বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

পূর্ব তিমুর: বৃষ্টির ফলে খাদ্য ঘাটতি আর রোগের সম্ভাবনা

এই বছরে তিমুরে স্বাভাবিক শুকনো আবহাওয়া ছিলনা। দেশটার বেশীরভাগ স্থানে বৃষ্টি হয়েছে সারা বছর, ‘লা নিনার‘ ফল (আবাহাওয়া বিষয়ক এল নিনোর সাথে সম্পর্কিত)। রাজধানী দিলি লাগাতার ঢুবে যাচ্ছে হঠাৎ বন্যায়। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার ব্যাপারটি, আর তার থেকেও বেশী দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে যে কৃষকরা বেশী জায়গায় গাছ রোপন করেননি, যেহেতু তারা অভ্যস্ত না বৃষ্টিতে মাঠ প্রস্তুত করতে।

কৃষকরা নষ্ট এক ধানগাছ দেখাচ্ছে। ছবি ফ্লিকার থেকে ইউনাইটেড নেশনস ফটোর সৌজন্যে, সিসি লাইসেন্সের আওতায় প্রকাশিত

পূর্ব তিমুর অন্য সময়ে খাদ্য আমদানিকারক, শহরের সব বাসিন্দাদের খাদ্য যোগান করার মতো আর দুই ফসলের মধ্যে ‘ক্ষুধার্থ সময়’ পার করার মত উদ্বৃত খাদ্য থাকে না। কিন্তু এই বছর পরিস্থিতি বেশ নাজুক।

মার্সি কর্পস ‌এর ত্রাণকর্মী জিম জার্ভি ব্যাখ্যা করেছেন:

সাধারণত পরিবারগুলো জানুযারী আর ফেব্রুয়ারীতে দুই মাস পর্যন্ত স্বল্প খাদ্যের সময়ের জন্য প্রস্তুতি নেয়, কিন্তু এই বছরের বিশেষ অবস্থার মানে হলো তারা বেশ কয়েক মাস ধরে খাদ্যের অভাবে ভুগছিল, যদি ভাগ্য ভাল থাকে তাহলে পরবর্তী ফসল চার মাস পরে তুলবে। […]

সমস্যা বাড়াবার জন্য, যে সকল রাস্তা এই রাজধানী দিলির অভাবী মানুষের সাথে মেশে সেগুলো উচুঁ পাড় দিয়ে ভেঙ্গে পড়ছে যেহেতু অতিরিক্ত পানি রাস্তা দিয়ে নেমে আসছে শত শত ফুট নালাতে। এইসব অভাবী পরিবারের বিছিন্ন অবস্থায় কোন সাহায্য নেই। আর তাদের কথা বলার ক্ষমতা কম।

দা দিলি ইনাসাইডার ব্লগ একটি সাধারণ চিত্রের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে বিগত কয়েক বছরে এই সময়ে পূর্ব তিমুর নিজেকে এই পরিস্থিতিতে পেয়েছে যে আমদানী করা চালের জাহাজের অপেক্ষায় থেকেছে।

২০০৬ সাল থেকে, সরকার চাল আমদানী করছে আর ভর্তূকি দিচ্ছে। বিগত বছরগুলোতে, এইসকল চালের চুক্তি নিয়ে বদনাম রটেছে (দেখুন গ্লোবাল ভয়েসেস এর ২০০৯ এর কাভারেজ ‘রাইসগেট কেলেঙ্কারী’)। এখনো পরিষ্কার না যে এইসব আমদানী করা চালের কতোটা এইসব খাদ্য সংকটের স্থানে পৌঁছায়- বেশীরভাগ মনে হচ্ছে শহরের বাসিন্দাদের কাছে গিয়েছে।

আর তিমুরের কৃষকরা যে গুরুতর পরিস্থিতির মুখোমুখি – খাদ্য আমদানী আর আমদানী করা খাদ্য পাওয়ার ব্যাপারটা আবার কেন্দ্রীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিরোধী দলীয় ব্লগার তাতোলি শাসক জোটকে সমালোচনা করেই যাচ্ছেন তাদের চাল আমদানী নীতি নিয়ে:

Maibé foos mak tama iha Timor-Leste tonelada ba tonelada mós Povu Timor-Leste barak mak la hetan foos ne'e nia oin. Povu Timor-Leste kiak tiha ona, foos mós folin karun tan fila fali, enkuantu Sr. Germano da Silva Lobato (ministra Lucia Lobato nia la'en) sa'e karreta Hummer bá-mai hodi soe rai-rahun ba Povu ki'ik-kiak.

টনের পর টন চাল যে তিমুরে আসে অনেক মানুষ তা দেখে না। তিমুরের মানুষ এমনিতেই গরিব, চালের দাম আবার বেড়ে যাবে, আর জনাব জেরমানো দা সিলভা লোবাতো [বিচার মন্ত্রী লুসিয়া লোবাতোর স্বামী যার চাল আমদানীর চুক্তি আছে] হাম্মার গাড়ি চড়ে গরিব মানুষের উপরে ধুলা উড়িয়ে বেড়াবেন।

অর্থনীতিবিদ ব্লগার ও প্রফেসর আলমেইদা সেরা বিশ্বাস করেন যে সাম্প্রতিক সময়ের মূল্য বৃদ্ধি ভর্তুকি পাওয়া আমদানী করা চালের কারনে হচ্ছে। অক্টোবরের শেষের দিকে তিনি বলেছেন:

Para a subida da taxa de inflação terá contribuído, nomeadamente, o quase desaparecimento do mercado do “arroz do MTCI”, subsidiado, sendo substituido por arroz importado comercialmente. Por exemplo, a taxa homóloga de inflação dos “cereais, raízes e seus produtos” — onde se inclui o arroz e que representa 13,1% do cabaz do IPC — foi, nos meses de Junho a Setembro, respectivamente de 14,1%, 16%, 11,1% e 11,3%.

ভর্তুকি দেয়া ‘এমটিসিআই [পর্যটন, বাণিজ্য আর শিল্প মন্ত্রণালয়] চাল’ বাজার থেকে প্রায় গায়েব, আর এর স্থানে এসেছে বাণিজ্যিকভাবে আমদানী করা চাল, যা এই মূল্য বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে। উদাহরণ স্বরুপ, ‘সিরিয়াল, টিউবার আর এই জাতীয় পণ্যের’ (যেখানে চাল ব্যবহৃত হয় -১৩.১% চাহিদার সমান) মূল্যবৃদ্ধির হার জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে ছিল ১৪.১%, ১৬%, ১১.১% আর ১১.৩%।

ব্লগাররা চালের ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপে ভিন্নতা সম্পর্কে জানিয়েছেন। ‘নোতিসিয়া নেগোসিও’ (বাণিজ্য সংবাদ) এর লিটা লিখেছেন:

Iha fulan Outubru 2010 MTCI sei hamenus intervensaun foos iha merkado, tamba fo hikas ona k’nar ba empresarios sira hodi nune’e MTCI sei hare deit ba assuntos emergencia no sei atende deit iha fatin nebe’e deficil acesso ba mercado ( areas remotas ou rurais)

অক্টোবর মাসে পর্যটন, বাণিজ্য আর শিল্প মন্ত্রনালয় [এমটিসিআই] চালের বাজারে তাদের হস্তক্ষেপ কমাবে, কারন তারা এটা ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে দিয়েছেন যাতে এমটিসিআই জরুরি বিষয় দেখতে পারে আর তাদের দেখাশোনা করতে পারেন যারা বাজারে সহজে যেতে পারেন না (গহীন ও দুর্গত এলাকা)।

একটা জিনিষ পরিষ্কার: সামনের কয়েক মাসে পূর্ব তিমুরে খাদ্য বিতরণে ভুলের কম সুযোগ থাকবে।

মশা বাহিত রোগ
এই বৃষ্টির আর একটি সম্ভাব্য প্রভাব হচ্ছে মশা দ্বারা বাহিত অসুখ যেমন ম্যালেরিয়া আর ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। স্থানীয় মিডিয়া জানিয়েছে শিশুদের অক্টোবর মাসে হাসপাতালে ভর্তি বৃদ্ধির কথা যেখানে রোগী আর ডাক্তার উভয়ে লাগাতার বৃষ্টিকে কারন হিসাবে দেখিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক ডেঙ্গু ট্র্যাকিং দেখিয়েছে যে সেপ্টেম্বরে পূর্ব তিমুরে, বিগত বছরের থেকে দ্বিগুন ডেঙ্গুর কেস রিপোর্ট করা হয়েছে। তাদের সংবাদ জানিয়েছে:

The World Health Organization's regional tracking of dengue revealed that as of September in East Timor, more than two times as many cases had been reported than in all of the previous year. Their briefing states:

বিভিন্ন দেশে সম্ভাব্য ডেঙ্গু রোগ বৃদ্ধির কারন একেবারে স্পষ্ট না, কিন্তু আবহাওয়ার ধরন, বিশেষ করে বৃষ্টিপাত এই বৃদ্ধির একটি গুরুতর কারন হতে পারে।

তিমুরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কন্ডিমাল নামে একটি দল গঠন করেছে ‘[রোগের] অস্বাভাবিক উপস্থিতি বা ছড়ানো দেখা যা বর্ষার সময়ে ঘটতে পারে। মন্ত্রণালয় তাদের ব্লগে ঘোষনা করেছে:

Ekipa Kondemal sei foti asaun seriu ba kazu extraordinaria nebe mosu iha tenpu udan. Liu husi servisu konjunta entre Ministeriu Saúde liu husi Saúde Distrito, Ho autoridades local hodi hatun no halakon moras ne’e liu husi atendementu hanesan Fogin (Rega susuk), Abatisasi no intervensaun seluk mak hanesan liu husi atendementu SISCA ne’ebé hato’o husi  Meja  4.

The Kondemalবর্ষার সময়ে ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক ঘটনার ক্ষেত্রে কন্দিমাল দল গুরুতর পদক্ষেপ নেবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর জেলা স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের মাধ্যমে সম্মিলিত কাজের দ্বারা। অন্যদিকে যেখানে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বলা হবে এই সকল রোগ থেকে মুক্তি পেতে মশার স্প্রে, আবাতিসাসি [বদ্ধ জলাশয়ে আবাতি পাউডার ব্যবহার] আর অন্যান্য হস্তক্ষেপ যেমন সিস্কার [চলমান স্বাস্থ্য কেন্দ্র] মাধ্যমে চিকিৎসা ইত্যাদি নেয়া।

রবিন তাওদেভিনের ২০০৬ সালের ছবিতে বায়রো পিতে ক্লিনিকের ম্যালেরিয়া আর ডেঙ্গু রুগীরা নাটকীয়ভাবে মনে করিয়ে দেয়া যে এইসব অসুখের কি ফল হয় বিশেষ করে শিশুদের উপরে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .