বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ফিজি ওয়াটার নামক কোম্পানীর কাছে ফিজির সরকার কি চায়?

ব্লগার এবং সাইবার জগৎ-এর প্রধান আলোচনাকারীরা ধারণা করার চেষ্টা করছেন, ফিজির সামরিক সরকার কি ফিজি ওয়াটার নামক পানি বিক্রেতা কোম্পানীর প্রধানকে যুক্তরাষ্ট্রে নিজ দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

সরকারের মুখপাত্র ভদ্রমহিলা নিশ্চিত করেছে যে, পানি বিক্রেতা এই কোম্পানীর প্রধান ডেভিড রুথ বৃহস্পতিবার রাতে (ফিজির স্থানীয় সময়ে) বিমানে করে লস এঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে, কিন্তু তার এই ভাবে চলে যাবার বিষয়ে সরকার আর বিস্তারিত কোন সংবাদ প্রদান করেনি। ফিজির সামরিক শাসক ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা, আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত চীন ভ্রমণে রয়েছেন এবং উক্ত মুখপাত্র জানান, যখন বাইনিমারামা ফিরে আসবেন, তখন তিনি পরিস্থিতি সম্বন্ধে ভাষণ দেবেন।

ছবি ম্যাগপাই৩৭২এর ফ্লিকার এর পাতা থেকে নেওয়া।


মি:রুথের চলে যাবার দুদিন আগে ফিজির প্রতিরক্ষা এবং অভিবাসন মন্ত্রী রাটু এপেইলি গানিলায়ু সরকার থেকে পদত্যাগ করে। দাবী করা হয়, রুথের ঘটনায় ভিন্নমতের কারণে সে পদত্যাগ করে। এ সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, রুথ এবং তার পরিবারের ব্যক্তিগত বন্ধু গানিলায়ু ফিজি ওয়াটার কোম্পানীর এই প্রধান নির্বাহীর দেশ ত্যাগের আদেশে সই করতে অস্বীকার করেছিল।
গানিলায়ু প্রচার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন এবং রুথকে নিয়ে তার এবং সরকারের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু তিনি এ ব্যাপারে আর বিস্তারিত কিছু জানাননি।

উত্তর ‘ভিটি লেভু’ এলাকার ইয়াকারা উপত্যকায় ১৯৯৬ সালে ফিজি ওয়াটার কোম্পানী পানি বোতলজাত করতে শুরু করে। ‘ভিটি লেভু’ ফিজির সবচেয়ে বড় এবং সর্বোচ্চ জনসংখ্যা অধ্যুষিত দ্বীপ। এক বছর পর কোম্পানিটি যুক্তরাষ্ট্রে পানি রপ্তানী করতে শুরু করে। যদি পরিমাণে প্রচুর নয়, কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪০ টির মত দেশে কোম্পানীর বিশ্বস্ত অনুসারী এবং গ্রাহক পাওয়া যাবে। কোম্পানীর নিজস্ব সদস্যদের সূত্রানুসারে ফিজির রপ্তানী আয়ের ২০ শতাংশ আসে ফিজি ওয়াটার থেকে এবং এটি স্থানীয় ৩৫০ জন লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার সংবাদপত্র ধারণা করছে যে, রুথকে হয়ত সামরিক সরকার বহিস্কার করেছে, যারা উক্ত পদে একজন স্থানীয়কে দেখতে চায় অথবা সম্ভবত এমনকি যে এলাকায় থেকে ফিজি ওয়াটার পানি সংগ্রহ করে, সরকার সেই এলাকা দখলে নিতে চায়।

রুথকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ ছড়িয়েছে, এখন পর্যন্ত তার যেমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নেই। তেমনি সরকারের এ বিষয়ে পরবর্তী কোন কর্মকাণ্ডের কোন সংবাদ নেই। ব্লগ কু ৪.৫ এর একজন মন্তব্যকারী দিম্যাক্স সকলকে এক গভীর শ্বাস নেবার জন্য বলছে

কিসের এত শঙ্কা? বিষয়টা এমন নয় যে, ফিজি ওয়াটার নামক প্রতিষ্ঠানকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে।

ফিজির বর্তমান নেতারা চাইছে মি: রুথ ফিজি থেকে চলে যাক। হয়ত কাজের অনুমতি লাভের ক্ষেত্রে নিয়মের লঙ্ঘনের কারণে তাকে চলে যেতে বলা হয়েছে। অথবা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের অপেক্ষা করতে এবং দেখতে হবে, কখন চীন থেকে বাইনিমারামা ফিরে আসে এবং বিষয় সম্বন্ধে সবাইকে সঠিক সংবাদ প্রদান করে।

হয়ত অবসরে যাওয়া এপেইলি গানিলায়ু দেশের প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী হয়ে থাকার চেয়ে রুথের বন্ধুত্বকে বেশী মূল্য দিয়েছে।

মি:রুথ ফিজি ওয়াটারের একজন কর্মচারী মাত্র। এই কোম্পানীর মালিকানা আমেরিকার কোটিপতি দম্পতি স্টুয়ার্ট এবং লিন্ডা রসেনিকস-এর। কাজেই যে সমস্ত ব্যক্তিরা এই ঘটনায় নাচানাচি করছে তারা শান্ত হউন এবং নিজের কাজ করে যান।

আলোহাবুলা১ ফিজি বোর্ড এক্সাইলে লিখেছে যদি প্রকৃতপক্ষে রুথকে বের করে দেওয়া হয়, তাহলে সরকার গণ সংযোগের ক্ষেত্রে এক বড় ধরনের ঝামেলা তৈরি করল।

বিদেশে রপ্তানী করা সকল পণ্য যতটা ফিজির পরিচিতি তুলে করছে, ফিজি ওয়াটার তারচেয়ে বেশী ফিজির পরিচিতি তুলে ধরেছে। বিপণন যতটা করা হয়েছে, তাকে এক বিশাল অর্জন বলা যেতে পারে। তবে এর এক উল্টো দিক রয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে সবাই জেনেছে যে ফিজি ওয়াটার-এর প্রধানকে কোন আইনী কারণ ছাড়াই ফিজি ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ফিজির কথা বললেই সুন্দর সুন্দর ঝর্ণা এবং নারকেল গাছ ও ক্রান্তীয় অঞ্চলের ফুলের ছবি তৈরি হয়। কিন্তু এই ঘটনা, ক্ষণস্থায়ী শাসন, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা, বৈধ এক বিনিয়োগকারীকে হুমকি প্রদান করে কিছু আদায় করার মত এক চিত্র তৈরি করে। যদি ফিজি এই ধারণা পরিবর্তনের জন্য দ্রুত কিছু না করে, তাহলে শীঘ্রই বেশ কিছু ঘটনা ঘটে যাবে।
১. যদি অবৈধভাবে এর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ফিজি ওয়াটার নিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে কেউ কি আর কখনো তা কিনতে যাবে?
২. পূর্বে অন্য যে সমস্ত পোস্টারে যা বলা হয়েছে, সেটা কি পরবর্তী ২০ বছরের জন্য অন্য সব বিনিয়োগকারীদের ভীত করে তুলবে।
৩. বিশ্বের কাছে ফিজির চিত্রটি কেমন হবে
৪.ফিজি ওয়াটার ফিজিতে যথেষ্ট পরিমান গণ সংযোগ এবং সমাজ সেবার কাজ করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিতে অন্তত তারা সমর্থন যোগ্য এবং এটাই তাদের পুরষ্কার?
৫. সরকার কি ফিজি ওয়াটার থেকে কর লাভ করে না, মনে হচ্ছে না নিজস্ব আয়ের পথ বন্ধ করার এটাই ভালো সময়?

প্রায় দুই বছর আগে ফিজির সরকার ফিজি ওয়াটার কোম্পানীর প্রতি লিটার পানির উপর ২০ সেন্ট কর ধার্য করার চেষ্টা করে, কিন্তু লম্বা এক লড়াইয়ের পর সংসদে এই প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। সে সময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে বোতলজাত পানি কোম্পানিটি হুমকি প্রদান করেছিল, যদি সরকার এ ক্ষেত্রে কর আরোপ করে, তাহলে তারা উৎপাদন বন্ধ করে দেবে।

মেরা ফিজি মহান যুক্তি প্রদান করেছে যে, প্রতিষ্ঠানটি নিজে নিজেকে প্রান্তিক অবস্থানে পরিচালিত করেছে।

সত্য হচ্ছে, তারা খারাপ কিছু রাজনীতিবিদকে কৌশলে কাজে লাগিয়েছে, যে সমস্ত রাজনীতিবিদেরা তাদের এই ব্যবসাকে “কর মুক্ত” (অথবা প্রায় তার কাছাকাছি) ব্যবসার মর্যাদা প্রদান করেছে।

তারা আমাদের পানির উৎস শূন্য করে ফেলছে, তাদের নিজেদের পণ্য এমনভাবে বিপণন করছে যে, তারা পরিবেশ বান্ধব কোম্পানী। তারা আমাদের উপকূল প্লাস্টিকের আবর্জনা দিয়ে ভরে ফেলছে, সরকারি কর্মকর্তাদের কিনে নিচ্ছে… এখন তারা আবিষ্কার করছে যে তারা কেবল সরকারকে কিনতে পারছে না।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .