বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফিজি: সরকার ফিজি ওয়াটার কোম্পানীর প্রধানকে ফিজি থেকে বের করে দেবার কারণ ব্যাখ্যা করেছে

ডেভিড রুথ ফিজি ওয়াটার কোম্পানীর ফিজি শাখার প্রধান কর্তা ব্যক্তি। তাকে ফিজি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে কারণ সে ফিজির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছিল। এই কথাগুলো বলেন ফিজির সামরিক শাসক ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা।

চীন ভ্রমণের সময় এক সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাইনিমারামা এই বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, রুথকে যে কাজের জন্য ভিসা দেওয়া হয়েছে, সে তার বিপরীতধর্মী কাজ করছিল। তিনি এ ব্যাপারে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি, কিন্তু ফিজির এই নেতা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই প্রধান পানি বিক্রেতা কোম্পানীর প্রতিনিধি, “ফিজির অভ্যন্তরীন ঘটনাবলী এবং শাসন ব্যবস্থার উপর হস্তক্ষেপ করার মাধ্যমে তিনি এমন কাজ করছিলেন যাতে সুশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এবং গণ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয় ।

ছবি ডিলিসবোনার ফ্লিকার পাতা থেকে নেওয়া

১৮ নভেম্বর রুথ ফিজি ত্যাগ করার পর থেকে ফিজি সরকার এই বিষয়টি এমন এক চেহারা দেবার চেষ্টা করছে যেন বিষয়টি ফিজি নামক রাষ্ট্র এবং একজন ব্যক্তির মধ্যে চলা এক দ্বন্দ্বের বিষয়। তথ্য সচিব শ্যারণ স্মিথ-জন বলছেন সরকারের লক্ষ্য কোটি কোটি টাকার মালিক এই পানি কোম্পানী নয়। ফিজি ওয়াটার নামক এই কোম্পানিটি ফিজির নাম বহন করছে। ভদ্রমহিলা একই সাথে এই দ্বীপ রাষ্ট্রের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে এখনকার বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশের বিষয়টি সম্বন্ধে নিশ্চিত করেছেন।

আয়কর পরিস্থিত

১৯৯৭ সাল থেকে ফিজি ওয়াটার যুক্তরাষ্ট্রে পানি সরবরাহ করে আসছে এবং বর্তমানে বিশ্বের ৪০টি দেশে এই পানি পাওয়া যায়। ২০০৪ সালে মার্কিন কোটিপতি স্টুয়ার্ট এবং লিন্ডা রেসনিক প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে ব্যয়ে এই প্রতিষ্ঠান কিনে নেয়। সে বছর এই প্রতিষ্ঠানটি ফিজিতে গ্রহণযোগ্যভাবে চাকুরির বাজার তৈরির জন্য বাণিজ্যে অসাধারণ কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেটস পুরষ্কার লাভ করে। বর্তমানে ফিজি ওয়াটার বছরে ১৫০ মিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানী করে। এই প্রতিষ্ঠানে ৩৫০ জন স্থানীয় ব্যক্তি কাজ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়ন প্রকল্পে বছরে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে। “তবে তা সাধারণভাবে যে ৩০ শতাংশ বাণিজ্যিক কর প্রদান করবে তার চেয়ে এগুলো অনেক কম” – সিডনি মনিং হেরাল্ড পত্রিকায় হামিশ ম্যাকডোনাল্ড এই কথাগুলো লিখেছেন

প্রাথমিক ভাবে শুরু করা এক কোম্পানী হিসেবে ফিজি সরকার ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে কর মুক্ত প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা প্রদান করেছিল। সে বছরে বাইনিমারামার সরকার দেশটির সকল পানির বোতলের উপর ২০ শতাংশ কর ধার্য করার প্রস্তাব করেন। এতে পানি বোতলজাত কোম্পানিগুলো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং এই গোলমালের সময় ফিজি ওয়াটার ইয়াকারা উপত্যকায় অবস্থিত তার কারখানাটি কিছুদিনের জন্য বন্ধ করে দেয়, ঘটনাক্রমে সরকার এই কর বাতিল করে। ফিজি সরকারের কাছে আগামী বছর ১৫০ মিলিয়ন বন্ড জমা হচ্ছে, ম্যাকডোনাল্ড ধারণা করছেন বাইনিমারামা তার কর পরিকল্পনার বিষয়টি হয়ত পুনরায় বিবেচনা করবে।

তবে সবাই কাজটি একবাক্যে সমর্থন করেনি। ফিজির প্রতিরক্ষা এবং অভিবাসন মন্ত্রী রাটু এপিইলি গানিলায়ু এই ঘটনার পর সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। রুথের ঘটনায় তিনি ভিন্ন অবস্থানে থাকার দাবী করেন। গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তাকে রুথের বহিষ্কারের কাগজে সই করতে বলা হয়েছিল এবং তিনি তা করতে অস্বীকার করেন।

ব্যবসার জন্য এক স্বর্গ?

ফিজি: দি ওয়ে ইট ওয়াজ, ইজ এন্ড ক্যান বি এর লেখক ক্রসবি ওয়ালস বলেন, রুথের ঘটনায় সরকার নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করল।

পাঠকদের সাথে আমি একমত যে, কারণ যাই হোক ফিজি ওয়াটারের প্রধানকে চলে যেতে বাধ্য করে সরকার বড় ধরনের এক ভুল করল। এটি ব্যক্তিগত বিষয়, বা ফিজি ওয়াটারের আয়করের বিষয়ে হোক না কেন, যদি সত্যি সে খুব বেশি ফিজির আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়ে থাকে, তারপরেও এই বিষয়টিকে আরো এবং উপযুক্ত ভাবে এবং সময়ে মোকাবেলা করা যেত।

মনে হচ্ছে সরকার বাড়াবাড়ি রকমের প্রতিক্রিয়া ছাড়া তার অবস্থানের ব্যাপারে যে সমালোচনা বা প্রশ্নকে মোকাবেলা করতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক। বিনিয়োগকারী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সরকার সে যে সঙ্কেত দিচ্ছে তা খুব বেশি ভরসার নয়, বিশেষ কর ফিজি ওয়াটার যেখানে এক আমেরিকার কোম্পানী এবং আমেরিকা সম্প্রতি ফিজির সঙ্গে সম্পর্ক সৌহার্দমূলক সম্পর্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। খোকার দস্তানা পরা হাত কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরির কারণে বাড়ানো উচিত, আক্রমণের লক্ষ্যে ঘুষি পাকানোর জন্য নয়।

ওয়ালেশ মনে করছেন যে, নিউজিল্যান্ড সরকারের সাথে চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওর্য়ানার ব্রাদার্সের মধ্যে যে অচলবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, পরিস্থিতি অনেকটা সে রকম। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক এই চলচ্চিত্র কোম্পানী যদি হবিট ভিত্তিক (দি লর্ডস অফ দি রিং উপন্যাসের চরিত্র থেকে তৈরি কাহিনী) দুটি ছবি নিউজিল্যান্ডে বানায় তাহলে সে দেশটিকে কর প্রদান করবে না বলে জানায় (এবং প্রতিষ্ঠানটি নিউজিল্যান্ডের শ্রম আইন মানতে অস্বীকার করে)। শেষ পর্যন্ত সরকার নিউজিল্যান্ডে ছবি বানানোর খাতিরে ওর্য়ানার ব্রাদার্সের অনেক দাবি মেনে নেয়।

এক মন্তব্যে প্রাউড ফিজিয়ান এ ব্যাপারে খানিকটা একমত পোষণ করেন:

এখানে কেবল যে একটি পার্থক্য রয়েছে, তা হচ্ছে ওর্য়ানার ব্রাদার্সের জন্য অন্য কোথাও ছবি বানানোর সুযোগ ছিল কিন্তু ফিজি ওয়াটার নামক কোম্পানীতে যে পানি ব্যবহার হয় তা কেবল ফিজির পানি।

আমাদের এমন এক বিনিয়োগকারীর প্রয়োজন যারা ফিজিতে স্বেচ্ছায় কর প্রদান করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে। আমাদের যা ভাবতে বাধ্য করছে, তা হচ্ছে এই বিষয়টি ফিজিতে বিনিয়োগকারীদের আগমন হয়ত থামিয়ে দেবে।

আসলে এই কাজটি করার মধ্যে দিয়ে আমরা তাকে বেছে নেব, যাকে আমরা আমাদের ব্যবসায়িক অংশীদার ভাবব, যে ফিজিতে বিনিয়োগ করবে-এক নৈতিক কোম্পানী হিসেবে, উভয়ের কাজে উভয়ে লাভবান হব এমন মনোভাব নিয়ে যে কাজ করবে।

ফিজি বোর্ড এক্সাইল ব্লগে রিয়াল জ্যাক যুক্তি প্রদান করছে যে সরকার এই লড়াইকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে নিজের সুনাম হানি করেছে।

গতকাল [স্থায়ী তথ্য সচিব ] শ্যারন জোনস এক সংবাদ প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি বলেন যে তারা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে ব্যাখ্যা করবেন, এই পরিস্থিতি কেবল রুথ এবং সরকারের মধ্যে ঘটা এক ঘটনা.. হায় হায় হায়- এতদিন ধরে ভদ্রমহিলা যে সমস্ত বিবৃতি প্রদান করেছে এটি সম্ভবত তার মধ্য সর্বোচ্চ নির্বোধ বিবৃতি- ভদ্রমহিলা সম্ভবত এর প্রায়োগিক দিক এবং গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেননি–

মূলত এখানে যা সে বলছে তা হচ্ছে সরকার যখন চায়, তখনই একজন ব্যক্তিকে লক্ষবস্তু বানাতে পারে এবং যখনই সে রুথের মত এক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে চায়, তখন আইন বা আদালতের মত প্রতিষ্ঠানের কোন প্রয়োজন পড়ে না- রুথের ক্ষেত্রে ঠিক এ ঘটনাই ঘটেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে প্রদান করা এ এক ভয়াবহ বিবৃতি-কারণ, এর মানে হচ্ছে সরকার নিজেই জনগণকে পীড়ন করতে শুরু করেছে-রুথের ক্ষেত্রে ঘটা ঘটনা এ ধরনের এক কাজ।

ফিজি টুডেতে, সা রুয়াটা ভিনাকা বলছে রুথের এক ভিন্ন ধরনের লড়াই করা উচিত ছিল

যদি রুথ তার বেতনভুক্ত কৌতুকাভিনেতাদের (গানিলুয়াস ও নায়ুলুকায়াস) ব্যবহার করার বদলে দ্রুত সংসদীয় প্রতিনিধিদের এবং ফিজির জনতার জন্য গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য দেন দরবার করে, সকল কিছুকে মুক্ত রাখা আইজির সাথে কথা বলে সবাইকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে, সেক্ষেত্রে রুথের এই বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আমার সহানুভূতি রয়েছে । আমার প্রতিবেশী আমাকে বলেছে দেশটিতে চারপাশে তারা যে নানা ধরনের ব্যয়ভার গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে তাতে তাদের জন্য এই সমস্যা একটা বাদাম ভাঙ্গার মত কাজ এবং এক সহজ সুযোগ।

ছবি ফ্লিকার ব্যবহারকারী ডিলিসবোনার পাতা থেকে

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .