বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভেনেজুয়েলা: বেশ কয়েকটি অনশন ধর্মঘটের পর ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটো অবশেষে মারা গেলেন

ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটো ভেনেজুয়েলার এক কৃষক, যিনি ২০০৯ সালের জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন সময় ধরে অনশন ধর্মঘট করে আসছিলেন। তিনি সোমবার রাতে এক সামরিক হাসপাতালে শ্বাসযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেনযেমনটা গ্লোবাল ভয়েসেস এর আগে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল, গত বছরের অনশন ছিল তার অনেকগুলো অনশনের মধ্যে সাম্প্রতিকতম:

ব্রিটো ২০০৬ সালে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান জাতীয় ভূমি সংস্থার (ইন্সটিটিউটো নাশিওনাল ডে টেইরেস) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। এই সংস্থাটি বলেছিল যে ব্রিটোর সব জমি অনুর্বর। এই অভিযোগ ব্রিটো অস্বীকার করে। সংস্থাটি তার জমি বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেয়। অনেকে বিশ্বাস করে, তিনি কাছের এক শহর সুসরের মেয়রের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন তার শাস্তি হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এরপর তার প্রতিবাদের সাথে অনেকগুলো অনশন ধর্মঘট যুক্ত হয়। এমনকি যদিও কেন্দ্রীয় সরকার বিতর্কিত এই জমির মালিকানা তার হাতে ফিরিয়ে দেয় এবং তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অঙ্গীকার করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই জমি দখল করে রাখা একদল লোককে সেখান থেকে সরিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়। যার ফলে ব্রিটো তার সাম্প্রতিকতম অনশন ধর্মঘট শুরু করেন।

সোমবার রাতেই টুইটার [স্প্যানিশ ভাষায়] এবং ব্লগের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।

রাডার ডে ব্যারিওস ব্রিটোর পরিবারের একটি বিবৃতি পোস্ট করেছে [স্প্যানিশ ভাষায়]:

Hoy 30 de agosto de 2010 el agotado cuerpo de nuestro esposo y padre Franklin Brito, dejó de respirar.
Tras una lucha de más de seis años, más de ocho huelgas de hambre, la mutilación de un dedo y haber sido víctima de una irregular privación de libertad, el cuerpo de Franklin Brito dejó hoy de realizar funciones vitales.

আজ ২০১০ সালের আগস্ট মাসের ৩০ তারিখ, আমার স্বামী এবং সন্তানের পিতার শ্রান্ত দেহ নিঃশ্বাস নেওয়া বন্ধ করেছে। ছয় বছরের এক লড়াই এবং এবং আটটি অনশন ধর্মঘট, আঙ্গুল হারানোর মত ঘটনা, অনিয়মিতভাবে স্বাধীনতা হারানোর ঘটনায় হতাশা ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটোর দেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

মিগুয়েল অক্টোভিয়ো তার দি ডেভিল এক্সক্রিমেন্ট নামক ব্লগে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি হুগো শ্যাভেজেরবলিভারিয়ান বিপ্লবের” কথা উল্লেখ করে একটি বিস্তারিত পোস্ট লিখেছেন যা ব্রিটোর ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত:

“যে বিপ্লবকে বলা হচ্ছে মানবিক তা এখন তার বিবেক এবং মানবিকতার মত গুণাবলির অভাবের শিকার।

কেউ কি এই মৃত্যুর ব্যাপারে কখনো দায়িত্ব নেবে?

শান্তিতে ঘুমাও”

ভেনেজুয়েলায় নিউজ এন্ড ভিউজে ড্যানিয়েল ডুকুয়েনোলা একই সাথে এখানে সরকারের অংশগ্রহণের বিষয়টির কথা উল্লেখ করেছেন, যা ১৯৯২ সালে হুগো শ্যাভেজের দ্বারা সংঘটিত একটি অভ্যুথানের কথা উদ্ধৃত করে করা হয়েছে:

আনুষ্ঠানিকভাবে শ্যাভেজ এর দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। তার হাতে তখনই প্রথম রক্ত লেগে যায়, যখন সে প্রথম ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি হয় (১৯৯২ সাল থেকে তার হাতে অনেক রক্ত লেগে আছে, যা মুছে যায়নি, কিন্তু তা অন্য একটি গল্প)

তার ব্লগে মার্থা কোলমেনারেস লিখেছে [স্প্যানিশ ভাষায়] ব্রিটোর ঘটনায় ভেনেজুয়েলায় কি ধরনের শিক্ষা লাভ করতে পারে:

El productor agropecuario Franklin Brito tenía días que ya no respiraba por un pulmón. No se rindió, expuso su vida, prefirió morir antes que claudicar en la conquista de sus peticiones, una lección para todos.

কৃষক ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটো তার একটি ফুসফুস দিয়ে আর শ্বাস নিতে পারছিল না। কিন্তু সে হাল ছেড়ে দেয়নি। সে তার জীবনকে আবিষ্কার করেছিল, সে কাউকে অনুরোধ করার বদলে তার জীবন প্রদান করেছে, যা আমাদের সকলের জন্য এক শিক্ষা।

লুইসিয়ানে বেলোরিনা (@লুইসিয়ানা_কেবিডি) নামক ভদ্রমহিলা দু:খ প্রকাশ করেছে যে এটা তার দেশে ঘটল এবং আন্দ্রেয়া সুরিবাস (@আন্দ্রেয়াএবিসিডি) বলছেন যে তিনি ব্রিটোর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। এনরিকে ভাসকুয়োজ (@কিকো১৯৪৭) ব্রিটোর সাহসিকতার প্রশংসা করে টুইট করেছেন:

Me averguenza no tener el valor que tuvo Franklin Brito !

“আমি নিজেকে নিয়ে লজ্জিত এই কারণে যে, ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটোর মত সাহস আমার নেই”।

অন্যদিকে অলগা এলিজাবেথ (@চাভিস্তা১৬) সরকারপন্থী একজন টুইটার ব্যবহারকারী, তিনি ব্রিটোর মৃত্যুর রাজনৈতিক প্রয়োগের দিকে তাকাচ্ছেন। যেখানে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ভেনেজুয়েলা সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে:

Esto ya se sabía q iba a pasar antes de las elecciones.. La pregunta es: A quien le convenía la muerte del Farsante de Franklin Brito?

আমরা জানতাম যে নির্বাচনের আগে এমনটা ঘটবে… প্রশ্ন হচ্ছে: কারা ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটোর এ রকম সাজানো মৃত্যুতে লাভবান হবে?

এছাড়াও ব্রিটোর মৃত্যুর পেছনে যে রাজনীতি তার উপর মনোযোগ প্রদান করা হয়েছে, এলিয়াস কাবেজা ইবরারা (@ইইসি১৯৬৭) এতে বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন:

La muerte d Franklin Brito,es usada x la oposicion como plataforma Mediatica Pornografica, sacando fotos y reclamando, xq no respetan?

ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটোর মৃত্যুকে বিরোধীরা অশ্লীল এক প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছে, তারা এর ছবি তুলেছে এবং অভিযোগ করছে, কেন তারা এখানে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে না?

রাজনীতির বাইরে মিগুয়েল জেইমে (@মিগুয়েলজেইমে), এই ঘটনার উপর প্রচার মাধ্যম যে ভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছে তার নিন্দা জানিয়েছেন:

Lo de la muerte de Franklin Brito es lamentable, tanto por las circunstancias mismas del deceso, como por el show mediático.

ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটোর মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতেই এবং প্রচার মাধ্যম যে ভাবে তা তুলে ধরেছে সেটি দুর্ভাগ্যজনক।

জোসে মেজা তার ব্লগ লা কালপা এস ডে লা ইগুয়েনা (এটা ইগুয়েনার ক্রুটি) ব্রিটোর মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন [স্প্যানিশ ভাষায়]। তিনি দেখার চেষ্টা করেছেন এই তার এই মৃত্যু ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতির কোন বেদনাদায়ক দিকটি উন্মোচন করে:

Brito es la muestra más clara de cómo son las cosas en esta nueva Venezuela, llena de indiferencia, donde poco importa lo que se crea o piense si, de alguna forma, perturba o genera alguna molestia a quienes se creen dueños de la verdad.

নতুন এই ভেনেজুয়েলায় কি ঘটছে তার পরিষ্কার এক উদাহরণ হচ্ছে ব্রিটো। এখানে এটি কোন বিষয় নয় যে আপনি কি বিশ্বাস করেন বা করেন না, এখানে এটি একেবারে উদাসীনভাবে কোন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে অথবা এক উদ্বেগ সৃষ্টি করে তাদের জন্য, যারা বিশ্বাস করে যে তারা সত্যের এক অনুসারী।
এখানে থাম্বনেইল ছবিটি ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটোর স্ত্রী ইলেনা ব্রিটো্র, এক বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে তোলা। আগের গ্লোবাল ভয়েসেস–এর পোস্ট, যা ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১০-এ, প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানেও এটি ব্যবহার করা হয়।। ফ্রাঙ্কলিন ব্রিটোর ছবির সংগ্রহশালা দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .