বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

বাংলাদেশ: ভূমি দখল আর বিক্ষোভ

বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে আর বাড়ি নির্মানের জন্য ভূমির চাহিদা বাড়ছে। যেহেতু এরই মধ্যে এটাকে ঘন বসতিপূর্ণ দেশ হিসাবে বিবেচনা করা হয়, গৃহ নির্মানের জন্য খালি স্থান পাওয়া বেশ কষ্টকর কাজ। রাজনৈতিক আর বানিজ্যিক বড় বড় কোম্পানিগুলো সরকারী আর বেসরকারী ভূমি দখল করে যাচ্ছে আর নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রায় ক্ষেত্রেই কিছুই করতে পারেনা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার জন্য।

পানোস লন্ডনে প্রকাশিত একটি পডকাস্ট রিপোর্টে শাহজাহান সিরাজ বর্ণনা করেছেন ভূমির মালিকরা কিভাবে ভিখারিতে পরিণত হচ্ছেন ভূমি বিরোধের কারনে:

বাংলাদেশের আদালতে মামলা গুলোর সর্ববৃহৎ কারণ ভূমি বিরোধ। এগুলোতে সাধারণত ধনী আর ক্ষমতাশালীরা জেতেন।

রাজধানী ঢাকার কাছে রূপগঞ্জ উপজেলাতে সম্প্রতি বাংলাদেশীরা আর একধরনের ভূমি দখল দেখেছেন। ভূমি মালিকদের বিক্ষোভ ভয়ঙ্কর রুপ নেয় যখন ৫০ জনের বেশী আহত আর ১ জন নিহত হন (তিনজন এখনো নিখোঁজ আছেন) নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে। অন্তত ১০০০০ মানুষ সরকার কর্তৃক রূপগঞ্জে একটা সেনা গৃহনির্মাণ প্রকল্পের জন্যে ৫০০০ বিঘা (প্রায় ১৬৫৩ একর) ভূমির অধিগ্রহণের সিদ্ধান্তের বাতিলের দাবি করছিলেন। পুলিশ প্রায় ৪০০০ জনের বিরুদ্ধে ভাংচুরের অভিযোগ করেছে কারণ তারা একটা সেনা ক্যাম্পে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে

মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে ৬ মাস আগে সেনা রূপগঞ্জ উপজেলাতে ৪টি ক্যাম্প স্থাপন করে আর সেখান থেকে ভুমি অধিগ্রহণের কাজ করতে থাকে। স্থানীয়রা বলেছেন যে ওইসব ক্যাম্পের লোকেরা তাদেরকে বাধ্য করছিল খুব সস্তায় জমি বিক্রির জন্য।

সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ কর্তৃপক্ষ (আইএসপিআর) একটি প্রেস রিলিজে অভিযোগ করেছে যে একটি স্বার্থান্বেষী দল স্থানীয় ভূমিমালিকদের উস্কিয়ে দিয়েছে এলাকায় সেনাসদস্য আর সেনা গৃহনির্মাণ প্রকল্প সম্পর্কে ‘ভীতিজনক’ আর ‘শত্রুতামূলক’ রটনা রটিয়ে। তারা অস্বীকার করেছে সেনা ক্যাম্পে স্থাপনের কথা এবং বলেছে যে সেখানে সেনা সদস্যদের অস্থায়ী অফিস করা হয়েছিল প্রকল্পের সুবিধার জন্য।

এইচ এস প্রকল্পের মানচিত্র। ছবি দিনমজুর ব্লগের সৌজন্যে।

কিছু ব্লগার এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। সামহোয়্যারইন ব্লগের লেখক দিনমজুর সেনা গৃহায়ন প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন আর বলেছেন যে কিভাবে সেনাসদস্যরা এই প্রকল্পের জন্য এতো ভূমি (১৬৫৩ একর) অধিগ্রহণ করার কঠিন কাজে এগিয়েছেন:

জমি কেনা বেচার সামান্য অভিজ্ঞতা যার আছে, তারা সহজেই বুঝবেন, একসাথে এত জমি কখনই সেচ্ছায় মানুষের কাছ থেইকা কিনা যায়না। ভিটাবাড়ি, পারিবারিক কবরস্থান এবং টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন কৃষি জমিটুকু কে-ই বা স্বেচ্ছায় বেচতে চায়! [..]

ফলে আর্মি তেরছা রাস্তা ধরলো। [..] ইউনিফর্ম এর জোর দেখায়া তারা ২৪ টি মৌজায় সব ধরণের জমি কেনা বেচা বন্ধ কইরা দিল। তাগো সাফ কথা, জমি যদি কেউ বেচতে চায় তাইলে সেনাবাহিনীর কাছে বেচতে হইব। আর জোর জবরদস্তিই যখন করতেই হইল তখন আবার ন্যায্য দাম কিসের?

এই ব্লগার কিছু প্রমান দিয়েছেন যে এই প্রকল্পের জন্য রাজউক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এখনো নেয়া হয়নি। কিন্তু সম্ভাব্য ক্রেতা সেনা অফিসারদের কাছ থেকে এই এএইচএস প্রকল্পের জন্যে এখুনি ক্রয়মূল্য পরিশোধের কিস্তি নেয়া শুরু করেছে। ব্লগার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাড়তে থাকা বানিজ্যিক উদ্যোগের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। বিবিসি সাম্প্রতিক একটা তথ্যচিত্র দেখিয়েছে যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী বড় একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

তবে, ব্লগার অস্থির পৃথিবী প্রশ্ন করেছেন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাড়িয়ে দেয়া এই সমালোচনা আর ঋণাত্মক ভাবের ব্যাপারে আর অনুরোধ করেছেন বেশী তথ্য ছাড়া সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে।

ব্লগার আর সাংবাদিক মাসকাওয়াথ আহসান সামহোয়্যার ইন ব্লগে এই ঘটনা আর দোষারোপের খেলার পেছনের রাজনীতি নিয়ে তার হতাশা ব্যক্ত করেছেন:

এখনো আমরা চালাক মানুষরা ভাবছি,আগুন লেগেছে রূপগঞ্জে। আমাদের কি। আগুন কতো দ্রুত আপনার চৌকাঠে আসতে পারে তা তো জানিনা আমরা। আমাদের বালিতে মুখ গুজে দেশপ্রেম বিলাসের নিষ্কর্মতায় আমরা নূর হোসেন, রিসিল, জামালদের লাশের অংক কষে যখন ব্রেকিং নিউজ দেখছি,

তখন যুদ্ধাপরাধীরা রূপগঞ্জের ঘটনাকে কীভাবে ঘোলা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার পন্ড করা যায় তার রেসিপি তৈরী করছে। বিএনপি এখন ত্যানা পেঁচিয়ে আওয়ামী লীগকে অজনপ্রিয় করে তুলবে। কারণ বিএনপির শয়নে স্বপনে জাগরণে শুধু ক্ষমতায় যাওয়া। দেশের চেয়ে দল বড়। মানুষের চেয়ে জমি বড়।

সামহোয়্যার ইন ব্লগে মোস্তাক খসরু লিখেছেন:

ষোল কোটি চৌচল্লিশ লক্ষ মানুষ যে দেশে বসবাস করে সেই দেশে ভুমি অধিগ্রহণের জুজুটি আইন করে বন্ধ করে দিতে হবে। [..] কৃষি নির্ভর দেশের আবাদী জমির পরিমান জ্যামিতিক হারে কমছে তা এখনি বন্ধ করতে না পারলে সামনে মানুষ মানুষের মাংশ খেতেও দ্বিধা করবে না।

রূপগঞ্জের বিক্ষোভ হয়তো বাংলাদেশীদের মধ্যে এই উপলব্ধি জাগিয়েছে যে নিম্নমধ্যবিত্তরা এই গণতান্ত্রিক দেশে সেনাবাহিনীর ভয় কাটিয়ে উঠেছে কিন্তু ক্লান্ত
মধ্যবিত্তকে জেগে উঠতে হবে।

1 টি মন্তব্য

আলোচনায় যোগ দিন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .