প্রদান করে। ফিজিতে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক অবসর বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে, যাদের সকলেই জমি এবং সেই জমিতে অবস্থিত ভবনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভূমি মালিকদের সাথে চুক্তি করেছে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে যারা ফিজির আদিবাসী নয়, তারা কিছু সুনির্দিষ্ট এলাকা ছাড়া সে দেশের জমির মালিক হতে পারে না। যে সমস্ত এলাকায় বিদেশিরা জমির মালিক হতে পারবে, তা দেশটির ১০ শতাংশের কম পরিমান এলাকা।

এই টাকাটা খুব কঠিন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতার সময় পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা সম্প্রতি বা আইএমএফ বলেছে, ২০০৯ সালে এগিয়ে যাওয়া তিন শতাংশ প্রবৃদ্ধি এ বছর শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে-২০১১ সালে মাত্র এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘটবে। এছাড়াও ফিজিকে ২০১১ সালের সেপ্টম্বর মাসের মধ্যে থেকে আইএমএফকে অবশ্যই ৩০০ মিলিয়ন ফিজিয়ান ডলার পরিশোধ করতে হবে।
চারকোণা বোতল সঙ্গীত
ব্লগে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক পানি কোম্পানীর জন্য তেমন একটা সহানুভূতি নেই।

ক্যু ৪.৫-এ এক নামহীন ব্যক্তি একটি মন্তব্য পোস্ট করেছে:

অব্যশই ফিজি ওয়াটারকে আবার তার ব্যবসা চালু করতে হবে। তারা লক্ষ লক্ষ টাকা কামাচ্ছে। টাকা তাদের জন্য কিছুই না। তারা কোটিপতি..। তারা তাদের টাকা তৈরির কারখানা বন্ধ করে দেবে না। জন কোহরান বলেছেন তারা ফিজির জনতা এবং অর্থনীতির প্রতি যত্নশীল তারা আসলে নিজেদের পকেট ভরানোর প্রতি যত্নশীল…।
কাজে ফ্রাঙ্ক… আশা করি ১৫ শতাংশ কর অর্থনীতি এবং এর জনতার কাছে গিয়ে যোগ হবে এবং তার বিপরীতে ফ্রাঙ্ক এবং তার বন্ধুদের পকেটে যাবে না।

ফিজি টুডেতে ডুনা মন্তব্য করেছেন, তিনি লিখেছেন:

এখানে কর প্রদানের দায় কমিয়ে আনা এবং অন্য কোথাও ট্যাক্স প্রদানের মূল্যায়নের বিষয়টি উপলব্ধি করা।
এতে ফিজি ওয়াটার লাভবান হবে।
এক বাক্স ফিজি ওয়াটার পানির বোতলের মূল্য ২৫ থেকে ৪০ ডলার।
তারা সেখানে প্রচণ্ড লাভ করছে আর ফিজি এর জন্য কেবল সামান্য অর্থ পাচ্ছে।
দেশটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর জন্য অদ্যাবধি “উৎস” কর আইনকে সুনির্দিষ্টভাবে পরিষ্কার করেনি।
আমি দেখতে পাচ্ছি শীঘ্রই তা ঠিক করা হবে।

ফিজি: দি ওয়ে ইট ওয়াজ, ইজ এন্ড ক্যান বি-তে ওয়াটার আন্ডার দি ব্রীজ? ফরগেট ইট মন্তব্য করেছে:

ফিজি ওয়াটার নিয়ে আসলে কি ঘটছে? একজন কেবল এই সিদ্ধান্তে আসতে পারবে যে, বিগত ২৪ ঘন্টায় সে যে আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে, সেটা তাকে এই রকম অপমানজনকভাবে পিছু হটতে বাধ্য করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাইট যেমন মাদার [জোনস] দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের কাছ থেকে ফিজি ওয়াটার সম্বন্ধে ক্ষতিকর মন্তব্যের ঢেউ আসতে শুরু করেছে, যারা কর প্রদান না করার প্রচেষ্টায় ইউরোপের যে সমস্ত জায়গা কর প্রদানের জন্য স্বর্গ এবং কেইম্যান আইল্যান্ডে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। এই অসাধারণভাবে মুখোমুখি হবার সাথে কি এর কি কোন সম্পর্ক রয়েছে?….

ভয়ঙ্কর ভাবে আচরণ ভঙ্গের জন্য ফিজি ওয়াটারকে নেতাদের এবং জাতির কাছে ফিজির ঐতিহ্যবাহী প্রথায় ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন। আমি দেখতে চাই এই বিরক্তিকর ঘটনার পর তার দয়া ভিক্ষা করছে অথবা চিরতরে এই দেশটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এক ক্ষুব্ধ শাসকগোষ্ঠী ছাড়া, সাধারণ জনতার কাছে তাদের যে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে তা ঠিক করতে অনেক লম্বা সময় লাগবে।

ফিজি ওয়াটার হয়ত একটা ভালো পণ্য কিন্তু তাদের মালিকরা বেজন্মা, যারা পুরো আমাদের জাতীয় সম্পদের এক ন্যায্য অংশ প্রদান না করার জন্য পুরো জাতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে যেতে চায়। লজ্জা, লজ্জা, লজ্জা

কিউই ওয়াটার?
ফিজিতে এখন আলোচনা পাল্টে ফিজি ওয়াটার কি উপায়ে কর প্রদান করতে যাচ্ছে সে বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গুজব রয়েছে যে ফিজি ওয়াটারের মালিক, কোটিপতি আমেরিকান দম্পতি স্টুয়ার্ট ও লিন্ডা রেসনিক ২০০৮ সালে স্প্রিং ফ্রেশ নামক বোতলজাত পানি কোম্পানী কিনে নিয়েছে। এটি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের বাইরে অবস্থিত। তারা ২০০৮ সালে কোম্পানিটি কেনে। সে সময় যখন প্রথমবারের ফিজি সরকার পানির বোতলের উপর কর ধার্য করে তার ঠিক একমাস পরে তারা কোম্পানিটি কিনে নেয়। এই বিষয়টি কিছু ব্লগার এবং ফোরামে লেখা পোস্ট করা ব্যক্তির নজর এড়িয়ে যায়নি।

ফিজি বোর্ড এক্সাইলে রিয়াল জ্যাক দাবি করছে:

আমরা এমন এক জয় লাভ করেছি, যাতে ভবিষ্যতে আমাদের ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে (পিরুয়িক ভিক্টরি)….

এই পরিমাণ কর প্রদান করতে হলে প্রতি মাসে তাদের ৩.৫ মিলিয়ন পানি উৎপন্ন করতে হবে।

কাজেই এর মানে হচ্ছে যে সেই নির্দিষ্ট পরিমাণ করা প্রদান এড়ানোর জন্য তারা প্রতি মাসে ৩.৫ মিলিয়ন লিটার পানি উৎপন্ন করবে না। তারা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছে যে তারা এই পরিমাণ করের বোঝা বহন করতে পারবে না।

এর মানে হচ্ছে পানি উৎপাদনের পরিমাণ কমে আসবে এবং আমাদের পানি রপ্তানির পরিমাণ কমে আসবে।

এই সমস্ত ব্যক্তিরা গত বছর ১৩০ মিলিয়ন ফিজি ডলার সমমানের পানি বিক্রি করে- তারা বছরে ৬০ মিলিয়ন লিটার পরিমাণ পানি বিক্রির কাছে চলে যায়, যার মানে এই সময় প্রতি মাসে ৫ মিলিয়ন লিটার পানি তারা উৎপন্ন করেছে।

তার মানে যদি তাদের প্রতি মাসে ৩.৫ মিলিয়ন লিটারের কম পানি উত্তোলিত করতে হলে তাদের উৎপাদন বছরে ৪০ মিলিয়ন লিটারের নীচে নামিয়ে আনতে হবে।

তার মানে বছরে ২০ মিলিয়ন লিটার পানি রপ্তানী কমে আসবে, সম্ভবত তারচেয়েও বেশী।

এই ২০ মিলিয়ন লিটার অন্য কোথাও থেকে আসবে। কারণ তারা যে পরিমাণ পানি সররাহ করার চুক্তি করেছিল সেই পরিমাণ পানি তাদের প্রয়োজন-এবং এ কারণে নিউজিল্যান্ডের কোন জায়গায় তাদের পানির উৎস করা হয়েছে।

তার অর্থ খুব সাধারণ, (ক)আমাদের পানি রপ্তানির পরিমাণ কমে আসবে- তার মানে ফিজিতে আগের চেয়ে কম টাকা আসবে: (খ) সরকার যে ২২ মিলিয়ন টাকা কর হিসেবে পাবার পরিকল্পনা করছে, তা তারা পাবে না।

এখানে উভয়ের জয়ের সম্ভবনা নেই।

ফিজি ওয়াটার জিতবে।

এখানে ব্যবহার করা ছবি উইকিমিডিয়া কমন্সের ভার্নে ইকুইনক্সের

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .