বন্ধ করুন

আমাদের স্বেচ্ছাসেবক সম্প্রদায় কাজ করে যাচ্ছে বিশ্বের কোনা থেকে না বলা গল্পগুলো আপনাদের কাছে তুলে ধরতে। তবে আপনাদের সাহায্য ছাড়া আমরা তা পারব না। আমাদের সম্পাদনা, প্রযুক্তি এবং প্রচারণা দলগুলোকে সুষ্ঠুভাবে চলতে সহায়তার জন্যে আপনারা আপনাদের দানের অংশ থেকে কিছু গ্লোবাল ভয়েসেসকে দিতে পারেন।

সাহায্য করুন

উপরের ভাষাগুলো দেখছেন? আমরা গ্লোবাল ভয়েসেস এর গল্পগুলো অনুবাদ করেছি অনেক ভাষায় যাতে বিশ্বজুড়ে মানুষ এগুলো সহজে পড়তে পারে।

আরও জানুন লিঙ্গুয়া অনুবাদ  »

ভারতবর্ষ: ফেসবুকে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের উপর কড়া নজর

দিল্লীতে অনুষ্ঠেয় আগামী কমনওয়েলথ গেমস উপলক্ষ্যে শহরে অসংখ্য ক্রীড়াবিদ ও পর্যটকের আগমন প্রত্যাশিত এবং তার সাথে অনিচ্ছা সত্ত্বেও যথেচ্ছ পরিমাণে যানবাহন। এই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে দিল্লী ট্রাফিক পুলিশ (ডিটিপি) ফেসবুক ব্যবহার করা শুরু করেছেন। সম্প্রতি এই উদ্যোগ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম, সামাজিক মাধ্যম ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ডিটিপি-র এই ফেসবুক ব্যবহার সমাজে আলোড়ন তোলার কারণ এই ধরণের উদ্যোগের অভিনবত্ব। দুর্নীতি ভারতীয় সমাজব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে প্রবাহমান এবং তা ট্রাফিক পুলিশের ১০০ টাকা ঘুষ চাওয়া থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার নয়ছয় অবধি সম্ভব। সরকার ও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা অসৎ বলে গণ্য হন আর  সরকারের উপর সাধারণ নাগরিকদের নজরদারির ক্ষমতা খুবই কম

সরকারী দপ্তর গুলিতে স্বচ্ছতা প্রায়শই অনুপস্থিত এবং বেশ কিছু ক্ষেত্রে গোপন সংবাদদাতাদের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাদের বিপদের আশঙ্কা থাকে, এমনকি প্রাণ সংশয় অবধি হতে পারে। সম্প্রতি একজন ‘রাইট টু ইনফর্মেশন’ সমর্থক খুন হয়েছেন।  নাগরিকদের জবাব না দিয়ে, অতিরিক্ত গোপনীয়তা বজায় রেখে এবং দুর্নীতি রোধের প্রচেষ্টায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে সরকারী দপ্তরগুলো এই সমস্যা বাড়িয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের সাথে নাগরিকদের সম্পর্ক বাড়িয়ে তোলার যে কোন উপায় জনমানসে সাড়া ফেলতে বাধ্য।

ডিটিপির ফেসবুক পাতা

ডিটিপি-র এই উদ্যোগ, নাগরিকদের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ফেসবুকে চিত্রসহ পেশ করতে উৎসাহ দিয়ে, যানবাহন পরিবহন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়। অতঃপর সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ডিটিপি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বেশকিছু পুলিশ অফিসার সহ শতাধিক মানুষ ইতিমধ্যে এই সচিত্র অভিযোগের ভিত্তিতে ধরা পড়েছেন। ডিটিপি একটি ‘টুইটার অ্যাকাউন্ট'(@ডিটিপিট্রাফিক) -এর মাধ্যমে ক্রমাগত যানবাহন চলাচল সংক্রান্ত খবরাখবর দিয়ে সাধারণ মানুষকে যানজট ও যানচলাচলের মন্থরতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল রাখেন।

যদিও এই উদ্যোগ সম্বন্ধে মতামত সম্পুর্ণ ইতিবাচক নয়; একশ্রেণীর মানুষ এই উদ্যোগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই যুক্তিতে যে এটি নাগরিকদের উপর নাগরিকদের চরবৃত্তির উদাহরণ এবং অভিযুক্তদের ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহারেরও সম্ভাবনা থেকে যায়। তা সত্ত্বেও, টুইটারে ডিটিপি-র অ্যাকাউন্ট অনুসরণকারী, ফেসবুকে তাদের ‘প্রোফাইল’ ‘লাইক’ করা অনুরাগী এবং ‘ব্লগ’ লেখকদের সংখ্যা বিবেচনা করলে বলা যায় এই প্রকল্প এখন অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়েছে।

বিদেশমন্ত্রক এবং ডাকবিভাগও এখন নিজস্ব ‘টুইটার’ ও ‘ফেসবুক’ অ্যাকাউন্ট খুলে সামাজিক সংবাদমাধ্যমে পদার্পণ করেছেন। এখন পর্যন্ত ডিটিপি শুধুমাত্র যানবাহন চলাচল সংক্রান্ত বিষয়গুলো নজরে আনতে সামাজিক মাধ্যমের সাহায্য নিয়েছেন। কিন্তু এই উদ্যোগ আগামী দিনে অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এই ধরণের আরো কিছু প্রকল্পের সূত্রপাত ঘটাতে পারে- সম্ভবত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতির অভিযোগ অবধি দায়ের করা যাবে।

নাগরিক সমাজের অসংখ্য উদাহরণ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে। যেমন ‘আরটিআই ইন্ডিয়া‘ হল একটি ওয়েব ভিত্তিক গোষ্ঠী, যারা দুর্নীতি এবং ‘তথ্য জানার অধিকার’ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন ও অভিযোগ পেশ করেন। ‘প্রজা‘ নামক একটি সংস্থা কর্ণাটক সরকারের একটি ‘ওপেন ডেটা’ প্রকল্পে কাজ করছেন যাতে সরকারী তথ্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে সহজলভ্য হয়। ‘কীর্তি‘ হল এমনই এক মঞ্চ যেখানে সাধারণ মানুষ যেকোন রকম সামাজিক সমস্যা নথিভুক্ত করতে পারবেন এবং সমাধানের পথে এগিয়ে চলবেন। ‘অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইনিশিয়েটিভ‘ নামক সংস্থা সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলির সম্ভাব্য দায়িত্বাবলী, যেমন কর্মসূচী গবেষণা, উন্নততর তথ্যাদি সংকলন এবং সর্বসাধারণের কাছে সেই তথ্য পৌঁছে দেওয়ার উপায় ইত্যাদি একত্র করার চেষ্টা করছেন। অবশ্য, দুর্নীতির মতো ব্যাপক সমস্যা এবং নাগরিকদের সরকারের সাথে সরাসরি যুক্ত করার মতো উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য এই মুহূর্তে খুব বেশী অনলাইন সংস্থা প্রস্তুত নয়।

দিল্লী ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগ এবং তার জনপ্রিয়তা একটি দৃষ্টান্ত মাত্র, কিন্তু তা সরকারের সাথে মানুষের সংযোগ রক্ষার ইচ্ছা এবং সরকারী মঞ্চে সামাজিক সমস্যার সমাধানে তাদের অংশগ্রহণের আগ্রহকেই লক্ষণীয়ভাবে তুলে ধরে। এ ছাড়াও এটি আরও বড় এক বিতর্কের সূচনা করে: সরকারী দপ্তরগুলি কিভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করছে এবং এ ছাড়া আর কি করণীয়। এই উদাহরণ অনলাইন প্রযুক্তি নিয়ে কর্মরত এবং এ বিষয়ে সক্রিয় ব্যক্তিবর্গকে বিবেচনা করতে অনুপ্রাণিত করবে যে কিভাবে আরও সহজে জনসাধারণ কে সরকারের সাথে যুক্ত করা, তথ্য সংগ্রহ এবং নিরাপদে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ ইত্যাদি করা যায়। এর ফলে তারা আরও শক্তিশালী মঞ্চ তৈরী করতে উদ্বুদ্ধ হবেন যা এই কর্মকান্ডে সহায়তা করবে। সম্ভবত প্রযুক্তির সহায়তা ভারতের কঠোর দুর্নীতি বিরুদ্ধ আইনসমূহ, তথ্য জানার অধিকার সংক্রান্ত নিয়ম এবং গণতন্ত্রের আদর্শ অর্থবহ হয়ে উঠবে।

আলোচনা শুরু করুন

লেখকেরা, অনুগ্রহ করে লগ ইন »

নীতিমালা

  • অনুগ্রহ করে অপরের মন্তব্যকে শ্রদ্ধা করুন. যেসব মন্তব্যে গালাগালি, ঘৃণা, অবিবেচনা প্রসূত ব্যক্তিগত আক্রমণ থাকবে সেগুলো প্রকাশের অনুমতি দেয়া হবে না .